Textile Lab | Textile Blog: Collected Textile Post
সারা বিশ্বব্যপী এ্যপারেল সেক্টরে একটা অঘোষিত মন্দা অবস্হা বিরাজমান। তাই বায়রা তাদের অর্ডার নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরে সবচেয়ে সস্তা যেখানে পাচ্ছে সেখানে দিয়ে দিচ্ছে । মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে ethical business বলতে কোন শব্দ নাই। পারলে  টিকে থাকবেন নয়ত ব্যবসা বন্দ্ব করে চলে যাবেন । 


আর এর প্রথম আঘাতটাই বাংলাদেশের মত গার্মেন্স সেক্টর হজম করতে পারছে না সামনের দিনে কি হবে তা অনুমান করা কঠিন। 

তবে আমার নিজস্ব ভাবনা হল - 

১.  Brexit এর পর EU economy বিশাল ধাক্কা খাবে কারন Germany হল Europe এর সবচেয়ে বড় economy আর Europe এর Powerhouse. Brexit হলে German তার সবচেয়ে বড় ক্রেতা UK কে হারাবে । এখনই German GDP এর অবস্হা খারাপ আর Brexit হলে কি হবে তা বুজতে economist না হলেও চলবে ।

২. Brexit হলে EU Vs Dollar বিশাল পরিবর্তন হতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশের মত দেশ EU সাথে ডলারে ব্যবসা করে তাই Euro এর বিপরীতে ডলারের দাম বাড়বে তাই Europe এর বায়ররা price কমানোর জন্য মরন কামড় দেবে । এখনই যে অবস্হা তাতে  সামনে টিকে থাকাই মুশকিল হবে ।

৩. Brexit দোহাই  দিয়ে UK বায়ারা গত কয়েক মাস ধরে অর্ডার দেয়া  বন্দ্ব বা কমিয়ে দিয়ে স্টক ক্লিয়ার করছে কারন সামনের দিনে নতুন নতুন Tex এর নিয়ম কানুন আসবে ।তাতে তাদের দ্রব্যমুল্য বৃদ্বি পাবে । তাই তাঁরাও price কমানোর জন্য মরন কামড় দিবে । 

৪.  France এর economy খুব একটা ভাল অবস্হায় নেই , যেহেতু Germany and France পুরা Europe control করে তাই Brexit এরপর তাদের দ্বারা বাকী ছোট ছোট economy এর দেশ গুলিকে টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা বা রাখবে কিনা সময়ে বলে দিবে । কোন এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের মত টুকরো হলেও অবাক হওয়ার মত কিছু থাকবে না ।আবার এই অর্থনৈতিক অবস্হা থেকে কাটিয়ে উঠতে গিয়ে অনেক দেশেই হয়ত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শুরু হতে পারে । 

তবে মুল কথা হল, যেহেতু আমরা Europe & USA export base দেশ তাই  উপরের কোনটাই মন্গলজনক নয় । তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে  বায়ারা যে price বাড়াবে না সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই , অর্ডারত পরের কথা। 

তাই পারলে টিকে থাকেন  নয়ত গেরামের দিকে রাস্তা মাপেন আর পেঁয়াজ চাষের চেস্টা করেন ।






বাংলাদেশের এপারেল বিজনেসে Brexit এর প্রভাব

News :  Hagfish থেকে তৈরি কাপড়

‘Hagfish’ গভীর সমুদ্রের তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীদের একটি। এটি একটি খুলি বিশিষ্ট মেরুদণ্ডহীন প্রাণী, বলা যায় সাপের মতো। একে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কষ্টসাধ্য, তাই অধিকাংশ মানুষ একে এড়িয়ে চলেন। কানাডার uelph University এর একটি গবেষক দল Hagfish নিয়ে গবেষণা চালান এবং তারা এ থেকে এক প্রকার শক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ সুতা তৈরি করতে সক্ষম হন। 

