কাপড়ের মূল্য 2.25 $/Yrds, ফেব্রিক ডায়া ওপেন অবস্থায় 45 ইঞ্চি, জিএসএম 200 , কাপড়ের কনজাম্পশন 3.20 কেজি/ ডজন হলে প্রতি ডজন পোশাকের জন্য কাপড়ের খরচ কত হবে?
দৈর্ঘ্য=১ গজ =৩৬ ইঞ্চি =০.৯১৪ মিটার
প্রস্থ=৪৫ ইঞ্চি=১.১৪৩ মিটার
ক্ষেত্রফল=০.৯১৪x১.১৪৩
=১.০৪৫ মিটার স্কয়ার।
প্রশ্নমতে,
১.০৪৫ স্কয়ার মিটারের মূল্য ২.২৫ ডলার।
১ ডজন পোশাক বানাতে প্রয়োজন
=৩.২০KG ÷ ২০০GSM
= (৩.২x১০০০)÷ ২০০
=১৬ স্কয়ার মিটার।
মুল্য =(২.২৫÷১.০৪৫) x ১৬
=৩৪.৪৫ ডলার।
প্রতি ডজন পোশাকের জন্য ফেব্রিক কস্টিং বের করার নিয়ম | Fabric Costing
মার্চেন্ডাইজিং এ দুই ধরণের বস/একাউন্ট ম্যানেজার/মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার দেখা যায়
ধরেন, আপনি এমন একটা ভুল করেছেন,যেটা ম্যানেজবল!
১- আপনার ভুলের জন্যে আপনাকে বকা দিবে,এবং টপ ম্যানেজমেন্টের সামনে আপনাকে হাইলাইট করবে।খুব বাজে ভাবেই হাইলাইট করবে।জবও চলে যেতে পারে!!এরকম বসেরা ম্যানেজমেন্টকে তেল দিয়ে নিজের চাকড়ি টিকিয়ে রাখে আপনাকে কি আর শেল্টার দিবে!এরা খুব কম কাজ বুঝে,এবং আপনার ১০০% নিবে ঠিকই।
নিয়ে তার ক্রেডিটে দেখিয়ে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ঠিকই তারটা বাড়িয়ে নিবে।সাবধান,এরকম বস হতে।লাইফ হেল হয়ে যাবে!!অন্য জায়গায় জব খুজতেঁ থাকুন!বেতন ৫ হাজার কম হলেও ক্ষতি নেই।মানসিক শান্তি পাবেন।
২- আপনার ভুলের জন্যে আপনাকে বকা দিবে।কিন্তু টপ ম্যানেজমেন্টের কাছে হাইলাইট করবে না।ফিনান্স জিএম/এমডি কিছু বললে,বেশ ভালোভাবেই হ্যান্ডেল করবে!এনারা কাজ বুঝে।ভদ্রলোক।এদের আন্ডারে কাজ যেমন শিখা যায়,তেমনি নিজের জব লাইফ এনজয় করা যায়।৮ ঘন্টার জায়গায় এনাদের আন্ডারে ১২ ঘন্টা কাজ করলেও, ক্লান্তি আসে না।
মার্চেন্ডাইজিং এ দুই ধরণের বস একাউন্ট ম্যানেজার/মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার | Merchandiser
একটি লোকাল ব্রান্ডের মার্চেন্ডাইজিং করতে হইলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে?
মার্চেন্ডাইজিং (Merchandising) শব্দটির ইংরেজি শব্দ (merchant) থেকে এসেছে, যার অর্থ ব্যবসায়ী। মার্চেন থেকে মার্চেন্ডাইজ (Merchandise) যার অর্থ ব্যবসার উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়। মার্চেন্ডাইজিং থেকে মার্চেন্ডাইজার যার কাজই হলো বিক্রয় ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা করা।
একজন মার্চেন্ডাইজার এর যেমন যোগ্যতা থাকা চাইঃ
মার্চেন্ডাইজার হওয়ার জন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতক হলেই চলে। তবে অগ্রাধিকার পায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেক্সটাইলের যেকোনো বিষয়ের ছাত্রছাত্রীরা। মার্চেন্ডাইজারদের বিভিন্ন দেশের ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এ জন্য ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হয়। পাশাপাশি অন্য দেশের ভাষা জানা থাকলে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। কম্পিউটারেও দক্ষতা থাকা চাই।
পোশাক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন একজন মার্চেন্ডাইজার। মার্চেন্ডাইজিং পেশা হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন মার্চেন্ডাইজার কে সবসময় ক্রেতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। শুধু তাই নয় পোশাক তৈরির অর্ডার নেয়া থেকে শুরু করে অর্ডার অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণের কাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে করতে হয় একজন মার্চেন্ডাইজারকে। এছাড়া ক্রেতার চাহিদামত পণ্য তৈরি হচ্ছে কিনা তাও দেখতে হয়।
এক কথায় বলতে গেলে গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং বলতে, এক পক্ষ থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে সেই কাঁচামাল থেকে পণ্য প্রস্তুত করে সেই প্রস্তুতকৃত অন্য অন্য পক্ষের কাছে বিক্রি করা, এটাই মূলত গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং।
▪সফল মার্চেন্ডাইজার হতে প্রয়োজনীয় গুণাবলীঃ
গার্মেন্টস সেক্টরে ক্রেতা এবং প্রস্তুতকারকের মধ্যে যিনি সেতু বা মিডল ম্যানের মতো কাজ করে তিনিই হচ্ছেন মার্চেন্ডাইজার। মোট কথা পণ্যটি তৈরি করতে তিনিই প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি। মার্চেন্ডাইজার হতে একজনকে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখতে হবে। মার্চেন্ডাইজার কোন ডিজাইনার নন কিন্তু অনুধাবনের দায়িক্তে তিনিই থাকেন ,যিনি কোন ডিজাইন টি মার্কেটে চলবে আর কোনটি চলবে না তার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য মার্চেন্ডাইজারকে প্রতিটি পণ্যের স্টাইলের ভিতরে ঢুকতে হয় এবং বিশ্লেষণ করতে হয়। আবার মাথায় রাখতে হয় স্টাইলিং এর খরচের দিকেও।
একটি যোগ্যতাসম্পন্ন পোশাক মার্চেন্ডাইজারের পণ্য সম্পর্কে চমৎকার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে তিনি ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যটি সম্পর্কে সঠিক তথ্যটি বুঝতে পারবেন এবং প্রস্তুতকারকের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।একটি যোগ্য মার্চেন্ডাইজার হতে, যোগাযোগের দক্ষতা একটি প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন অর্ডার সঠিক সময়ে শিপমেন্ট সম্পন্ন হওয়া নির্ভর করে মার্চেন্ডাইজারের চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতার উপর।কারন যদি আপনি সহজে ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং প্রস্তুতকারীর সাথে বসে সঠিক সময় সিডিউল করতে পারেন তবেই সহজে অর্ডার টি সম্পন্ন হতে পারে।
বিদেশিদের সাথে যোগাযোগের জন্য বর্তমান প্রজন্ম ইংরেজিতে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার হওয়ার জন্য ইংরেজীর দক্ষতা একটি জ্বলন্ত মানদণ্ড। একটি অর্ডার একজিকিউশনের বিভিন্ন সময়ে বাইয়ারের সাথে শত শত বার মেইল কমিউনিকেশন করতে হয়। ডিজাইন, মেজারমেন্ট, কোয়ালিটি, প্রোডাকশন লাইন মেনেজমেন্ট, শিপমেন্টের সমস্ত বিষয়ে ক্রেতার ও মার্চেন্ডাইজারের মধ্যে কাটাছেড়া বিশ্লেষণ চলে। যার প্রধান মাধ্যম মেইল।শুধু প্রাইজ নেগোসিয়েশন ই একটি অর্ডার পাওয়ার পুর্বশর্ত নয়, শিপমেন্ট এর সময় মিট করতে না পারলে পুরো অর্ডার লস প্রোজেক্ট হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য অর্ডার নেয়ার পুর্বে গার্মেন্টস কারখানার বর্তমান পরিস্থিতিকে অনুধাবন করতে হবে, সাথে বিভিন্ন আইটেম সঠিক সময় মত সোর্স করা সম্ভব হবে কিনা সেটা যাচাই করে তারপর একটি অর্ডার গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শিপমেন্ট মিট না করতে পারলে বাইয়ারের কাছে একটি খারাপ ইম্প্রেশন তৈরি করবে। সুতরাং, যোগ্য মার্চেন্ডাইজার হতে, কারখানা সম্পর্কে চমৎকার জ্ঞান রাখা আবশ্যক।
আরো সহজভাবে বলতে গেলে, একটি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মার্চেন্ডাইজার একজন ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার কালেক্ট করে, সেই অর্ডার পরিপূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন ফেব্রিক, ইয়ার্ন, কেমিক্যাল, ডাইস, জিপার, বাটন, ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রয় করে গার্মেন্টস এর মাধ্যমে ক্রেতার চাহিদা মতো পণ্য তৈরি করে সেই পণ্য ক্রেতার নিকট পৌছানো পর্যন্ত সকল কাজ তত্ববধানে রাখি।
একজন গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ক্রেতার নিকট থেকে অর্ডার পাওয়ার পর থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত সব কিছু, তাছাড়া,
১. পণ্য প্রস্তুত করার জন্য কাঁচামালের এর দাম।
২. গার্মেন্টসের শ্রমিকদের খরচ/বেতন।
৩. গার্মেন্টসের বিদ্যুৎ বিল।
৪. গার্মেন্টস এর ভাড়া ইত্যাদি।
৫. সকল স্টাফ অফিসারের বেতন।
৬. সকল মেনটেনেন্স খরচ।
৭. ৭. ক্যাড এর সাথে যোগাযোগ ।
৮. ফ্যাশন ডিজাইনে সাথে যোগাযোগ ।
৯.আর এন ডির সাথে যোগাযোগ ।
১০. কাস্টমারের সাথে কন্টিনিউ কমিউনিকেশন ।
১১. সেম্পল ডেভেলপমেন্ট ।
১২. অর্ডার রিসিভ ।
১৩. পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ।
১৪. অর্ডার কনফার্ম ।
১৫. সেম্পল তৈরি করা ।
১৬. পিপি সেম্পল ।
১৭. প্রি প্রোডাকশন মিটিং ।
১৮. লিস্ট চেক ।
১৯. বাল্ক প্রোডাকশন ।
২০. রিসিভ পেমেন্ট । আরো অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয় যা নিছে বলার চেষ্টা করা হল ।
টোটাল সব খরচ যেন বিক্রিত পণ্যের দামের থেকে কম হয়। অর্থাৎ ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রয় করে যেন গার্মেন্টসের লাভ থাকে সে বিষয়টি একজন মার্চেন্ডাইজার এর মাথা থাকতে হবে। ক্রেতার থেকে অর্ডার রিসিভ করা থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত গার্মেন্টস
অর্ডার রিসিভঃ
গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজারের সর্ব প্রথম কাজ হলো ক্রেতার কাছ থেকে সবকিছু রিসিভ করা, অর্ডার টির সম্পূর্ণ টেকনিকেল দিক বুঝে নেওয়া।
সেম্পল ডেভেলপমেন্টঃ
ক্রেতার অর্ডার সিট এ যেভাবে অর্ডার দেওয়া আছে ঠিক সেভাবে স্যাম্পল তৈরি করা, এটাই স্যাম্পল ডেভেলপমেন্ট।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণঃ
মার্চেন্ডাইজার কে অবশ্যই ক্রেতার থেকে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করার পূর্বে গার্মেন্টসের লাভ এর দিকটা মাথায় রাখতে হবে।
অর্ডার কনফার্মঃ
ক্রেতার নিকট থেকে অর্ডার কনফার্ম করা।
সেম্পল তৈরি করাঃ
অর্ডার কৃত পণ্যের স্যাম্পল তৈরি করে ক্রেতার নিকট দেয়া।
রিকুইজেশন বাল্ক ফেব্রিকঃ
প্রোডাকশন প্রস্তুত করার জন্য কি পরিমান ফেব্রিক লাগবে তার সিট প্রস্তুত করা।
রিকুইজেশন এক্সেসরিজঃ
অর্ডারকৃত পণ্য প্রস্তুত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলোর জন্য পারচেজ অর্ডার তৈরি করতে হবে।
নমুনা বোর্ডঃ
প্রোডাক্টটি প্রস্তুত করার জন্য যা যা অ্যাকেসরিজ প্রয়োজন সেগুলো স্যাম্পল নিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
ম্যাটারিয়াল কালেকশনঃ
অর্ডার সম্পূর্ণ করার জন্য যা যা ম্যাটারিয়াল প্রয়োজন হয় তা কালেক্ট করা।
লিস্ট চেকঃ
প্রোডাকশনে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে কারণে বার বার লিস্ট চেক করা যাতে করে কোন ম্যাটারিয়াল বাদ না পড়ে।
পিপি সেম্পলঃ
পিপি সেম্পল ক্ষেত্রে সব একচুয়াল হতে হবে, ক্রেতা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই সেম্পল প্রস্তুত করতে হবে।
প্রি প্রোডাকশন মিটিংঃ
প্রোডাকশন প্রস্তুত করার আগে মিটিং করা হয়। এই মিটিং এ প্রোডাকশনের কর্মরত সব কর্মচারী থাকবে। মিটিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রোডাকশন টি সম্পন্ন করা।
বাল্ক প্রোডাকশনঃ
বাল্ক প্রোডাকশন অর্থাৎ ক্রেতা যেই অর্ডার করেছে সেই অর্ডার অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করা।
চেক ডেইলি প্রোডাকশন এন্ড কোয়ালিটি রিপোর্টঃ
ক্রেতার অর্ডারটি নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করতে হবে। তাই একজন মার্চেন্ডাইজার কে আগে থেকেই প্ল্যানিং করতে হবে,যে প্রতিদিন কি পরিমান প্রোডাকশন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিপমেন্ট করা সম্ভব।
অনলাইন ইনস্পেকশনঃ
অনলাইন ইনস্পেকশন মানে প্রোডাকশনের কাজ চলাকালীন সময়ে ক্রেতার সাথে কথা বলে ইন্সপেকশন এর ডেট ফিক্সট করতে হবে যাতে করে ক্রেতার নির্ধারিত প্রতিনিধি এসে প্রোডাকশন কৃত পণ্যের কোয়ালিটি ঠিক আছে কিনা তা চেক করে।
ফাইনাল ইনস্পেকশন জন্য বাল্ক প্রোডাকশনঃ
প্রডাকশন শেষ হবার পরে কিন্তু শিপমেন্ট করার আগে ক্রেতার সাথে কথা বলে সর্বশেষ ইনস্পেকশন এর জন্য ডেট ফিক্সট করতে হবে। তার জন্য ফাইনাল ইনস্ট্রাকশন জন্য বাল্ক প্রোডাকশনের সিট প্রস্তুত করতে হবে।
সেম্পল সেন্ড টু থার্ড পার্টি টেস্টিং সেন্টারঃ
সেম্পল গুলোকে থার্ড পার্টির কাছে পাঠাতে হবে সেম্পল এর কোয়ালিটি টেস্ট করার জন্য। ও তার রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
শিপমেন্ট ফাইনাল ইন্সপেকশনঃ
প্রোডাকশন কৃত সকল পণ্য ক্রেতার নিকট পাঠানোর জন্য শিপমেন্ট করতে হবে। এর জন্য ইন্সপেকশন করতে হবে।
সব ডকুমেন্ট ক্রেতাকে পাঠাতে হবেঃ
অর্ডারের কোয়ান্টিটি সহ সবধরনের ডকুমেন্ট ক্রেতার নিকট পাঠাতে হবে।
রিসিভ পেমেন্টঃ
ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী পণ্য বুঝিয়ে দিতে পারলে ক্রেতা ব্যাংকে পেমেন্ট পাঠিয়ে দিবে।
মার্চেন্ডাইজিংকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে কি কি বিষয়ে দক্ষতা ও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন সেসব বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন.
১. একজন মার্চেন্ডাইজারকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হয়। এসপেশালি ইংরেজি ভাষা বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে।
২. পোশাক শিল্পের সকল প্রক্রিয়া ও কাঁচামালের দাম সম্পর্কে ধারনা থাকতে হয়।
৩. আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট শিপিং, কাস্টমস, বায়িং পলিসি এসব কাজে দক্ষতা থাকতে হয়।
৪. ক্রেতার কনভিন্স করার দক্ষতা থাকতে হয়।
৫. হিসাব নিকাশ ও পরিকল্পনায় দক্ষ থাকতে হয়।
৬. সর্বোপরি পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে।
ধন্যবাদ।
একটি লোকাল ব্রান্ডের মার্চেন্ডাইজিং করতে হইলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে?
UD / Utilization Declaration কি :
ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন হল RMG সেক্টরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস ডকুমেন্ট। সমস্ত কাস্টমস বন্দর থেকে আমদানিযোগ্য কাঁচা-মাল রিলিজ করার জন্য UD প্রয়োজন। এটি রপ্তানি, নগদ প্রণোদনাহব্ব এবং অন্যান্যগুলির জন্যও প্রয়োজন।
UD কোথায় করতে হয় :
BGMEA , BKMEA
বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) BGMEA এবং BKMEA কে এবং তাদের সদস্য ইউনিটকে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন ইস্যু করার অনুমতি দিয়েছে।
UD করতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন :
1. Application on company letter head.
2. Consumption Report on company letter head.
3. Export L/C or Contract Copy
4. Back to Back L/c copy (Import/Local)
5. Proforma Invoice (Raw Material)
6. Bank Certificate
7. Measurement Chart.
8. Sample.
9. Money Receipt.
UD Amendment করতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন
1. Application on company letter head.
2. Consumption Report on company letter head. (If need)
3. Export L/C or Contract Copy (Amendment copy)
4. Back to Back L/c copy (Import/Local)
5. Proforma Invoice (Raw Material)
6. Bank Certificate
7. Measurement Chart. (If need)
8. Sample.
9. Previous UD/Amendment copy.
10. Money Receipt.
UD / Utilization Declaration কি
ফ্যাক্টরি কিংবা বায়িং হাউজে একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজ কী?
অল্প কথায় কিছু ব্যাখ্যাঃ
বায়িং হাউসের কাজের পরিধি অনেক বড়। বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজাররা বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পণ্য বিক্রির প্রস্তাব দেন এবং বায়ার রাজি হলে কোম্পানির প্রোডাক্টের স্যাম্পল দেখান। প্রোডাক্ট তৈরিতে কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হবে এবং এর মান কতটুকু টেকসই হবে, প্রোডাক্টের সব গুণাগুণ তুলে ধরে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পছন্দ হলে দামের বিষয়টি চূড়ান্ত করে চুক্তিপত্র করা হয়। বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্যাক্টরিতে প্রোডাক্ট তৈরি থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত পুরো কাজ দেখতে হয় মার্চেন্ডাইজারদের। ফ্যাক্টরির মার্চেন্ডাইজাররা বায়িং হাউসের মাধ্যমে পাওয়া কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি ও পণ্যের মানের বিষয়টি দেখভাল করেন। বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজারদের কাছে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত তাদের কাজ।
তবে,অনেক ফ্যাক্টরিতেই মার্চেন্ডাইজার অর্ডার আনা থেকে শুরু করে অর্ডার বায়ারের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব পালন করে থাকে।
ফ্যাক্টরি কিংবা বায়িং হাউজে একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজ কী | Factory Merchandiser
মার্চেন্ডাইজিং এর জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ফাইল । এই ফাইল গুলো দেখলেই মার্চেন্ডাইজিং কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনা পেয়ে যাবেন।
আপনাদের যারা মার্চেন্ডাইজার পরিচিত আছের তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন । কিংবা আপনারা দিতে চাইলে আমাদের গ্রুপে পোস্ট করেন।
1. Costing of Jackets.
2. Costing of basic five pocket denim pant.
3.Costing of Flair denim.
4.Costing of jeggings.
5.Costing of cargo pant.
6. CM price of denim pant and jackets.
7. FOB price of denim pant and Jackets.
8.ERP system details.
9. Merchandising organogram.
10. Gathering plan.
11.Order summary.
12.Shipment summary.
13. Preproduction activities.
14.Order status.
15. LC and others documents.
16. Sample programme.
17. Pricing summary.
18. Proforma invoice of CM and Wash.
19.Subcontract agreement.
20. Wash bill.
21.Contract signing.
22. Consumption sheet.
23. Check list.
24. Size set programme.
25. Inspection report.
26. Inline inspection report.
27. Tech pack.
28. BOM sheet.
29. PI sheet.
30. P.O sheet.
31. Shipment details.
32. Pattern.
33. Measurement spec.
34. Cutting instructions
35. Sewing instructions
36. Washing instructions.
37. Finishings instructions.
38. Packing instructions.
39. Production report.
40. Production planning for monthly.
41. Payment details.
42. Store information.
43. TPX color book.
44. Thread code.
45. TNA planning.
46. Audit report.
47.Fabric booking.
