Textile Lab | Textile Blog: Garments Wash
ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :




ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।

ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?



সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?


1. Label Shade :-

যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।

কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।


2. Eye Shade :-

এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।



কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?

এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে ।


Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-


ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন :-


1. 1st Wash Stage এ


সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।


2. 2nd Wash Stage এ


2nd washকরার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়।

সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।







Shade Approval কে বা কারা দেয় ?


বাংলাদেশে এখনো এক এক ফ্যাক্টরিতে বা Buying House এ একেক ধরনের নিয়ম প্রচলিত আছে। কোন কোন জায়গায় ওয়াস Approval মার্চেন্ডাইজার, আবার কোন কোন জায়গায় ওয়াস টেকনিশিয়ানরা অ্যাপ্রভাল দেয়। আবার কোন কোন ফ্যাক্টরিতে কিউসি ম্যানাজার অথবা জিএম রা দেয়। যে বা যারাই Wash Approval দেন না কেন, তাকে ওয়াশিং সম্পর্কে কিছুটা বেসিক ধারণা রাখতে হয়। যেমন,


A. ফেব্রিক এর ধরন ।


B.গার্মেন্টস লেডিস নাকি জেন্টস নাকি Kids ।


C.এটা কোন সিজনে ব্যবহার হবে ?


D.এটা কোন দেশে ব্যবহার হবে ? ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।


E. গার্মেন্টস এর Lab test গুলোকে কে প্রাধান্য দেয়া। ইত্যাদি।


একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, "যে জিনিস যে কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে সেই দৃষ্টিতে দেখা উচিত"। তেমনি পোশাককে পোশাকের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। ফ্যাশনেবল, আরামদায়ক, সুন্দর ফিটিং, দেখতে ভাল ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রেখে Wash Approval দিতে হয়। কেউ কেউ গার্মেন্টসের সেড নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাথা ঘামায়। সামান্য 19/20 টলারেন্স দিতে চায়না, তখন মাল Rewash করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর Rewash করে করে খুব ভালো রেজাল্টও কিন্তু পাওয়া যায় না।

একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, একজন ক্রেতা প্রথমে দেখে ডিজাইন অতঃপর দেখে ফিটিং তারপরে ওয়াশের ইমেজ বা Dry process গুলো। তারপর সে decision নেয় সে Blue jeans কিনবে নাকি Grey না-কি Black নাকি অন্য কিছু!!! সেডের ব্যাপারটা আসে তারপরে।

সবকিছু ছাপিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট এর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ল্যাবটেষ্ট গুলো। কারণ টেস্টে ফেল করলে কোন গার্মেন্টস শিপমেন্ট হবেনা । Re-Wash করে যদি গার্মেন্টসের Tearing Problem হয়ে যায় তবে সেডের বড় ধরনের সমস্যা না থাকলে সেডের জন্য Rewash না করাই ভালো। এইজন্য আগে Lab Test গুলো ওকে থাকতে হবে। তাই Lab Test কে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত।



লেখকঃ
রানা তালুকদার শ্রাবণ।
"Quality Assurance BD (QA) Page"

ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা | Shade Problem in Denim Wash

Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-
ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। 

1. 1st Wash Stage এ সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। 


2. 2nd Wash Stage এ 2nd wash করার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়। সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক।

লেখকঃ
হাসান কবির 
আরএন্ডডি এক্সিকিউটিভ 
ওয়েট প্রসেস 

Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি

বিভিন্ন ধরনের ওয়াশ
1.এনজাইম ওয়াশ:
যে ওয়াশিং পদ্ধতিতে এনজাইম ব্যবহার করা হয় তাকে এনজাইম ওয়াশ বলে। এই এনজাইম নিরপেক্ষ বা অ্যাসিড হতে পারে যা শেডের চাহিদার উপর নির্ভর করে। এই এনজাইম ওয়াশ পোশাকে বিভিন্ন ধরনের ঘর্ষণ ইফেক্ট উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ফলে, পোশাক দেখতে খুব সুন্দর হয়। এনজাইম ওয়াশের প্রধান লক্ষ্য কোনো নিট পোশাকের চেহারা পরিবর্তন করা।

2. স্টোন এনজাইম ওয়াশ বা ভারী এনজাইম ওয়াশ:
এই ওয়াশিং পদ্ধতিতে , এনজাইম এবং পাথর পোশাকে ভারী ঘর্ষণ ইফেক্ট উৎপাদনের জন্য একসাথে ব্যবহার করা হয়। এখানে, ওয়াশিং এর সময় পোশাকের ক্ষতি এড়াতে কিছু সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত। এই ক্ষতি এড়ানোর জন্য, খুব ছোট পাথর ব্যবহার করা হয়। এই ওয়াশিং এর প্রধান লক্ষ্য
নিট পোশাকের উপর ভারী ঘর্ষণের প্রভাব সৃষ্টি করা।

3. রাবার বল ওয়াশ:-
রাবার বল ওয়াশ একটি পোশাক ও সফটনার ওয়াশ ছাড়া আর কিছুই না। এই প্রক্রিয়া, পোশাকে একটি সময় ঘর্ষণের একটি স্তর আসবে এবং গার্মেন্টস আরো নরম হবে। যখন কোন নিট পোশাকে অধিক পরিমাণে হ্যান্ড-ফিলের পাশাপাশি ঘর্ষণের ইফেক্ট দরকার হয় তখন এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

4. হট ওয়াশ:
সাধারণত পোশাকে হট ওয়াশ ব্যবহার করা হয় পোশাকের সংকোচনজনিত সমস্যা দূর করার জন্য যা গার্মেন্টসের বিভিন্ন ট্রিটমেন্টের কারণে হয়ে থাকে। হট ওয়াশ কোন গার্মেন্টস তৈরী করার আগেই সম্পন্ন করা উচিত। এটা লক্ষনীয় যে, যখন একটি গার্মেন্টসে কোন ট্রিটমেন্ট করা থাকে যেমন- গার্মেন্টস ডাই, কোল্ড ডাই, p.p স্প্রে ইত্যাদি তবে, পোশাক প্রস্তুত করার পূর্বে পোশাকটিকে হট ওয়াশ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অন্যথায়, এটি পরিমাপের সময় সমস্যার সৃষ্টি হবে।

5. সফটনার সিলিকন ওয়াশ:
যখন কোন নিট পোশাকে হ্যান্ড-ফিল এবং অধিক কোমলতা প্রয়োজন হয় তখন এই ওয়াশিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ওয়াশের জন্য, সফটনার এবং সিলিকন উভয় একসাথে ব্যবহার করা হয় যেখানে সিলিকন সফটেনিং এর জন্য এবং সেলুলোজ সারফেস শ্লিপারের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই সফটনার ক্যাটাওনিক বা নন-আয়োনিক হতে পারে।
.
6. অ্যাসিড ওয়াশ:
এই ওয়াশের প্রধান লক্ষ্য পোশাকের উপর অমসৃণ চেহারা উৎপাদন। অ্যাসিড ওয়াশ পটাশ এবং পাথর দ্বারা সম্পন্ন করা হয়।
প্রথমে, স্টোনকে পটাশের সলুশনে ডুবাতে হবে তারপর সামান্য শুষ্ক পাথর এবং একটি ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে ওয়াশ করে ফেলতে হবে। সবশেষে আমরা গার্মেন্টসের একটি অমসৃণ লুক দেখতে পাব।