এই মাছের শরীর থেকে জেলির মতো এক প্রকার পদার্থ পানিতে মেশানো হয় যা অদ্ভুতভাবে জালিকাকার সিল্কের আকার ধারণ করে এবং বাতাসের সংস্পর্শে আসা মাত্রই পানি উধাও হয়ে যায় এবং তৈরি হয় প্রোটিনসমৃদ্ধ সুতা। যদিও এই জেলির মতো পদার্থটি নোংরা সমুদ্রের পানির মতো দুর্গন্ধযুক্ত কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে এই প্রোটিনসমৃদ্ধ সুতা দ্বারা প্রস্তুতকৃত পোশাকটি হবে চমত্কার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।






Hagfish থেকে তৈরি কাপড়

যে পোশাক পড়লে অদৃশ্য হয়ে যাবে মানুষ

বৈজ্ঞানিক গল্প নির্ভর সিনেমাতে মানুষের অদৃশ্য হওয়ার অনেক দৃশ্যই দেখা যায়। সিনেমার সেই কল্পিত বিষয়টিই বাস্তবে নিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি বৃটিশ সেনাবাহিনী এমন এক পোশাক আবিস্কার করেছে, যা পড়লে সত্যি সত্যিই অদৃশ্য হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তারা!

এর আগে ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আবিষ্কার করেন এক বিশেষ ধরনের ফেব্রিক। যা অনেকটা ‘ক্যামোফ্লেজ’ এর মতো কাজ করবে বলে জানিয়েছিলেন তারা। আবিষ্কৃত এই ফেব্রিক যে পরিবেশে থাকবে সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে বলে জানানো হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা জানান, রং চিহ্নিত করার পরে একটি ইলেকট্রিক সিগনালিং সঞ্চারিত হয় ওই ফেব্রিকে। ফেব্রিকের একবারে উপরের স্তরটি হিট-সেনসিটিভ ডাই প্রযুক্তিতে এরপর রং বদলে আশপাশের পরিবেশের রং ধারণ করবে।

এই ফেব্রিক দিয়ে বানানো জামা গায়ে জড়িয়ে কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে একটু সময় পরেই সেখানকার পরিবেশ অনুযায়ী রং বদলে যাবে জামাটির। ফলে কিছুটা দুরে থাকলে অন্য কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে না সেখানে কেউ রয়েছে কিনা। ইতোমধ্যে ওই ফেব্রিক দিয়ে বানানো পোশাকটির প্রাথমিক পরীক্ষা সেরে ফেলেছে ব্রিটিশ বাহিনী। কিছুদিনের মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রেও এই অদৃশ্য পোশাক ব্যবহার করা হবে বলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

যে পোশাক পড়লে অদৃশ্য হয়ে যাবে মানুষ

'মেড ইন বাংলাদেশ'


জার্মানির এক বিখ্যাত ক্লথিং স্টোরে কাজ করতে গিয়ে আজকাল প্রায়ই আমার মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর বানানো সেই সিমেন্টের বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে। মাল্টিন্যাশনাল সেই দোকানের নব্বই ভাগ কাপড়ের লেবেলেই ঝলঝল করে লেখা- 'মেড ইন বাংলাদেশ'। জার্মানি আসার কিছুদিন পর কোনো এক শপিংমলে হঠাৎ 'মেইড ইন বাংলাদেশ' লেখা দেখে আতকে উঠেছিলাম। অতি আবেগতাড়িত হয়ে তা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম। ঘন্টার পর ঘন্টা মেড ইন বাংলাদেশ ট্যাগ নিয়ে কাজ করার পরো এখনো সেই আবেগ একটুও কমেনি। ম্যানেজারকে দেখলেই ইচ্ছে করে ডেকে এনে একটা কাপড়ের লেবেল দেখিয়ে বলি- ''লুক, স্যার। উই আর প্রাউড।"


চোখের সামনে যখন শত শত ইউরোপিয়ানকে সেই মেড ইন বাংলাদেশ লেখা প্রোডাক্ট অবলীলায় কিনে নিয়ে যেতে দেখি বাংলাদেশী হিসাবে তখন নিজেকে কারোর চেয়ে কম মনে হয় না।

