TEXTILE LAB| Textile solutions
কিভাবে বূজবেন কাটূনের কতটুকু সক্ষমতা আছে? 
১. একটি পরিপূর্ণ বক্স দুই হাতে দুই পাশ থেকে ধরে নিজের বুক পর্যন্ত তুলে, বক্সের কোনা বরাবর ফ্লোরে ফেলে দিতে হবে।  অতিরিক্ত কোন ফোর্স করা করা যাবে না। স্বাভাবিক ভাবে ফেলে দিতে হবে।  যদি বক্স ব্রাস্ট হয়ে যায় এবং ভিতরের মালামাল বের হয়ে ছড়িয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে বক্সের টেম্পার কম আছে। 

২. একটি খালি বক্সে টেপ মের ক্লোজ করতে হবে।  তার পর সাবধানতার সহিত বক্সের উপরে দুই পা দিয়ে দাড়াতে হবে।  যদি বক্স কলাপ্স হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে বক্সের সহনশীলতা কম।  ট্রন্সপোর্টটেশনের সময় যখন একটার উপর একটা করে বক্স রাখা হবে তখন নিচের বক্সটি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 
কি করলে বক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ও বক্স ড্যামেজ কম হবে? 

১. সলিড প্যাকের জন্য মিনিমাম ৫ প্লাই এর বক্স ব্যবহার করতে হবে।  

২. ৩০ সিএম এর উপরে বক্সের হাইট পরিহার করতে হবে।

৩. কাটূনের ভিতরে ফাকা যায়গা রাখা যাবে না। প্রয়োজনে ১/২ সিএম ওভার লোড থাকলে বক্স ভাল থাকে। 

৪. ফিনিসিং সেকশন থেকে কমপ্লিট বক্স গোডাউনে নেওয়ার সময় বক্স ফ্লোরে ছেচড়াইয়া টানা যাইবে না। তাহলে নিচের পার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং সিলিং টেপ ঘষায় ঘষায় নষ্ট হয়ে যাবে। 

৫. শিপমেন্ট এর লরি লোড দেওয়ার আগে লরিটি ৮ পয়েন্ট চেকিং সিস্টেম বাধ্যতা মূলক করতে হবে। 

৬. লোডার কর্তৃক বক্স সাবধানতার সহিত লোডিং ও আনলোডিং করতে হবে |কন্টেইনারে বক্স আছাড় মারা যাবে না। এমন ভাবে লোড করতে হবে যেন কোন বক্স ক্রাস না হয়। 

৭. সব সময় ৫/১০ টা অতিরিক্ত বক্স ও একটা গাম টেপ শিপমেন্ট এর লড়িতে দিয়ে দিতে হবে। ট্রান্সপোর্টের সময় যদি কোন কারনে কোন বক্স নষ্ট হয় তাহলে যে রিপ্লেস করে দিতে পরে। 

৮. বৃষ্টির দিনে অবশ্যই কন্টেইনারের ভিতর দিয়ে বক্সেও উপরে পলিথিন দিয়ে ডেকে দিতে হবে। 

৯. গাড়ীর ড্রাইভারকে সাবধানে গাড়ী চালাতে পরামর্শ দিতে।   স্পিড বেকারে ঠিক মত গাড়ী কন্ট্রোল করতে বলতে হবে।   

১০. শিপমেন্ট এর গাড়ীর সাথে একজন লোক দিয়ে দিলে ভাল হয়।  বিশেষ করে ঢাকা থেকে যখন শেষমূহুর্তে শিপমেন্ট ডেলিভারী করা হয় তখন একজন লোক সাথে দিয়ে দেয়া ফরজ কারন ড্রাইভারা কাচপুর ব্রিজ পার হওয়ার পার হওয়ার নাস্তা করে হালাক একটু বিশ্রাম নিবেই।  অনেক ক্ষেত্রে এ সময় ড্রাইভার ও হেলাপর দুইজনই ঘুমিয়ে পড়ে।  আর যদি কোন ড্রাইভারের কুমিল্লার দোষ থাকে তাহলে আর সর্বনাশের শেষ থাকবে না।  সকল কষ্ট বিফলে যাবে।   

কার্টূন বক্সের প্লাই বলতে কি বুঝায়?

প্লাই বলতে বুঝায় একটি কার্টূনের সিঙ্গেল পার্ট তৈরি করতে যে কয়টি পার্ট ব্যবহার করতে হয় তার সংখ্যা বুঝায়।  আসুন জেনে নেই সহজেই কিভাবে কার্টূন বক্সের  এর প্লাই হিসাব করবেন। একটি বক্সের কাটা অংশ ভার্টিক্যাল ভাবে চোখের সামনে ধরলে যে কয়টি পার্ট তার ভিতরে দেখা যায় তার সংখ্যাকে উক্ত কার্টূনের প্লাই হিসাবে গণণা করা হয়।  গার্মেন্টস্ শিপমেন্ট করার জন্য সাধারণত তিন ধরণের প্লাই এর বক্স ব্যবহার করা হয় (৩ প্লাই, ৫ প্লাই ও ৭ প্লাই)। 

কার্টূন বক্সে কি ধরণের কাগজ ব্যবহার করা হয়? 

প্রধানত কার্টূন তৈরিতে ২ ধরণের কাগজ ব্যবহার করা হয়। তা হল

১. ক্রাফট পেপার:- 

এটি মূলত ভার্জিন পেপার।  বিশেষ ধরণের নরম কাঠ থেকে এই কাগজ তৈরি করা হয়।  এই কাগজটি তূলনা মূলক ভাবে শক্ত হয়ে থাকে।  সাধারণত কাটূন বক্সের বাহিরের সাইটে এই কাহজ ব্যবহার করা হয়। 

২. টেস্ট বা ডুপ্লেক্স পেপার:- 

স্থানভেদে এটাকে ডুপ্লেক্স পেপার বলা হয়ে থাকে।  এটি সাধারণত রি-সাইকেল করে তৈরি করা হয়ে থাকে।  বেশির ভাগ কার্টূনের ভিতরে ও বাহিরে উভয় পাশে এই পেপার ব্যবহূত হয়ে থাকে।  এই কাগজের এক পাশে মশৃন ও অন্য পাশে খশখশে।  মশৃন পাশ প্রিন্ট করার জন্য ও খশখশে পাশ আঠা লাগানোর জন্য পারফেক্ট। 
আশা করি উপরের লেখা গুলি আপনার কাজের ক্ষেত্রে কাজে দিবে।  যদি লেখাটি ভবিষ্যতে আপনার প্রয়োজন মনে হয় তাহলে শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দিতে পারেন।   আপনি যদি আমাদের পেজের আপডেড সবার আগে নিয়মিত পেতে চান, তাহলে আমাদের পেজে লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন।



Author :- Hafij Uddin, 
Quality Assurance Inspector.
MANGO, BANGLADESH

কিভাবে বুজবেন Garments Carton এর কতটুকু সক্ষমতা আছে?

ওভেন গার্মেন্টস্ এ আপনি যদি সঠিক নিয়ম না মেনে প্রোডাকশন শুরু করেন তাহলে প্রোডাকশন রানিং হওয়ার পর আপনি নানা ধরনের সমস্যার সম্মূখীন হতে পারেন।
নিচের নিয়ম গুলি মেনে প্রোডাকশন শুরু করলে মিনিমাম ৯০% সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে উৎপাদন শুরু করার আগেই, ইনস্-আল্লাহ্। 
১. যেই সুইং লাইনে প্রোডাকশন প্লান করা হয়েছে, ঐ লাইন থেকে সাইজ সেট তৈরি করতে হবে। (তাহলে সংশ্লিষ্ট লাইনচীফ, সুপার ভাইজার, কন্ট্রোলার গণ আগে ঐ স্টাইল সম্পর্ক একটা ধারনা পেয়ে যাবে)

২. খুব সতর্কতার সহিত সাইজ সেট রিভিও করতে হবে এবং কারেকশন গুলো লিপিবদ্ধ করে নিতে হবে। 

৩. উৎপাদন শুরু করার পূর্বে অবশ্যই পি. পি. মিটিং করতে হবে। পি. পি. মিটিং এ সকল ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবে। পি. পি. মিটিং এ সব কিছু খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং সব কিছু রেকর্ড করে রাখতে হবে। পি. পি. মিটিং এ যদি সাইজ সেট একসেপ্টএবল হয় তাহলে উৎপাদন শুরু করার জন্য পাইলট রান করার প্রস্তুতি নিতে হবে।

৪. পাইলট রান হিসেবে ৩৫০-৫০০ পিস বডি সেলাই করার জন্য কাপড় কেটে সুইং লাইন লে-আউট করতে হবে।
 
৫. খুব সতর্ককতা সহিত সুইং লে-আউট করতে হবে। লে-আউট করার সময় রিলেটেট সকল ডিপার্টমেন্ট এর লোকজন সঙ্গে রাখতে হবে। এবং প্রতিটি প্রসেসের অপারেটর কে তার প্রসেস অনুযায়ী ট্রেনিং করাতে হবে। 

৬. এর সাথে সাথে যে ফেব্রিক রোল থেকে পাইলট রানের জন্য কাপড় কাটা হয়েছে ঐখান থেকে স্রিঙ্কেজ টেস্ট করার জন্য নিয়ম অনুযায়ী একটা কাট পিস স্রিঙ্কেজ মার্ক করে রখেতে হবে। 
(কারন পরে বলছি)

৭. ফাস্ট আউটপুট থেকে একটা সাইজ সেট নিয়ে ভাল ভাবে মেজারমেন্ট করে গার্মেন্টস্ গুলি সুতা/ রশি দিয়ে বেধে মার্ক করতে হবে। (মার্ক করার কারন পরে বলছি)

৮. মার্ক করা সাইজ সেট ও স্রিঙ্কেজ এর কাটপিস সহ টোটাল ১০০ পিছ এর একটা ব্যাচ ওয়াসিং সেকশনে পাঠিয়ে বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট অনুয়াযী ওয়াস করাতে হবে। 

৯. ওয়াস করা ১০০ পিস গার্মেন্টস ওয়াসিং কিউসি দিয়ে খুব ভালভাবে পিস টু পিস চেক করতে হবে। এবং যে সকল সমস্যা পাওয়া যায় তা লিপিবদ্ধ করে তার উপরে কারেকটিভ একশান নিতে হবে। 

১০. তারপর মার্ক করা সেই সাইজ সেট ও স্রিঙ্কেজ টেস্ট করার জন্য সেই কাটপিস উৎপাদন ফেক্টরিতে আলাদা করে পাঠাতে হবে। 

১১. মার্ক করা সাইজ সেট নিয়ে ফিনিসিং কিউ. সি. প্রাথমিক ফিনিসিং প্রসেস কমপ্লিটি করবে। (আয়রন করার আগ পর্যন্ত) 

১২. আয়রন করার আগে সেই সাইজ সেট এর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলি মেজারমেন্ট করে নিতে হবে। (আয়রন করে কতটুকু মেজারমেন্ট কভার করা যায় তার ধারনা পাওয়ার জন্য এই পদ্ধতি)

১৩. তারপর স্বাভাবিক ভাবে আয়রন করে ২ ঘন্টা রিলেক্সজেশনে রাখতে হবে। 

১৪. দুই ঘন্টা পরে সকল মেজারমেন্ট পয়েন্ট সতর্কতার সহিত মেপে রেকর্ড করতে হবে। এবং সেই স্রিঙ্কেজ চেক করার কাট পিস এর স্রিঙ্কেজ মেপে ক্রস চেক করতে হবে যে কাটিং থেকে নির্ধারন করার স্রিঙ্কেজ সঠিক কিনা। কারন যদি কাটিং ডিপার্টমেন্ট কোন কারনে ভূল স্রিঙ্কেজ দেয় তাহলে আজীবনেও পোষাকের মেজারমেন্ট ঠিক হবে না। 

১৫. তারপর সকল লেভেল ও ট্যাগ লাগাতে হবে। (মানে অনুসাঙ্গিক ফিনিসিং এক্সোসরিজ লাগিয়ে কমপ্লিট করে নিতে হবে)

১৬. উপরের সকল প্রসেস কমপ্লিট করার পরে মার্ক করা সাইজ সেটটি সকল মেজারমেন্ট রিপোর্ট সহ কোয়ালিটি ম্যানেজার / জিএম এর কাছে পাঠাতে। 

১৭. জিএম অথবা ম্যানেজার সাহেব যদি কোন কারেকশন দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তা করে নিয়ে মূল উৎপাদন শুরু করতে হবে। 