গার্মেন্টস ওয়াসের কিছু প্রকারভেদ | Garment Wash

বিভিন্ন ধরণের ওয়াশিং সম্পর্কে আলোচনা
জিন্স ছাড়া এখনকার সময়ের ফ্যাশন অসম্পুর্ন। নানা ধরণের ওয়াশিং প্রসেস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন লুকের জিন্স খুব সহজে সব ধরণের পোশাকের সাথে মানিয়ে যায়। জিন্সকে এখনকার ফ্যাশন আইকন বল্লে ভুল হবে না। বিশ্বাস করতে কঠিন লাগে একসময় জিন্স প্যান্ট ছিল শুধু খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের পোশাক। স্পিনিং পদ্ধতির ব্যাপক উন্নতি,ওয়াশিং ম্যাশিন এবং নান্দনিক ফিনিশিং সিস্টেম ডেনিম জিন্স কে এ যুগের ফ্যাশন আইকনে পরিণত করেছে । আজকে কথা বলব জিন্সের বিভিন্ন ধরণের ওয়াশিং সম্পর্কে ।

স্টোন ওয়াশ

ডেনিমের সবচেয়ে পরিচিত ওয়াশ স্টোন ওয়াশ । স্টোন ওয়াশ ফেব্রিককে পুরাতন চেহারা দান করে । স্টোন ওয়াশের জন্য হালকা ওজোনের পিউমিচ পাথর দরকার হয় । পাথর ফেব্রিকের উপড়ের অংশকে ঘষে তাতে রঙের বৈপরীত্য তৈরি করে, একই সঙ্গে স্মুথনেস বৃদ্ধি করে ।
পাথর দিয়ে ঘষার ফলে ফেব্রিকের উপরিতলের ফাইবার ভেঙে পরে এবং ভেতরের ওয়ার্প সূতার সাদা ফাইবার গুলো  সামনে ভেসে ওঠে । প্যান্টের বিভিন্ন অংশ পাথরের ঘর্ষন খেয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একটা আলাদা ধরণের অবয়ব পায় ।

ব্লিচ ওয়াশ

ব্লিচ ওয়াশ করতে কোন পাথরের প্রয়োজন পরে না। বাহক হিসেবে এখানে অক্সিডেটিভ ব্লিচিং এজেন্ট ব্যাবহার করা হয় । ব্লিচিং এজেন্ট যেমন ব্লিচিং পাউডার (সোডিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড) ব্যাবহার করা যেতে পারে ।

আরও অনেক এজেন্ট রয়েছে তার মধ্যে সোডিয়াম বাইকার্বনেট অন্যতম । সম্প্রতি ডেনিব্লিচ টেকনিক নামের নতুন একটি বায়ো ব্লিচিং টেকনিক  আবিষ্কৃত হয়েছে ।

এনজাইম ওয়াশ
জৈব অণুঘটক দিয়ে ওয়াস করার পদ্ধতিকে এনজাইম ওয়াস বলে । এনজাইম ওয়াস করলে ফেব্রিক অনেক বেশি মসৃণতা অর্জন করে । এনজাইম ওয়াশ অনেকটা পানি বিকর্শী বিক্রিয়ার মতই যা ঘটে এনজাইমের সাহায্যে এবং এটি ফেব্রিকের উপরিতলের স্মুথনেস ও সফটনেস বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে ।

আইস বা স্নো ওয়াশ

ফেব্রিক কে পাথরের সাথে ভিজিয়ে রেখে পরে তাকে ব্লিচিং এজন্টের সাহায্যে শুষ্ক করার মধ্য দিয়ে স্নো বা আইচ ওয়াসিং সম্পন্ন হয় । এ ওয়াশ স্নো প্যাটার্নের মতই প্রভাব নিয়ে আসে ডেনিম ফেব্রিকের উপড় ।

স্টোন ওয়াসিং এর মত এখানে পাথর ব্যাবহার করা হলেও, রং চটা স্ট্রাইপ তৈরির জন্য ফেব্রিকের গাঁয়ে রসায়নকে অসমভাবে জমা করাই এখানে পাথর ব্যাবহারের উদ্দেশ্য । রসায়নগুলো ফেব্রিকের উপড় থেকে শুধু রং গুলোকে উঠিয়ে ফেলে এবং তুষার কনা জমে গেলে যেমন লাগে ফেব্রিক ঠিক তেমনই চিত্র ধারণ করে । একে এসিড ওয়াসও বলা হয়ে থাকে।

স্যান্ড ব্লাস্টিং ওয়াশ
এ পদ্ধতিতে এলুমিনিয়াম অক্সাইড গ্রানুলাস কে দ্রুতগতিতে ফেব্রিকের উপড়ে ব্লাস্ট করা হয় । এলুমিনিয়াম অক্সাইড গ্রানুলাস একটি বালি জাতীয় পদার্থ । এতে যে ঘর্ষন বল উৎপন্ন হয় তা ফেব্রিকের ভেতরের ইন্ডিগো দিয়ে ডাই করা ফাইবার গুলোর রংকে মুছে ফেলে ।

আটারি ওয়াশ
জাপানী শব্দ আটারি বলতে বোঝায় প্যান্টের বিভিন্ন কুঁচকানো অংশের ঢালে ঢালে রং ফেড করা। আটারি করা হয় এমন অংশের মধ্যে রয়েছে সিম লাইনের দু পাশ, হাটুর সামনে ও পেছনে, বেল্ট লুপে , পকেটের সিম লাইনে ইত্যাদি।

রিভার ওয়াশ
পিউমিচ স্টোন ও সেলুলোজ এনজাইমের সমন্বয়ে যে ওয়াশিং ডেনিমকে বহুবছরের পুরাতন চেহারা দান করে তাকেই রিভার ওয়াশিং বলে। রিভার ওয়াশিং এর জন্য ওয়াসারকে প্রথমে পাথর ও ফেব্রিকের পুর্ন করা হয় এবং পরে তাতে এনজাইম দেয়া হয় । এরপর শুকানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় যতক্ষণ না তা প্রাকৃতিক পুরাতন লুক লাভ করে ।

লেখাঃ 
Md Mizanur Rahman

বিভিন্ন ধরণের গার্মেন্টস ওয়াশিং সম্পর্কে আলোচনা | Garment Wash

ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :
ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।
ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?

সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?

1. Lable Shade :- 
যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং  করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।

কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।

2. Eye Shade :-  
এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?

 এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে।



ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা | Shade Problem in Denim Wash

ডেনিম ওয়াশিং এ Enzyme এবং Anti-Back  Staining Agent  নিয়ে কিছু কথা 
Enzyme : 
Enzyme Cellulose কে কিছুটা hydrolyze করে। এবং  Fabric surface থেকে Color remove করতে শুরু করে। সেই সাথে Weft এর Abrasion effect বাড়িয়ে দেয়। শুরুতেই Fabric এর খুব গভীর থেকে  Color কাটা সাধারণত Enzyme এর কাজ নয়। এখন আমাদের মার্কেটে বেশ কিছু Enzyme রয়েছে যেগুলো খুব দ্রুত  color কেটে Abrasion Effect বাড়িয়ে দেয়।  এগুলো Enzyme এর কারনে Fabric এর Tearing এর সমস্যা হয় এবং Strength কমে যায় । এগুলো মার্কেটে সাধারণত Aggressive Enzyme নামে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে কিছুটা Bleaching property থাকে। আমার বেশ কিছু পরিচিত ফ্যক্টরী আছে যেগুলো ২০-২৫ মিনিটের বেশি Enzyme করতে ভয় পায়। ঐ!!  