তবে শুধু বাংলাদেশে তৈরি কাপড়ই যে সারাবিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তা না। এই ক্লথিং স্টোরে আমার মতোই পার্ট-টাইম কাজ করা এক বিদেশী স্টুডেন্টের সাথে পরিচয়। ইংরেজি না জানা মানুষদের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে আমি সবসময় আমার জার্মান ভাষার মুর্খতা লুকাই। আমার সেই কলিগের জার্মান স্কিল যতোটা ভালো ইংরেজি জ্ঞান ততোটাই দুর্বল। তবুও প্রথম থেকেই আমার সাথে তার কথা বলার অতি আগ্রহ দেখে বিস্মিতই হলাম। সাম ইংলিশ আর আইন বিসিয়েন জার্মান দিয়ে সে আমাকে যা বললো তা শুনে আমার চক্ষু চড়কগাছ। বাংলাদেশের এক মেয়ের সাথে ফেসবুকে তার তিন বছরের সম্পর্ক।

 সেই মেয়েকে বিয়ে করার মনস্থির করার পর থেকে এক বছর ধরে টাকা জমাচ্ছে সে। জার্মানিতে একজন স্টুডেন্টর লাইফ কতোটা সংগ্রামী হতে পারে তা আমার অজানা নয়। সেই মেয়েকে জার্মানিতে আনতে যে টাকার প্রয়োজন তার জন্য আরো তিন বছর কাজ করে তা জমাবে সে। আমাকে মেয়ের ছবি দেখিয়ে কেমন হবে তা জানতে চাইলো। আমার তখন সবই বুঝা হয়েছে শুধু একটা বিষয় ছাড়া। বাংলাদেশী সে মেয়ের তো জার্মান জানার কথা না। ছেলের যে ইংরেজি জ্ঞান, তাহলে তাদের মধ্যে কথা হয় কিভাবে। অবশ্য সুন্দর একটা সম্পর্কে ভাষা কতোটা অনাবশ্যক তা জানতে আমার 'লাভ একচ্যুয়ালি' দেখতে হয়নি। বার্লিন থেকে ডর্টমুন্ডের বাসে আমার পিছনের সিটে ছিল একজোড়া কাপল আর পাশের সিটে ছিলো আরেকজোড়া।আজীবন সিংগেলদের প্রতিনিধি আমি মাঝের সিটে একা বসে কানে হেডফোন গুজে এই প্রেমে ভরা পৃথিবী থেকে নির্বাসনে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। পিছনের কাপলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে তা আর পারলাম কই। ইউরোপে এসে নতুন কোনো ভাষা না শিখতে পারলেও পরিচিত হয়েছি পৃথিবীর প্রধান সব ভাষার সাউন্ডের সাথে। সেই ভাষা জ্ঞান থেকে বুঝলাম এরা অন্তত চারটি ভাষায় ঝগড়া করছে। জার্মান, ইংরেজি, স্প্যানিশ আর ইটালিয়ান। এই খুনসুটি কি তাদের পলিগট হওয়ার প্র‍্যাকটিস কিনা তা অবশ্য বুঝতে পারলাম না। তবে পাশের সিটের কাপলরা যে ঝগড়া করছে না তা বুঝতে অসুবিধা হলো না।কারণ তাদের মুখে কোনো ভাষা নেই। মেয়েটি সত্যিকারের বধির কিনা তা জানিনা, তবে ছেলেটি কথা বলছিলো নিঃশব্দে দুহাত নেড়ে সাইন ল্যাংগুয়েজ দিয়ে। তাদের অসাধারণ বোঝাপড়া দেখে মনে মনে আবারো ভাবলাম- নীরবতাই এ পৃথিবীর একমাত্র ভাষা, বাকি সব ভাষাই অর্থহীন অনুবাদ। 