১৮. এই সময়ের মধ্যে যদি সুইং লাইন ফাকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা হয় বা লাইনে ফিডিং করানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে কোয়ালিটি জিএম আরো ৫০০ পিস পোষাক কাটার পারমিশন দিতে পারেন। (যদি না প্রথম সাইজ সেটে বেশী ক্রিটিক্যাল কারেকশান না থাকে) 

১৯. প্রথম পাইলট রানে যদি অপেক্ষাকৃত বেশী কারেকশান দরকার পড়ে তাহল দ্বিতীয় পাইলট রান হিসেবে ৫০০ পিস এর জন্য কাপড় কাটতে হবে। এবং হাতে হাতে আর একটা সাইজ সেট বের করে নিশ্চিত হতে হবে যে কারেকশান ঠিক হয়েছে কি না। 

ইনসা-আল্লাহ উপরোক্ত পদ্ধতিগুলি ফলো করলে আপনি সম্ভাব্য অনেক সমস্যার সমাধান উৎপাদন শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে সমাধান করতে পারবেন। 


Author:- Hafij Uddin. 
QA Supervisor. 
MANGO, BANGLADESH

ওভেন গার্মেন্টস প্রডাকশন প্রসেস | Woven Garments Production Process

Route cause of lycra breakage.
ল্যাকড়া

ল্যাকড়া কি?? এটি আসলে একটি সিনথেটিক বা ম্যানমেইড ফাইবার যা টেক্সটাইল র'ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আমেরিকার বিখ্যাত টেক্সটাইল কেমিস্ট জোসেফ শিভার্স ১৯৫০ সালে এই ফাইবারটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যার নাম দেওয়া হয় পলিইথার পলিইউরিয়া কপোলিমার (HO[-(CH2)mO-]n-(CH2)m-OH).
যেটাকে আমরা ল্যাকড়া নামে চিনি।জাতিগত এবং ভৌত অবস্থার ভিত্তিতে এর নাম স্পানডেক্সও রাখা হয়।
আধুনিকায়ন এবং যশ খ্যাতি বাড়ানোর জন্য বর্তমানে এটির ব্রান্ড নাম দেওয়া হয় ইলাস্টেন।


ল্যাকড়া নিটিং প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যেমনটি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড (H2O2) ভেজা করন প্রক্রিয়ায় আষ্টেপৃষ্ট ভাবে জড়িয়ে রয়।

অনেক ক্ষেত্রে উইভিং প্রক্রিয়ায়ও এই ল্যাকড়া আনুপাতিক হারে ব্যবহার করা হয়।
এবার শিরোনাম প্রসঙ্গে আসি.

বর্তমান সময়ে  বুনন প্রক্রিয়ায় ডেনিম ফ্যাব্রিকে ল্যাকড়া ব্যবহারের প্রচলনটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারন এর ইলাস্টিসিটি আমাদেরকে একটা কম্ফোর্ট ফিলিংস দেয় এবং খুব সহজেই পরিচর্যা করা যায়।
এই ল্যাকড়া যদি কোনভাবে ছিঁড়ে যায় কিংবা কেটে যায় তাহলে ফ্যাব্রিকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং ফ্যাব্রিকে তরঙ্গভাব চলে আসে যা আমাদের কম্ফোর্ট ফিলিংসটা বিনষ্ট করে দেয় এবং ফ্যাব্রিকের বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে।



এখন কথা হচ্ছে এই ল্যাকড়া ঠিক কি কারনে ভেঙ্গে কিংবা ছিঁড়ে যায় ?

ল্যাকড়া ব্রেকেজের অনেকগুলো কারন আছে তারমধ্যে আমি উল্লেখযোগ্য মূখ্য কিছু কারন গুলো তুলে ধরলাম-

১. ভুল ডিজাইন ( ফেব্রিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন যেমন টুইল, ট্যাপেড, উলম্ব, জিগজ্যাগ, শেডিং, ডায়মন্ড ইত্যাদি ) এবং মিস উইভের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।এছাড়াও উইভিং মেশিন বা নিটিং মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।

২.  ওয়েট এবং ড্রাই প্রসেস স্টেজে রেসিপি অনুযায়ী কেমিক্যালের সামঞ্জস্যতা না থাকা।

৩. ডিসাইজিং প্রসেসে অতিরিক্ত কস্টিক সোডা(সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড - NaOH) এবং সোডা এ্যাশ ( সোডিয়াম কার্বোনেট - Na2CO3 ) ব্যবহার করা।

৪. ড্রাইং মেশিন,ওয়াশিং মেশিন ও ডাই বাথ এর সময় এবং তাপমাত্রার সামঞ্জস্যতা না রাখা।

৫. ওয়েট প্রসেসিং স্টেজে এন্টি স্লিপিং এজেন্ট বা ল্যাকড়া প্রটেক্টর কেমিক্যাল ব্যবহার না করা।

৬. ফেব্রিক সেলাই করার সময় ভোঁতা নিডেল এবং এবং মোটা নিডেল ব্যবহার করা।

৭. সেলাই করার সময় কাপড়ের উভয় পড়তার সামঞ্জস্যতা না রাখা।

৮. রোটেশন পার মিনিট (RPM) অর্থাৎ সুইং মিশেনের অতিরিক্ত গতির কারনেও ল্যাকড়া বেক হতে পারে।

৯.  সুইং মেশিনের সুতার অতিরিক্ত টানভাবের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।

১০.  সুই মেশিনের প্রেশার বিট টাইট থাকার কারনে ল্যাকড়া ব্রেকেজ হতে পারে।

১১.  অতিরিক্ত সেলাইয়ের ঘনত্বের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে (বিশেষ করে বারট্যাক এরিয়াতে)।


ধন্যবাদ সবাইকে
মোঃ হাসান 
জিপিকিউ টেসকো
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড।

ল্যাকড়া ডেমেজের কারন | Route cause of lycra breakage.

Lycra কি ?
 এটি Garments এ বেশ পরিচিত শব্দ । অনেকেই অনেকভাবে উচ্চারণ করেন যেমন : লায়াক্রা , লিক্রা , লেক্রা ইত্যাদি । তো, এটি একটি অতি সূক্ষ্ম রাবার আইটেম । যা খালি চোখে দেখতে পাওয়া কঠিন । 

আর এটি একটি ফাইবার হিসেবেই গণ্য করা হয় । এবং এটি একটি Synthetic fiber বা Man made fiber.

 Garments এ Lycra Fiber এর কাজ কি ?

এটি ডেনিম ফেব্রিক্স এ প্রয়োগ করা হয় । আমরা যে ডেনিম ফেব্রিক্স এ Elasticity দেখি বা পরিধান করার সময় অনুভব করি তা ঐ Lycra fiber প্রয়োগেরই ফলাফল ।
এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Weft thread এ প্রয়োগ করা হয় । ফলে বেশিরভাগ Denim ফেব্রিক্স Width এ Shrinkage করে । অর্থাৎ Width এ সংকোচন প্রসারণ ঘটে । 

Lycra Fiber টা Fabric বুননে কিভাবে প্রয়োগ করা হয় ? 

এটি Core spun টেকনোলজি Apply করে texture করা হয় ।
 Core Spun system কি ? 

এটি হলো সুতা বানানোর একটি পদ্ধতি যা core spun শব্দটি বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে সহজ হবে । আমরা অনেকেই Core Spun thread নাম শুনেছি এবং এটি ব্যবহার করি ।

 Core মানে মূল Spun মানে এটি Spin ( ঘূর্ণন ) শব্দের past participle অর্থাৎ কোন একটি জিনিস কে মূল অক্ষে রেখে তার সাথে অন্য একটি আইটেম wrap করার সিস্টেম টাই হলো Core spun system .

তো এখানে Core এ থাকে Lycra fiber আর Spun এ থাকে Cotton thread ( Denim fabric এর ক্ষেত্রে ) 

Construction টা আরও বুঝার জন্য নিচের ছবিগুলো দেখুন । 


Lycra নাম টা কেন ? 

আসলে ঐ রাবার বা Elastane item টা একটা আমেরিকান INVISTA কোম্পানি এর Elastomeric fiber Lycra এটি ঐ কোম্পানির দেয়া নাম । 
ঐ আইটেমের Generic name হলো Elastane . ১৯৫৮ সালে এটি আবিষ্কৃত হয় । সুতরাং Lycra হলো Brand name আর 
Elastane হলো Generic name।

বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হওয়ার জন্য একটি উদাহরণ : শ্যাম্পু হলো হলো Generic Name আর Sunsilk হলো Brand Name।

একইভাবে Spandex ও একটি Brand name. এরকম আরও অনেক নাম আছে যা Elastance আইটেমেরই অন্তর্ভুক্ত । 

যেরকম Dove, Sunsilk Clear এরা সবাই Brand name। কিন্তু এদের Generic name হলো Shampoo।

এই ফাইবার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত । 

1. Lycra ( USA ) 

2. Roica ( Japanese ) 

3. Texlon ( Korean )


Writer: Ishfaqul Wadud Khan
Senior Executive QA of LEVI'S at Ananta Group.

Lycra কি ? স্প্যানডেক্স (Spandex)

জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইমঃ
বর্তমানে গ্লোবালি গার্মেন্টস সেক্টরে চলছে ফাস্ট ফ্যাশন কালচার যেখানে শর্ট কোয়ানটিটির অর্ডারই থাকে বেশি আবার প্রাইজ ও তুলনামূলক রেগুলার প্রাইজ থেকে অনেক বেশি, আমাদের বাংলাদেশীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক গার্মেন্টসই এই অর্ডারগুলো করতে পারছে। যার ফলে ভিয়েতানাম রপ্তানী খাতে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, বাইরের অনেক মার্কেট হয়ত আছে যেখানে আমরা তেমনভাবে রাপ্তানি করতে পারছি না শুধুমাত্র শর্ট কোয়ানটিটির অর্ডারের কারণে, যেখানে এর মূল কারন হচ্ছে জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম আমাদের বেশী লাগছে যার ফলে খরচ উঠিয়ে সেই মানের প্রফিট করা যাচ্ছে না। আমার জানা মতে বাংলাদেশে কিউট ড্রেস ইন্ড্রাস্ট্রি লিঃ নামের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান এই ধরনের অর্ডার খুব দক্ষ হাতে সামলাচ্ছে এবং তাদের জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম নাই বললেই হয় শুধুই কি ছোট অর্ডার বড় ধরনের অর্ডার ক্ষেত্রে কি আমরা আমাদের চেঞ্জ-ওভার টাইম কতটা কমাতে পেরেছি? জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম বা কুইক চেঞ্জ-ওভার টাইম কমাতে দরকার প্রপার প্ল্যানিং অ্যাডজাস্টমেন্ট, রিভাইজড মেথডলজি এবং ডেভেলপমেন্ট প্রসেস যা কতগুলো ফ্যাক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।              

জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম (ZCO) এর জন্য প্রস্তাবিত অ্যাকশন, প্ল্যানিং অ্যাডজাস্টমেন্ট, রিভাইজড মেথডলজি এবং ডেভেলপমেন্টের মূল কার্যকলাপগুলি নিচে দেওয়া হল:      

 ১. প্রথম ঘন্টার হিটঃ সকল অপারেটর এবং হেল্পারদের যদি সকাল ০৭.৫৫ তে ফ্লোরে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় এবং লাইনটি ঠিক ৮.০০ টায় শুরু করলে আমরা প্রথম ঘন্টার উৎপাদন অর্জন করতে পারব। তার জন্য আমাদের একটি যথাযথ এটেন্ডেট শীট তৈরি করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।  

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন ও এডমিন।  

 ২. ফ্লোরে অভিজ্ঞ জনবল নিশ্চিত করাঃ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার নতুন অপারেটর নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তাদের দক্ষতার লেভেল পরিমাপ করবে এবং সেটি চলমান লাইনের ইফিসিয়েন্সির সাথে ম্যাচ করবে। কোন হেলপার অপারেটর হিসাবে কাজ করবে না এবং কোন হেলপার অপারেটর হিসাবে কাজ করবে না এটি নিশ্চিত করতে হবে। হেলপার অপারেটর এবং অপারেটর হেলপার হিসাবে কাজ করা বড় ধরণের ট্যালেন্ট অপচয় হিসাবে গণ্য করা হয় যেটি কোয়ালিটি এবং উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে।       

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও উৎপাদন বিভাগ।   

 ৩. আপকামিং স্টাইলের জন্য প্রস্তুতিঃ অনুমোদিত স্যাম্পল, ট্রিমস কার্ড, প্রডাকশন ফাইল ইনপুট তারিখের আগে আসন্ন স্টাইলের জন্য প্রস্তুত করে রাখতে হবে।    