Tearing Problem. Cellulose Base Enzyme গুলো সাধারণত ২০-২৫ মিনিট পর কাজ করতে শুরু করে। এগুলো ৬০ মিনিট পর্যন্ত Run করলেও Fabric এর কোনো সমস্যা হয়না। অনেকটাই পরীক্ষীত এবং Certified.Cellulose Enzyme colour কম কাটে। Aggressive Enzyme এর সাথে Back Staining সসমানুপাতিক। মানে এখানে Back Staining  এর প্রবনতা এবং পরিমান বেশি। Dark surface এর মধ্যে পরিস্কার যে Abrasion Effect দেখা যায় সেটাকে Contrast look বলে। এটা একটা Clean grey type look  show করে। ঠিক এটাই Cellulose base Enzyme দিয়ে থাকে যা Basically Enzyme এর কাজ।



Anti-Back Staining Agent :

Enzyme Cellulose কে hydrolyze করার করনে Washing এর সময় Denim থেকে Indigo Dyes মুক্ত হয়ে bath এ চলে আসে। Long time এই bath run করার কারনে কিছু Dyes Cellulose এবং Polyester part এর সাথে অস্থায়ী bond গঠন করে। এই Process কেই back stain বলে। এই Back Staining reduce করার জন্য যেই Chemicals ব্যবহার করা হয় তাকেই Anti-Back Staining Agent বলা হয়। Aggressive Enzyme ব্যবহার করার কারনে এই সমস্যা বেশি হয়। Anti-Back Staining Agent এর একটা সুক্ষ ক্যলকুলেশন আছে। 

মনেকরেন আপনি চিনির শরবত তৈরি করতে চাচ্ছেন। চিনি পুরোপুরি পানিতে গুলে যায় সেটা আমরা সকলেই জানি। আপনি ৫০০ মিলি পানিতে কিছুটা চিনি যোগ করলে দেখবেন তা সুন্দর ভাবে গুলে গেছে। কিন্তু যদি আপনি যোগ করতেই থাকেন!! একটা সময় পর দেখবেন চিনি আর গুলছে না। তলানি হয়ে পড়ে আছে। এর কারন হচ্ছে, প্রত্যেক টা দ্রাবক অনুর একটা Saturated level আছে। সেটা অতিক্রম করে গেলে Solution টা Perfect Clear হয়না। 

এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, Enzyme এ যতো বেশি color কাটবে Back Stain এর সমস্যা ততো বাড়বে।


Writer : Md. Enamul Haque Sajib 

References : 
1. Pure Chemicals Technical Team (Agent of SOKO, Italy) 

2. Google

ডেনিম ওয়াশিংয়ে Enzyme এবং Anti-Back Staining Agent নিয়ে কিছু কথা

Route cause of lycra breakage.
ল্যাকড়া

ল্যাকড়া কি?? এটি আসলে একটি সিনথেটিক বা ম্যানমেইড ফাইবার যা টেক্সটাইল র'ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আমেরিকার বিখ্যাত টেক্সটাইল কেমিস্ট জোসেফ শিভার্স ১৯৫০ সালে এই ফাইবারটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যার নাম দেওয়া হয় পলিইথার পলিইউরিয়া কপোলিমার (HO[-(CH2)mO-]n-(CH2)m-OH).
যেটাকে আমরা ল্যাকড়া নামে চিনি।জাতিগত এবং ভৌত অবস্থার ভিত্তিতে এর নাম স্পানডেক্সও রাখা হয়।
আধুনিকায়ন এবং যশ খ্যাতি বাড়ানোর জন্য বর্তমানে এটির ব্রান্ড নাম দেওয়া হয় ইলাস্টেন।


ল্যাকড়া নিটিং প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যেমনটি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড (H2O2) ভেজা করন প্রক্রিয়ায় আষ্টেপৃষ্ট ভাবে জড়িয়ে রয়।

অনেক ক্ষেত্রে উইভিং প্রক্রিয়ায়ও এই ল্যাকড়া আনুপাতিক হারে ব্যবহার করা হয়।
এবার শিরোনাম প্রসঙ্গে আসি.

বর্তমান সময়ে  বুনন প্রক্রিয়ায় ডেনিম ফ্যাব্রিকে ল্যাকড়া ব্যবহারের প্রচলনটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারন এর ইলাস্টিসিটি আমাদেরকে একটা কম্ফোর্ট ফিলিংস দেয় এবং খুব সহজেই পরিচর্যা করা যায়।
এই ল্যাকড়া যদি কোনভাবে ছিঁড়ে যায় কিংবা কেটে যায় তাহলে ফ্যাব্রিকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং ফ্যাব্রিকে তরঙ্গভাব চলে আসে যা আমাদের কম্ফোর্ট ফিলিংসটা বিনষ্ট করে দেয় এবং ফ্যাব্রিকের বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে।



এখন কথা হচ্ছে এই ল্যাকড়া ঠিক কি কারনে ভেঙ্গে কিংবা ছিঁড়ে যায় ?

ল্যাকড়া ব্রেকেজের অনেকগুলো কারন আছে তারমধ্যে আমি উল্লেখযোগ্য মূখ্য কিছু কারন গুলো তুলে ধরলাম-

১. ভুল ডিজাইন ( ফেব্রিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন যেমন টুইল, ট্যাপেড, উলম্ব, জিগজ্যাগ, শেডিং, ডায়মন্ড ইত্যাদি ) এবং মিস উইভের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।এছাড়াও উইভিং মেশিন বা নিটিং মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।

২.  ওয়েট এবং ড্রাই প্রসেস স্টেজে রেসিপি অনুযায়ী কেমিক্যালের সামঞ্জস্যতা না থাকা।

৩. ডিসাইজিং প্রসেসে অতিরিক্ত কস্টিক সোডা(সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড - NaOH) এবং সোডা এ্যাশ ( সোডিয়াম কার্বোনেট - Na2CO3 ) ব্যবহার করা।

৪. ড্রাইং মেশিন,ওয়াশিং মেশিন ও ডাই বাথ এর সময় এবং তাপমাত্রার সামঞ্জস্যতা না রাখা।

৫. ওয়েট প্রসেসিং স্টেজে এন্টি স্লিপিং এজেন্ট বা ল্যাকড়া প্রটেক্টর কেমিক্যাল ব্যবহার না করা।

৬. ফেব্রিক সেলাই করার সময় ভোঁতা নিডেল এবং এবং মোটা নিডেল ব্যবহার করা।

৭. সেলাই করার সময় কাপড়ের উভয় পড়তার সামঞ্জস্যতা না রাখা।

৮. রোটেশন পার মিনিট (RPM) অর্থাৎ সুইং মিশেনের অতিরিক্ত গতির কারনেও ল্যাকড়া বেক হতে পারে।

৯.  সুইং মেশিনের সুতার অতিরিক্ত টানভাবের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।

১০.  সুই মেশিনের প্রেশার বিট টাইট থাকার কারনে ল্যাকড়া ব্রেকেজ হতে পারে।

১১.  অতিরিক্ত সেলাইয়ের ঘনত্বের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে (বিশেষ করে বারট্যাক এরিয়াতে)।


ধন্যবাদ সবাইকে
মোঃ হাসান 
জিপিকিউ টেসকো
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড।

ল্যাকড়া ডেমেজের কারন | Route cause of lycra breakage.

ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :
ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।

ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?

সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?


1. Lable Shade :- 

যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং  করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।

কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।


2. Eye Shade :-  

এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?

 এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে ।

Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-
ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।  যেমন :- 

1. 1st Wash Stage এ
সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

2. 2nd Wash Stage এ 
2nd washকরার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়।

সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।


Shade Approval কে বা কারা দেয় ? 

বাংলাদেশে এখনো এক এক ফ্যাক্টরিতে বা  Buying House এ একেক ধরনের নিয়ম প্রচলিত আছে। কোন কোন জায়গায় ওয়াস Approval মার্চেন্ডাইজার, আবার কোন কোন জায়গায় ওয়াস টেকনিশিয়ানরা অ্যাপ্রভাল দেয়। আবার কোন কোন ফ্যাক্টরিতে কিউসি ম্যানাজার অথবা জিএম রা দদেয়। যে বা যারাই Wash Approval দেন না কেন, তাকে ওয়াশিং সম্পর্কে কিছুটা বেসিক ধারণা রাখতে হয়। যেমন, 

A. ফেব্রিক এর ধরন ।

B.গার্মেন্টস লেডিস নাকি জেন্টস নাকি Kids ।

C.এটা কোন সিজনে ব্যবহার হবে ?

D.এটা কোন দেশে ব্যবহার হবে ?  ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।

E. গার্মেন্টস এর Lab test গুলোকে কে প্রাধান্য দেয়া। ইত্যাদি।


একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, "যে জিনিস যে কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে সেই দৃষ্টিতে দেখা উচিত"। তেমনি পোশাককে পোশাকের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। ফ্যাশনেবল, আরামদায়ক, সুন্দর ফিটিং, দেখতে ভাল ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রেখে Wash Approval দিতে হয়। কেউ কেউ গার্মেন্টসের সেড নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাথা ঘামায়। সামান্য 19/20 টলারেন্স দিতে চায়না, তখন মাল Rewash করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর Rewash করে করে খুব ভালো রেজাল্টও কিন্তু পাওয়া যায় না।

একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, একজন ক্রেতা প্রথমে দেখে ডিজাইন অতঃপর দেখে ফিটিং তারপরে ওয়াশের ইমেজ বা Dry process গুলো। তারপর সে decision নেয় সে Blue jeans কিনবে নাকি Grey না-কি Black নাকি অন্য কিছু!!! সেডের ব্যাপারটা আসে তারপরে।

সবকিছু ছাপিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট এর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ল্যাবটেষ্ট গুলো। কারণ টেস্টে ফেল করলে কোন গার্মেন্টস শিপমেন্ট হবেনা । Re-Wash করে যদি গার্মেন্টসের Tearing Problem হয়ে যায় তবে সেডের বড় ধরনের সমস্যা না থাকলে সেডের জন্য Rewash না করাই ভালো। এইজন্য আগে Lab Test গুলো ওকে থাকতে হবে। তাই Lab Test কে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত।

লেখকঃ 
রানা তালুকদার শ্রাবণ।
"Quality Assurance BD (QA) Page"

ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash

ফেব্রিক কেয়ার গাইডলাইন যা আপনাদের জানা উচিৎ | ওয়াসিং - ক্লিনিং- ড্রাইং - আয়রনিং 
জামাকাপড় ইস্ত্রি না করে কি পরা যায়! ইস্ত্রি না করলে জামাকাপড়ের সৌন্দর্যটাই যেন নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তাই বলে কি সব সময় জামাকাপড় ইস্ত্রি করানোর জন্য দোকানে বা লন্ড্রিতে পাঠাবেন ? 

বাড়িতে ইস্ত্রি করতে অবশ্য অনেকেই ভয় পান। পাছে জামাকাপড় পুড়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়— সেই কারণে। জেনে নিন কোন ধরনের কাপড় কত তাপমাত্রায় ইস্ত্রি করতে হয় আর প্রয়োজন মতো বাড়িতেই জামাকাপড় আয়রন করে নিন.

১) সুতির কাপড়: ইস্ত্রি না করলে সুতির জামাকাপড় পরাই যায় না। সুন্দর ভাবে ইস্ত্রি করতে চাইলে তাপমাত্রা রাখুন ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তার পর সমান ভাবে ইস্ত্রি করে নিন।

২) পলিয়েস্টার কাপড়: ইস্ত্রির তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে পলিয়েস্টার কাপড়ের পোশাক। তাই খেয়াল রাখুন।

৩) সিল্ক: সিল্কের জামাকাপড় মানেই সেটি খুব হালকা, সূক্ষ এবং কোমল। তাই ইস্ত্রিও করতে হবে খুব যত্নে, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। খেয়াল রাখবেন, সিল্কের জামাকাপড় ইস্ত্রি করার সময় তাপমাত্রা যেন কোনও ভাবেই ৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হয়।

৪) লিনেনের কাপড়: এই ধরনের ফেব্রিক সবচেয়ে বেশি কুঁচকে যায়। তাই ৪৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ইস্ত্রি করতে হবে লিনেনের জামাকাপড়।

৫) সিফন জর্জেট: এই ফেব্রিক খুবই মিহি হয়। ইস্ত্রি না করলেও চলে। তবে যদি ইস্ত্রি করতেই হয় সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন তাপমাত্রা যেন ২৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হয়।

৬) লাইক্রা: এই ধরনের ফেব্রিক ইস্ত্রি না করাই ভাল। তবে যদি ইস্ত্রি করতেই হয় সে ক্ষেত্রে তাপমাত্রা যেন কোনও ভাবে ২৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হয়।

৭) রেয়ন: সুতি বা লিনেনের থেকেও কিছুটা পাতলা হয় এই ফেব্রিক। এবং অল্পতেই কুঁচকে যায় এর তৈরি জামাকাপড়। এই ফেব্রিকে তৈরি জামাকাপড় ইস্ত্রি করার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৩৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে রাখুন।

৮) উল: উলের পোশাক ইস্ত্রির সময় তাপমাত্রা ঠিকঠাক না থাকলে সেটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই উলের পোশাক ইস্ত্রির সময় তাপমাত্রা যেন কোনও ভাবেই ৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হয়।


✅  শখের কাপড়ের রং হয়ে যায় নষ্ট? উপায়গুলো জেনে নিলে, আর হবে না কষ্ট।

কে না চায় প্রিয় কাপড়টা উজ্জ্বল থাকুক বহুবছর ধরে? সবাই চাই। আর তাইতো নিতে হবে এর যত্ন। কিন্তু কীভাবে?