আমার কলিগ সেই ফরেন স্টুডেন্ট নিশ্চই আমার স্বদেশী মেয়ের সাথে ফেসবুকে সাইন ল্যাংগুয়েজে কথা বলেনি। জিজ্ঞেস করতেই সে বললো- এটা কোনো সমস্যা না। ফেসবুকে চ্যাট করার সময় বিভিন্ন ট্রান্সলেটর অ্যাপ দিয়ে সে জার্মান ল্যাংগুয়েজকে ট্রান্সলেট করে নেয়। তাছাড়া সে টুকটাক যা ইংরেজি জানে তা দিয়েও চলে। পৃথিবীর কোনো শক্তির কাছেই যেখানে ভালোবাসা পরাজয় মেনে নেয়নি, ভাষা তো সেখানে নস্যি।
বাংলাদেশি মেয়ে বিয়ে করলে কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করায় তাকে আমি দামী একখানা টি-শার্টের লেবেল দেখিয়ে বললাম-" চালিয়ে যাও, বন্ধু। মেড ইন বাংলাদেশ মানেই অলওয়েজ টপ কোয়ালিটি। হোক সেটা বস্ত্র অথবা মানুষ।"


Written By 
NH Ashis Khan Vai

'মেড ইন বাংলাদেশ' | Made In Bangladesh

ক্যাম্পাস ভার্স্কয


ঐতিহ্যের স্মারক "চরকা" বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ  ,টাঙ্গাইল আবহমানকাল থেকেই বাংলার তাঁতশিল্পের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে চরকা। এই চরকাকে অবলম্বন করেই প্রাচীনকালে তাঁতশিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতো। অধুনা প্রযুক্তিসমৃদ্ধ মেশিনের কাছে হার মেনে এই যন্ত্রটি বিলুপ্তপ্রায়। শহর থেকে তো বটেই আজকাল গ্রামে-গঞ্জেও এর দেখা মেলা ভার।

বাংলার হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে "চরকা"। এর কারিগর ভাস্কর সৈয়দ সাইফুল কবীর রঞ্জু। প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে ভাস্কর্যটিকে। শ্বেতবর্ণের ভাস্কর্যটি বেদিসহ ১৭ ফুট বাই ১২ ফুট জায়গার ওপর নির্মিত। চরকার অংশটি মূল ভিত্তি থেকে ৫ ফুট উপরে।

ভাস্কর্যের বিষয়বস্তুতে শাশ্বত বাংলার চরকায় সুতা কাটারত এক রমনী এবং সুতা ভরার নলী দিয়ে সাহায্যকারী বালকের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চে পূর্ণোদ্যমে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় একই বছরের অক্টোবর মাসে।

অতীতে তাঁতবস্ত্র তৈরির জন্যে প্রধান এই যন্ত্রটির প্রচলন ছিল। হস্তচালিত তাঁতশিল্পের স্বর্ণযুগে তো বটেই নব্বই দশকের দিকেও বাংলার প্রায় প্রত্যেক ঘরে এই বুনন যন্ত্রটি ছিল। বয়নকারীরা ব্যবহার্য শাড়ি, লুঙ্গিসহ যাবতীয় কাপড় প্রস্তুতে যন্ত্রটি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের ফলে এটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

তাঁত শিল্পের ঘাঁটি বলে পরিচিত টাঙ্গাইল। এই শিল্পের সাথে চরকা জড়িয়ে থাকায় এরকম ভাস্কর্য যেমন তাঁতী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে তেমনি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

News Source : TEXineer

ক্যাম্পাস ভার্স্কয : "চরকা" | বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ , টাঙ্গাইল

তারপরেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বাবা মায়েরা একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখে...।



ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পরে; নিঃসন্দেহে বাবা মায়ের কাছে এটা চরম আনন্দের।

আর ছেলে যদি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পরে তবে আনন্দটা আরও বেশি।