48. Thread booking.
49. Button booking.
50. Carton booking.
51. All trims and accessories booking.
52. Cargo booking.
53. Air booking.
54. Querier booking and information.
55. SMV.
56. Local and international supplier information.
57. Buyer Information of Zara, Walmart, TCP, US.Polo and others.
58. Price of trims accessories of local and foreign suppliers.
মার্চেন্ডাইজিং এর জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ফাইল | Merchandizing Documents
*মার্চেন্ডাইজারের ডায়েরি* পর্ব: ১৬ (Email Communication Tips)
আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি কোভিডের এই ক্রান্তিকালেও আপনারা মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। অনেকদিন পর আপনাদের মাঝে নতুন একটি পর্ব নিয়ে আসলাম। যদিও পর্বটি শুধুমাত্র মার্চেন্ডাইজিং নয় বরংচ যেকোন সেক্টরের ইমেইল কমিউনিকেশনে কাজে লাগবে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে ইমেইল কমিউনিকেশন হচ্ছে যেকোন বিজনেসের হার্ট। হয়তোবা আমরা একেকজন একেকভাবে ইমেইল কমিউনিকেশন করছি। কিন্তু অল্প বিস্তর কিছু টিপস ফলো করে আমরা সেটাকে আরো ফ্রুটফুল করতে পারি।যদিও আমি নিজেও প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করছি তারইমাঝ থেকে আজকে কিছু টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। চলুন শুরু করা যাক।
১) Email Subject :
কথায় আছে আগে দর্শনধারী তারপর গুনবিচারী অর্থাৎ শুরুতে যেকোন কিছু দেখেই আমরা অনেকটা ধারনা করে নেই তারপর আমরা গুন বিচার করতে যাই। একটি সুন্দর নাম যেমন যেকোন বিজনেস প্রজেক্টের জন্য ইম্পরটেন্ট ঠিক একইভাবে একটি সুন্দর ইমেইলের সাবজেক্টও সমানভাবে ইম্পরটেন্ট। ইমেইলের সাবজেক্ট লেখার সময় আমাদের সাবজেক্ট এমনভাবে লেখা উচিত যাতে একজন মানুষ ইমেইলের বডি কন্টেন্ট না পড়েই বুঝতে পারে ইমেইলটি কি সংক্রান্ত। আমাদের ইমেইলে অনেক সময় টপ ম্যানেজমেন্টের লোক CC তে থাকে যাদের মেইলবক্সে ডেইলি কয়েকশ মেইল আসে যার সবগুলো তারপক্ষে পড়াও সম্ভব হয় না। আবার না চাইলেও অনেকসময় তাদের মেইলে CC তে রাখতে হয়।
আপনি যদি সঠিক মেইলের সাবজেক্ট সিলেক্ট করতে পারেন তাহলে দেখা যাবে তারা শুধু মেইলের সাবজেক্ট দেখেই বুঝতে পারবে যে কোন মেইলটি তার পড়া উচিত অথবা কোনটি উনি Disregard করতে পারেন। আবার বায়ারকে মেইল পাঠানোর সময়ও আমাদের মেইলের কন্টেন্টের সাথে সংগতিপূর্ণ এমন সাবজেক্ট লেখা উচিত যাতে মেইলের সাবজেক্ট দেখেই তারা বুঝতে পারে মেইলটি কি সংক্রান্ত। এটা যে শুধুমাত্র অন্যের জন্য তা নয় বরংচ এটা নিজের জন্য আরো বেশি ইম্পরট্যান্ট।
একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছি। মার্চেন্ডাইজার হিসেবে বিভিন্ন মিলের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য আমাদের স্যাম্পল ইয়ার্ডেজ অথবা স্যাম্পল ফেব্রিক আনতে হয়। এখন আপনি যদি মেইলের সাবজেক্টে মিলের নাম, ফেব্রিকের কোড এবং যেই বায়ারের যেই প্রোগ্রামের জন্য আনছেন তা একইসাথে Include করতে পারেন তাহলে পরবর্তী যেকোন সময়ে আপনার জন্য সেটা ফলোআপ করাটা সহজ হবে। যেমন Sample Yardage Requirement for Levi's SP'22 Skinny Program (Square#ABCD)। এই সাবজেক্ট লাইন থেকে মেইল না পড়েও যে কেউ বুঝতে পারবে যে আমি Levi's বায়ারের SP'22 সিজনের Skinny Program এর জন্য Square ডেনিম মিলের ABCD আর্টিকেলের স্যাম্পল ইয়ার্ডেজ চাচ্ছি।
২) File Name :
আমরা অনেকসময় মেইলে ফাইল এটাচ করি যেগুলোর কোন সংগতিপূর্ণ নাম থাকে না যা দিয়ে ফাইলটা ওপেন না করার আগ পর্যন্ত মোটেও বুঝা যায় না যে সেটি কি সংক্রান্ত। এটি পুরোপুরি অনুচিত একটা কাজ। এমনকি আমরা যদি কোন স্টাইলের স্যাম্পলের ছবি তুলেও মেইলে এটাচ করতে চাই তাহলে আমাদের উচিত আগে সেই ইমেজের নামটা চেঞ্জ করে তারপর এটাচ করা। যেমন আমি একটি ইমেজের নাম দিলাম Style#XYZ1234-Dark Wash Ad Sample Front Image। এতে করে যাকে পাঠাচ্ছি সে ইমেজ ওপেন না করেই বুঝতে পারবে যে আমি তাকে Style#XYZ1234 এর Dark Wash এর Advertising Sample এর Front Image এর ছবি পাঠাচ্ছি। তাছাড়া আপনি যদি যেকোন ফাইল একটি সঙ্গতিপূর্ণ নাম দিয়ে সেভ করে রাখেন তাহলে পরবর্তীতে আপনি নিজেও সেটা সহজে খুজে বের করতে পারবেন।
৩) Date Record Keeping :
মার্চেন্ডাইজিং এ দেখা যায় আমাদের একই ফাইল অনেকসময় ডেইলি বেসিসে অথবা উইকলি বেসিসে আপডেট করা লাগে। এখন আপনি যদি যেকোন ফাইলের নামের শেষে তারিখটা এড করতে পারেন তাহলে দেখবেন যে সেটা আপনার রেকর্ড কিপিং এ খুব কাজে দিবে। আমার মতে এটা আসলে যেকোন ফাইল সেভ করে রাখার সময় করা উচিত। এতে করে আপনি কয়েকমাস পরেও বুঝতে পারবেন যে আপনি সর্বশেষ কবে এই ফাইলটা নিয়ে কাজ করেছেন। যেমন Costing of Style#XYZ1234-Dark Wash 17.7.21। আপনি এতে কয়েকমাস পরেও বুঝতে পারবেন আপনি এই স্টাইলটির কস্টিং নিয়ে সর্বশেষ জুলাইয়ের ১৭ তারিখ কাজ করেছিলেন।
৪) MS Excel File :
মার্চেন্ডাইজিং এ আপনি অন্য কিছু না জানলেও আপনাকে MS Excel এর কাজ জানা থাকা লাগবে। আমাদের দৈনন্দিন মার্চেন্ডাইজিং লাইফে আমাদের হরহামেশা Excel file নিয়ে কাজ করা লাগে এবং বায়ারকে বিভিন্ন ইনফরমেশন এক্সেল ফাইলে পাঠাতে হয়। অথচ অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় এক্সেল ফাইল পাঠানোর সময় আমরা সেটিংস কিংবা ভিউ এডজাস্ট করে পাঠাই না। যারফলে আমরা যদি এক্সেল ফাইল ৫০% জুম ভিউ করে সেভ করি তাহলে ফাইল ওপেনের সময় বায়ারকে আবার ১০০% এ এডজাস্ট করে ফাইলটি দেখা লাগবে।
আবার অনেকে দেখা যায় হয়তো সর্বশেষ AZ কলামের ১০০ নং রোতে সর্বশেষ কাজ করেছে। এখন সে যদি ফাইলটি এইভাবে সেভ করে তাহলে দেখা যাবে অন্য যে কেউ ফাইলটি ওপেন করলে সর্বশেষ কাজ করা এরিয়াটা দেখতে পারবে অথচ আমাদের উচিত ছিলো এমনভাবে সেভ করা যাতে অন্য কেউ ফাইলটি ওপেন করলে AA কলামের ১ নং রোর ইনফরমেশন দেখতে পারে। এই ব্যাপারগুলো আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।
৫) Picture Alignment :
অনেকসময় দেখা যায় যে বায়ারকে একটি স্যাম্পলের ইমেজ পাঠাতে হবে যেখানে অনেকে বাকা ত্যাড়াভাবে দায়সারাভাবে ছবি তুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। একটা জিনিস মনে রাখা উচিত যে পাসপোর্ট সাইজ ছবি তুলতে গেলে আমরা যেমন চেষ্টা করি মাথা এবং বডি যাতে ক্যামেরার সাথে প্যারালাল স্ট্রেইট ওয়েতে তুলি ঠিক সেভাবে যত্ন নিয়ে যাতে আমরা ছবিগুলো তুলি। আমরা কিন্তু আমাদের নিজেদের ছবি বায়ারকে পাঠাই মা বরংচ আমাদের কাজের মাধ্যমেই কিন্তু বায়ার আমার সম্পর্কে ধারণা পায়। সুতরাং এদিকটায় আমাদের একটু যত্নবান হওয়া উচিত।
৬) Mail Language & Information :
আমার সাবেক এক বস বলেছিলেন মেইল এমনভাবে লিখবেন যাতে করে ডোনাল্ড ট্রাম্পও বুঝতে পারে। কথাটা বলার উদ্দেশ্য এই যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন ব্যবসায়ী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে গেছেন তাতে করে যেমন ধরে নেওয়া যায় যে তারমতো লোক রাজনীতির অনেক কিছুই বুঝবেন না ঠিক তেমনি যাকে মেইল পাঠানো হচ্ছে কিংবা মেইলের CC তে এমন কেউও থাকতে পারে যিনি মেইলটির ব্যাকগ্রাউন্ড নাও জানতে পারেন।
তাই মেইলে ইনফরমেশন দেওয়ার সময় কার্পন্য করবেন না। তাই বলে মেইল যাতে রচনা না হয়ে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা লাগবে। চেষ্টা করা দরকার যাতে মেইলের বক্তব্য বুলেট পয়েন্ট আকারে অথবা প্রয়োজনীয় ছবি কিংবা এক্সেল ফাইল আকারে দিয়ে অল্প কথায় সর্বোচ্চটুকু ইনফরমেশন দেওয়া যায়।
পাশাপাশি এটা মনে করা অনুচিত যে, আমি আগের মেইলে একটা ইনফরমেশন দিয়েছি সেটা বায়ার আগের মেইল থেকে খুজে দেখুক। চেষ্টা করবেন আগে দেওয়া থাকলেও আপনার বর্তমান মেইলে যদি আবার একই ইনফরমেশন দরকার হয় তাহলে আগের মেইলটা এটাচমেন্ট আকারে সাথে দিয়ে দিতে। এতে পরে মেইলের রিসিভারকে কষ্ট করে আগের মেইল খুজে দেখতে হবে না।
এরকম আরো নানারকম টিপস রয়েছে যা আমি নিজেও চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত অন্যের কাছ থেকে শিখতে। মহানগরের ওসি হারুনের মতো বলতে হয়- দুইটি জিনিসে কখনো কার্পন্য করবেন না। একটি হচ্ছে কারো কাছ থেকে কখনো শিখতে কার্পন্য করবেন না এবং কাউকে শিখাতে কখনো কার্পন্য করবেন না।
আসিফ বিন আসগর
মার্চেন্ডাইজার, হংকং বেজড মাল্টিন্যাশনাল ট্রেডিং অফিস
এক্স-টেক্সটাইল স্টুডেন্ট,
এক্স-টেক্সটাইল স্টুডেন্ট, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
কার্যনিবাহী পরিচালক, বুনন
মার্চেন্ডাইজারদের জন্য ইমেইল কমিউনিকেশন প্রসেস এবং টিপস | Email Communication Tips For Merchandiser
বায়ার ভিজিটের সময় করনীয়
1. সেকশন অর্গানিক নিয়ম অনুযায়ী সাজিয়ে রাখতে হবে । প্রতিটি মেশিনে অর্গানিক কার্ড ।
২. সকল প্রসেস চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করাতে হবে হবে । যাতে করে বায়ার রা এসে সব গুলি মেশিন চালু অবস্থায় দেখতে পারেন।
৩. সেকশন অনুযায়ী মেশিন পরিস্কার করে রাখতে হবে । মেশিনের উপরে ধারালো বস্তু বার্নারের পাশে ফেব্রিক রাখা যাবেনা । ক্যামিকেল ড্রাম মেশিনের পাশে রাখা যাবেনা ।
৪. সকল শ্রমিকদের স্টাফদের আইডি কার্ড নিশ্চিত করতে হবে ।
৫. সকল শ্রমিকদের মাস্ক , টুপি স্কার্ফ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. জরুরী সকল বহির্গমন রাস্তা সমুহ ফাকা রাখতে পথ যাতে বাধাহীন থাকে কোন মেশিন, বক্স, কাপড় রাস্তায় থাকা যাবেনা ।
৭. চলাচলের সকল রাস্তা সমুহ পরিস্কার করে রাখতে হবে এবং বাধাহীন করে রাখতে হবে ।
৮. সুইং মেশিনের আই গার্ড নিডেল গার্ড, পুলি কাভার মেশিন প্যাডেল ম্যাট ।
৯. ফাস্ট এইড বক্স সমুহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং বাধাহীন বা লক ওপেন ভাবে রাখতে হবে । কোন আইটেম না থাকলে তা এনে রাখতে হবে ।
১০. সব ইলেকট্রনিক বক্স সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং বাধাহীন রাখতে হবে । বিশেষ করে মাকড়সার জাল নেট থাকা যাবেনা লুজ ওয়্যার থাকা যাবেনা ।