ক্লোথিং কেয়ারঃ
প্রায় সময় দেখা যায় আমাদের অনেক পছন্দের কাপড়গুলোর রঙ কেমন যেন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা হতে পারে বিভিন্ন কারণে। এই সমস্যার সমাধান কি হতে পারে? চলুন জেনে নেই।

যা যা মেনে চলতে হবেঃ

১. পরতে হবে প্রায়ইঃ

অনেকেই প্রিয় কাপড়ের রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে তুলে রেখে দেন। তবে এতে কাপড়ের রং হারানোর সম্ভাবনা আরো বেশি থাকে। নিয়মিত ব্যবহার করলে এবং ধুয়ে রাখলে তা দীর্ঘদিন উজ্জ্বল থাকে। তবে কাপড় অপ্রয়োজনে পরিষ্কার করা একদমই উচিত নয়।

২. ধোয়ার সময়ঃ

শখের কাপড়টির রং ঠিক রাখতে, তা ধোয়ার সময় বাইরের দিক ভিতরে রেখে ধুতে হবে। এতে করে কাপড়ের রং দীর্ঘদিন উজ্জ্বল থাকে। আর কাপড় শুকাতে দেওয়ার সময়ও উলটে দিতে হবে। নতুন সুতি কাপড় ধোয়ার সময় অল্প লবণ পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। কাপড়ে ভিনেগার ব্যবহার করলে, কাপড় কম অনুজ্জ্বল হয়। বেকিং সোডাও কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে থাকে। কাপড় ধোয়ার সময় অবশ্যই কাপড়ের লেবেলে থাকা ধোয়ার নির্দেশনা পড়ে নিতে হবে।

৩. ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় পরিষ্কারঃ

অতিরিক্ত গরম পানিতে কাপড়ের রঙের স্থায়িত্ব নষ্ট হতে পারে। তাই কাপড় নরমাল টেম্পারেচারের পানিতে ধোয়া ভালো। কাপড় ধোয়ার পরে পরিমাণমতো নীলের ব্যবহার কাপড়ের রং টিকে থাকতে সাহায্য করে। তবে তা ব্যবহার করতে হবে একদম কাপড় ধোয়ার শেষ পর্যায়ে।

৪. কাপড় শুকানোঃ

কাপড় বেশি ড্রাই করলে রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাপড় বেশি মচমচে করতে গেলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এতে করে কাপড়ের সুতার ময়েশ্চার নষ্ট হয়ে যায়। কাপড় খুব চিপলেও রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৫. অন্য কাপড়ের সঙ্গে না ধোয়াঃ

বিভিন্ন রঙের কাপড় একসাথে ধুবেন না। কারণ, কাপড়ের রং উঠে অন্য কাপড়ে লাগতে পারে। সাদা কাপড় কখনোই রঙিন কাপড়ের সাথে ধুতে নেই।

এই পদ্ধতিগুলো মেনে চললেই কাপড়ের রং দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।

কাপড়ে দাগ লেগে গেলে তা ভীষণ বিশ্রী দেখায়। কীভাবে দাগ তোলা যাবে, দাগ ঠিক মতো যাবে তো?

কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে কিনা… তাই নিয়ে গৃহিনীর দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। আজকে সঠিক ভাবে কাপড়ের দাগ তোলার জন্য কয়েকটি সহজ ও কার্যকরী টিপস দেয়া হলো –

(১) আমরা চাই বা না চাই, চা-কফির দাগ কাপড়ে পড়বেই। তুলোয় ভিনেগার কিংবা খাবার সোডা নিয়ে একটু ঘষুন, দাগ উঠে যাবে।

(২) কাপড়ে তরকারির হলুদ দাগ লাগলে দাগের জায়গায় ভিনেগার লাগিয়ে রেখে দিন দশ মিনিট। তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন।

(৩) কাপড়ে মোম লেগে গেলে প্রথমে চামচ বা ভোঁতা ছুরি দিয়ে সাবধানে চেঁছে ফেলুন। তারপর দাগের ওপরে ও নিচে ব্রাউন পেপার রেখে গরম ইস্ত্রি ঘষে নিন। দাগ উঠে যাবে।

(৪) শাড়ি বা জামায় অনেক সময় তেল লেগে বিশ্রী দেখায়। ভালো ভাবে পরিচ্ছন্ন না করে তুলে রাখলে তা পোকায় কাটার সম্ভাবনা থাকে। তাই তেল তুলতে প্রথমেই তেলের জায়গায় পুরু করে ট্যালকম পাউডার লাগান। দশ মিনিট পর ঝেড়ে ফেলুন। এভাবে আরও একবার করুন। এবার নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তাতে সাবান বা ডিটারজেন্ট লাগিয়ে হালকা ভাবে সেই জায়গায় ঘষুন। পরে সাবধানে পরিষ্কার ভেজা কাপড় বা পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। পানি ঝরিয়ে, অল্প সময় রোদে রেখে পরে আয়রন করে নিন।

(৫) কাপড়ে লিপস্টিকের দাগ লাগলে জায়গাটা স্পিরিটে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে দাগ গায়েব হয়ে যাবে।

(৬) জামায় বা শার্টে বল পেনের কালি লাগলে প্রথমে স্পিরিট দিয়ে ও পরে পেট্রল দিয়ে হালকা ভাবে স্পঞ্জ করলে দাগ চলে যাবে।

(৭) সুতি বা সিল্কের কাপড়ে কালির দাগ লাগলে সামান্য ডিটারজেন্ট, ভিনেগার ও গরম পানির মিশ্রণ তৈরি করে দাগ লাগা অংশটি কয়েক ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর ঈষদুষ্ণ পানি আর সাবান দিয়ে ধুলে দাগ চলে যাবে।

(৮) অনেক সময় কাপড়ে মরিচার দাগ লেগে যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে লেবুর রস দিয়ে জায়গাটায় ঘষুন, দেখবেন দাগ অনেক খানি চলে গেছে। এবার সেখানে কিছুটা খাবার সোডা বা লবণ ছড়িয়ে রোদে মেলে দিন। কিছুক্ষণ পরে সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে ধুলে দাগ চলে যাবে।

(৯) কাপড় থেকে ভেজা কাদার দাগ দূর করতে সেদ্ধ আলুর খোসা ঘষুন। দেখবেন দাগ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

(১০) আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে কাপড়ে ঘামের দাগ অনিবার্য। এই দাগ তুলতে পানির মধ্যে দু-তিনটা ব্যথানাশক ট্যাবলেট গুলে নিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন। দাগ থাকবে না।

(১১) কাপড়ে চিউইংগাম লেগে গেলে প্রথমেই কাপড় একটি পলিথিনে মুড়ে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। একটু পরে কাপড় বের করে সাবধানে ভোঁতা ছুরির ডগা দিয়ে চিউইংগাম তুলে ফেলুন। তারপর সেই জায়গাটির উপরে-নিচে ব্রাউন পেপার রেখে আয়রন করে নিন।

(১২) ছবি আকাঁর সময় বাচ্চাদের কাপড়ে রঙ এর দাগ লাগতেই পারে। একটি পুরোনো টুথব্রাশ ফিনাইলে ডুবিয়ে দাগ লাগা জায়গায় ঘষুন। দাগ মুহুর্তেই গায়েব হয়ে যাবে।

(১৩) হাতে মেহেদি লাগাবার সময় জামা কাপড়ে লেগে যেতে পারে। জায়গাটি গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন কিছু সময়। পরে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগ উঠে যাবে।

(১৪) কাপড় থেকে আলকাতরার দাগ তুলতে দাগের জায়গায় খানিকটা কেরোসিন ঘষে ঘষে লাগান। পরে শুকিয়ে গেলে সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। সময়ের সাথে কেরোসিনের গন্ধ চলে যাবে।

(১৫) শার্ট ধোয়ার সময় কলার ও কাফ পানিতে ভিজিয়ে তার উপরে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু ছড়িয়ে নিন। তারপর ঘষে ধুয়ে ফেলুন। তেল চিটচিটে ময়লা ও দাগ চলে যাবে।

যেভাবে সুতি কাপড়ের যত্ন নিলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে

আরামদায়ক পোশাক পরতে হলে সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই। কারণ সুতি হলো প্রাকৃতিক ফেব্রিক। তুলা থেকে তৈরি হয় সুতা। এরপর ওই সুতা থেকে তৈরি হয় সুতির পোশাক। তাই এই ফেব্রিকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

সুতি কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে ভাঁজ করা পর্যন্ত নিয়ম মানা জরুরি। না হলে কাপড়ের আয়ু কমে যায়। এটির বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক সুতি কাপড়ের যত্ন নেবেন কীভাবে?