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন ও কোয়ালিটি।

৪. গঠনমূলক সম্ভাব্য অপারেশন বুলেটিন প্রস্তুতকরণ (OB): যখন প্লানিং থেকে আপকামিং স্টাইলের সঠিক তথ্য জানানো হয়, তখন এ্যান্যালাইজার (বিশ্লেষক) এবং IE টিম একসাথে অপারেশন বুলেটিন প্রস্তুত করবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্লানিং।   

৫. রিলেভেন্ট টিমের সাথে লে-আউট আলোচনাঃ লাইন ফিডিংয়ের সময় নতুন স্টাইলের ক্রিটিক্যাল সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রোডাকশন টিম, টেকনিক্যাল টিম এবং কোয়ালিটি টিমের সাথে আলোচনা করতে হবে তাদের সহযোগিতা পাবার জন্য।  

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন, টেকনিক্যাল এবং কোয়ালিটি।

৬. ক্রিটিক্যাল অপারেশন ম্যানেজমেন্টঃ আপকামিং ক্রিটিক্যাল অপারেশনগুলি খুঁজে বের করা এবং সেই অপারেশনগুলির জন্য অপারেটর নির্বাচন করা একটি অন্যতম প্রধান দায়িত্ব৷ অপারেটদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ওভারটাইমে প্রতিদিন ক্রস ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।  

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন  ও কোয়ালিটি।

৭. মেশিন রিক্রোয়মেন্টঃ QCO (Quick Change Over) এর জন্য মেশিন রিক্রোয়মেন্ট একটি বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত। OB (Operation Bulletin) অনুসারে ফ্লোরে কাজ করার জন্য মেশিনগুলি প্রস্তুত করতে হবে এবং সেটি কমপক্ষে একদিন আগে করতে হবে। লাইনে ঢোকানোর আগে মেশিনের কার্যকারিতা অব্যশই পরীক্ষা করতে হবে।   

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই।    

৮. ইক্যুপমেন্টঃ ফোল্ডার, গাইড, প্রেসার ফুট এবং প্যাটার্নস (সুইং, মার্কিং এবং আয়রন) ইত্যাদি মেকানিক দ্বারা এ্যাভেলাবল এবং ফাংশনাল করতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন।

 ৯. পিপি মিটিং পরিচালনা করাঃ যে কোনো লে-আউট শুরু করার আগে প্রি-প্রোডাকশন মিটিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরণের কোলাব্রেশান ও কো-অপারেশান যে কোনো কারখানাকে তাদের সময় ও প্রচেষ্টা কমাতে সাহায্য করে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন, টেকনিক্যাল, কোয়ালিটি এবং স্টোর।       

১০. সমস্ত এক্সেসসরিজ এবং ট্রিম ইন-হাউজ আছে তা নিশ্চিত করাঃ পিপি মিটিংয়ের পরে সমস্ত ফাইন্ডিং এবং শর্তগুলি নোট করে তার সমাধান করতে হবে। মিটিং অনুসারে লে-আউটের আগে সমস্ত এক্সেসসরিজ এবং ট্রিমগুলি ইন-হাউজ রয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে।  

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন, টেকনিক্যাল, কোয়ালিটি এবং স্টোর।       

১১. কাট কিটঃ লাইন ফিডিংয়ের আগে, নিশ্চিত করতে হবে যে সমস্ত কাট প্যানেল প্রস্তুত আছে এবং সাইজ সেট অনুযায়ী সেটি ইন্সপেকশন করা হয়েছে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই, প্রডাকশন ও কোয়ালিটি।   

১২. সর্বোত্তম সম্ভাব্য লাইন লে-আউট ব্যবহার করাঃ পূর্ববর্তী সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে, উত্পাদন এবং কোয়ালিটি বিভাগের সাথে আলোচনা করার পরেই সর্বোত্তম সম্ভাব্য লাইন লে-আউট এপ্লাই করতে হবে।   

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও উৎপাদন।  

১৩. ম্যান পাওয়ার (এম.পি) বরাদ্দঃ লাইন লে-আউট শুরু করার আগে অপারেশন বুলেটিন (ও.বি) অনুসারে লাইনে থাকা সমস্ত ম্যান পাওয়ার (এম.পি) নিশ্চিত করতে হবে। এম.পির কোন ঘাটতি থাকলে বা দক্ষতার গ্যাপ থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।  

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন।    

১৪. লাইন লে-আউটের সময় হ্রাস করাঃ লে-আউটের সময় মেশিন সেট-আপ এবং কোয়ালিটি নিশ্চিতকরণ সহ প্রতিটি প্রসেস অনুসরণ করতে হবে এবং সময়ের রেকর্ড রাখতে হবে।    

দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন।

১৫. মেথড বা পদ্ধতিঃ ক্রিটিক্যাল প্রসেস গুলোতে যথাযথ মেথড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও টেকনিক্যাল।

১৬. সঠিক ওয়ার্কস্টেশন এবং লাইন ব্যালেন্সিংঃ যে কোন লাইন ব্যালেন্সিং নিশ্চিত করার জন্য, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারগণ সঠিকভাবে ওয়ার্ক স্টাডি, প্রডাকশন স্টাডি, প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করবে এবং ফ্লোরের উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ।  

১৭. অপারেটরদের জন্য ইন্ডিভিজ্যুয়েল (স্বতন্ত্র) লক্ষ্য নির্ধারণঃ লক্ষ্য নির্ধারণ পূর্বনির্ধারিত হতে হবে এবং অপারেটরদের সাথে যোগাযোগ করার ম্যধ্যমে সেটি অর্জন করতে হবে। কখনও কখনও লাইন সেট আপ করার পরে সামঞ্জস্যের প্রয়োজন হতে পারে তখন সেটি দায়িত্বের সাথে দ্রুত করতে হবে।    

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন।

১৮. বটলনেক অপসারণঃ যে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া বা QCO এর জন্য বটলনেক একটি বিশাল বোঝা। সাধারণত মোশন স্টাডি, টাইম স্টাডি, মেশিনের গতি, মোটর RPM এবং মোটর পুলি সামঞ্জস্য করা ইত্যাদির মতো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন।

১৯. লার্নিং কার্ভঃ নতুন সেট-আপ করা লাইনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং লার্নিং কার্ভ থাকা উচিত। লার্নিং কার্ভ অর্জনের জন্য ইনসেন্টিভ (প্রণোদনা) স্কিম প্রয়োগ করা যেতে পারে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - আই.ই ও প্রডাকশন

২০. ইনপুট পর্যবেক্ষণঃ কাটিং এবং স্টোর থেকে সুইং লাইনের ইনপুট ফিডিংয়ের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - কাটিং এবং প্লানিং।    

২১. কোয়ালিটিঃ নিডেল পয়েন্টে নিয়মিত বিরতিতে ইন-লাইন কোয়ালিটি পরিদর্শন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দায়িত্বশীল বিভাগ - কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স।   

২২. এ্যায়ারনেস বা সচেতনতাঃ প্রোডাকশন টিমকে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে যেমন, মোটিভেশন জাতীয়, অনুপস্থিতির জন্য নিয়মিত মিটিং, লাইন টার্গেট, কোয়ালিটির সমস্যা ইত্যাদি যা QCO এবং ZCO এর জন্যও কার্যকর হবে।

জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরকে প্রডাক্টিভ ভিজ্যুয়াল যোগাযোগ সিস্টেম ইমপ্লিমেন্ট করতে হয়, নিম্নে সেটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলঃ

১. লাল-সবুজ পতাকাঃ রেড-গ্রীন ফ্ল্যাগ QCO এর একটি আকর্ষণীয় এবং উত্পাদনশীল বা প্রডাক্টিভ ভিজ্যুয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হিসেবে গণ্য হয়। এই সিস্টেমে প্রধানত ২টি পতাকা থাকে। লাল পতাকা সবসময় নতুন স্টাইলের সর্বশেষ স্টার্ট অপারেশনের সাথে এবং সবুজ পতাকাটি পুরানো স্টাইলের সর্বশেষ সমাপ্ত অপারেশনের সাথে থাকবে। দুটি পতাকার মধ্যে দূরত্ব যত বেশি হবে, ZCO বাস্তবায়নের জন্য তত কঠিন হবে এবং দূরত্ব যত কম হবে, ZCO তত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে।   

২. লে-আউট চেক লিস্ট হোয়াইট বোর্ডঃ প্রতিটি লাইনের শুরুতে একটি সাদা বোর্ড থাকতে হবে। এই চেক লিস্টের শুরুতে স্টাইলের নাম, বায়ারের নাম বা নম্বর, ফিডিং তারিখ, দায়িত্বশীল ব্যক্তি কে ইত্যাদি লিখে রাখতে হবে।   

 ৩. QCO এবং ZCO শীটঃ এটি হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শীট যেখানে লাইন লে-আউট শুরুর সময়, লাইন লে-আউট শেষ করার সময়, লাইন লে-আউটের জন্য মোট সময়, মেশিন সেটিংয়ের জন্য মোট সময়, আগের স্টাইল ইনপুট এরিয়া ফিনিশ টাইম, পুরানো স্টাইলের শেষ গার্মেন্টস আউটপুট সময়, নতুন স্টাইলের ১ম গার্মেন্টস আউটপুট টাইম ইত্যাদি লিখতে হয় যাতে বাস্তবায়ন টিম তার দায়বদ্ধতা ও ওনারশীপ অনুভব করতে পারে।      

পরিশেষে শুধু এইটুকুই বলব ভাই, যে ভাবেই হোক আপনেরা শুধু মেশিনটা চালু রাখুন উইদাউট ব্রেক-ডাউন দেখবেন SMED (Single Minute Exchange of Die) কেমনে বেমালুম গায়েব হয়ে যায়।  

Textile Today পত্রিকার Reducing changeover time in garments sewing line আর্টিকেল অবলম্বনে লেখা।  

©মোঃ তৌহিদ খান।
🤔 Content Writer, Experts in QMS.





জিরো চেঞ্জ-ওভার টাইম Zero Change Over Time

KPI  কি?  
KPI কেন দরকার? 
KPI এর উপকারিতা কি? 
অনেকে জানতে চায়। 

আমি ছোট করে বলি
KPI full meaning key performance Indicator মানে 
হচ্ছে এমন একটা মার্জিন স্কেল যার নিচে নামলে কোম্পানি লস হতে পারে তাই  সেই মানের পরিমান গুলো সেট করা 
যা কোম্পানির জন্য খুব দরকার এবং  গুরুত্বপূর্ণ চাইলে সকল বিভাগের  জন্যও করতে পারেন। তাতে আরও ভালো।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি 
- Factory Efficiency set (IE) 
- Departmental Efficiency set (IE) 
- Defect Rating set (QC)
- Absent Rating set (HR)
- Manpower Migration Rating set (HR)
- Machines breakdown Rating set ( Maintenance) 
- Repack Rating (QC)
এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ
 এগুলো মান এমন ভাবে সেট করতে হবে যার মার্জিন পয়েন্ট    ক্রস করলেই কোম্পানির জন্য বিপদজনক। 

এছাড়াও যদি সকল বিভাগের জন্য কর‍তে পারে তাহলে তো কোনো কথাই নাই। 

যেমন -

- Store (Department) 

- Use Accessories ( Departmental) 

- Use Machine Prats ( Maintenance) 

- Improvement ( IE) 

- Waste Time (IE) 

- Waste Materials (IE) 

- Reduce NPT ( Line or Department wise) (IE) 

- Reduce Overtime (IE) 

- Sample Development (PD)

অনেকে মনে করেন এগুলো কোনো কাজেরই অংশ নয়। 
কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে মনে না হলেও এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভের অংশ বাড়িয়ে দেয়। 

কি করে তাই ভাবছেন ??? 