১১. সব ইলেকট্রনিক লাইন সমুহ ওয়্যার লাইন লুজ যাতে না থাকে নিশ্চিত করতে হবে ।
১২. ফ্লোরে সব মালামাল নির্ধারিত স্থানে এবং নির্ধারিত উচ্চতায় রাখতে হবে ।
১৩. ক্যামিকেল স্টোর ইটিপি তে MSDS লেবেল ছাড়া কোন ড্রাম ফেক্টরি সেডের ভেতর না রাখা।
১৪. ইয়ার্ন স্টোর, ফেব্রিক স্টোরে, বিন কার্ড নিশ্চিত করা।
১৫. ফেক্টরিতে মেইন গেইট এবং সমাবেশ এর স্থান ফাকা পরিস্কার রাখা এবং মার্ক সাইন গুলি ঠিক মতো সাজিয়ে রাখতে হবে।
১৬. MSDS ম্যাটেরিয়াল সেইফটি ডাটা সিট লেবেল ছাড়া কোন ক্যামিকেল ড্রাম ফেক্টরি সেডের ভেতর না রাখা।
১৭. খালি ড্রাম ব্যারেল ফেক্টরি সেডের ভেতর রাখা যাবেনা । বাইরে ফাকা স্থান সাজিয়ে রাখতে হবে।
১৮. ঝুট গোডাউনে অতিরিক্ত ঝুট রাখা যাবেনা অপ্রোয়জনীয় ঝুট সরিয়ে রাখতে হবে ঝুট সমুহ পৃথক রাখতে হবে।
১৯. সকল এক্সোস্ট ফ্যান সমুহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং তা চালু থাকতে হবে।
২০. অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র সময় পরিস্কার করে রাখতে হবে। এবং কার্ডের ডেইট গুলি আপডেট থাকতে হবে ।
২১. সকল ইলেকট্রিক বক্স সময় পরিস্কার রাখতে হবে ।
২২. লাইট বক্স এলোমেলো রাখা যাবেনা ফাইল রাখা যাবেনা ।
২৩. ল্যাব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে কেচি ছুরি বেধে রাখতে হবে ।
টেক্সটাইল মিলে বায়ার ভিজিটের সময় করনীয় কিছু নির্দেশনা | Buyer visit
আপনি ফেব্রিক সাপ্লায়ার কিউসি হলে যে বিষয় গুলি মাথায় রাখবেন
আপনি যদি ফেব্রিক সাপ্লায়ার কোম্পানির গুলির ফলোয়াপে থাকেন তবে রেগুলার কাজ গুলি আপনার জানার কথা কিন্ত আপনি যদি নতুন জবে জয়েন করেন সেক্ষত্রে অনেক গুলি বিষয় আপনার জানা উচিৎ যাতে আপনি ফেব্রিক ডাইং ফিনিশিং ভালো করে ফলোআপ করতে পারেন।
১. আপনার এক্সেস ফেব্রিক গুলি সব সময় নিয়ে রোল করে রাখবেন । অনেক সময় আপনার অর্ডারের ফেব্রিক স্যাম্পল ডাইং করে ফেলে রাখা হয় আপনার উচিৎ সেগুলির হিসেব রাখা এবং সেগুলি ডাইং শেষে খুজে ইন্সপেকশন সেকশনে নিয়ে সেটাকে রোল করে রেখে দেয়া। নয়ত অনেক ফেব্রিকের ভেতর ফ্লোরে আপনার ফেব্রিক হারিয়ে যাবে ।
২. ব্লিচ মার্সারাইজ ওয়াস করা RFD ফেব্রিক ২-৩ মিটার করে ল্যাবে রেখে দেয়া উচিৎ , যাতে ফিউচারে আপনারা ল্যাব ডিপ করার জন্য দিতে পারেন । আপনার বায়ারের যে কমন ফেব্রিক গুলি ডাইং করা হয় তা হয়ত আপনার ডাইং ফেক্টরিতে নাও থাকতে পারে। তখন সে ফেব্রিক গুলি ল্যাব ডীপ করতে কাজে লাগবে ।
৩. ফেব্রিক গুলি কোন খানে আছে তার খোজ রাখতে হবে । আপনার ফেব্রিক কোন ব্যাচারে কোন ট্রলিতে এটা ডাইং মিল জানলেও আপনার নলেজে এটা থাকতে হবে তবেই আপনার কাজের সুবিধা হবে।
৪. ল্যাবে যারা আছে তাদের ল্যাবডিপ করাতে প্রায় প্রায় তাদের নাস্তার ব্যাবস্থা ইচ্ছে করে করুন । কারন আপনার কাজ এতে আটকে থাকবে না তারা ইচ্ছে করেই দ্রুত বের করে দিবে । এটা কমন পলিসি এটা লিখে ব্যাখ্যা করা যায়না । যতো দ্রুত ল্যাব ডিপ তত দ্রুত অর্ডার কনফার্ম হবে ।
৫. ফ্লোরে লোডার, ইন্সপেকশন ডিপার্টমেন্ট এ খাওয়ান মাঝে মাঝে দেখবেন আপনার ফেব্রিক নস্ট হবে না তারা যত্ন করে রেখে দিবে । ফাস্টট্রেক সার্ভিস পাবেন ।
৬. যে এলাকায় ফেক্ট্রিতে ফলোআপ করবেন সেখা বাসা নিয়ে নিবেন । অনেক সময় ঢাকা থেকে গিয়ে গাজীপুর ভালুকা কোনাবাড়ি নারায়ণগঞ্জ ফলোআপ সম্ভব না। তাই কাজ বেশি যে ফেক্টরিতে থাকবে সেখানের পাশে একটা মেসে সিট নিয়ে নিবেন। এতে রাতে দিনে সব সময় আপনার ফলোআপ করার সুবিধা হবে।
৭. এলাকার সিএনজি, পিকয়াপ, কাভার্ড ভ্যান এর সাথে যোগাযোগ করে চুক্তি করে রাখুন যাতে সময় মতো তাদের পেয়ে যান ।
৮. সব সময় সোয়াচ আপনার কাছে একটা রেফারেন্স আকারে রাখার ট্রাই করবেন যাতে করে কোন ভাবে সোয়াচ মিসিং হয়ে না যায়। মেজরিটি টাইমে ফেব্রিকের সোয়াচ হারিয়ে ফেলে।
৯. হোয়াইটস এপ ইউজ করার ট্রাই করুন যে কোন ডকুমেন্টস হোয়াটসঅ্যাপ এ সেন্ড করুন। আর কল রেকর্ডার ইউজ করুন ফোনে কারন টেক্সটাইল এ অনেক সময় কাজের দায় কেও নেন না তখন এই রেকর্ড গুলি খুবি কাজে দেয় ।
১০. ডাইং এ কথার বিশ্বাস করবেন না যতোক্ষণ পর্যন্ত আপনি চোখে না দেখেন নিজের, ডাইং শুরু হবে বললেও নিজের চোখে মেশিন চালু না হওয়া পর্যন্ত যাবেন না ।
১১. যেখানেই যাবেন টপ ম্যানেজমেন্ট টু অপারেটর সবার নাম্বার রাখবেন এতে আপনার আপডেট পেতে অনেক সুবিধা হবে। আপনি বায়ার তাই যেকোন প্রয়োজনে কল দিতে হেজিটেইট করবেন না ।
১২. না বুঝে নিজে ডিসিশন নেবেন না প্রয়োজন এ সোয়াচ কেটে নিয়ে এপ্রুভ করিয়ে এনে পরে মাল ডেলিভারিতে যাবেন। নিজের রিক্সে ডেলিভারি দিলে কারেকশন এর জন্য আবার রিটার্ন আনতে হবে ।
১৩. গার্মেন্টস এ মাঝে মাঝে ঘুরে আসবেন কাজ কেমন যাচ্ছে দেখবেন, ১০-২০ গজ এডিশনাল লাগলে দিয়ে দিবেন ঝগড়ায় যাবেন না কারন ১০-২০ গজ এমনি বাড়ে তাই এর খোজ কেও রাখবেনা । আপনার টার্গেট হচ্ছে এক্সেপ্টেন্স নেয়া । আপনি সেটা করান।
১৪. প্রিন্ট হলে ৮-১০% প্রসেস লস দিন যদি কোয়ানটিটি কম হয় । না হয় পরে আবার কাজ করানো লাগবে । প্রন্ট ডিপার্টমেন্ট এ কতো ফেব্রিক দিলেন আবার কিউরিং এর পর তা বুঝে নিবেন। আবার ফিনিশ এর পর হিসেব বুঝে নিন।
১৫. ফেব্রিক এর স্রিংকেজ রাবিং মেন্ডাটরি না হলেও এর রিপোর্ট সব সময় মেইন্টেইন করবেন।
১৬. রিপোর্ট করার জন্য সময় হাতে রেখে আপনার মার্চেন্ডাইজিং মার্কেটিং এর লোককে জানান, রেডি হয়ে যাবার পরো জানান যে প্রসেস হচ্ছে খুব শীঘ্রই কাপড় রেডি হচ্ছে ।
১৭. পিপি দিতে বাল্ক থেকে দিন আলাদা ভাবে পিপি করলে সেড মিলবেনা সহজে।
১৮. যদি সেডের সমস্যা থাকে তবে একটা ডাটাকালার CMC Report নিয়ে যাবেন এপ্রুভ করার জন্য । এপ্রুভ না হলে বার্গেইন করতে যাবেন না আবার নিয়ে যাবেন প্রসেস করে । তাদের সেড লাইট বক্সে দেখান।
১৯. ডেইলি বিল কস্ট গুলি আপনি অবশ্যই লিখে রাখেন ডাইরিতে। হুট করে ফ্লোরে টাকা খরচ করবেন না।
২০. সকাল বেলা যখন ডাইং প্রোগ্রাম লিখা হয় চেস্টা করবেন যাতে আপনার ডাইং প্রোগ্রাম টা আগে লিখা হয় । এর পর ল্যাবে যাবেন আপনার ল্যাব ডিপের আপডেট নিবেন। তার পর ডেলিভারিতে কি রেডি আছে তার স্টেটাস নিবেন । সব গুলি রিপোর্ট আকারে টেক্সট করে আপনার অফিসে পাঠিয়ে দিবেন।
২১. সেড কারেকশনের আশায় ফেলে রাখবেন না দ্রুত এপ্রুভালের জন্য আপনি নিয়ে যাবেন, সেড ন্র্যার সময় ভালো রোলের সেড কেটে ভালো জিএসএম দেখে নিয়ে যাবেন ।
বিদ্রঃ
ফেব্রিক কিউসি এর কাজ করতে ১০০ কল আর গালি দোষারোপ এগুলিকে কেয়ার করা যাবেনা। প্রতিটি কল এটেন্ড করতে হবে । পারত পক্ষে কোন খানে বিবাদে জড়াবেন না হোক গার্মেন্টস হোক ডাইং । কোন সময় মেশিনের সমস্যা ফেইস করলে দ্রুত অন্য ফেক্টরিতে নিয়ে কাজ করান ।
আপনি ফেব্রিক সাপ্লায়ার কিউসি হলে যে বিষয় গুলি মাথায় রাখবেন | fabrics supplier
মার্চেন্ডাইজিংয়ের যে অসতর্কতাগুলো হতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারন
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। গতকালকে আমি একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলাম। শিপমেন্টের দিন পলি সমস্যা নিয়ে। এটা আমার সাথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা না। কিন্তু যারা ফ্যাক্টরিতে মার্চেন্ডাইজিং করছেন তারা ব্যাপারটা ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে যে এইরকম অনেক ঘটনা ঘটে। অনেক ভাই ব্যাপারটিকে খুব তাচ্ছিল্যভরে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি যে এই পোস্টটি মূলত বিগিনারদের জন্য। যারা ট্রেইনি অথবা এসিস্টেন্ট লেভেলে আছেন।
ফ্যাক্টরিতে সাধারনত একটু ছোটখাটো লেভেলের বুকিংগুলো এসিস্টেন্টরাই করে থাকে। তাই কিছু কিছু ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বেচে যাওয়া যায়।
গার্মেন্টেসে/প্রোডাকশানে কোন কিছুই লেস ইম্পরট্যান্ট না। একটা ফেব্রিক যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি একটা হেংট্যাগ লুপের সাটিন টেপ ও সমান গুরুত্বপূর্ন। কারন সঠিকভাবে সব আইটেম ইনহাউজ করতে না পারলে পারফেক্ট প্রোডাকশন সম্ভব না। অথবা বুকিং এর কোন সমস্যার কারনে প্রোডাকশন চলাকালীন সময়ে ও অনেক অসুবিধায় পড়া লাগে। তাই নিচের ব্যাপারগুলোতে সতর্ক থাকতে হয়।
১। সব ধরনের বুকিং সাধারনত আগের ফরম্যাট থেকে কপি করে করা হয়ে থাকে। এই জায়গায় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাটা খুব বেশী। অনেক সময়ই আগের ফরম্যাটের কোয়ানটিটি রয়ে যায় এবং বুকিং সেই ভাবে প্লেস হয়ে যায়। সুতরাং বুকিং করার পর অন্তত ভালোভাবে একবার চেক করে নিতে হয় সব ঠিক আছে কিনা।
২। সুইং থ্রেডের বুকিং করার সময় অবশ্যই কত মিটারের কোণ সেটা উল্লেখ এবং ভালোভাবে চ্যাক করে দিতে হয়। ব্যাপারটা এমন ঘটতে পারে যে ক্যাল্কুলেশন করা আছে ২০০০ মিটার ধরে কিন্তু হবে মুলত হবে ৪০০০ মিটারের।
৩। ২ পকেটেই জিপার আছে এমন বুকিং করার সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে ২ গুন করা আছে কিনা। ব্যাপারটা এমন হতে পারে বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট হচ্ছে YKK জিপার। তাদের প্রোডাকশন লিড টাইম ২০ দিন। আপনি ২০ দিন পরে বুকিং এর সমস্যা টের পেলে ও খুব বেশী লাভ হবে না মাল এয়ার করা ছাড়া।
৪। কার্টুন বুকিং করার সময় অবশ্যই অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারন কার্টুন হচ্ছে একেবারে শেষ আইটেম। এমন হতে পারে যে আপনার ফিনিশং এসে ধরা পড়েছে যে কার্টুনের শিপিং মার্ক ঠিক নেই। শেষ মুহুর্তে এসে হয়তো সমাধান করতে পারবেন কিন্তু একটু সতর্ক থাকলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয় না।
এই রকম অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে, যেগুলো বড় বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে।
নুর মোহাম্মদ সাব্বির
মার্চেন্ডাইজার
তাহারাত কম্পোজিট লিমিটেড
মার্চেন্ডাইজিংয়ের যে অসতর্কতাগুলো হতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারন | Merchandizing
Wants to be a merchandiser???