সুতি কাপড় ধোয়ার উপায়ঃ

১.  সুতি কাপড়ের ফেব্রিক খুব সহজেই ছিঁড়ে যায়। তাই ঘঁষে ঘঁষে সুতির পোশাক না ধোয়াই ভালো।

২.  প্রচণ্ড গরম পানিতেও কখনো ভেজাবেন না সুতির পোশাক। এতে পোশাকের রং নষ্ট হয়ে যাবে।

৩.  একটি সুতি কাপড় পরিধান করার একমাস পর ধোবেন না। পরার পরপরই ধুয়ে শুকিয়ে ভালোভাবে রেখে দিন।

৪. যদি একবার পরেই কাচতে না চান, তবে তাকে রোদে দিতে হবে অবশ্যই। অন্তত এক ঘণ্টা রোদে দেবেন।

৫. যদি সুতির পোশাকে কোনো দাগ হয়ে যায়, তবে আগে তা আলাদা করে তুলে নিন। তারপর সম্পূর্ণ জামাটি পরিষ্কার করুন।

৬.  সুতির পোশাকে আপনি মাড় দিতেই পারেন। তবে মাড় দেওয়ার পরই পানি ঝরিয়ে নিন।

শুকানোর সময় যা করবেনঃ

১. খুব টানটান করে সুতির পোশাক মেলবেন না।

২. পানি ঝরিয়ে নিয়ে সুতির পোশাক মেলুন।

৩. চড়া রোদে সুতির পোশাক দেবেন না। হালকা রোদে বা ছায়ায় সুতির পোশাক মেলবেন।

ইস্ত্রি করার সময় করণীয়ঃ

১. প্রথমে পোশাক উল্টে নিয়ে ইস্ত্রি করে তারপর সোজা পিঠে করুন।

আলমারিতে রাখার সময় করণীয়ঃ

১.  পরিধান করার পর ভালোভাবে রোদে না শুকিয়ে বা ধুয়ে সুতির পোশাক কখনো ভাঁজ করে আলমারিতে রাখবেন না।

২. সুতির কাপড় আলমারিতে রাখার পর ওই স্থানে কিছু কালোজিরা দিয়ে রাখবেন। এতে পোশাক ভালো থাকবে। পোকা-মাকড় কাপড়ের ধারে-কাছে আসবে না।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কলম-কালির ব্যবহারের শেষ নাই। কিন্তু এমনও সময় আসে এই কলম বা কালির জন্য সারাদিনের জন্য মন খারাপ হয়ে যায়। কালি হচ্ছে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যেটা ছাড়া আমরা কোনও কিছু লিখতে অক্ষম। তাই, কালি ব্যবহার করা ছেড়ে দেওয়াও যায় না। আর, কালির ব্যবহারে জামাকাপড়ে নিজের অজান্তে দাগ লেগে যেতেই পারে। জামায় কালির দাগ দেখে বিরক্ত হওয়ার পাশাপাশি আমরা চিন্তায় পড়ে যাই এটা ভেবে যে, দাগ উঠবে কীভাবে? জামাকাপড় থেকে কালির দাগ তোলা বেশ ঝক্কির কাজ। কিন্তু, এখন আর আপনার চিন্তা করার দরকার নেই, কারণ আমরা এমন কয়েকটি উপায় নিয়ে এসেছি যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার জামাকাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে পারেন।

চলুন জেনে নিই দাগ তোলার সহজ পদ্ধতিগুলো-

১. লবণঃ

জামাকাপড় থেকে কালির দাগ অপসারণের সবচেয়ে সাধারণ এবং সহজ উপায় হলো দাগের জায়গাটি ভিজিয়ে তার উপর অল্প পরিমাণে লবণ দিয়ে দেওয়া। লবণটি লাগান এবং তারপরে একটি ভেজা পেপার টাওয়েল দিয়ে আলতো করে দাগের ওপর তা লেপন করুন। আপনি এই পদ্ধতিটির পুনরাবৃত্তি করতে পারেন যতক্ষণ না পর্যন্ত দাগটি ভালভাবে উঠছে।

২. নেলপলিশ রিমুভারঃ

নেলপলিশ তোলার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত যে রিমুভার ব্যবহার করা হয় সেই রিমুভার ব্যবহার করে আপনি কালির দাগ তুলতে পারবেন। অল্প তুলো রিমুভারে ভিজিয়ে তা কালির স্পটে লাগাতে হবে। আপনি এই পদ্ধতিটির পুনরাবৃত্তি করতে পারেন যতক্ষণ না পর্যন্ত দাগটি ভালভাবে উঠছে। দাগ উঠে যাওয়ার পরে কাপড়টি ধুয়ে ফেলতে পারেন।

৩. ভুট্টার পেস্টঃ

ভুট্টার পেস্টও কালির দাগ অপসারণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। অল্প পরিমাণ দুধ এবং ভুট্টা বেটে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন এবং পেস্টটি কাপড়ে লাগা কালির দাগের উপর প্রয়োগ করুন। এরপর পেস্টটি ভালোভাবে কাপড়ের ওপর বসতে দিন এবং শুকনো হতে দিন। পেস্টটি শুকিয়ে যাওয়ার পরে, আপনি দাগ থেকে পেস্টটি তুলে ফেলতে পারেন।

৪. হেয়ার স্প্রেঃ

কাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে আপনি হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, কালির দাগের ওপর হেয়ার স্প্রে লাগান এবং স্পটটি না ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৫. ভিনেগারঃ

জামাকাপড় থেকে কালির দাগ অপসারণে ভিনেগার অন্যতম উপায়। ২ চামচ ভিনেগারের সাথে ৩ চামচ ভুট্টা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। যেই জায়গায় কালি লেগেছে সেখানে ভিনেগার লাগান। স্পটটি ভালভাবে ভিজে যাওয়ার পরে তার উপর পেস্টটি লাগিয়ে তা শুকিয়ে নিন। কাপড় থেকে দাগ উঠে গেলে, কাপড়টি ধুয়ে ফেলুন।

৬. টুথপেস্টঃ

এটি সম্ভবত প্রতিটি ফ্যাব্রিক এবং সব ধরনের কালির ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে। তবুও, আপনি আপনার পোশাক থেকে কালির দাগ অপসারণ করতে অল্প পরিমাণে নন-জেল টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। স্পটটিতে অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট লাগান এবং কাপড়টি ঘষুন। যদি দাগ উঠতে শুরু করে তাহলে আপনি এটির পুনরাবৃত্তি করতে পারেন পুরোপুরি দাগ না ওঠা পর্যন্ত।

৭. লেবুর রসঃ

বেশি পরিমাণে লেবুর রস দিয়েও দাগ দূর করা যায়। এক্ষেত্রে দাগের স্থানে লেবুর রস দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঘসে দাগ তুলে ফেলুন। এরকম কয়েকবার করতে পারেন।
✅  আপনি সঠিক উপায়ে কাপড় আয়রন করছেন তো? 