ধরেণ আগে ১০ রিম পেপার লাগতো 
এখন ৯ রিম হলেই চলে কারণ ভুল প্রিন্ট দেয় না পেপার নষ্ট হয় না এই টাকা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে।
প্রিন্টার এর কালি আগে ৩ টা লাগতো এখন ২ টা হলেই চলে
কারণ গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া প্রিন্ট দেয় না এই টাকা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে 
মেশিন পার্টস আগে বেশি নষ্ট হতো এখন এডভান্স  সার্ভিস  এর জন্য কম লাগে এই টাকা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে 
আগে দুইজন মিলে এক কাজ করতো এখন একজনেই পারে তাহলে একজনের বেতন লাভের অংশ হয়ে জমা হবে 

আগে এক ঘন্টার ১০ মিনিট  লস হতো এখন ৫ মিনিট এই ৫ মিনিটে একটি প্রোডাক্ট বেশি হলে ১০ ঘন্টায় ১০ টি ২৬ দিনে ২৬x ১০= ২৬০ টি যা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে। 
আগে ১০০ পিচ এর মধ্যে একটা নষ্ট হতো এখন একটাও নষ্ট হয় না যা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে। 

নতুন সেটিং এর জন্য আগে ৫ ঘন্টা লাগতো এখন ৪ ঘন্টাতেই হয় যা এক ঘন্টা উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এটাও লাভের অংশ হয়ে জমা হবে 

আগে দুই ঘন্টা ওভারটাইমের মধ্য দিয়ে শিপমেন্ট করতে হতো  এখন ১ ঘন্টা করেই হয় যা লাভের অংশ হয়ে জমা হবে। 

সুতরাং সবকিছুই যদি KPI এর আওতায় আনা যায় তাহলে কোম্পানির জন্য খুবই লাভজনক হবে।

#collected 
#happylearning

KPI কি? KPI কেন দরকার? KPI এর উপকারিতা কি?

বায়িং QA জব স্কিল রিক্রোয়ারমেন্টঃ
সাধারণত বায়িং হাউসের কোয়ালিটি রিলেটেড পার্সনদের কোয়ালিটি কন্ট্রোলার (QC), কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স (QA), কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর বা কোয়ালিটি অডিটর বলা হয়ে থাকে। তাদের প্রত্যেককে নিজ কাজের প্রয়োজনে বেশ কিছু মৌলিক দক্ষতার উপর পারদর্শী হতে হয় বা অর্জন করতে হয়। নিম্নে একটি বায়িং হাউস QA পার্সনদের জন্য কিছু কোর বা কমন স্কিল আপনাদের জ্ঞাতার্থে দেওয়া হল। 

১. গার্মেন্টস ইন্সপেকশন পদ্ধতি (ফ্যাব্রিক, ট্রিম এবং ফিনিশড পোশাক) এবং প্রসেস অডিট পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখা (ইনিসিয়াল ও প্রডাকশনের এবং শিপমেন্টের মধ্যবর্তী বা মাঝামাঝি পর্যায়ে)।    

২. সঠিক উপায়ে গার্মেন্টস মেজারমেন্ট করার দক্ষতা থাকা (মেজারমেন্টের নির্দেশনা বায়ার থেকে বায়ারের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে তাই বায়ার প্রদত্ত কোয়ালিটি ম্যানুয়াল দেখতে হবে)।       

৩. প্রডাক্ট নলেজ বিশেষ করে সেই প্রডাক্টগুলি যেগুলির সাথে বায়িং হাউস ডিল করে থাকে (উদাহরণ স্বরূপ নিট, ওভেন বা ডেনিম, সোয়েটার, হাই-ফ্যাশন প্রডাক্ট ইত্যাদি)।   

৪. ভাল টেকনিক্যাল নলেজ বা কারিগরি জ্ঞান থাকা আবশ্যক – যেমন, গার্মেন্টস কন্সট্রাকশান, ফেব্রিকের বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন প্রক্রিয়ার

৫. বায়ার প্রদত্ত টেকনিক্যাল শীট এবং কমেন্টস বা মন্তব্য বোঝা।

৬. গার্মেন্টস জোনের উপর ভিত্তি করে ডিফেক্ট শ্রেণীকরণ করার সাধারণ নলেজ তার সাথে মাইনর, মেজর এবং ক্রিটিক্যাল ডিফেক্ট সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকা।

৭. শিপমেন্টের সময় ফাইনাল ইন্সপেকশনের জন্য AQL টেবিল এবং স্যাম্পলিং পদ্ধতি কীভাবে ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।  

৮. ইন্সপেকশান রিপোর্ট ফরম্যাট পূরণে, সাপ্লায়ার প্রতিনিধির জন্য ইন্সপেক্টেড গুডসের উপর মন্তব্য করতে এবং ইন্সপেক্টেড গুডসগুলির ব্যাপারে পাস/ফেল করার সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ হতে হবে। 

৯. সাপ্লায়ার ইভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) ও অডিট পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এছাড়াও অডিটের উদ্দেশ্য বোঝা এবং সঠিকভাবে অডিট ফরম্যাট পূরণ করা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

১০. পণ্যের কোয়ালিটি সম্পর্কিত কিছু ভুল হলে তার সাথে সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সতর্ক করতে সক্ষম হতে হবে এবং ফ্যাক্টরি টিম এবং বায়িং হাউস মার্চেন্টদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ এবং রেসপন্স করা শিখতে হবে।   

১১. শিপমেন্ট পাসিং করার সময় কি কি রিস্ক থাকতে পারে বা রিস্ক ফ্যাক্টর গুলো বোঝা।   

১২. বায়ারের প্রয়োজন অনুযায়ী, পণ্য থেকে পণ্য এবং শিপমেন্টের গন্তব্য কান্ট্রি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। QA পার্সনদের কান্ট্রি অনুযায়ী গার্মেন্টস টেস্ট সম্পর্কিত যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে।    

উপরোক্ত স্কিলগুলোর বেশির ভাগ কাজ করেই শিখে নেওয়া যায়। যদি শেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে উপরের প্রতিটি দক্ষতা অনুশীলনের মাধ্যমেও অর্জন করা যেতে পারে। আমার লিংকে বায়িং হাউজে যারা জব করছেন এর বাইরে অনেক কিছু থাকতে পারে আপনারা ইচ্ছে করলে এ্যাড করতে পারেন যাতে লেখাটি আরো রিচ হয় এবং যারা নতুন আছেন এবং বায়িং QA হিসাবে কাজ করতে চান তাদের অনেক উপকারে আসবে।   

Source: Online Clothing Study ব্লগের Skills required to be a Buying House QA আর্টিকেল অবলম্বনে। 

অনুবাদ ও অনুলিখন এবং সংযোজনে,
"মোঃ তৌহিদ খান"



Md. Tauhid Khan
Manager (QA, QMS & Technical Audit) || Expert in Organizing & Communicating || Content Writer || Expert in Quality Management

বায়িং QA জব স্কিল রিক্রোয়ারমেন্ট

গ্রামীণ ইউনিক্লো | Grameen Uniqlo 
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন নাজমুল হক

গ্রামীণ ইউনিক্লোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক একজন দুর্দান্ত ব্যবসায়ী। চলার পথে বদলে দিয়েছেন অনেক হিসাব-নিকাশ! রীতিমত লাইফস্টাইল ইন্ড্রাস্টিতে আলোচিত নামে পরিণত করেছেন নিজের প্রতিষ্ঠানকে। স্বপ্নের কারিগর মানুষটির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বেনজির আবরার

আপনার শৈশব সম্পর্কে কিছু বলুন ? 

নাজমুল হক: আমার জন্ম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। শৈশব সেখানেই কেটেছে। এরপর বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা হয়। বাবা দেশের বাইরে চলে গেলে আবার গ্রামে ফিরে যাই। ঠিক তখন থেকে এসএসসি পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। ছোটবেলায় দুষ্টু হলেও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলাম। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্লাসে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যায়, সে প্রচেষ্টা সব সময় ছিল। গ্রামে তখন পরিবেশগত বৈরিতা থাকলেও মায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, তত্ত্বাবধান ও শাসনের কারণে অনেক নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশেই বেড়ে উঠি। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফেরা ছিল অলিখিত আইন। সন্ধ্যার পরে যদিও অনেক ঘুম পেত। কিন্তু মা সব সময় গভীর রাত পর্যন্ত পাশেই থাকতেন পড়াশোনা দেখার জন্য। মা এভাবে আগলে রেখেছিলেন বলেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তবে খেলাধুলা অনেক পছন্দ করতাম, যেটা মা জানতেন না। স্কুল শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতাম। একবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ৫টিতেই পুরস্কার পাই। এ ঘটনায় মা খুব অবাক হন। যেহেতু আমার খেলাধুলার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। এরপর থেকেই তিনি আমার খেলাধুলার আগ্রহের ব্যাপারে জানতে পারেন।

এইচএসসিতে আমার ঢাকার কোনো কলেজে পড়ার আগ্রহ থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে ভর্তি হতে পারিনি। বরিশাল বিএম কলেজে ভর্তি হই। সারাদেশে নম্বরের ভিত্তিতে ৪র্থ স্থান অর্জন করি। এরপর ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ১ম বর্ষে মনে হয় দেশের বাইরে কোথাও পড়াশোনা করব। গার্মেন্টস সেক্টর তখন উজ্জীবিত হচ্ছিল। তাই মনে হলো এ সেক্টরে কাজ করা যায়। তখন ভারতে একটি স্কলারশিপ পেলেও যাওয়া হয়নি। ঠিক তখন জাপানের মনোবুশো স্কলারশিপ হয়। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেখানে গিয়ে ১ বছর জাপানিজ ভাষা শিখি। আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে পড়াশোনা শেষ করে কনসালটিং সেক্টরে কাজ শুরু করি। পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ থেকে জাপানে এমবিএ শেষ করি।

ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা শুনতে চাই ? 

নাজমুল হক: পড়াশোনা অবস্থায় বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে খণ্ডকালীন কাজ করতাম। জাপানে জব মার্কেট একটু আলাদা। ৩য় বর্ষে থাকতেই জব খোঁজা শুরু করতে হয়। পড়াশোনা শেষের একবছর আগেই জব কনফার্ম করতে হয়। আমি একটি কার রিলেটেড কোম্পানিতে জব পাই। আমার যেহেতু কনসালটিং রিলেটেড কাজে আগ্রহ, তাই চেষ্টা করি ওই সেক্টরে চাকরি খুঁজতে। জব পেয়ে যাই জাপানের নাম্বার ওয়ান অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ডেনস্যু কর্পোরেশনে। যার ১৩০টির বেশি দেশে ব্যবসা আছে। ডেনস্যুতে কাজ করা অবস্থায় অভিজ্ঞতা হয় বিখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করার। যেমন- হোন্ডা, প্যানাসোনিক, নেসলে, মিৎসুই সুমিতোমো কাইজোকাসাই, ওরাকল, ফাইজার, সানোফি, ফিলিপ মরিস, ফুজিৎসু, ইউনাইটেড এয়ার, এমেক্স, ফেডেক্সসহ অনেক কোম্পানি। এ সময় আমি ইউনিক্লো থেকে অফার পাই গ্লোবাল মার্কেটিংয়ে কাজ করার। এতদিন কনসালটিংয়ে কাজ করলেও সরাসরি ব্যবসায় এ কাজ করতে যোগদান করি ইউনিক্লোতে। কাজ শুরুর পর বিভিন্ন দেশের ইউনিক্লোর মার্কেটিংয়ের বিষয়গুলো দেখতাম। ঠিক তখন আমাকে বাংলাদেশে গ্রামীণ ইউনিক্লোর দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় বিজনেস পুনর্গঠনে। এরপর থেকেই কাজ করে যাচ্ছি গ্রামীণ ইউনিক্লোর সম্প্রসারণে।

আপনার জীবনের ইউটার্ন বলবেন কোন ঘটনাকে?

নাজমুল হক: ইউটার্ন বলা যায় জাপানে স্কলারশিপ নিয়ে যাওয়াকে। কারণ এর পরেই আমি নতুনভাবে শিখতে ও নতুন জগতে প্রবেশ করি। নতুন একটি ভাষা শেখা ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে ওঠা আমার জীবনের অন্যতম ঘটনা। যা আমাকে আজকের এ অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

গ্রামীণ ইউনিক্লোর এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা বলবেন?