মার্চেন্ডাইজার , একটা পদবী, একটা স্বপ্নময় চাকরি, একটা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এই শব্দ টা শুনলেই সমস্ত চিন্তা শক্তি দিয়ে ভাবতে ইচ্ছা করে “ আহা, কত শান্তির কর্পোরেট জব, অফিস এর খরচে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনের সুযোগ, বিদেশি বায়ারদের সাথে মিটিং, কমিশন, অনেক অনেক টাকা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি”।
যারা এসব চিন্তা করতে করতে নিজেদের ভবিষ্যৎ টা ভেবে ফেলেছেন তাদের জন্য বলছি, ভবিষ্যৎ থেকে এবার এক্টু অতীতের দিকে আসুন ।
আপনার কোম্পানি তে কোন কারণে একদিন উৎপাদন কম হল। কোম্পানি এর কর্মকর্তা গন সকল সেকশন বিভাগের প্রধান কে নিয়ে জরুরী মিটিং এ বসলেন। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানি এর উৎপাদন বলতে বুঝানো হয় সুইং এর প্রোডাকশন কে। তাই কর্মকর্তা গন প্রথমেই প্রশ্ন করবেন সুইং এর প্রধান কে। সুইং এর প্রধান এর কাছে যদি প্রোডাকশন কম হবার যথাযথ কারণ না থাকে তবে তিনি চাইবেন নিজেকে বাঁচানোর জন্য অন্য কারো উপর দোষ চাপিয়ে দিতে। ধরা যাক তিনি বললেন “ কাটিং থেকে পর্যাপ্ত ইনপুট পাই নাই” ।
কর্মকর্তাগণ তখন তাকেই প্রশ্ন করবেন যার উপরে সুইং এর প্রধান দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ কাটিং এর প্রধান কে প্রশ্ন করা হবে সুইং প্রধান এর বক্তব্য যাচাই করার জন্য। একইভাবে কাটিং প্রধানের কাছেও যদি কোন যথাযথ উত্তর না থাকে তবে তিনিও চাইবেন বাঁচার জন্য দোষটা অন্য কারো উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য। এভাবে ( সংযুক্ত ছবি টি দেখুন) একজন একজন করতে করতে সবার শেষে প্রশ্ন করা হবে দায়িত্তপ্রাপ্ত মার্চেন্ডাইজারকে। এতক্ষণ যাবত সবাই না হয় একজন একজন করে দোষ গুলো অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বেঁচে গেলেন।
মার্চেন্ডাইজারের উপর যখন আঙ্গুল তোলা হবে তখন তার আর কোন সুযোগ থাকবেনা অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার মত। কারণ এতক্ষণ বিভাগীয় প্রধানরা যা কিছুই বলেছেন তার সম্পূর্ণ সত্যি না হলেও সকলের চোখে তখন তিনিই দোষী। কেননা উনার নিজেরই দায়িত্ব সকল কিছুর সার্বিক তত্ত্বাবধান করা। এখন কর্মকর্তাগণ যখন তাকে প্রশ্ন করবেন তখন তাকে তো কিছু না কিছু বলতে হবে। ধরা যাক তখন তিনি জানালেন যে সুতা বুকিং দিতে ১ দিন বিলম্ব হয়েছিল। হ্যাঁ, আর এই একদিনের বিলম্ব হবার কারনেই সকল দোষ এখন তার উপর। আর এই দায়ভার কাঁধে নিয়েই তাকে চলতে হবে যতদিন না পর্যন্ত ঐ অর্ডার টা সম্পন্ন না হচ্ছে। সুতরাং এই দায়ভার বহন করার মানসিকতা, দক্ষতা যাদের আছে তারাই হতে পারেন একজন সফল মার্চেন্ডাইজার।
এখন একটু অন্যভাবে চিন্তা করা যাক। মনে করেন ঐ মার্চেন্ডাইজার ঐ মিটিং থেকে শিক্ষা পেয়ে ভাবল যে “কোনকিছুতে আর বিলম্ব করা যাবে না এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে” । এই শিক্ষা নিয়ে তিনি পরের অর্ডার গুলো তে সব কিছু সময় মত করতে থাকলেন। তারপর ও আবার মিটিং এ বসতে হলো ঐ একই কারণে, অর্থাৎ উৎপাদন কম হবার কারণে। এবারও সেই একই উত্তর পাওয়া গেলো যে “ কোন কিছুই সময় মত পাচ্ছি না।“ এবার মার্চেন্ডাইজার ও বলল “ না, আমি তো সব কিছুই সময় মত বুকিং দিয়ে দিয়েছি” । তখন জানা গেলো যে সময় মত বুকিং দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যথাযথ তত্ত্বাবধান না করার কারণে কোন কিছুই সময়মত হয় নাই। তারমানে আবার সেই দায়ভার, আবার সেই চিন্তা। আর এই মিটিং থেকে তার শিক্ষা হল যে “ সময় মত বুকিং দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না, বরং যথাযথ তত্ত্বাবধান ও করতে হবে” ।
একজন মার্চেন্ডাইজারের জীবনে প্রতিদিনই এইরকম অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই সব সমস্যা যিনি যত তাড়াতাড়ি সমাধান করে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেন তিনিই হতে পারেন একজন সফল মার্চেন্ডাইজার। আর সফল মার্চেন্ডাইজার হবার পর ই তিনি ঐসব সুবিধা ভোগ করতে পারেন যেই গুলোর চিন্তা আপনি “মার্চেন্ডাইজার” শব্দ টা শোনার পরই এর ভবিষ্যৎ ভেবে ফেলেছেন।
Thanks & Best regards
Md. Faridul Islam Rumman
Former IE Executive
Turag Garments & Hosiery Mills Ltd.
M.Sc in Technical Research & Engineering
Wuhan Textile University, Hubei, Wuhan, China.
আপনি কি মার্চেন্ডাইজার হতে চান ?
বাংলাদেশ থেকে সহজে গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার উপায় ।। How to find apparel buyers
যারা নতুন করে গার্মেন্টস দিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে চান তাদের জন্য গার্মেন্টস বায়ার লিস্ট খুজে পাওয়া টা খুবই দরকার। অনেকেই আমরা অফলাইনে গার্মেন্টস বায়ার লিস্ট খুজে থাকি আবার অনেকেই অনলাইনে গার্মেন্টস বায়ার লিস্ট খুজি। নিচে বাংলাদেশের ১০ টি বড় গার্মেন্টস বায়ার লিস্ট দেয়া হল।
1. H&M
2. Walmart
3. C&A
4. Zara
5. GAP
6. Target
7. TESCO
8. Carrefour
9. Levi's
10. JCPenney
গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার উপায়ঃ
র্মেন্টস ব্যবসায় যারা যুক্ত আছেন বা যারা আসতে চাচ্ছেন তাদের সবার একটই প্রশ্নের উত্তর খুজে বেড়ায় টা হল গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার উপায় ?