কেন না এদেশে ঝালমুড়ি বিক্রেতা থেকে শুরু করে রীতিমত বুদ্ধিজীবীরাও মনে করে থাকে দেশের সব থেকে ব্রাইট ফিউচার আছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লে। তবে এই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আড়ালে যে কত অন্ধকার তা কেবল তার কাছের মানুষেরাই বুঝতে পারে। যেই ছেলে আগে বাবার সাথে বসে বিরস টক শো দেখতেও মজা পেত সেই ছেলে বদলে যায় দ্রুত। খুব সকালে বাসা থেকে বের হয় আর খুব রাতে ফিরে অফিস থেকে। আবার নাইট ডিউটি থাকলে নাইট ডিউটি থেকে ফেরার পরেও মাঝে মাঝে ছুটে যেতে হয় অফিসে। মেজাজ তার খিটখিটে হয়ে যায়। অল্পতেই রেগে উঠে। অফিসে গিয়ে শুরুর দিকে ফোন করে বাবা মায়ের খোজ খবর নিত কিন্ত আস্তে আস্তে তাও কমে যায়। আর ছেলে খবর নিবেই বা কি করে? কারখানায় থাকাকালীন মনে হয় টয়লেটের ভিতরে ছাড়া  শান্তি মত ফোনে কথা বলার জায়গা নেই। কারণ সারাদিন তাকে হাজারটা সমস্যা নিয়ে ছুটতে হয়। চার পাঁচজন লোক পিছে সিরিয়াল দিয়েই থাকে নানা সমস্যা নিয়ে। কিন্তু বাবা মায়ের মনতো আর এসব বুঝতে চায় না। পাশের বাসার রহমান সাহেবের ছেলে ১ ঘণ্টা পর পরেই ফোন করে বাবা মায়ের খবর নেয়, সকাল নয়টায় অফিসে যায় মাগরিবের আগেই বাসায় ফিরে কিন্তু তার ছেলের বেলায় কেন এমন। এই প্রশ্নগুলোর কোন উত্তর তারা পায় না। ধীরে ধীরে তারা একটু হলেও ছেলের কষ্ট বুঝতে পারে। ছেলের চাকুরী যে আর দশটা চাকুরীজীবীর মত না তা বোঝা যায় অল্প দিনেই। মাঝে মাঝে তারা আফসোস করে, ছেলেকে কেন যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালাম।

তারপরেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বাবা মায়েরা একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখেঃ "আরেকটু সিনিয়র হলেই হয়ত ছেলের চাকরির কষ্ট, কাজের চাপ একটু কমবে।"



Written By : ফজলে রাব্বি জেমস

তারপরেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বাবা মায়েরা একটি সুন্দর স্বপ্ন দেখে

আমার লিখা পুরাতন একটি স্ট্যাটাস, আবারও শেয়ার করলাম। কারন এখনও দৃশ্যপট আগের মতোই......

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সদ্য পাশ করা টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারগন বেশ দিশাহীন হয়ে আছেন। গবেষক হিসেবে কাজ করেছি আমি স্বয়ং, আর আমার সহায়তা করেছে বেশ কিছু ছোট ভাইবোনদের ফোনকল ও নানা প্রশ্ন।

আমি নিজে যখন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং বিষয়টির ছাত্র ছিলাম, তখন পাক্কা ৪ বছর পার হয়ে গিয়েছিলো শুধুমাত্র এটা পরিষ্কারভাবে বুঝতেই যে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের কাজটা কি!! দুনিয়ার বই পুস্তক, মেশিন পাতি, ল্যাব-ট্যাব, ফ্যাক্টরী ভিজিট করে হুলুস্থুল অবস্থা। দিন শেষে মাথায় প্রশ্ন একটাই, এগুলোতো ওয়ার্কার, মেশিন অপারেটর, সুপারভাইজার বা ল্যাব টেকনিশিয়ানরাই দিব্যি করছেন। এখানে আমাদের মতো শুধুমাত্র টেক্সটাইল বিষয়ে পড়ুয়া পান্ডিত্যের বিশেষ ভূমিকা কি হতে পারে!! দুঃখজনক হলেও সত্যি এটাই ছিলো, এই মননশীল প্রশ্নের মানবিক উত্তর আমি কখনোই আমার ছাত্রজীবনে খুঁজে পাইনি। দুঃখজনক হলেও আরও সত্যি এখনও বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের, টেক্সটাইল রিলেটেড পুথিগত বিদ্যার হরলিকস তাদের অনভিজ্ঞতার মস্তিষ্কজাত দুধে গুলিয়ে জাস্ট গিলিয়ে দেয়া হচ্ছে।স্টুডেন্টদের মধ্যে এক দুইজন যারা টুকটাক প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ডের ধারণা রাখছেন, তারাও স্ব-উদ্যেগেই রাখছেন।এরকমটা নিজের কানে শোনা ও নিজ চোখে দেখা।