নাজমুল হক: গ্রামীণ ইউনিক্লো ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে সোশ্যাল বিজনেস হিসেবে। আমি যুক্ত হই ২০১৫ সালে। যখন ডেনস্যুতে জব করতাম; তখন গ্রামীণ ইউনিক্লোর বিষয়টি প্রথম আসে কিছু কাজের প্রেক্ষিতে।

ইউনিক্লোতে কাজ করার সময় গ্রামীণ ইউনিক্লো রিস্ট্রাকচারিংয়ের কথা এলে আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। যেহেতু আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানি এবং জাপান ও ইউনিক্লো সম্পর্কেও জানি। আমারও বিশ্বাস ছিল গ্রামীণ ইউনিক্লোকে রিস্ট্রাকচার করতে পারব। গ্রামীণ ইউনিক্লো শুরুতে গ্রামীণ নারীদের মাধ্যমে গ্রামের নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে স্যানিটারি প্রোডাক্ট ও পোশাক সেল করত। এরপর আমরা ২০১৩ সালে সামগ্রিক বাংলাদেশের মানুষের জীবনধারা উন্নয়নের জন্য প্রথম ২টি স্টোরের মাধ্যমে তৈরি পোশাক বিক্রির মূলধারার সামাজিক ব্যবসায় যাত্রা শুরু করি। স্টোরের যাত্রা শুরুর পর থেকে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন ইউনিক ও ফাংশনাল পোশাক, ব্যতিক্রমী স্টোর ব্যবস্থাপনা, জাপানিজ মান নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছি। ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি ব্যবসায় সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করছি। আমাদের মূল নীতি কমফোরটেবল। আমরা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি কমফোরটেবল পোশাক, শপ ও লাইফস্টাইল।

দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির মানুষের পছন্দের এ প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান?নাজমুল হক: ইউনিক্লোর একটি ব্র্যান্ড কনসেপ্ট আছে—লাইফওয়্যার। গ্রামীণ ইউনিক্লোকে আমরা লাইফওয়্যার হিসেবে মানুষের মাধ্যে উপস্থাপন করতে চাই। লাইফওয়্যার হচ্ছে কোনো স্পেশ্যাল নয় বরং দৈনন্দিন জীবনে যে পোশাকের প্রয়োজন সেটি। নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রতিদিনের পোশাক। এখন ঢাকা বা ঢাকার আশেপাশে শুধু শোরুম থাকলেও আমরা সারাদেশে লাইফওয়্যারকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী ?

নাজমুল হক: তরুণরা এখন অনেক এগিয়ে। তারা ক্যারিয়ার সম্পর্কে যেমন সচেতন; তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন এবং জানেন। তথ্যপ্রযুক্তিতেও তরুণরা অনেক এগিয়ে। তবে একটি বিষয় হচ্ছে, তরুণরা যখন কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন; তখন অনেকে ঘাবড়ে যান। আমি মনে করি, জীবনে চ্যালেঞ্জ আসবেই। সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। চ্যালেঞ্জকে ভয় না করে স্বাগত জানিয়ে জয় করতে হবে।

Copyfrom : Jagonews24

গ্রামীণ ইউনিক্লো | Grameen Uniqlo

কস্টিং & মার্কেটিং পলিসি ইন RMG: 
একটা অর্ডার ১০ সেন্টের জন্য আপনার হাতছাড়া হয়ে যায় অথচ আপনি ভাবছেন ১০ সেন্ট বাড়িয়ে যে প্রাইস দিলেন তাতেই তো আপনার লস হয়ে যায়। তাহলে এই কমপেটিটিভ মার্কেটে সে ১০ সেন্ট কমে অর্ডার নিয়ে প্রফিট করে কিভাবে।

আসুন তাহলে একটু আলোচনা করি -

> আপনার Cut to ship ratio 94 %, আর তার Cut to ship ratio 99%। তার মানে সে আপনার থেকে 5 % wastage কমিয়ে শিপমেন্ট করছে। অর্থাৎ তার এই 5 % এর সুতার খরচ, নিটিং খরচ, ডাইয়িং খরচ, সেলাই খরচ, এক্সসরেরিস খরচ নাই। আর আপনার এই খরচ দিয়ে অর্ডার নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আপনার Cut to ship ratio কম।

> আপনার ফ্যাক্টরির Efficiency 55 %, আর তার ফ্যাক্টরির Efficiency 75%। তার মানে ঘন্টায় সে আপনার থেকে 20 % উৎপাদন বেশি করছে। তার Produced Min আপনার থেকে অনেক বেশি। তাই ১০ সেন্ট কমেও সে অর্ডার নিতে পারছে এবং প্রফিট করছে।

> আপনার CPM Cost 5.20 টাকা। আর তার CPM
Cost 4.20 টাকা। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে তার উৎপাদন খরচ আপনার থেকে মিনিটে ১ টাকা কম। এখানেও সে আপনার থেকে যথেষ্ট হিসেবি। তাই সে ১০ সেন্ট কমেও অর্ডার নিয়ে প্রফিস করছে।

> আপনার MMR Ratio 3.2, আর তার MMR Ratio 2.4। অর্থাৎ প্রতি মেশিনের বিপরীতে সে আপনার থেকে 1.2 জন লোক কমে প্রডাকশন করছে। তাহলে তার Overhead cost কম। তাই সে ১০ সেন্ট কমেও অর্ডার নিয়ে প্রফিট করছে।

> আপনার Febric Rejection 4%, আর তার Fabric Rejection 1%। এখানেও সে আপনার থেকে কম খরচে উৎপাদন করছে। যে কারণে সে ইচ্ছে করলেই ১০ সেন্ট কমিয়েও মার্কেটে টিকে আছে।

> আপনার DHU 11%, আর তার DHU 4%। এখানেও সে অনেক এগিয়ে। অর্থাৎ আপনি যেখানে প্রতি ১০০ পিসে ১১ টা ডিফেক্ট করছেন, সেখানে সে করছে মাত্র ৪ টা। তাহলে তার Cost of Poor Quality আপনার থেকে অনেক কম। এজন্যই সে ১০ সেন্ট কমে অর্ডার নিচ্ছে।
এরকম আরো অনেক KPI আলোচনা করা যাবে যার মাধ্যমে একটা Factory কে মূল্যায়ন করা যায়। যে KPI এর উপর ভিত্তি করে Factory Develop হচ্ছে। এখন একটা Factory তে এই KPI নিয়ে কতটুকু কাজ হয় তার উপর নির্ভর একটা Factory Turn over, Future। আর এই KPI এর সাথে আপনার Employees ইনভলভমেন্ট কতটুকু এটাই হল গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক ফ্যাক্টরি আছে গদবাধা নিয়মে চলছে তো চলছেই। KPI's নিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না, কোন KPI's মূল্যায়ন নাই। তাদের অবস্থা সত্যি শোচনীয়।

এই Competitive market ঠিকতে হলে আপনার Company কে KPI base করতে হবে। আপনার Employees কে এটার উপর Training করিয়ে হলেও তাদের Involved বাড়াতে হবে।

RMG sector এ যে KPI's গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ -

1. Factory Efficiency
2. CPM cost
3. MMR ratio
4. Cut to ship ratio
5. DHU %
6. RFT
7. On time delivery rate
8. Non Productive Time
9. Cost of poor Quality
10. Style Change Over Time

আপনার Company তে এই KPI গুলো Develop করার জন্য Training এর কোন বিকল্প নেই।

মূল লেখক: জনাব Abdulla Al Mamun

কস্টিং & মার্কেটিং পলিসি ইন RMG

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং
স্বপ্ন কখনো পূরণ হয় না, বড় হতেই থাকে
দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং নিজস্ব স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কাজ করে চলেছে দেশের প্রান্তিক কারুশিল্পীদের নিয়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, জীবনযাপন, তৃণমূলের কারু ও হস্তশিল্পের উন্নয়নেও উল্লেখ করার মতো পরিবর্তন এনেছে আড়ং। ১৯৭৮ সাল থেকে বর্তমান—আড়ংয়ের এগিয়ে চলার গল্প বলেছেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর সহসম্পাদক রয়া মুনতাসীর।

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদছবি: সুমন ইউসুফ
প্রথম আলো: কী লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়ে আড়ংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল?

তামারা হাসান আবেদ: স্বপ্ন কখনো পূরণ হয় না, বড় হতেই থাকে। ফজলে হাসান আবেদ যখন আড়ং শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং সেটার পাশাপাশি ব্র্যাক সেরিকালচারের কাজ এগিয়ে নেওয়া। ১৯৭৬ সালে মানিকগঞ্জে ব্র্যাক সেরিকালচারের (রেশম গুটিপোকা চাষ) কাজ শুরু হয়। সেরিকালচারের মাধ্যমে তুঁতগাছ খেয়ে রেশমের পোকার কোকুন করা, সুতা বানানো—এই পুরো প্রক্রিয়াটি শ্রমনির্ভর কাজ। এই কাজগুলোর মাধ্যমে নারীদের আয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। স্যার ফজলে হাসান আবেদ দেখেছিলেন কীভাবে চীন, থাইল্যান্ড ও জাপান তাদের সিল্কশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বা তার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে। এ কারণে তিনি দেশের বাইরেও সেরিকালচারকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি এটাও চেয়েছিলেন যে আড়ং এমন একটি জায়গা হবে, যেখানে নারীরা তাঁদের তৈরি পণ্য সরবরাহ করার সঙ্গে সঙ্গে টাকা পেয়ে যাবেন। বেশির ভাগ দোকানে পণ্য বিক্রির পর কারুশিল্পীদের টাকা পরিশোধ করা হতো। ফজলে হাসান আবেদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পণ্য বিক্রি করার দায়িত্ব আমাদের। এটাতে যেন কারুশিল্পীরা ভুক্তভোগী না হন। পাওনা টাকার জন্য যেন তাঁদের অপেক্ষা করতে না হয়। এই চিন্তা থেকেই পণ্য বিক্রির জন্য ব্র্যাক নিজস্ব বিক্রির শাখা বানায়। এর মাধ্যমে পণ্য বানানো থেকে শুরু করে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়টি ব্র্যাক নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্য কারও ওপর ভরসা না করে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই আড়ং ৪৩ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্বপ্ন ছিল আড়ং একদিন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হবে। সে স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, এই স্বপ্নও আমরা পূরণ করতে পারব।

✅ একনজরে আড়ং:

প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৮

প্রতিষ্ঠাতা: স্যার ফজলে হাসান আবেদ

কর্মিসংখ্যা: ৩ হাজার

উৎপাদক ও কারুশিল্পী: ৬৫ হাজার

কত ধরনের পণ্য বিক্রি করে: ১২০ ধরনের বেশি

বিক্রয়কেন্দ্র: ২২

ঢাকায় ১২টি

চট্টগ্রামে ২টি

ঢাকার বাইরে শাখা: ৮টি (সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, যশোর ও রংপুর)

নতুন শাখা (আসন্ন): ফেনী

বার্ষিক লেনদেন: ১ হাজার কোটি টাকা (২০১৯ সাল)

প্রথম আলো: আড়ংকে পরিবর্তনের ধারক বলা হয়। আড়ং কোন কোন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে?

তামারা হাসান আবেদ: আমার মনে হয়, আড়ং কিছু নতুন বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। একদম শুরু থেকে যদি বলি, এ ধরনের দোকানই বাংলাদেশে ছিল না তখন। মেয়েরা দোকানে পণ্য বিক্রির কাজ করছে, এটাও নতুন ভাবনা ছিল। নির্দিষ্ট দামের দোকানও ছিল না কোনো। কেনার পর পণ্য বদলানোর সুযোগও আমরা করে দিই। যেকোনো পণ্য কেনার পর পছন্দ না হলে সেটা ৩০ দিনের মধ্যে বদলানো যাবে। পণ্য বিক্রয়ের পাশাপাশি উপহার দেওয়ার জন্য আড়ং গিফট ভাউচার চালু করা হয়। আমি সত্তরের দশকের কথা বলছি। তখন এসব বিষয় নতুন ধারণা ছিল আমাদের দেশে। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে আড়ং যেভাবে ঈদ, নববর্ষের আগে ফটোশুট, ফ্যাশন শো করত, সেগুলোও নতুন ছিল। নকশিকাঁথা, জামদানির মতো বাংলাদেশি কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বিকাশ, প্রচার ও সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি ফ্যাশনশিল্প প্রতিষ্ঠাতে অবদান রেখেছে আড়ং। ২০০৩ সালে আমরা ‘তাগা’ আনলাম আড়ংয়ের সাব-ব্র্যান্ড হিসেবে। এরপর দেখলাম অন্য অনেকেই নিজেদের দোকানে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক আনছেন। ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বাংলাদেশে আড়ংই প্রথম করেছে। পাশ্চাত্যে এগুলো আছে। তবে দেশের ক্রেতাদের এই বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আড়ং।

প্রথম আলো: আড়ংয়ে আপনার যোগ দেওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

তামারা হাসান আবেদ: আমি একা তো কিছু করি না। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। ২০০২ সালে আমি আড়ংয়ে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিই। তখন মনে হলো বাংলাদেশের অনেক নারী ফতুয়া পরার দিকে ঝুঁকছে। রোজ কাজে যেতে হচ্ছে। রিকশায়, বাসে ওঠার সুবিধার জন্য আরেকটু আরামদায়ক পোশাকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। তখন আমরা তাগা আনলাম। প্রথম থেকেই বেশ সাড়া ফেলেছিল তাগা। কারণ, তখন দেশি ও পাশ্চাত্য ধাঁচের মিশেলে তৈরি পোশাকগুলো অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। এ রকম নানা নতুন নতুন প্রোডাক্ট লাইন এবং ক্যাটাগরি আড়ং বছরের পর বছর বাজারে এনেছে। আমরা ডিজাইন থেকে শুরু করে বিক্রয়, ব্যবস্থাপনা, ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া নেওয়া এবং তাদের আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা—সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ২০১৭ সালে নারীদের জন্য এক্সক্লুসিভ ডিজাইনার লাইন ‘হারস্টোরি বাই আড়ং’ চালু করেছি। ২০১৮ সালে আমরা আরেকটি সাব–ব্র্যান্ড ‘তাগা ম্যান’ চালু করেছি। ২০১৪ সালে আমরা আমাদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মও চালু করেছি। ২০২১ সালে আমরা হারবাল স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড ‘আড়ং আর্থ’ চালু করি।

প্রথম আলো: আড়ংয়ের পণ্য তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাব কত মানুষ জড়িত?