আপনি যখন বিশ্ববাজারে ব্যবসা করার কথা ভাবছেন তখন বুঝতে পারবেন গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার বাজার যে কত তীব্র প্রতিযোগীতাপূর্ণ । এটা ঠিক যে গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার জন্য দেশী বিদেশী ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা খুবই জরুরী । এর পাশাপাশি ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রথাগত ও অপ্রথাগত দুইভাবেই কিভাবে গার্মেন্টস বায়ার পাওয়া যাবে তা ক্ষুদ্র পরিসরে আলোকপাত করছি ।
Alibaba.com ও B2B সাইটঃ
কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমনি B2B মার্কেটপ্লেসের কথা উঠলে প্রথমেই চলে আসে Alibaba.com এর কথা । বর্তমান বিশ্বে গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার উপায় হিসাবে Alibaba.com হচ্ছে প্রথম মার্কেট । আপনি চাইলে Alibaba.com থেকে গার্মেন্টস বায়ার সহজেই পেতে পারবেন।
কিন্তু দু:খের বিষয় কিছু ভুলের কারনে বেশিরভাগ বাংলাদেশী Supplier গার্মেন্টস বায়ারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয় তাতে এক নম্বরে চলে আসে অসম্পূর্ণ কোম্পানি প্রোফাইল । আপনি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করছেন আর বায়ার আপনাকে চিনবে আপনার প্রোফাইলের মাধ্যমে , তাতেই যদি খামখেয়ালী করেন তাহলে গার্মেন্টস বায়ার পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে।
আর দুই নাম্বারে প্রোডাক্ট লাইন ও প্রোডাক্ট ইমেজ ।বেশিরভাগ বাংলাদেশী Supplier যেটা করে কোন রকম প্রোডাক্ট ডিটেইলস না দিয়ে খুবই বাজে রেজ্যুলেশনের ছবি প্রোডাক্ট লাইনে আপলোড করে দেয় । নিজেকে Buyer এর জায়াগায় কল্পনা করুন , আপনি কি এমন কোন Supplier থেকে জিনিস কিনবেন যারা প্রোডাক্ট ডিটেলই ভালভাবে দেয় না ।
তিন নাম্বারে চলে আসে প্রোফাইল ভেরিফাইড না করা আর Golden মেম্বার না হওয়া । কিছু টাকা পয়সা খরচ হলেও এর ফলে যত সহজে Buyer আপনাকে খুজে পাবে , সাধারণ মেম্বার হিসেবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না ।এছাড়াও এরকম কিছু সাইট যা আপনাকে নতুন Buyer পেতে সাহায্য করতে পারে তা হচ্ছে ।
আলিবাবাতে গোল্ড মেম্বার হতে আপনাকে খরচ করতে হবে ১৫০০০০/= টাকা । তবে বিভিন্ন সময় আলিবাবা ছাড় দিয়ে থাকে। ১২০০০০/= টাকায় তখন আপনি আলিবাবার
গোল্ড মেম্বার হতে পারবেন।
আলিবাবা ছাড়াও Globalsources থেকেও গার্মেন্টস বায়ার খুজে পাবেন। এটাও একটি B2B সাইট । আলিবাবার মত আরেকটি সাইট হল Tradekey। এই সাইট থেকেও আপনি গার্মেন্টস বায়ার খুজে পাবেন। এটাও একটি B2B সাইট ec21 । আপনি চাইলে এই সাইটেও আপনার প্রতিষ্ঠানের অ্যাড দিয়ে গার্মেন্টস বায়ার খুজে পেতে পারেন।
ওয়েবসাইট:
একটা ওয়েবসাইট গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার উপায় হিসাবে ভালো কাজ করে। আপনার প্রতিষ্ঠানের একটা ওয়েবসাইট থাকা মানে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের লোকই ঘরে বসে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারছে । এক্ষেত্রে যেটা দেখা যায় অনেক কোম্পানি তাড়াহুড়ো করে কোন রকমে একটা ওয়েবসাইট বানায় রাখে , এতে যে তার কি লস হচ্ছে তা আর ভেবে দেখে না । মাথায় রাখবেন কোন বিদেশী Buyer প্রথমেই আপনার ব্যপারে ধারনা পাবে আপনার ওয়েবসাইট দেখে ।
তাই সময় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে আপনার কোম্পানীর ওয়েবসাইট তৈরি করুন । ভালো মানের ডেভলপার দিয়ে একটু বেশী বাজেট দিয়ে আপনি চেষ্টা করবেন ওয়েবসাইট তৈরি করতে।
আপনার ওয়েবসাইটের SEO করুনঃ
সুন্দর একটা ওয়েবসাইট থাকাই শেষ কথা নয় । এরপর যেটা দরকার গার্মেন্টস বায়ার যাতে আপনাকে Google ও অন্যান্য সার্চ ইন্জিনে সহজে খুজে পায় তার ব্যবস্থা করা । যেমন আপনি টি শার্ট তৈরি করেন। আপনার ওয়েবসাইটের SEO করার পর Google কেউ যদি সার্চ দেয় "Bangladeshi T-Shirt Garments" তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম আগে চলে আসবে।
এর জন্য আপনার ওয়েবসাইটের SEO করুন । প্রয়োজনে ভালো কোন SEO ফার্ম কে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিতে পারেন। একবার ক্লায়েন্ট পেতে শুরু করলে সব খরচ আপনা আপনি উঠে আসবে । বিভিন্ন ফ্রিলাঞ্চার মার্কেট গুলিতে খুব সহজেই আপনার মন মত SEO ফার্ম খুজে পাবেন ।
Linkedin ও সিমিলার প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক:
Linkedin চাকরিজীবী বলেন আর ব্যবসায়ী বলেন সব ধরনের প্রফেশনালদের মাঝে খুব জনপ্রিয় । এর গ্রুপের মাধ্যমেও আপনি গার্মেন্টস বায়ার পেতে পারেন।
এর কিছু সমৃদ্ধ Export-Import গ্রুপ আছে । প্রথমে আপনার প্রোফাইল ভালো করে তৈরি করে নিন। আপনার প্রোফাইল দেখলে যেন মনে হয় আপনি একজন গারমেন্ট পণ্য উৎপাদন কারী বা মার্কেটর হিসাবে কাজ করেন। এর পর আপনি বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করতে থাকুন । তবে বেশিরভাগই এই সাইটে যে ভুলগুলো করে থাকেন তা হল নেটওয়ার্ক তৈরির পর আর যোগাযোগ রাখেন না অথবা একের পর এক স্পাম করেই চলেন । আপনাকে এই সাইটে সাকসেস হতে হলে ধৈর্য় ধরতে হবে । আজ পরিচয়ের পর কাল থেকে কেউ আপনার সাথে লক্ষ কোটি টাকার পণ্য অর্ডার করবে না ।
ব্যবসায়ীক সম্পর্ক তৈরি হতে সময় লাগে । প্রথমে সুম্পর্ক তৈরি করুন । নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন । Linkedin এর মত নতুন গার্মেন্টস বায়ার পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এমন কিছু সাইট Visualcv এবং Meetup
Youtube:
এই টেকনিকটি প্রায় অপ্রচলিত ও অপ্রথাগত । এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশিরভাগ লোক টিভির চাইতে Youtube এ ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করে ।
আপনি যদি চান যে আপনার পণ্য বিদেশী কোন চ্যানেলে প্রচার করতে তবে আপনি বিদেশী পপুলার চানেলে স্পন্সর করতে পারেন। এসব চ্যানেল থেকেও আপনি গার্মেন্টস বায়ার পেতে পারেন।
বিদেশী ম্যাগাজিনে অ্যাড দেওয়া :
বিভিন্ন বিদেশী অনলাইন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় অ্যাড দিয়ে দেখতে পারেন । যদিও এক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলীর বাধা থাকে যার কারণে সবাই রাজি নাও হতে পারে । কিন্তু এটি খুবই কার্য়করী পদ্ধতি । আর ম্যাগাজিন বা পত্রিকার লিস্ট পেতে Wikipedia সার্চ করেন । সব লিস্ট পেয়ে যাবেন ।
Craiglist ও ক্লাসিফাইড অ্যাড পোস্টিং :
Craiglist ও বিভিন্ন দেশের ক্লাসিফাইড অ্যাড সাইট আপনাকে নতুন গার্মেন্টস বায়ার পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে । এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে আপনি বাংলাদেশ থেকে বা বাংলাদেশী IP থেকে এসব বিদেশী সাইটে অ্যাড পোস্ট করতে পারবেন না । তাই এই কাজের জন্য কোন প্রফেশনালকে নিতে পারেন।
Yelp ও রিভিউ সাইট :
Yelp হচ্ছে সেই সাইট যেখান থেকে আপনি আমেরিকার সকল প্রকার ব্যবসা সম্পর্কে রিভিউ পাচ্ছেন । ধরুন আপনার পণ্য যদি গার্মেন্টস প্রোডাক্ট হয়ে থাকে তবে আমি আপনাকে পরামর্শ দিব Yelp এ গিয়ে “Fashion Store” নামে সার্চ দিয়ে দেখতে । এতে অনেক ফ্যাশন স্টোরের নাম চলে আসবে যাদের সাথে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন ।
গ্লোবাল গার্মেন্টস বায়ার্স ইনফরমেশন ডাইরেক্টরি | Global Apparel Buyers Directory:
গ্লোবাল বায়ার্স ইনফরমেশন ডাইরেক্টরি প্রকাশ করল বিকেএমই
গ্লোবাল বায়ার্স ইনফরমেশন ডিরেক্টরি প্রকাশ করেছে নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। এতে নিট ও তৈরি পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান, বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশের নিট ও ওভেন পণ্যের চাহিদাসহ আগামী ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশে এই শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশের সম্ভাব্যতার তথ্য রয়েছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। এই বইয়ে ১৬০টি দেশের ২০ হাজার তৈরি পোশাকের বিদেশি ক্রেতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল, ই-মেইল, ফ্যাক্স নম্বর, ওয়েবসাইট রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থনীতি, সমুদ্রবন্দর, মাথাপিছু আয় ইত্যাদি তথ্য রয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে বইটি কেনার জন্য বুকিং প্রদানকৃত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
যারা বায়িং হাউস খুলতে চান বা বিদেশী বায়ার দের সাথে যোগাযোগ করতে চান তাদের জন্য BKMEA থেকে বের করা হয়েছে BUYER DIRICTORY ( BKMEA publishes “Global Buyers’ Information Directory”) for Bangladesh RMG Sector যেখানে তোমরা ৫০০ এর মত বায়ার দের নাম ঠিকানা পাবেন।
নিজে ও কিনতে পারেন বা পরিচিতদের ও বলতে পার কেনার জন্য।
SHAFIULLAH©
গার্মেন্টস, এপারেল, কোদিং বায়ার পাওয়ার উপায় । How to find apparel buyers
মার্চেন্ডাইজারের ডায়েরি*প্রফেশন: #মার্চেন্ডাইজিং
পর্ব: ১৩ (Communication)
=====================
আশা করি সবাই ভালো আছেন এবং মার্চেন্ডাইজারের ডায়েরির পর্বগুলো পড়ে উপকৃত হচ্ছেন। জানার ব্যাপারটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং যার কোন শেষ নেই।যেহেতু আমার জানার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে তাই আমার লেখা পর্বগুলোতে লেখার বাহিরেও যদি আপনারা কিছু জানেন তবে তা কমেন্ট করে জানাবেন। এতে করে আমরা সবাই উপকৃত হবো। পাশাপাশি অনুরোধ করবো আপনাদের যদি কিছুটা হলেও লেখালেখি করার অভ্যাস থাকে এবং টেক্সটাইলের যেকোন সেক্টরে জব করে থাকেন তবে তা গ্রুপে পোস্ট করার। সেটা যতো ক্ষুদ্র জানার ব্যাপারই হোক না কেনো। আর আপনি যদি লেখাগুলো কোন সিরিজের নাম দিয়ে পর্ব আকারে লিখেন তবে গ্রুপের মেম্বাররা সহজেই আপনার লেখাগুলো খুজেঁ পাবে।আমি বিশ্বাস করি এই গ্রুপে অনেকেই আমার থেকে অনেক ভালো জানেন। সুতরাং প্রত্যেকেই যদি প্রত্যেকের জানা বিষয়গুলো গ্রুপে শেয়ার করি তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই গ্রুপটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উপযোগী টেক্সটাইল গ্রুপে পরিনত হবে। এর জন্য আপনার খুব বেশি উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হবে না।
যিনি মেশিন অপারেটর হিসেবে জব করেছেন তিনি যদি তার ক্ষুদ্র গন্ডি থেকেও তার জানার ব্যাপারটি শেয়ার করে তবে অন্যরা একদিকে যেমন জানতেও পারবে ঠিক তেমনি এটাও বুঝতে পারবে এই টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য আপনার কাজটুকুও ঠিক কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। কথা আর খুব বেশি দীর্ঘ করবো না। আমাদের আজকের পর্বের বিষয় হলো Communication। একজন মার্চেন্ডাইজারের বায়ার, ফ্যাক্টরির প্রোডাকশন টিম এবং সাপ্লায়ারের সাথে কমিউনিকেশন সবচেয়ে বেশি হয়। আজকের এই পর্বে আমরা সাধারনভাবে শুধুমাত্র কমিউনিকেশন নিয়ে আলোচনা করবো।
মার্চেন্ডাইজারদের জন্য Communication হচ্ছে সবগুলো কাজের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের মতো। একজন মার্চেন্ডাইজারের কমিউনিকেশন স্কিল যতো স্ট্রং একজন মার্চেন্ডাইজার ঠিক ততোটাই স্কিলড। আর আপনার কমিউনিকেশন যদি ঠিক থাকে তবে দেখবেন বাকি কাজগুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে গেছে।কমিউনিকেশন নিয়ে আমার বর্তমান অফিসের টিম লিডার গোলাম মইনুদ্দিন স্যারের একটি কথা আদর্শ মনে হয়। সেটি হচ্ছে আপনি যখন কারো সাথে কমিউনিকেশন করছেন তখন মনে করবেন আপনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কমিউনিকেশন করছেন :p ।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে এখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলো কোত্থেকে আর তার ভূমিকাটাই বা কি? এখানেই হচ্ছে আসল খেলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছে পৃথিবীর ক্ষমতাধর দেশ USA র প্রেসিডেন্ট যদিও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমরা ধরি যে নেই বললেই চলে। কিন্তু যখন আপনি তার সাথে কমিউনিকেশন করবেন তার মানে হচ্ছে তার পদের কারনে তাকে আপনার গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এবং একইসাথে তাকে আপনার এমনভাবে বুঝাতে হবে যে ধরে নেন সে কিছুই জানে না। তারমানে কমিউনিকেশন করার সময় আপনাকে এমনভাবে করা লাগবে যাতে তাকে সবকিছু এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে সে আপনি তাকে কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা সে অল্প কথাতেই পুরো বুঝে যায়, তাকে যেনো আগের অতীত ইতিহাস ঘেটে সময় নষ্ট করতে না হয় যেহেতু আপনার কাছ থেকে রচনা শোনার সময় তার নেই। ঠান্ডা মাথায় আগে দুই মিনিট চিন্তা করুন যে আপনাকে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কোন বিষয় উপস্থাপন করতে বলা হয় তবে আপনি কিভাবে তা উপস্থাপন করবেন। এরপর বাকি লেখাটুকু পড়তে বসুন............