শুধুমাত্র অল্প করে ধারনা দেই, যে কোথায় একজন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার ফ্যাক্টরীর অন্য সাধারন কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চাইতে আলাদা। ছোটবেলা থেকেই আমরা জানি, সময়ের মূল্য অনেক।টেক্সটাইল বা গার্মেন্টস জগতে এই কথাটার বাস্তবতা হাঁড়ে হাঁড়ে, না কম হয়ে গেলো, একেবারে মজ্জায় মজ্জায় টের পাওয়া যায়। এখানেই প্রাথমিক পর্যায়ে একজন প্রকৌশলীর মূল স্বার্থকতা।যেখানেই ঢুকবেন সেখানেই আপনি প্রায় ৭০ টার মতো পুস্তক ঘাটা লোক।ঢুকে শুধুমাত্র প্র্যাক্টিক্যাল আ্যপ্লিকেশন দেখবেন আর দ্রুততার সাথে শিখে নিয়ে তা কাজে লাগাবেন। যেমন: একজন সাধারন বিষয়ে পড়ুয়া ছাত্র, স্পিনিং মিলে ঢুকে যতদিনে তুলার প্রকারভেদ, স্পিনিং এর প্রসেস ফ্লো-চার্ট, সব মেশিনের নাম ও কাজ, সুতার কাউন্ট ও প্রকারভেদ, মেশিন সেট আপ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ, মেশিন মেইনট্যানেন্স এর বিষয়াদিসমূহ ইত্যাদি শিখবে, ততদিনে একজন বস্ত্র প্রকৌশলী হয়তো ফ্লোরের সব দায়িত্ব বুঝে নিয়ে শিফটিং ডিউটি পর্যালোচনা করা শুরু করে দিবে। কারন ঐ সব প্রশ্নের উত্তরগুলো,বস্ত্র প্রকৌশলী বহু আগে থেকেই তার শিক্ষা জীবনে জেনে এসেছেন।

তবে অভিজ্ঞতার দাম সবসময়ই দিতে হয়। আগেতো আর বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং বিষয় ছিলোনা। আর থাকলেও আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় এক বছরে ২০০ জনের বেশি পড়তে পারতেন না। তাই অনেক মানুষ অন্যান্য ভালো ভালো বিষয়ে নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে, এই টেক্সটাইল-গার্মেন্টস সেক্টরের হাল ধরেছেন।তারা সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের এই জগতের একজন জ্ঞানীগুনি মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনকি তাদের মাঝেও অনেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছেন। বিষয়টি বেশ ইতিবাচকই বলবো যে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