আসুন জেনে নিই সঠিকভাবে কাপড় আয়রন করার কয়েকটি টিপস:

১. তাপমাত্রা অনুযায়ী পোশাকের তালিকা তৈরি করুন। সিল্ক এবং সিনথেটিক কাপড় নিম্ন ও মাঝারি তাপমাত্রায় (প্রায় ৩৫০ ফারেনহাইট)। এবং সুতি কাপড় উচ্চ তাপমাত্রা ৪০০ থেকে ৪২৫ ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ইস্ত্রি করুন।

যেহেতু সঠিক তাপমাত্রা ঠিক করা কঠিন কাজ। তাই তাপমাত্রা পরিবর্তন করার পর কয়েক মিনিটের জন্য আয়রন মেশিনটি রেখে দিন।

২. আয়রন করার পর পরই কাপড় ভাঁজ করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন।

৩. গোল করে কখনোই আয়রন করবেন না। এতে কাপড়ের মধ্যে টান লাগতে পারে। আর লম্বালম্বিভাবে আয়রন করলে কাপড়ের ভাঁজ দূর করে।

৪. অনেক বড় বা লম্বা কোন কাপড় যেমন: পর্দা বা টেবিলকভার আয়রন করার সময় পাশে ২টি চেয়ার বসিয়ে নিন, যাতে কাপড়গুলোতে আপনার আয়রন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাঁজ না পরে। টেবিলে তোয়ালে বিছিয়ে নিন যাতে ইস্ত্রির গরমে আয়রন করার টেবিলটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

৫. আয়রন সংবেদনশীল কাপড়ের উপরে পরিষ্কার ছোট সুতির কাপড়, রুমাল বা গামছা দিয়ে আয়রন করুন। আয়রন সব সময় কাপড়ের উল্টো পাশে করুন যাতে কাপড় ঝলসে না যায়।

৬ . আপনার লোহার আয়রনের সঙ্গে একটা মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া ১২ মাত্রার বিদ্যুত্প্রবাহের বৈদ্যুতিক তার হলে ভাল হয়। কম ওজনের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার না করাই ভাল। এতে আয়রন খুব গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। নিশ্চিত হোন যে আপনি সঠিক মাপের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করছেন।

৭. কাপড়ের শুরু থেকে শেষ, বাইরে থেকে ভেতরে এভাবে আয়রন করুন।

৮.এবার আয়রন করা শেষ হলে কাপড়গুলো কয়েক ঘন্টার জন্য ঠাণ্ডা হতে দিন।

✅  কাপড় ধোয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই। যদি বাসায় ওয়াশিং মেশিন থেকেও থাকে এরপরও ঝামেলার শেষ নেই। কাপড়ের ফ্যাব্রিক যেমন আলাদা, প্রত্যেক ফেব্রিকে ধোয়ার নিয়ম ও কিন্তু আলাদা। নিয়মগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই আপনার কাপড় একদম নতুন রাখতে পারবেন পুরো বছর জুড়ে ।

চলুন এমন সেরা ১০টি নিয়ম আজ জেনে নেইঃ 
 

১. ডিটারজেন্ট কখনো সরাসরি কাপড়ের উপর ঢালবেন না ব্যবহার করবেন না। প্রথমে কাপড় তারপর পানি এবং এরপর ডিটারজেন্ট দিবেন। যদি ব্লিচ ব্যবহার করে থাকেন , তবে প্রথমে পানি, তারপর কাপড় এবং সবশেষে ব্লিচিং ডিটারজেন্ট দিয়ে দিবেন।

২. অতিরিক্ত ময়লা কাপড়ের সঙ্গে অন্য কাপড় একসঙ্গে ভেজাবেন না। এতে করে এক কাপড়ের দাগ অন্য কাপড়ে লেগে যেতে পারে।

৩. সাদা কাপড় সবসময় অন্য কাপড় থেকে আলাদা ভেজাবেন। অন্য কাপড় থেকে রং না উঠলেও , ধোয়ার সময় রং উঠতে পারে এবং আপনার সাদা কাপড় নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা ৯০%

৪. সাদা কাপড়ে উজ্জ্বলতা আনতে আধা কাপ ভিনেগারের সাথে দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা দিয়ে মেশান এবং এই মিশ্রণটি দিয়ে সাদা কাপড় ধুয়ে ফেলুন।

 ৫. জিন্স, শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি ভারী কাপড়  উল্টো করে  ধুয়ে ফেলুন। এতে  করে  কাপড়ের অভ্যন্তরীণ ময়লা ভালভাবে পরিষ্কার হবে।

৬. সাদা সুতির কাপড় ধোয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করুন। গরম পানিতে ডিটারজেন্ট গুলে কিছুক্ষণ কাপড় ডুবিয়ে রাখুন।

৭. রঙিন কাপড় কখনো কড়া রোদে দেবেন না। বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে দেওয়াই ভালো।

৮. যে কোন কাপড়, বিশেষ করে নতুন কাপড় ধুতে দেওয়ার আগে এর ট্যাগ চেক করে নিন।  ট্যাগে কাপড় ধোয়ার নিয়ম উল্লেখ থাকে।

৯. ডিটার্জেন্ট পাউডারে বেশিক্ষণ কাপড় ভিজিয়ে রাখবেন না। এতে কাপড়ের সুতা নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

১০. খেয়াল রাখবেন, কাপড় বেশিক্ষণ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখলে কাপড়ের আকার নষ্ট হয়ে যায়।
 

এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই আপনার কাপড় নতুনের মতন রাখতে পারবেন অনেক দিন ধরে । আর যদি ব্যস্ততায় সম্ভব না হয়, তবে সেবা অ্যাপে ঘরে বসেই অর্ডার করে ফেলুন লন্ড্রি সার্ভিস। আপনার পরনের কাপড় থেকে শুরু করে বিছানার চাদর, পর্দা, বালিশ, কার্পেট, পুতুল – সবকিছুই লন্ড্রি করাতে পারবেন সেবা অ্যাপে। অ্যাপে শুধু আপনার নাম ঠিকানা আর লন্ড্রির সময় উল্ল্যেখ করে দিলেই সার্ভিস চলে আসবে আপনার ঘরে।

ফেব্রিক কেয়ার গাইডলাইন যা আপনাদের জানা উচিৎ | ওয়াসিং - ক্লিনিং- ড্রাইং - আয়রনিং