Communication এর অনেক রকমফের আছে। তবে আমরা আজকের বাকি আলোচনা শুধু E-mail Communication এর ভিত্তিতেই করবো। আমার কাছে মনে হয় E-mail Communication এর জন্য পাচঁটি Words খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম Word টি হচ্ছে Subject। মেইল কমিউনিকেশুনের জন্য সঠিক সাবজেক্ট লাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেইলের সাবজেক্ট এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ মেইল ওপেন না করে শুধু সাবজেক্ট লাইন দেখেই বুঝতে পারে যে মেইলের ভিতরে কি লেখা থাকতে পারে। এটি শুধু আপনাকে বুঝানোর জন্য নয় বরংচ নিজের বুঝার জন্যও। আপনি কোন মেইল স্টার্ট করলে এমনভাবে সাবজেক্ট লিখবেন যাতে বছরখানেক পরেও আপনি শুধুমাত্র মেইলের সাবজেক্ট লাইন দেখেই বুঝে ফেলতে পারেন সেটি কোন প্রসঙ্গের।
দ্বিতীয় Word টি হচ্ছে Prompt। অর্থাৎ আপনার মেইল কমিউনিকেশন হতে হবে খুব চটপটে। আপনাকে কেউ মেইল করলে আপনাকে তার একটি চটপটে উত্তর দিতে হবে। ব্যাপারটা যাতে এমন না হয় যে আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে আপনি সেই কাজ শেষ করার আগ পর্যন্ত মেইলের কোন রিপ্লাই দিবেন না অথবা সেই কাজটির নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলেও আপনি তাকে কিছু জানাবেন না। বরংচ কেউ কোন মেইল করে কিছু জানতে চাইলে আপনার উচিত হবে আপনার জানা থাকলে ঐ দিনেই তাকে মেইলের রিপ্লাই দেওয়া অথবা আপনার যদি কাজ করে তাকে জানাতে হয় তবে তার কাছে আনুমানিক সময় চেয়ে তাকে মেইলের রিপ্লাই দেওয়া।
এতে করে মেইলের সেন্ডার বুঝতে পারবে যে আপনি মেইলটি দেখেছেন এবং সেটি নিয়ে কাজ করছেন। আবার আপনি যদি নির্দিষ্ট দিনের মাঝে কাজটি শেষ করতে না পারেন তবে যখনই আপনি ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন তখনই নিজে থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া যাতে করে মেইলের সেন্ডার বিরক্ত না হয়।
তৃতীয় Word টি হচ্ছে Meaningful। সবসময় লক্ষ রাখবেন মেইলের ভাষা যাতে অর্থবহ হয়। মেইল চেষ্টা করবেন তিনটি অংশে লেখার জন্য। প্রথম অংশে বিষয়বস্তু পরের অংশে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা আর সবশেষ অংশে সমাপ্তি। আবার আমরা অনেকেই হয়তো কোন মেইলের উত্তর না পেলে পরের মেইলে শুধু লিখি "Please advise on below"। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাপারটি যদি এমন হয় আপনি কোন ফেব্রিক মিলের কাছে স্যাম্পল ইয়ার্ডেজের জন্য আগের মেইলে চেয়েছেন কিন্তু তারা কোন রিপ্লাই দেয়নি সেক্ষেত্রে এভাবে লিখা যায় যে, "Please advise on below mail regarding X (Fabric Code) sample yardage ready date"। ব্যাপারটা এভাবে বলার কারন হচ্ছে যতো বেশি সিনিয়র হবেন ততো বেশি মেইল সাধারণত আসে।সবাই সবসময় সব মেইল নাও পড়ার সুযোগ পেতে পারে।
এক্ষেত্রে আপনি যাকে লিখেছেন তার আগের মেইলটি তার সিনিয়র যদি নাও পড়তে পারে তবে দ্বিতীয়ভাবে মেইলটি লিখলে উনি দেখামাত্রই সহজেই বুঝে যাবে আপনি আগের মেইলে কোন ফেব্রিক কোডের স্যাম্পল ইয়ার্ডেজ চেয়েছেন এবং সেটি পাচ্ছেন না।সেক্ষেত্রে তাকে স্ক্রল করে আগের মেইল দেখা লাগবে না এবং তিনি তার জুনিয়রকে মেইলে ইমেডিয়েট রিপ্লাই দেওয়ার জন্য পুশ করতে পারবেন।
চতুর্থ Word টি হচ্ছে Informative। মেইলে চেষ্টা করবেন রচনা না লিখে কিভাবে Information দিয়ে মেইলটিকে তথ্যবহুল করা যায়। মানুষ জেনারেল স্ট্যাটমেন্টের থেকে তথ্য দেখতে বেশি পছন্দ করে। এক্ষেত্রে তারিখ এবং সংখার ব্যবহার প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
পঞ্চম Word টি হচ্ছে Summarized । মেইলে সবসময় চেষ্টা করবেন খুব বেশি Elaborate না করে কিভাবে সংক্ষিপ্তভাবে সবকিছু গুছিয়ে লেখা যায়। এক্ষেত্রে Excel File খুব ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। দেখা গেলো ফ্যাক্টরি মার্চেন্ডাইজার হিসেবে আপনার অনেকগুলো স্টাইলের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে বায়িং অফিসের সাথে কাজ করতে হচ্ছে। এখন আপনি চাইলে সবগুলো স্টাইল নিয়ে যদি মেইলের বডিতে ক্যারিফিকেশন নিতে চান তবে সেক্ষেত্রে মেইলটি একটি Essay না হলেও Paragraph হয়ে যাবে যা কিনা বারবার স্ক্রল করে করে দেখতে সবারই বিরক্ত লাগবে। অথচ এক্ষেত্রে আপনি যদি এক্সেলে সবকিছু সামারাইজড করেন তবে তা সবার জন্যই বোধগম্য হবে।
আজকে এই পর্যন্তই। সামনের মার্চেন্ডাইজারের ডায়েরির পর্বে ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো আমার নতুন কোন কর্ম অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। এই সিরিজের আগের পর্বের লিংকগুলো প্রথম কমেন্টে পাবেন।
আসিফ বিন আসগর
(বর্তমানে বহুজাতিক ট্রেডিং অফিসের মার্চেন্ডাইজিং বিভাগে কর্মরত)
সাবেক টেক্সটাইল স্টুডেন্ট, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মার্চেন্ডাইজারদের কমিউনিকেশন | Merchandising Communication
মার্চেন্ডাইজারের ডায়রি | প্রফেশন: মার্চেন্ডাইজিং ( Thread Booking )
=====================
আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রিমসের বুকিং নিয়ে আলোচনা করবো। এটি হচ্ছে Thread Booking । Thread কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলার কারণ হচ্ছে Thread না থাকলে আপনি গার্মেন্টস Sewing করতে পারবেন না। আর মার্চেন্ডাইজার হিসেবে আপনাকে সবার আগে যেই ট্রিমসকে ফ্যাক্টরিতে Inhouse করা লাগবে তা হচ্ছে Thread। Thread Booking আবার একই সাথে খুবই Sensitive। কেননা Sewing এর সময় মেশিন অপারেশনের কারনে কখনো Thread Wastage বেশি হয় আবার কখনো কম হয়ে যায়।
অর্ডার শেষে Inventory বেশি হয়ে গেলে অনেক ফ্যাক্টরিতে অডিট টিম মার্চেন্ডাইজারকে টপ ম্যানেজমেন্টের কাছে কাঠগড়ায় দাড় করায় আবার কম হয়ে গেলে লাইন অফ হয়ে যাবে তখন প্রোডাকশন থেকে কমপ্লেইনের কারনে মার্চেন্ডাইজারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। মোদ্দা কথা মার্চেন্ডাইজারকে দুই ক্ষেত্রেই বাঁশের ফাকার মাঝে থাকা লাগবে। তবে মার্চেন্ডাইজার এবং প্রোডাকশন টিমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক একটি অর্ডারের Thread Booking এর ক্ষেত্রে একজন মার্চেন্ডাইজারের কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
১) একটি গার্মেন্টস Sewing করার জন্য সেই গার্মেন্টসের Fabric Weight, Type & Operation অপারেশন অনুযায়ী একেক কাউন্টের থ্রেডের প্রয়োজন হয়। কাউন্ট মূলত থ্রেডের Thickness বা পুরুত্বের একক বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত থ্রেডের ক্ষেত্রে পুরুত্বের একক হিসেবে Tex বহুল ব্যবহৃত। এছাড়া অনেকে English Count ও ব্যবহার করে। যাহোক ১০০০ মিটার সুতার ওজন যত গ্রাম ওই থ্রেডের কাউন্ট তত Tex। তারমানে 105 Tex এর থ্রেড বলতে আমরা বুঝবো সেই থ্রেডের ১০০০ মিটারের ওজন 105 গ্রাম। Tex যত কম হবে মানে হচ্ছে সেই থ্রেড তত Finer বা চিকন হবে।
এখন কথা হচ্ছে Fabric Weight, Garments Type & Operation অনুযায়ী বিভিন্ন কাউন্টের থ্রেড কেন ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত Fabric Weight যত বেশি হয় তত Coarser বা মোটা থ্রেড ব্যবহার করতে হয়। কেননা ফেব্রিক যত মোটা হবে সেই ফেব্রিককে ধরে রাখার জন্য আনুপাতিকভাবে তত স্ট্রেংথের বা মোটা সুতা ব্যবহার করা লাগবে। Garments Type এর মধ্যে সাধারণভাবে দেখা যায় শার্ট বা Light Fabric Weight এর টপসের জন্য অপেক্ষাকৃত চিকন সুতা ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে 60 Tex, 40 Tex এবং 30 Tex এর থ্রেড বেশি ব্যবহৃত হয়। সবশেষে যদি অপারেশনের কথা বলি তবে বলবো এটির কারনেই একটি গার্মেন্টসে বিভিন্ন কাউন্টের থ্রেড ব্যবহার করা লাগে। যেমন একটি Heavier ডেনিম প্যান্টের Top Stitch এর Sewing এর জন্য যদি Lock Stitch বা প্লেইন মেশিনে সুয়িং করা হয় তবে তার টপের থ্রেড হিসেবে সাধারণত 120 Tex or 105 Tex এবং Bobbin এর থ্রেডের জন্য 60 Tex ব্যবহার করা হয়। আবার যেখানে Overlock করার প্রয়োজন হচ্ছে সেখানে 40 Tex or 30 Tex ব্যবহার করা হয়।
২) অনেক বায়ার তাদের Quality Manual এ উল্লেখ করে দেয় Fabric Weight, Garments Type & Operation অনুযায়ী কোন কোন কাউন্টের থ্রেড ব্যবহার করতে হবে। সেরকম যদি উল্লেখ না থাকে তবে Sample Technician এর সাথে আলোচনা করে জেনে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টসের জন্য কোন কোন কাউন্টের থ্রেড বুকিং করতে হবে।
৩) থ্রেড বুকিং একটি অর্ডার পাওয়ার পর পর না করে 1st Fit Sample এর কমেন্টস বায়ারের কাছ থেকে পাওয়ার পর করা উচিত। কেননা যদি Sample এর Sewing অপারেশনে মেজর কোন কারেকশন থাকে তবে বায়ার সাধারণত তা 1st Fit Sample এর কমেন্টসে উল্লেখ করে দেয়।
৪) Trimsheet এ কোন কোন কালারের গার্মেন্টসের জন্য কোন কালারের থ্রেড ব্যবহার করতে হবে তা উল্লেখ করা থাকে। সাধারণত Proto Sample বা Development Sample এ Actual Thread ব্যবহার করে বায়ারের কাছে এপ্রোভাল চাইলে বায়ার শুরুতেই থ্রেড কালার এপ্রোভড করে দেয়। আর যদি কোন সলিড কালার বা এক কালারের গার্মেন্টসের জন্য DTM (Dyed To Match) Thread ব্যবহার করতে বলা হয় তবে মার্চেন্ডাইজারের উচিত অর্ডার পাওয়ার সাথে সাথেই সেই Color Standard থ্রেড সাপ্লায়ারের কাছে দিয়ে সেই গার্মেন্টস সুয়িং করার জন্য যেই কাউন্টের থ্রেড লাগবে সেই কাউন্টের দুই - তিনটি অপশনের Lab Dip করে দেওয়ার জন্য। এরপর দুই তিনটি অপশনে Thread Mock Up করে সংশ্লিষ্ট কালারের থ্রেড এপ্রোভালের জন্য বায়ারের কাছে পাঠাতে হবে। ডেনিম গার্মেন্টসে যেহেতু হেভি ওয়াশ হয় তাই Thread এর কালার ওয়াশের পর অনেকসময় কিছুটা Faded হয়ে যায়। তাই সবসময়ই উচিত অন্তত Actual কালারের থ্রেড Sample এ ব্যবহার করে বায়ারের কাছ থেকে এপ্রোভাল নিয়ে নেওয়া যাতে পরবর্তীতে বায়ার বলতে না পারে যা ওয়াশের পর কেনো থ্রেড কালার চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।এছাড়া যদি দেখা যায় ওয়াশের পর থ্রেড কালার অনেক চেঞ্জ হয়ে যায় তবে সেটা অবশ্যই স্যাম্পল পাঠানোর সময় বায়ারকে বলে দেওয়া উচিত।
৫) অধিকাংশ বায়ারের অর্ডারের জন্য নমিনেটেড সাপ্লায়ারের কাছ থেকে থ্রেড নিতে হয়। এক্ষেত্রে A&E এবং Coats দুইটি সুপরিচিত মাল্টি ন্যাশনাল থ্রেড সাপ্লায়ার।এরা অধিকাংশ বায়ারের ক্ষেত্রেই নমিনেটেড সাপ্লায়ার।যদিও এদের থ্রেডের প্রাইস অন্যান্যদের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি তবে কোয়ালিটির ক্ষেত্রে এরা শীর্ষে। এছাড়া বায়ারভেদে অন্যান্য লোকাল এবং ফরেন নমিনেটেড সাপ্লায়ারও থাকে। কিছু কিছু বায়ারের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরির নিজেদের থ্রেড সাপ্লায়ারের কাছ থেকে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এক্ষেত্রে যেই সাপ্লায়ার ঠিক করবেন তারা কোয়ালিটি ঠিক রাখতে এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে পারবে কিনা তা মাথায় রাখা উচিত।
৬) Thread booking এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে Consumption Checking। অধিকাংশ ফ্যাক্টরিতে Thread Consumption Calculation করার জন্য একজন Assigned করা থাকে যিনি সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টসের এক পিস মেক করার জন্য কোন কাউন্টের কত মিটার থ্রেড লাগবে তা Calculation করে দেন। Thread Booking এর আগে তার কাছে এক পিস স্যাম্পল নিয়ে Thread Calculation জেনে নিতে হবে।
৭) বুকিং শিট রেডি করার সময় খুবই সতর্কতার সাথে দেখা লাগবে নির্দিষ্ট কালারের গার্মেন্টসের জন্য নির্দিষ্ট থ্রেড কালারের নির্দিষ্ট কাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমানের Required Thread উল্লেখ করা হয়েছে কিনা। এর সাথে Wastage হিসেবে সাধারণ ৫-৭% ধরা হয়।
৮) বুকিং দেওয়ার পর সাথে সাথেই সাপ্লায়ারের কাছ থেকে PI নিয়ে চেক করে L/C দিয়ে দেওয়া ভালো যাতে L/C র কারনে বাল্ক ডেলিভারির কোন সমস্যা না হয়।
৯) অনেক কোম্পানিতেই মার্চেন্ডাইজিং টিম হেড অফিসে বসে। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিতে বাল্ক থ্রেড ডেলিভারি হওয়ার পর প্রতিটি কালারের থ্রেড নিয়ে এসে এপ্রোভড থ্রেডের সাথে চেক করে নেওয়া ভালো যাতে কোন গরমিল থাকলে সাথে সাথেই সাপ্লায়ারকে জানানো যায়।
১০) প্রোডাকশন স্টার্ট হওয়ার পর প্রোডাকশন টিমের কাছ থেকে আবার Thread Consumption চেক করে নিতে হবে। কেননা অনেকসময় দেখা যায় যিনি শুরুতে Thread Consumption দেন তার Calculation এর সাথে প্রোডাকশন টিমের Calculation এ কিছুটা তফাৎ থেকে যায়। প্রোডাকশন টিম সবসময়ই চায় বেশি Thread Consumption ধরার জন্য যাতে Machine Operator রা Wastage বেশি করলেও প্রবলেম না হয়। অনেকসময় তারা অহেতুকই বেশি চায় ফলে দেখা যায় অর্ডার শেষে বেশি Inventory থাকার কারনে মার্চেন্ডাইজারের দুর্নাম হয়। সেক্ষেত্রে প্রোডাকশন টিম Liability নিতে চায় না। এক্ষেত্রে মার্চেন্ডাইজারের সতর্ক থাকতে হবে যাতে অর্ডার শেষে থ্রেড বেশিও না থাকে আবার অর্ডারের মাঝে এসে থ্রেড স্বল্পতার কারনে যাতে প্রোডাকশন থেমে না থাকে। কেননা দিনশেষে Right Time এর মধ্যে Right Quantity র গার্মেন্টস শিপমেন্ট করাই আমাদের সবার উদ্দেশ্য।
আজকে এই পর্যন্তই। সামনের দিন ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো অন্য কোন ট্রিমসের বুকিং নিয়ে আলোচনা করতে। এই সিরিজের আগের পর্বের লিংকগুলো প্রথম কমেন্টে পাবেন।
আসিফ বিন আসগর
এক্স টেক্সটাইল স্টুডেন্ট, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মার্চেন্ডাইজারের ডায়রি | সুইং থ্রেড বুকিং | Thread Booking
মার্চেন্ডাইজারের ডায়রি - প্রফেশন: মার্চেন্ডাইজিং ( Zipper Booking )
আবার চলে এলাম আপনাদের মাঝে মার্চেন্ডাইজারের ডায়রির নতুন পর্ব নিয়ে। আশা করি সবাই ভালো আছেন। সামনের কয়েকটি পর্ব আমরা চেষ্টা করবো ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ট্রিমসের বুকিং নিয়ে আলোচনা করতে। তারই অংশ হিসেবে আমরা আজকে আলোচনা করবো Zipper এর বুকিং নিয়ে আলোচনা করতে। আমরা মূলত এই পর্বে Metal Zipper নিয়ে কথা বলবো।
ট্রিমসগুলোর মধ্যে জিপার অন্যতম একটি ট্রিম। সাধারণত ওভেন বটমের ফ্লাইতে জিপার ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে মেটাল জিপারই সাধারণত বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অনেকসময় বটমের লেগেও জিপার ব্যবহৃত হয়। আসুন দেখি জিপার বুকিংয়ের সময় কি কি ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হয়।
১) গার্মেন্টসের অর্ডার আসে শুরুতে যেখানে কিনা সাধারণত শুধু গার্মেন্টস কোয়ান্টিটি উল্লেখ করা থাকে। আর সাইজ ব্রেকডাউন পাওয়া যায় PO (Purchase Oder) থেকে। আর যেহেতু সাইজ অনুযায়ী গার্মেন্টসের জিপার বিভিন্ন মাপের হয় তাই PO পাওয়ার আগে জিপার বুকিং দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
২) অধিকাংশ বায়ারই তাদের নমিনেটেড জিপার সাপ্লায়ার থেকে জিপার নিতে বলে। সেক্ষেত্রে কোয়ালিটি কিংবা টেস্ট প্যারামিটারে পাশ নিয়ে খুব বেশি টেনশন করতে হয় না। তবে কোন বায়ার যদি ফ্যাক্টরির ওপেন সোর্স থেকে নেওয়ার সুযোগ দেয় সেক্ষেত্রে সেই সাপ্লায়ারের কাছে বুকিং দেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী টেস্টে পাশ করে কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
৩) গার্মেন্টসের অর্ডার পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস ওয়াশের জন্য যেই কালারের জিপার ব্যবহার করা লাগবে তা Trimsheet থেকে চেক করে বায়ারের কাছে এপ্রোভালের জন্য পাঠাতে হবে। মেটাল জিপারের ক্ষেত্রে দুইটি ব্যাপার লক্ষ্যনীয়। একটি হচ্ছে জিপার টেপের কালার আর জিপার Teeth & Puller এর মেটাল ফিনিশের কালার।এছাড়া জিপারটি কি Automatic নাকি Semi Automatic এবং Puller এর সাইজও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
৪) সাধারণত ডেনিম ওয়াশের ক্ষেত্রে Rinse Wash ছাড়া অন্যান্য ওয়াশগুলোতে নেভি কালারের জিপার টেপ ব্যবহৃত হয় যদিও অনেক বায়ার ভিন্ন ভিন্ন ওয়াশের জন্য ভিন্ন কালারের জিপার টেপ Trimsheet এ মেনশন করে দেয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন ওয়াশের জন্য মেটাল ফিনিশ ভিন্ন থাকে। এক্ষেত্রে PO পাওয়ার আগে জিপার এপ্রোভড হয়ে গেলে জিপার সাপ্লায়ারকে একটা Tentative Delivery Date দিয়ে Projection বুকিং দিয়ে রাখা ভালো। এতে করে জিপার সাপ্লায়ার মোটামুটি আপনার অর্ডারের জন্য Production Plan & Raw Material Secure করে রাখতে পারবে।
৫) PO পাওয়ার পর প্রথম কাজ হবে গার্মেন্টসের কালার এবং সাইজ অনুযায়ী অর্ডারের Quantity Breakdown করে ফেলা। এরপর টেকনিক্যাল টিমের সাথে চেক করে জেনে নিতে হবে কোন গার্মেন্টস সাইজের জন্য কত লেংথের জিপার বুকিং করতে হবে।
৬) এরপর কাজ হচ্ছে নির্দিষ্ট গার্মেন্টস কালারের নির্দিষ্ট সাইজের জন্য কোন জিপার কালারের কত লেংথের জিপার লাগবে সে অনুযায়ী বুকিং শিট রেডি করে ফেলা। বুকিং এর সময় অর্ডারের কোয়ান্টিটি অনুযায়ী ৩%-৫% Wastage Calculation করা হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত যে জিপারের কালার এবং বুকিং কোয়ান্টিটি যাতে ভুল না হয়। এজন্য বুকিং শিট প্রিন্ট করে চেক করা উচিত।
৭) বুকিং দেওয়ার পর সাথে সাথেই সাপ্লায়ারের কাছ থেকে PI নিয়ে চেক করে L/C দিয়ে দেওয়া ভালো যাতে L/C র কারনে বাল্ক ডেলিভারির কোন সমস্যা না হয়।
৮) অনেক কোম্পানিতেই মার্চেন্ডাইজিং টিম হেড অফিসে বসে। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিতে বাল্ক জিপার ডেলিভারি হওয়ার পর মার্চেন্ডাইজারের উচিত কিছু জিপার নিয়ে এসে এপ্রোভড জিপারের সাথে চেক করে নেওয়া যাতে কোন গরমিল থাকলে সাথে সাথেই সাপ্লায়ারকে তা জানানো যায়।
আজকে এই পর্যন্তই। সামনের পর্বে ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো অন্য কোন ট্রিমসের বুকিং নিয়ে আলোচনা করতে।
=====================
আসিফ বিন আসগর
এক্স টেক্সটাইল স্টুডেন্ট,
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মার্চেন্ডাইজারের ডায়রি | Zipper Booking Process
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)




