তবে চাওয়া বলতে একটাই, ছাত্র-ছাত্রীদের বেশি করে বাস্তব জগতের কাছাকাছি নিয়ে আসুন। বই পুস্তক পড়ে তারা যতটুকু জানার সেটিতো জানবেই, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি কি হয় না হয় এগুলো না জানালে তাদের অসম্পূর্ণ শিক্ষা দেয়া হবে। এখনতো ইন্টারনেটের ব্যবহার সর্বস্তরে, ক্লাসরুমে চাইলেই সবকিছু চোখের সামনে দেখানো যায়। কানের রাস্তা দিয়ে মস্তিষ্কে পৌছানো আর চোখ দিয়ে পৌছানোর মধ্যে পার্থক্য আছে। কারণ এক কান দিয়ে ঢুকলে সোজাসুজি আরেক কান দিয়ে বের হয়ে যাবার রিস্ক থাকে, তবে চোখ দিয়ে ঢোকানো হলে মগজে গাঁথবেই। আরও যে বিষয়টি করা উচিৎ বলে মনে করি তা হলো বেশি করে চাকরী জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের বিষয়গুলো সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের জানানো।শিফটিং ডিউটির খুঁটিনাটি, বাসা টু ফ্যাক্টরী যাওয়া আসার ব্যাপারগুলো, ফ্লোরের কর্ম পরিবেশ, সিনিয়রদের মান্য করা,  আর মান্য করতে গিয়ে পরিস্থিতি সাপেক্ষে বহুধরনের ভালোমন্দ গালমন্দ হজম করা, জব পলিটিক্সের বিষয়াদি, ছুটিছাটা বিসর্জন দেয়ার মানসিকতা রাখা, প্রথম কয়েকটা বছর শারীরিক আর মানসিক কষ্ট মোকাবিলা করার মতো করে  গড়ে তোলা ইত্যাদি খুব বাস্তব বিষয়গুলো সম্পর্কে সবাইকে আগে থেকেই অবহিত করতে হবে। হোক সেটা প্রতিটি ক্লাসের শেষ পনেরো মিনিট, সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও চলবে।ছোট শিক্ষকতার জীবনটায় আমি এটা রেগুলার করতাম, আর স্টুডেন্টরাও বেশ ভালোভাবে কানেক্ট করতো।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেনো জেনেশুনে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করে যার যার কর্মস্থলে। চোখে স্বপ্নের এক জগত সাজিয়ে ফ্যাক্টরী বা বিভিন্ন বায়িং অফিসে ঢুকে অতঃপর যেনো বাস্তবতার সম্মুখীন হতে না হয়। তারা যেনো সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ মুখোমুখি হবার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই পাশ করে বের হয়।তা না হলে প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর চাকরি খোঁজার এই রেস বন্ধ হবার নয়। কি হয়েছে প্রশ্ন করলে উত্তর ঐ কয়েকটাই, হয় বস ভালো না, নয়তো কলিগগুলোর সাথে বনিবনা নাই, তা না হলে কাজের ধরাবাধা কোনো সময় নাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

ফোনে ছোটখাটো লেকচার শেষে আমি ভাবি, চার বছর ধরে প্রকৌশলী হবার তরে সবই শিখলো, শুধুমাত্র টাইটেলটা ধারণ করে টিকে থাকার উপায়টুকুই শিখলো না।কি লাভ হলো এতকিছু শিখে!! এ যেনো অনেকটাই, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করাটাই কঠিন- এর মতো হয়ে গেলো। দিন পরিবর্তনের পালা শুরু হোক আজ থেকেই, প্রত্যাশা রইলো এটুকুই।


লিখেছেনঃ সিরাজুম মনির  

নবীন বস্ত্র প্রকৌশলীদের উদ্যেশ্যে কিছু কথা

শিক্ষাগত যোগ্যতা "বস্ত্র প্রকৌশলী" হওয়ার জন্য অনেকেই ঠাট্টা স্বরুপ "দর্জি" খেতাব দেন।



বিশ্বাস করেন এ নিয়ে কখনোই আমি বিরোধিতা করিনি। কারন , একজন বস্ত্র প্রকৌশলী অবশ্যই দর্জির কাজ জানেন। তবে পার্থক্য এই যে, তারা শুধুমাত্র দর্জির কাজ না; একটা Fiber এর জন্ম থেকে ঐ পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত পুরো পদ্ধতির আদ্যোপান্ত, সীমাবদ্ধতা, সমাধান সম্পর্কে জ্ঞান বা ধারণা রাখেন।