জিন্স প্যান্টের ওয়াস প্রসেস 
এই সময়ে সব বয়সীদের বিশেষ করে তরুণদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় জিন্স। ওয়ার্ড্রোবে ডেনিম থাকে না এমন পুরুষ সংখ্যায় খুবই কম। প্রচলিত একটি ধারণা আছে, জিনস শ্রমিকদের প্যান্ট। কিন্তু এখন প্রতিদিনের পোশাক হিসেবেই ডেনিমকে ব্যবহার করে থাকি আমরা। এক সময় খনিতে কাজ করতে আসা মানুষদের প্রতি দিন পরনের সুবিধার জন্যই এই ধরনের প্যান্ট বাজারজাত করা হয়। তবে ডেনিমের ইতিহাস নিয়ে আরও এক ঘটনা প্রচলিত আছে।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি । এক কাঠুরের বউ এলেন জেকব ডব্লিউ ডেভিস নামের এক দর্জির কাছে। জঙ্গলের কাঁটাগাছে প্রায়ই জামা ছিঁড়ে যায় তার স্বামীর। টানাটানির সংসারে ঘন ঘন জামা কেনার প্রশ্নই ওঠে না। তাই চাই টেকসই পোশাক। খরিদ্দারের আবদারে দর্জির মাথায় এক বুদ্ধি খেলে গেল। তখন ফ্রান্সে সার্জ দে নিমে নামের এক ধরনের মোটা কাপড় পাওয়া যেত। সহজে ছেঁড়ে না। দামও সস্তা। এমন কাপড় দিয়েই কাঠুরের জন্য প্যান্ট তৈরি করে দিলেন জেকব।

যথারীতে জেকবের বানানো এই প্যান্টের নাম ও গুণ ছড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। নিমেষে বিক্রি হতে শুরু করল এমন সব প্যান্ট। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও জোগান দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কাপড় নেই। তখন তিনি যোগাযোগ করলেন এই কাপড়ের হোলসেলার লেভি স্ত্রাউসের সঙ্গে। ১৮২৩ সালে জিন্সের ইউএস পেটেন্ট বের হয়। এই সালকেই ব্লু জিনসের জন্মদিন হিসাবে ধরা হয়। মূলত শ্রমিক-মজুররা এই প্যান্ট ব্যবহার করলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমেরিকান সেনার পোশাক তৈরিতেও ব্যবহার শুরু হয় ডেনিমের।

প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে জিন্স খুব দ্রুতই এর জৌলুস হারিয়ে ফেলে। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে বার বার ব্যবহারের পরেও ডেনিম থাকবে নতুনের মতো। 

 কাপড় কাচার কিছু নিয়ম মানলেই জিন্সের রং যাবে না। জেনে নিন সেসব কৌশল সম্পর্কে:

► জিন্স ধোয়ার জন্য ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন। গরম পানি ডেনিমের জন্য ভালো নয়।

► অত্যধিক ক্ষারযুক্ত সাবানে জিন্স কাচবেন না। এতে এর রং ফিকে হয়। তাই ক্ষারযুক্ত সাবান বাদ দিয়ে মৃদু সাবানে ধুয়ে নিন।

► ধোয়ার আগে কিছুক্ষণ সাবান-পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর হালকা করে ঘষে জিনসের নোংরা তুলে নিন।

► কাচাকুচির পর জিনস নিংড়াবেন না। বরং টানটান করে পানি ঝরাতে মেলে দিন। খানিকক্ষণ পর রোদে দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন।

► রং টেকসই করে রাখতে উল্টো করে রোদে শুকাতে দিন। কাচার সময়ও উল্টো করে কাচুন।

► ডেনিমের পায়ের ফোল্ডে ময়লা জমে, তাই ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিলে ভালো হয়।

জিন্স প্যান্টের ওয়াস প্রসেস | Denim Wash Process

সোয়াচ স্যাম্পল গার্মেন্টস ওয়াস করা কিনা বুঝার উপায়
লেখাটির শুরুতে আমাদের একটি ছোট অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই একবার আমাদের ডাইং করা ফেব্রিকের সেড মিলাতে দিয়ে আমাদের একটি বাজে অভিজ্ঞতা হয় ।  আমাদের ভুলে একটি সেড ডাইং হয়ে যায় কিন্ত সেড ম্যাচ করতে গিয়ে আমাদের ফ্রেশ ফেব্রিকের ডাইং করা সেড এর সাথে আমাদের সোয়াচের সেড মিলছিলোনা ।  টোন কোন ভাবেই আনা যাচ্ছিলোনা সেড অনেক ডিপ ছিলো সোয়াচ ফেব্রিকের ।  কিন্ত আমাদের ল্যাব ডিপের রেসিপি ফলো করে করা হয়েছিলো।  পরে যখন আমাদের সোয়াচ এনালাইসিস করে দেখা যায় সেটা ছিলো একটি প্যান্ট থেকে কাটা যা সিলিকন ওয়াস করা।  এখন আমাদের সেইম ভুল যেনো ফিউচারে না হয় এর জন্য কিছু এনালাইসিস দেয়া হলো যাতে করে এই ভুল গুলি পুনরায় রিপিট না হয়। 

অনেক সময় আমাদের ডাইং সেকশনে বায়ার রা আমাদের কিছু ফেব্রিক সোয়াচ দেন যেটা দিয়ে আমাদের ডাইং করতে হয় ।  কিন্ত ফ্রেশ ফেব্রিক আর নন ওয়াস ফেব্রিকের ভেতরে সারফেসে অনেক পরিবর্তন লক্ষনীয় ।  আমাদের বায়ার চেলেঞ্জ করেন যখন সেড না ম্যাচ হয় । তখন আমাদের বের করতে হয় সমস্যার কারন কোথায় , সোয়াচের সাথে ফ্রেশ লট ডাইং গত পার্থক্য ।  তখন আমাদের জানতে হয় গার্মেন্টস ওয়াস করা বডির অংশ কিনা সেটা জানতে স্যাম্পলের কিছু  বিষয়ে লক্ষ করতে হয় । 

আসুন জেনে নেয়া যাক সে বিষয় গুলি কি কিঃ 

1. এই ফেব্রিকস সেইম কন্সট্রাকশন হলেও নন গার্মেন্টস ওয়াস এর চেয়ে এর থিকনেস খুব বেশি হয়। নন ওয়াস করা ফেব্রিক এর থিকনেস কম হয় । 

2. গার্মেন্টস ওয়াসিং এর সিলিকন এনজাইম দিয়ে ওয়াস করে ফেলার ফলে এর ফেইস ব্যাক উভয় পাশের হেন্ডফিল অনেক সফট হবে। 

3. গার্মেন্টস ওয়াসিং এর পর এই লুক ডাল হয় আর হেয়ারি ইফেক্ট বেশি হয় ।

 4. সিলিকন ওয়াসের ফলে সেড ডার্ক হবে। 

5. নন ওয়াস করা ফেব্রিকের সারফেস প্লেইন হবে পিচ ইফেক্ট কম থাকবে ।

বিদ্রঃ 
আপনার ফেব্রিকের সেডের  ডেপথ কোন ভাবে আনা না গেলে ফ্রেশ ডাইং করা ফেব্রিক থেকে হাফ মিটার কেটে তাকে গার্মেন্টস সিলিকন ওয়াস করে দেখতে হবে । তবে এটা বায়ার বুঝানো যাবে যে এই ফেব্রিক সিলিকন ওয়াস করলে মিলে যাবে সেড ।

সোয়াচ স্যাম্পল গার্মেন্টস ওয়াস করা কিনা বুঝার উপায় | Wash Sample Swatch