তামারা হাসান আবেদ: আড়ংয়ের বিভিন্ন কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক মানুষ জড়িত। কর্মী হিসেবে কাজ করছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। এর বাইরে আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের কারুশিল্পী, স্বাধীন উৎপাদক ও তাঁদের অধীনে কাজ করছেন, এমন কারুশিল্পীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা পণ্য বানিয়ে আনি। নরসিংদী থেকে সুতি কাপড় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিল্কের কাপড় তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইলে শাড়ি, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করা হয়। জামালপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও শেরপুরে কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করানো হয়। চট্টগ্রাম, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামেও আমাদের উৎপাদনকেন্দ্র আছে।

আমরা আমাদের কারুশিল্পীদের কাজের মানোন্নয়নের জন্য ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এ ছাড়া তাঁদের হিসাবরক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমাদের নিজস্ব উৎপাদনকেন্দ্রে কর্মরত কারুশিল্পীদের জন্য আমরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তা স্কিম গঠন করেছি। এতে কারুশিল্পীদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটতম পরিবারের সদস্যরা জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন। কারুশিল্পীরা অবসরকালীন গ্র্যাচুইটির সুবিধাও পান। কর্মস্থলে চিকিৎসাসেবা, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং শিশুদের জন্য ডে–কেয়ার সেবার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া কারুশিল্পীরা ব্র্যাকের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে যেমন ক্ষুদ্রঋণ, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার সচেতনতা, আইনি সহায়তা, এমনকি বাড়িতে ল্যাট্রিন স্থাপনের জন্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। কারুশিল্পীদের সন্তানরা যেন স্কুলে যায়, খেয়াল রাখা হয় সেদিকেও। সব উৎপাদকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদকেরা জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা পান। প্রয়োজনে উৎপাদকদের আমরা ঋণ দিই। আমাদের উৎপাদকদের উৎপাদনকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, সঠিক মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আমরা পর্যায়ক্রমে উৎপাদনকেন্দ্রে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা করি।

প্রথম আলো: করোনা মহামারির সময়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তামারা হাসান আবেদ: করোনার এই সময়টা আমাদের সবার জন্যই কঠিন ছিল। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির চেয়ে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারুশিল্পী ও উৎপাদকদের ব্যাপারে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমাদের কারুশিল্পীদের ৩০ মাসের জন্য ‍ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যা সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। প্রথম ছয় মাস ঋণ প্রদানের কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী দুই বছর কোনো সুদ নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের উৎপাদকদের কাছে যে পণ্যের অর্ডার ছিল, তার জন্য তাঁদের অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই পণ্য পর্যায়ক্রমে নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের অগ্রিম বেতন দেওয়া হয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। করোনাকালে এই কর্মীদের ব্র্যাকের তহবিল থেকে এককালীন দেড় হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। উৎপাদকদের পণ্যের বিক্রয় বাড়ানোর জন্য মহামারির সময়েও আমরা যশোর ও রংপুরে নতুন বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছি। বনানী ও গুলশান শাখা দুটি বৃহৎ পরিসরে নতুন স্থানে স্থানান্তর করেছি। এ ছাড়া কারুশিল্পী ও উৎপাদকদের নতুন কাজ নিশ্চিত করার জন্য গত বছর আমরা একটি বড় মূল্যছাড়ে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করি।

প্রথম আলো: বিদেশি পর্যটকেরা বাংলাদেশি পণ্য কেনাকাটার জন্য আড়ংয়ে যান। কোন ধরনের পণ্য তাঁরা বেশি কেনেন?

তামারা হাসান আবেদ: পর্যটকেরা মূলত নকশিকাঁথার নকশা আছে, এমন পণ্য বেশি কেনেন। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের স্যুভেনির, যেমন পিতলের নৌকা, রিকশা ও অন্যান্য পণ্য, দেশি পুতুল, টি-শার্ট, চাবির রিং ইত্যাদি কিনে থাকেন। চীনা পর্যটকেরা যেমন মুক্তার গয়না বেশি কেনেন।

প্রথম আলো: তিন-চার দশক আগেও বিদেশি পর্যটক আর উচ্চবিত্তেরাই ছিলেন আড়ংয়ের মূল ক্রেতা। এখন তো আড়ংয়ের পণ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণিও কিনছেন। এটাকে কীভাবে দেখেন?

তামারা হাসান আবেদ: বিষয়টি খুব ইতিবাচক। এর মানে আড়ং মূলধারার ব্র্যান্ড হতে পেরেছে। আপনি আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে কী করতে চান, সেটার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের প্রথম থেকেই বড় পরিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কারণ, এতে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ব্র্যান্ড যত বড় হবে, আমরাও তত বেশি মানুষকে কাজ দিতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দেশীয় রুচি তৈরি করার ক্ষেত্রেও আড়ং অবদান রেখেছে। এটা না হলে আড়ং এ পর্যন্ত আসত না। কারুশিল্প নিয়ে পৃথিবীতে এত বড় পরিসরে আর কেউ কাজ করেনি।

প্রথম আলো: ঈদ, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন উপলক্ষে আড়ং থিমভিত্তিক ডিজাইন নিয়ে আসে। এই সব ডিজাইন কি আন্তর্জাতিক ফ্যাশনধারা অনুসরণ করে করা হয়, নাকি দেশজ বিষয় ধরে করা হয়?

তামারা হাসান আবেদ: ইউরোপ অথবা আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন নকশা কমবেশি সব দেশই অনুসরণ করে। এই সব ব্র্যান্ড পাক্ষিক ফ্যাশন শো আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ফ্যাশনধারা প্রবর্তন করে। এ ছাড়া ফ্যাশন ফোরকাস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন রং, নকশা, কাট ইত্যাদি প্রবর্তন করে। বর্তমানে পোশাকের হাতায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, নিয়ে আসা হচ্ছে বৈচিত্র্য। এগুলো পাশ্চাত্যের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। বাইরের দেশের নকশাগুলো থেকে আমরা চিন্তাশীল উপায়ে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মানানসই নকশাগুলো বাছাই করে চলতি ধারার কাটে ও ধাঁচে দেশি কাপড় এবং দেশজ ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট এবং অন্যান্য কাজ সংযোজন করে আমাদের কালেকশনগুলো সাজাই বছরজুড়ে।

প্রথম আলো: আড়ংয়ের কোন পণ্যগুলো বিক্রি হয় বেশি? এখন কয় ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়? পুরো দেশে আড়ংয়ের শাখা কয়টি?

তামারা হাসান আবেদ: আড়ংয়ে ২২টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১২০ ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ক্রেতারা পোশাক কেনেন সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে ২২টি শাখা রয়েছে আড়ংয়ের। কিছুদিনের মধ্যে ২৩ নম্বর শাখা ফেনীতে চালু হবে। এর মধ্যে ঢাকায় আছে ১২টি, চট্টগ্রামে ২টি, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, রংপুরে ১টি করে শাখা রয়েছে আমাদের। দেশের সব শাখাতেই একই রকম পণ্য বিক্রি হয়।

প্রথম আলো: কোভিড–পরবর্তী ‘নতুন স্বাভাবিক (নিও নরমাল)’ সময়ের জন্য আড়ংয়ের পরিকল্পনা কী?

তামারা হাসান আবেদ: করোনার সময় আমাদের জীবনে একটি বড় পরিবর্তন হচ্ছে অনলাইনে বসে কেনাকাটা করা। মানুষও এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ধীরে ধীরে অনলাইনে কেনাকাটার সঙ্গে সবাই অভ্যস্ত হয়েছে। আগামী কয়েক বছর বিষয়টি নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ ছাড়া আমাদের ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে মনোযোগ থাকবে। পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের সবারই নৈতিক দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি, যা আমাদের ক্রেতারা শিগগিরই উপলব্ধি করবেন।

প্রথম আলো: ১০ বছর পর আড়ংকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

তামারা হাসান আবেদ: ১০ বছর পর আড়ংকে একটি সফল গ্লোবাল ক্রাফট ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

তামারা হাসান আবেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং | Aarong

মার্চেন্ডাইজিং এর জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ফাইল ।  এই ফাইল গুলো দেখলেই মার্চেন্ডাইজিং কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারনা পেয়ে যাবেন। 
আপনাদের যারা মার্চেন্ডাইজার পরিচিত আছের তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন ।  কিংবা আপনারা দিতে চাইলে আমাদের গ্রুপে পোস্ট করেন। 

1. Costing of Jackets. 

2. Costing of basic five pocket denim pant.

3.Costing of Flair denim.

4.Costing of jeggings. 

5.Costing of  cargo pant. 

6. CM price of denim pant and jackets. 

7. FOB price of denim pant and Jackets.

8.ERP system details. 

9. Merchandising organogram.

10. Gathering plan.

11.Order summary. 

12.Shipment summary. 

13. Preproduction activities. 

14.Order status.

15. LC and others documents. 

16. Sample programme. 

17. Pricing summary. 

18. Proforma invoice of CM and Wash.

19.Subcontract agreement. 

20. Wash bill.

21.Contract signing. 

22. Consumption sheet.

23. Check list.

24. Size set programme. 

25. Inspection report. 

26. Inline inspection report.

27. Tech pack.

28. BOM sheet.

29. PI sheet.

30. P.O sheet.

31. Shipment details.

32. Pattern.

33. Measurement spec.

34. Cutting instructions 

35. Sewing instructions 

36. Washing instructions. 

37. Finishings instructions. 

38. Packing instructions. 

39. Production report. 

40. Production planning for monthly.

41. Payment details.

42. Store information. 

43. TPX color book.

44. Thread code.

45. TNA planning. 

46. Audit report. 

47.Fabric booking. 