তার কাছে একটা পোশাক শুধু কিছু টাকা দিয়ে কেনা একটা product না।

এই ক্ষেত্রে পড়াশোনার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম না যে একটা পোশাক তৈরীর পিছনে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং পুরো পৃথিবীর কৃতিত্ব আছে।
পুরো পৃথিবীর কথা বললাম; কারন আমরা যে সব Natural Fiber ব্যবহার করি, সেখানে বিশ্ব প্রকৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখে। আবার যে Manmade fiber ব্যবহার করি তাও এই পৃথিবীর পরিবেশ এবং মানুষের অবদান। এই Fiber থেকে যে পদ্ধতি এবং spinning machine, Dyeing&finishing machine, weaving/knitting machine দিয়ে ঐ একটা fiber কে Fabric এর রুপ দিয়ে তারপর তা দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক বানানো হয়; এই পুরো process টাতেই শুধু কোন ব্যক্তি বা দেশের একা কৃতিত্ব নেই।

এই বিশাল পরিসরের মানুষ গুলোর সকাল থেকে রাতের স্বপ্ন পর্যন্ত একটা চিন্তা-ভাবনা, ভালোলাগা , খারাপ লাগা সবটুকু জুড়েই থাকে আপনার বা আপনাদের শরীরের পোশাক।

আপনার পড়নের পোশাকের কাপড়টি অতি যত্নে বুনন , সেলাই, গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং প্রায় তেরোটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে।

আর সেই পোশাকটির প্রতিটি সুতার রং পোশাক ডিজাইনারের কল্পনা আর শ্রমে আঁকা ভালোবাসার কথা বলে, একজন পোশাক শ্রমিকের ঘাম ঝড়ানো শরীরের হাস্যোজ্জ্বল মুখের কারন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসা দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাথা ব্যথা আর মানসিক চাপ এবং শারীরিক শ্রমের সফলতার প্রতিচ্ছবি।

এরপরও, কোন পোশাক কারখানায় কবে আগুন লেগেছে, শ্রমিকদের ধর্মঘট চলেছে; এমন দুঃসংবাদ গুলো গণমাধ্যম তথা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত গতিতে। অথচ, এমন দুই একটা দুংসংবাদের চাপে অপ্রকাশিত থেকে যায় বিশ্ব বাজারে অর্জিত এদেশের পোশাক খাতের গর্ব করার মত খবর গুলো।

আপনারা হয়তো জানেন না যে, ঐ দুঃসংবাদ গুলোর বিস্তর প্রচার বিশ্ব বাজারে পোশাক খাত সম্পর্কে কতটা negative ধারনা সৃষ্টি করে। আর, সেই ধারনা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দূর্বলতা তথা এই দেশের মানুষ সম্পর্কে এক প্রকার খারাপ ধারণা সৃষ্টি করে।

কারন, আমরা শুধু দূর্ঘটনা গুলো তুলে ধরি; কিন্তু নিজেদের সফলতার গল্প তুলে ধরি না।

যে শ্রমিক মারা গেছেন; তার জন্য আমরা সম্মান, ভালবাসা প্রকাশ করি। কিন্তু, সে যতদিন বেঁচে ছিলেন, তখন তার কোন সংবাদপত্রে তো দূরে থাক; কোনদিন তার হাতে হাত রেখে বলেনি যে, "আপনার শ্রমেই আমরা সফলতার মুকুট পাই।"

সুতার উৎপত্তি থেকে শুরু করে পোশাক ক্রেতা পর্যন্ত সকল সম্পৃক্ত ব‍্যক্তিদের ব‍্যর্থ এবং সফল শ্রমেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

হয়তো, সবার আরেকটু সাহায্য আর উৎসাহে আমরা পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় থেকে প্রথম স্থান অর্জন করতে পারি খুব দ্রুত 😊

কৃতজ্ঞতা এবং প্রত‍্যাশা জানাই তাই এই দেশের প্রতিটি জীবিত ও মৃত মানুষের কাছে; এবং প্রতিটি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।

Copied from
Farhana Afroze Shraboni

"বস্ত্র প্রকৌশলী" না "দর্জি"