48. Thread booking. 

49. Button booking. 

50. Carton booking. 

51. All trims and accessories booking.

52. Cargo booking. 

53. Air booking.

54. Querier booking and information. 

55. SMV. 

56. Local and international supplier information. 

57. Buyer Information of Zara, Walmart,  TCP, US.Polo and others. 

58. Price of trims accessories of local and foreign suppliers.

মার্চেন্ডাইজিং এর জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ফাইল

ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন | ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড
কিহাক সাং—এশিয়ার পোশাক মোগল। নিজের জীবনদর্শন গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেন বলেই কিহাক সাং আজকের এই অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছেন।
যেমন, তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রম, পরিশ্রম এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে-কেউ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। ৭৫ বছর বয়সি এই কোরিয়ান পোশাক উদ্যোক্তা এখনও ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে ওঠেন। আর ঘুমাতে যান গভীর রাতে। দীর্ঘ কর্মদিবসে তিনি নিজের কারখানায় ঘোরেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন।

তার দ্বিতীয় বিশ্বাস হলো, পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার জন্য সবকিছুই টেকসই হতে হবে। চট্টগ্রামে ২৫ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত তার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) একবার ঢুঁ মারলেই তার এই বিশ্বাসের প্রমাণ পেয়ে যাবেন। এই শিল্পাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে গাছ ও বন জন্মানোর জন্য। ৮৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ১৩৭ প্রজাতির পাখির প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত এ জায়গা।

কিহাক সাংয়ের তৃতীয় দর্শন হলো, বিপদে পড়লে হাঁটুন, হাঁটুন এবং হাঁটুন। এভাবেই কিহাক একদিন বিস্তীর্ণ বালুকাময় জমির সন্ধান পেয়ে যান, যাকে তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কেইপিজেডে পরিণত করেছেন।

সাদামাটা শুরু

কিন্তু যে মানুষটি তার কোম্পানি ইয়াংওয়ান ও কেইপিজেডের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, ১৯৭২ সালে তার যাত্রার শুরুটা ছিল খুব সাদামাটা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথা অনুযায়ী কোরিয়ান সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে কিহাক সাং ভাবছিলেন জীবিকা হিসেবে কী বেছে নেবেন। বাবার কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় যোগ দেবেন না বলে স্থির করেন তিনি। কিহাক মুগ্ধ হতেন হাই স্ট্রিটের দোকানে সাজিয়ে রাখা হরেক রকমের পোশাক দেখে।

তাই ২৫ বছর বয়সে তিনি একটি পোশাক কোম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন।

কোরিয়া ওই সময় রূপান্তরের পর্যায়ে ছিল। দেশটির টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকের মাঝামাঝি। সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে এ খাতে দক্ষিণ কোরিয়া গোটা বিশ্বে বড় নাম হয়ে ওঠে।

ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কিহাক বলেন, 'আমি টেক্সটাইল কোম্পানির জন্য পণ্য বিক্রি করছিলাম। সেলসম্যানের কাজ হলো গ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করা ও যোগাযোগ রাখা, নমুনা পণ্য বা ডিজাইন গ্রহণ করা, নমুনা বানানো বা এর বাণিজ্যিকীকরণ করা, তারপর ক্রেতার অনুমোদন আদায় করা এবং উৎপাদনের শিডিউল ও মানের তত্ত্বাবধান করা। ব্যাপারটা শুধু বিক্রয় নয়—বরং একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, যার একাধিক আঙ্গিক রয়েছে।'
কিহাক সাং—এশিয়ার পোশাক মোগল।

অচিরেই তিনি সুইডিশ ব্যবসা বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আমেরিকানদের গ্রাহকদের সঙ্গেও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

দু-বছর সেলসম্যান হিসেবে কাজ করার পর ১৯৭৪ সালে দুই অংশীদারকে নিয়ে ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন কিহাক সাং। পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য সিউল শহরে ইয়াংওয়ানের প্রথম কারখানা স্থাপন করা হয়।

তার সেলসম্যান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা শুধু কোরিয়াভিত্তিক ইয়াংওয়ান উদ্যোগেই নয়, বাংলাদেশেও কাজে এসেছে।

১৯৭৯ সালে তরুণ উদ্যোক্তা কিহাক সাং সিউল থেকে চট্টগ্রামে উড়ে আসেন, সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপন করতে পারেন কি না দেখার জন্য। ওই সময় জায়গাটিকে তেমন সম্ভাবনাময় মনে হয়নি। বাংলাদেশে তখন শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি ছিল না। তাছাড়া অবকাঠামোগত সহায়তার অবস্থাও ছিল ভীষণ খারাপ।

কিন্তু কিহাক একটা কারণে এদেশে এসেছিলেন—ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশে কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। কোরিয়া ওই সময় উন্নত বিশ্বে কোটামুক্ত সুবিধা পেত না। অনেক কোরিয়ান রপ্তানিকারক তখন শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান ঘুরে দেখছিলেন ওসব দেশে কারখানা স্থাপন করে ওখানকার কোটামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা-সক্ষম থাকা যায় কি না।

ইয়াংওয়ানের যাত্রা শুরু

নানা ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বেছে নেন কিহাক সাং। ঘুরে যাবার কমাস পরই, ১৯৮০ সালের মে-তে বাংলাদেশি অংশীদারদের নিয়ে ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড নামে নিজের কারখানা স্থাপন করেন কিহাক।

সুইডিশ ক্রেতার ক্রয়াদেশ ছিল তার কাছে। এক ব্যাচ সাধারণ পোশাকের অর্ডার দিয়েছিল তার ক্রেতা। ওই কারখানায় শ্রমিক ছিল প্রায় ২৫০ জন। তাদের সবাইকে অভিজ্ঞ কোরিয়ান অপারেটরদের দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়। ১৯৮৪ সাল নাগাদ কিহাকের কোম্পানি ১৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কিহাক সাংয়ের ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনে প্রায় ৮৫ হাজার লোক কর্মরত—তাদের ৭০ হাজার কাজ করেন বাংলাদেশে। সিউল স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত ইয়াংওয়ানের বার্ষিক টার্নওভার ৩ বিলিয়ন ডলার। এই আয়ের এক-তৃতীয়াংশ আসে বাংলাদেশ থেকে।

এখন ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, এল সালভাদর ও ইথিওপিয়াতে কারখানা আছে কিহাকের কোম্পানির। তবে তার সবচেয়ে বড় সম্পদ আনোয়ারার কেইপিজেড—প্রতি বছর নতুন নতুন শিল্প কমপ্লেক্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে যা এখনও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

কোরিয়ান ইপিজেড:

মার্চের শেষের দিকে কেইপিজেডের নিজ বাসভবনে বসে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় কিহান জানান, 'বাংলাদেশে আমরা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি। শিগগিরই এই অঙ্ক ১ বিলিয়ন ডলার ছোঁবে।' 
কেইপিজেডে ইতিমধ্যে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, কৃত্রিম (ম্যানমেইড) ফাইবার, জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস উৎপাদনের ৪০টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এখানে ৩০ হাজার কর্মী কর্মরত—তাদের সিংহভাগই আনোয়ারা ও তৎসংলগ্ন এলাকার নারী। অন্যান্য ইপিজেডেও ইয়াংওয়ানের কিছু কারখানা রয়েছে।

রপ্তানিতে ইয়াংওয়ানের মূল্য সংযোজন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ—কিছু আইটেমের বেলায় তা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ইয়াংওয়ান এখনও দামি আইটেমে ব্যবহৃত হাই-টেক কৃত্রিম ফাইবারে বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য পোশাকশিল্পের জন্য এমএমএফের প্রধান উৎস হয়ে উঠবে এটি।

২৫ কিলোমিটার রাস্তার নেটওয়ার্ক সংবলিত ২ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি জমিজুড়ে বিস্তৃত কেইপিজেডের ভূমির অর্ধেকেরও বেশি জুড়ে আছে বন ও জলাধার। একটি শিল্পাঞ্চল কেমন হওয়া উচিত, তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেইপিজেড।

অপরিচ্ছন্নতা ও দূষণ ভীষণ অপছন্দ কিহাক সাংয়ের। তার এই মনোভাবের ছাপ ফুটে রয়েছে কেইপিজেডের কারখানা ও কম্পাউন্ডের সর্বত্র। চত্বরে বা রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা যেকোনো শিল্পাঞ্চলের অতিপরিচিত দৃশ্য। কিন্তু সেই পরিচিত দৃশ্যই দেখা যাবে না কেইপিজেডের কোথাও। এখানে ওয়াশিং ও ক্লিনিং ইউনিটগুলোর মেঝে শুকনো খটখটে—অথচ দেশের অন্যান্য কারখানায় দেখা যায় একেবারেই উল্টো চিত্র।

সম্প্রতি চীনে বিনিয়োগ থেকে সরে এসেছেন কিহাক সাং। তবে তিনি এখন ভারতের তেলেঙ্গানায় একটি নতুন টেক্সটাইল বিনিয়োগ করছেন, আর ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

বাংলাদেশে সাংয়ের যাত্রা

১৯৮০ সালের মে মাসে ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ কীভাবে প্রথম অর্ডার সামলেছিল, সেই স্মৃতিচারণ করেন কিহাক সাং। 'কাঁচামাল বন্দরে এলে ডেলিভারি নেওয়ার জন্য আমরা হ্যান্ড কার্ট নিয়ে যাই। কারখানায় কাঁচামাল নিয়ে আসার সময় এই কার্টগুলো এক কিলোমিটার লম্বা লাইন তৈরি করে।'

এই উদ্যোগ সফল হয়। ২৫০ শ্রমিক নিয়ে কারখানাটি কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। আর কোরিয়া থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন কিহাক। কিহাক তার কারখানাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝামেলামুক্ত রাখার সংস্কৃতি নিয়ে আসেন।

'কিন্তু তখন বাইরে, আগ্রাবাদে প্রায়ই রাজনৈতিক বিক্ষোভ হতো। কারখানার ভেতরে কিছু লেবার-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। ব্যাপারটা আমি পছন্দ করিনি। কিন্তু আমার অংশীদাররাও ব্যাপারগুলোর সুরাহা করেননি,' বলেন তিনি।
কারখানাকে নোংরা দেখাবে, ব্যাপারটা কিহাকের মোটেই পছন্দ ছিল না। তার অংশীদাররা যখন পরিচ্ছন্ন কর্মীর জন্য অপেক্ষা করতেন, তখন কিহাক পরিষ্কার করার জন্য নিজেই ঝাড়ু হাতে তুলে নিতেন।

১৯৮৪ সাল নাগাদ কিহাক কোরিয়ায় ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের অংশীদারদের শেয়ার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিহাকের অংশীদাররা বয়সে তার চেয়ে বড় ছিলেন। তাছাড়া ব্যবসাও তখন খুব বড় ছিল না। কিন্তু কিহাকের বিশ্বাস ছিল, তিনি নিজে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারলে তার কোম্পানির উন্নতি হবে।

ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেডের বেলায়ও একই পথে হাঁটেন কিহাক। ১৯৮৬ সালে তিনি অংশীদারদের থেকে আলাদা হয়ে যান। ওই বছরই তিনি ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশের আশায় চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেডে) একটি কারখানা স্থাপন করেন।

সিইপিজেড ও একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়

আশির দশকের গোড়ার দিকে সরকার চট্টগ্রাম ইপিজেড নির্মাণ করে। ওই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কিহাক সাং বলেন, 'আমি যখন সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখন শুরুটা খুব ধীর ছিল। ওখানে মাত্র দুটি ছোট কারখানা ছিল তখন। বিনিয়োগকারী ও পোশাক উৎপাদকদের জন্য সরকার সেখানে আরও কিছু কারখানা নির্মাণ করে। এটা খুব ধীরে ধীরে বড় হয়।'


১৯৮৬ সালে সিইপিজেডে এসএস২ চিহ্নিত একটি ফ্যাক্টরি স্পেস ভাড়া নেয় ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন। ওটা সুনির্মিত কারখানা ছিল। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি বড় হয়, সেইসঙ্গে অন্যান্য ভবনগুলোরও দখল নেয়। 

কিহান বলেন, 'আমি বিক্রি করছিলাম আর কিনছিলাম। প্রতি ছয় মাসে এক সপ্তাহের জন্য আমি ভিজিট করি।

'এখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমি খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমরা যখন সিইপিজেডে চলে যাচ্ছিলাম, ওই সময় ১৯৮৬ সালে জ্যামাইকাতেও একটি কারখানাও স্থাপন করেছি। সেখানে আমরা সফলও হয়েছিলাম। এদিকে আমরা ইন্দোনেশিয়ায় চেষ্টা করছিলাম—ওটা অনেক বড় জায়গা।

'১৯৮৮ সালে ইয়াংওয়ান কোরিয়াতে আইপিও ছাড়ে। এটি আমাদের নগদ প্রবাহের অবস্থা ভালো করে। আমরা সিইপিজেডে আরও বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলাম। তাই ১৯৯০ সালে ১ লাখ বর্গফুট এলাকা নিয়ে একটা বড় কারখানা তৈরি করি। তখন আমরা প্রচুর অর্ডার পাচ্ছিলাম।'

১৯৯১ সালের এপ্রিলে এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে চট্টগ্রামে। উপকূলীয় অঞ্চলকে দুমড়েমুচড়ে দেয় সেই ঘূর্ণিঝড়—প্রাণ কেড়ে নেয় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের।

ওই ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কিহাক জানান, 'ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের প্রধান দরজা উড়ে যায়। তারপর পানি ঢুকে পড়ে ভেতরে, পুরো কারখানা ডুবে যায় কাদামাটিতে।

'কারখানা পুনরুদ্ধারের জন্য আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে ছিলাম। পুনরুদ্ধারকালে বুঝতে পারি, এখানকার এই শ্রমিকরা সত্যিই তাদের চাকরিটা করতে চায়, তারা আমাদের এই দেশে রাখতে চায়। পুনরুদ্ধারের পরে আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, ওরা সবাই কেঁদেছিল।

'এরপর আমরা আরও বিনিয়োগ করি। কারণ আমরা বিপর্যয় থেকে সফলভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। আর আমাদের গ্রাহকেরা আমাদের শক্তি দেখেছেন, দেখেছেন কীভাবে আমরা তাদের ব্যবসাকে রক্ষা করেছি। আমাদের ক্রেতারা আমাদের প্রচেষ্টাকে খুব ভালোভাবে স্বীকৃতি দেন। রীতিমতো স্রোতের মতো অর্ডার আসতে থাকে তাদের কাছ থেকে।'

সেই বিপর্যয়ের পর ইয়াংওয়ান বহুতল ভবন তৈরি করতে শুরু করে। আর সবগুলো ওয়্যারহাউস রাখে বন্যার স্তরের উপরে। ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হতে থাকে ইয়াংওয়ানের।

'ওই সময় আমরা অনেক সমস্যায় পড়ি। বিশাল ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি সামলানোর সক্ষমতা ছিল না ইপিজেডের। আমাদের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিল না প্রশাসন। তাই আমি ভাবছিলাম, আমাদের বোধহয় নিজস্ব ইপিজেড থাকা দরকার।'

কেইপিজেডের দীর্ঘ গল্প
 
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সাংয়ের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ সময় তিনি জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) একটি আয়োজনে অংশ নেন। সেখানে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি নতুন আসবাবপত্র রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা ও গবেষণা তুলে ধরে জাইকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই ইপিজেড স্থাপনের পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
তবে কিহাক সাং বলেন, কিছু করতে হলে বেসরকারি উদ্যোগেই করা উচিত। বেসরকারি খাতই জানে কীভাবে কোনো কাজ করতে হয়। তারা দ্রুততম সময়ে কাজ করবে।

৮৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ১৩৭ প্রজাতির পাখির প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত কেইপিজেড। এই শিল্পাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে গাছ ও বন জন্মানোর জন্য।

পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে সাং বলেন, 'সে সময় নিজস্ব ইপিজেড করার পরিকল্পনা ছিল না আমার। কিন্তু জাইকার সেই প্রোগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৎকালীন কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত আমাকে কাজটির জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন আমি এমন একটি ইপিজেড গড়ে তুলতে পারব।'

১৯৯৫ সালে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেন সাং। 

ইপিজেডের জন্য জাইকার নির্ধারিত অঞ্চল পরিদর্শনকালে সাং দেখেন আনোয়ারার ভূ-প্রকৃতি শুষ্ক ও অনুর্বর। 

'মানুষ তখন এখান থেকে বালি সংগ্রহ করত। পুরো অঞ্চল ছিল চোরাকারবারি, জলদস্যু আর গুন্ডাদের দখলে। বালির জন্য স্থানীয় মানুষ তখন জায়গাটিকে টেক্সাস বলে ডাকত,' বলেন তিনি। 

'আমাকে বলা হয়েছিল উত্তর দিকে কিছুটা পানি আছে। কিন্তু আসলে কিছুই ছিল না। বেশিরভাগ সময়ই তা শুষ্ক থাকত। আবার বর্ষাকাল এলে সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে যেত। অথচ কারখানা স্থাপনের জন্য আমাদের পানির প্রয়োজন,' বলেন তিনি। 

এখানে কর্ণফুলী নদীর পানি লবণাক্ত। অন্যদিকে, খুব বেশি জলাশয়ও ছিল না। পাশেই সদ্য চালু হওয়া কাফকো কারখানা ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কাজ করছিল। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানায় কাফকোর কারণে তাদের টিউবওয়েলের পানি শুকিয়ে গেছে।

পানি সংকটের সমাধান

পানির সমস্যার কথা মাথায় রেখে কিহাক সাং কেইপিজেডের ভূমির জন্য সরকারের কাছে যান। সরকার ইপিজেডটির জন্য ২ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি জমি (প্রায় ১ হাজার ৭০০ একর সরকারের) অধিগ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালের মধ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, যার আওতায় বেসরকারি ইপিজেডগুলো কাজ করবে।
কিন্তু এরপর সরকার বদল হলে কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়ে। জমি ক্রয়, রাস্তাঘাট ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণে ইয়ংওয়ান ততদিনে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেললেও সরকার ইপিজেড পরিচালনার লাইসেন্স দিচ্ছিল না। অবশেষে ২০০৬ সালে শর্তসাপেক্ষে ইয়ংওয়ানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেওয়া হয় সংশোধিত আরেকটি লাইসেন্স। পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে ইয়ংওয়ানের আরও কয়েক বছর লেগে যায়। কেইপিজেড এখন পর্যন্ত জমির নামজারির নথি পায়নি।

কিন্তু এতসব সমস্যা সত্ত্বেও কিহাক সাং ২০০৮ সাল থেকে একটি শিল্প কমপ্লেক্স নির্মাণ অব্যাহত রাখেন।

২০১১ সালে কেইপিজেড প্রথম কারখানা চালু করে।

'আমরা মাঝারি গভীরতার নলকূপের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেছি। কাফকোর তুলনায় আমাদের পানির ব্যবহার খুব বেশি নয়। কেইপিজেড এখানকার পানি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করে,' বলেন তিনি।

'পরবর্তীতে আমরা বৃষ্টির পানি সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নিই। একসাথে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ করেছি। এই জিনিস দারুণ কাজ করেছে। বৃহৎ জলাধার নির্মাণ করে আমরা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করছি। এর আগে বৃষ্টিতে নদী বা গ্রাম ভেসে যেত।'

কেইপিজেডের জলাধারে বছরে এখন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন গ্যালন পানি জমা হয়। এর ফলে গ্রামগুলো যেমন বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও মিলছে পানি।

শুরুর বছরগুলোয় এখানকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল অনিশ্চিত। কারখানা চালাতে কেইপিজেডে ডিজেলচালিত ১.৫ মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটা কয়েক বছর আগে আসে বলে উল্লেখ করেন কিহাক সাং।

'বাংলাদেশের মান অনুযায়ী বিদ্যুৎ এখন স্থিতিশীল। উইভিং ইউনিট আমাদের নতুন সোলার প্যানেল সিস্টেম ব্যবহার করছে,' বলেন তিনি। (ইপিজেডের এই ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্টটি বাংলাদেশের বৃহত্তম রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট। এছাড়াও আরেকটি ২০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট স্থাপিত হচ্ছে।)

'আমি চাই কেইপিজেড হবে বাস ও কাজ করার সবচেয়ে চমৎকার জায়গাগুলোর একটি। এর ভেতরে অনেক পাহাড় আর বন রয়েছে। উৎপাদনশীল শিল্পগুলোর পাশাপাশি জীবজন্তু ও প্রকৃতির সাহচর্যে কেইপিজেডকে আমি টিকিয়ে রাখতে চাই। শুরু থেকেই কেইপিজেডের ৫০ শতাংশ জায়গা গাছপালার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

'ইপিজেড বলেই যে সবকিছু কেবল ইট-পাথরের হবে, প্লট বিক্রির জায়গা হবে, ব্যবসা শেষে ইচ্ছেমতো তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যাওয়া যাবে, তা নয়। আমি এখান থেকে যেতে চাই না। কেইপিজেড ছেড়ে যেতে পারব না আমি। তাই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ও কাজের জন্য আমি একে শহুরে ধাঁচে গড়ে তুলেছি,' বলেন এ বর্ষীয়ান উদ্যোক্তা।

বার্ষিক ৩ বিলিয়ন ডলার টার্নওভারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ইয়াংওয়ান। ভবিষ্যতে এটি পর্তুগাল, তিউনিসিয়া ও মরক্কোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এ দেশগুলোতে (ইউরোপ-আমেরিকার) ক্রেতাদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে এ সুবিধা এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্বজুড়ে কুইক রেসপন্স ইউনিটের মাধ্যমে তারা তাদের উৎপাদন বাড়াতে বাড়াতে চান বলে জানান কিহাক।

ভ্রমণকারী, সংগ্রাহক, সংস্কারক

১৯৭৫ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন কিহাক সাং। তিন মেয়ের বাবা তিনি। দ্বিতীয় মেয়েকে তিনি নিজের উত্তরাধিকার করেছেন।

'ছোটবেলায় এক জ্যোতিষী আমার হাত দেখে বলেছিল আমি এক হাজারবারের বেশি ভ্রমণ করব,' বলেন কিহাক। জ্যোতিষীর সেই ভবিষ্যদ্বাণী তো অক্ষরে অক্ষরে ফলেছেই, বরং তার ভবিষ্যদ্বাণীকেও ছাড়িয়ে গেছে কিহাকের ভ্রমণসংখ্যা। কারণ বছরের অর্ধেক সময়ই তাকে ব্যবসার কাজে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়।

তবে ব্যবসার কাজে এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিতে ভোলেন না কিহাক। ছেলেবেলার বন্ধুবান্ধব, ভাই-বোনদের নিয়ে এখনো সিউলের বাসায় বা গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে আড্ডা জমে তার।

কিহাক বলেন, 'আমার বন্ধুরা ইতোমধ্যে দুবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। এ বছরও ওদের আসার কথা রয়েছে।

'যৌবনে আমি সাঁতার কাটতে পছন্দ করতাম, লম্বা দূরত্বের সাঁতার। এখন আর ওসব হয়ে ওঠে না। একবার সাঁতারের জন্য প্রথম পুরস্কারও পেয়েছিলাম,' স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

'এখন আমার শখ হচ্ছে ক্যামেরা সংগ্রহ করা। পুরোনো দিনের মেকানিক্যাল ক্যামেরা; ছোটগুলো। আমার সংগ্রহে বোধহয় ১০ হাজারের মতো ক্যামেরা আছে। অডিও ইকুইপমেন্টও সংগ্রহ করি আমি। সিউলের স্থানীয় দোকানগুলোতে থেকে কেনা হয় এগুলো,' জানান কিহাক।

সাম্প্রতিককালে ব্রন ডিটার র‍্যামস-এর কাছ থেকে ১০টি রেকর্ড প্লেয়ার কিনেছেন কিহাক। পাঁচটা ভালো ছিল, বাকি পাঁচটাকে অনেকটাই মাজাঘষা করতে হয়েছিল। জার্মান ডিজাইনার ডিটার র‍্যামসকে ডিজাইনারদের ডিজাইনার বলা হয়। তার কাজ থেকেই আইফোনের ডিজাইনের ধারণা নেওয়া হয়েছিল।

পুরনো স্থাপনা নিয়ে নাড়াচাড়া করাও কিহাকের পছন্দের কাজ। কেনার সময় কেইপিজেডে তার বাড়িটি বেশ পুরোনো ছিল, পরে সেটিকে নতুন করে সাজানো হয়।
১৮৩০ সালে কিহাকের দাদার তিন ঊর্ধ্বতন পুরুষ সিউলের গ্রামের বাড়িটি কিনেছিলেন। সেটিকে এখনো পরম যত্নে আগলে রেখেছেন কিহাক আর তার ভাইবোনেরা। সে বাড়ির পুরোনো স্থাপনা এখনও অক্ষত আছে। এটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অন্যতম প্রাচীন কোরিয়ান বাড়ি বলে জানান কিহাক।

নিজের জীবনের সাফল্যের রহস্য বলতে গিয়ে কিহাক বলেন, 'কাজ করুন, কাজ করুন, কাজ করুন এবং সহজে হাল ছাড়বেন না। মাঝে মাঝে আমরা অল্পতেই হাল ছেড়ে দিই। তবে একবার শুরু করলেই আপনি এর শেষটা দেখে নিতে চাইবেন। অন্যদেরকে ভালো কাজের জন্য কৃতিত্ব দেওয়াটাও ভীষণ জরুরি। যত সমস্যাই থাকুক, কাজের মধ্যে থাকতে হবে।'
বাংলাদেশি শিল্পের একজন পৃষ্ঠপোষক কিহাক সাং কেইপিজেডের অনেক ভবনে বিভিন্ন শিল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। 

এছাড়া তিনি সোনারগাঁওয়ের শতবর্ষী বড় সদর বাড়ি পুনঃপ্রতিষ্ঠার খরচও দিয়েছিলেন।

'ওই বাড়িটি আমি চিনতাম। বাড়িটা যখন দেখি, তখন মনে হলো কিছু একটা না করলে এই বাড়ি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। পুরোনো জিনিসের সংস্কার করা বরাবরই আমার শখ। এতে আনন্দ পাই। এরকম সংস্কারের কাজ আমি প্রায়ই করি, সেগুলো তখন দেখার মতো হয়,' বলেন কিহাক সাং।

টিবিএস বাংলা রিপোর্ট 
ইনাম আহমেদ & শাহরিয়ার খান

Youngone Corporation | ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন | ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড