ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :
ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।
ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?
সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?
1. Label Shade :-
যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।
কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।
2. Eye Shade :-
এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?
এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে ।
Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-
ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন :-
1. 1st Wash Stage এ
সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
2. 2nd Wash Stage এ
2nd washকরার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়।
সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
Shade Approval কে বা কারা দেয় ?
বাংলাদেশে এখনো এক এক ফ্যাক্টরিতে বা Buying House এ একেক ধরনের নিয়ম প্রচলিত আছে। কোন কোন জায়গায় ওয়াস Approval মার্চেন্ডাইজার, আবার কোন কোন জায়গায় ওয়াস টেকনিশিয়ানরা অ্যাপ্রভাল দেয়। আবার কোন কোন ফ্যাক্টরিতে কিউসি ম্যানাজার অথবা জিএম রা দেয়। যে বা যারাই Wash Approval দেন না কেন, তাকে ওয়াশিং সম্পর্কে কিছুটা বেসিক ধারণা রাখতে হয়। যেমন,
A. ফেব্রিক এর ধরন ।
B.গার্মেন্টস লেডিস নাকি জেন্টস নাকি Kids ।
C.এটা কোন সিজনে ব্যবহার হবে ?
D.এটা কোন দেশে ব্যবহার হবে ? ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।
E. গার্মেন্টস এর Lab test গুলোকে কে প্রাধান্য দেয়া। ইত্যাদি।
একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, "যে জিনিস যে কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে সেই দৃষ্টিতে দেখা উচিত"। তেমনি পোশাককে পোশাকের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। ফ্যাশনেবল, আরামদায়ক, সুন্দর ফিটিং, দেখতে ভাল ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রেখে Wash Approval দিতে হয়। কেউ কেউ গার্মেন্টসের সেড নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাথা ঘামায়। সামান্য 19/20 টলারেন্স দিতে চায়না, তখন মাল Rewash করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর Rewash করে করে খুব ভালো রেজাল্টও কিন্তু পাওয়া যায় না।
একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, একজন ক্রেতা প্রথমে দেখে ডিজাইন অতঃপর দেখে ফিটিং তারপরে ওয়াশের ইমেজ বা Dry process গুলো। তারপর সে decision নেয় সে Blue jeans কিনবে নাকি Grey না-কি Black নাকি অন্য কিছু!!! সেডের ব্যাপারটা আসে তারপরে।
সবকিছু ছাপিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট এর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ল্যাবটেষ্ট গুলো। কারণ টেস্টে ফেল করলে কোন গার্মেন্টস শিপমেন্ট হবেনা । Re-Wash করে যদি গার্মেন্টসের Tearing Problem হয়ে যায় তবে সেডের বড় ধরনের সমস্যা না থাকলে সেডের জন্য Rewash না করাই ভালো। এইজন্য আগে Lab Test গুলো ওকে থাকতে হবে। তাই Lab Test কে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত।
লেখকঃ
রানা তালুকদার শ্রাবণ।
"Quality Assurance BD (QA) Page"
ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা | Shade Problem in Denim Wash
Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-
ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।
1. 1st Wash Stage এ সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
2. 2nd Wash Stage এ 2nd wash করার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়। সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক।
লেখকঃ
হাসান কবির
আরএন্ডডি এক্সিকিউটিভ
ওয়েট প্রসেস
Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি
বিভিন্ন ধরনের ওয়াশ
1.এনজাইম ওয়াশ:
যে ওয়াশিং পদ্ধতিতে এনজাইম ব্যবহার করা হয় তাকে এনজাইম ওয়াশ বলে। এই এনজাইম নিরপেক্ষ বা অ্যাসিড হতে পারে যা শেডের চাহিদার উপর নির্ভর করে। এই এনজাইম ওয়াশ পোশাকে বিভিন্ন ধরনের ঘর্ষণ ইফেক্ট উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ফলে, পোশাক দেখতে খুব সুন্দর হয়। এনজাইম ওয়াশের প্রধান লক্ষ্য কোনো নিট পোশাকের চেহারা পরিবর্তন করা।
2. স্টোন এনজাইম ওয়াশ বা ভারী এনজাইম ওয়াশ:
এই ওয়াশিং পদ্ধতিতে , এনজাইম এবং পাথর পোশাকে ভারী ঘর্ষণ ইফেক্ট উৎপাদনের জন্য একসাথে ব্যবহার করা হয়। এখানে, ওয়াশিং এর সময় পোশাকের ক্ষতি এড়াতে কিছু সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত। এই ক্ষতি এড়ানোর জন্য, খুব ছোট পাথর ব্যবহার করা হয়। এই ওয়াশিং এর প্রধান লক্ষ্য
নিট পোশাকের উপর ভারী ঘর্ষণের প্রভাব সৃষ্টি করা।
3. রাবার বল ওয়াশ:-
রাবার বল ওয়াশ একটি পোশাক ও সফটনার ওয়াশ ছাড়া আর কিছুই না। এই প্রক্রিয়া, পোশাকে একটি সময় ঘর্ষণের একটি স্তর আসবে এবং গার্মেন্টস আরো নরম হবে। যখন কোন নিট পোশাকে অধিক পরিমাণে হ্যান্ড-ফিলের পাশাপাশি ঘর্ষণের ইফেক্ট দরকার হয় তখন এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
4. হট ওয়াশ:
সাধারণত পোশাকে হট ওয়াশ ব্যবহার করা হয় পোশাকের সংকোচনজনিত সমস্যা দূর করার জন্য যা গার্মেন্টসের বিভিন্ন ট্রিটমেন্টের কারণে হয়ে থাকে। হট ওয়াশ কোন গার্মেন্টস তৈরী করার আগেই সম্পন্ন করা উচিত। এটা লক্ষনীয় যে, যখন একটি গার্মেন্টসে কোন ট্রিটমেন্ট করা থাকে যেমন- গার্মেন্টস ডাই, কোল্ড ডাই, p.p স্প্রে ইত্যাদি তবে, পোশাক প্রস্তুত করার পূর্বে পোশাকটিকে হট ওয়াশ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অন্যথায়, এটি পরিমাপের সময় সমস্যার সৃষ্টি হবে।
5. সফটনার সিলিকন ওয়াশ:
যখন কোন নিট পোশাকে হ্যান্ড-ফিল এবং অধিক কোমলতা প্রয়োজন হয় তখন এই ওয়াশিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ওয়াশের জন্য, সফটনার এবং সিলিকন উভয় একসাথে ব্যবহার করা হয় যেখানে সিলিকন সফটেনিং এর জন্য এবং সেলুলোজ সারফেস শ্লিপারের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই সফটনার ক্যাটাওনিক বা নন-আয়োনিক হতে পারে।
.
6. অ্যাসিড ওয়াশ:
এই ওয়াশের প্রধান লক্ষ্য পোশাকের উপর অমসৃণ চেহারা উৎপাদন। অ্যাসিড ওয়াশ পটাশ এবং পাথর দ্বারা সম্পন্ন করা হয়।
প্রথমে, স্টোনকে পটাশের সলুশনে ডুবাতে হবে তারপর সামান্য শুষ্ক পাথর এবং একটি ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে ওয়াশ করে ফেলতে হবে। সবশেষে আমরা গার্মেন্টসের একটি অমসৃণ লুক দেখতে পাব।
গার্মেন্টস ওয়াসের কিছু প্রকারভেদ | Garment Wash
বিভিন্ন ধরণের ওয়াশিং সম্পর্কে আলোচনা
জিন্স ছাড়া এখনকার সময়ের ফ্যাশন অসম্পুর্ন। নানা ধরণের ওয়াশিং প্রসেস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন লুকের জিন্স খুব সহজে সব ধরণের পোশাকের সাথে মানিয়ে যায়। জিন্সকে এখনকার ফ্যাশন আইকন বল্লে ভুল হবে না। বিশ্বাস করতে কঠিন লাগে একসময় জিন্স প্যান্ট ছিল শুধু খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের পোশাক। স্পিনিং পদ্ধতির ব্যাপক উন্নতি,ওয়াশিং ম্যাশিন এবং নান্দনিক ফিনিশিং সিস্টেম ডেনিম জিন্স কে এ যুগের ফ্যাশন আইকনে পরিণত করেছে । আজকে কথা বলব জিন্সের বিভিন্ন ধরণের ওয়াশিং সম্পর্কে ।
স্টোন ওয়াশ
ডেনিমের সবচেয়ে পরিচিত ওয়াশ স্টোন ওয়াশ । স্টোন ওয়াশ ফেব্রিককে পুরাতন চেহারা দান করে । স্টোন ওয়াশের জন্য হালকা ওজোনের পিউমিচ পাথর দরকার হয় । পাথর ফেব্রিকের উপড়ের অংশকে ঘষে তাতে রঙের বৈপরীত্য তৈরি করে, একই সঙ্গে স্মুথনেস বৃদ্ধি করে ।
পাথর দিয়ে ঘষার ফলে ফেব্রিকের উপরিতলের ফাইবার ভেঙে পরে এবং ভেতরের ওয়ার্প সূতার সাদা ফাইবার গুলো সামনে ভেসে ওঠে । প্যান্টের বিভিন্ন অংশ পাথরের ঘর্ষন খেয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একটা আলাদা ধরণের অবয়ব পায় ।
ব্লিচ ওয়াশ
ব্লিচ ওয়াশ করতে কোন পাথরের প্রয়োজন পরে না। বাহক হিসেবে এখানে অক্সিডেটিভ ব্লিচিং এজেন্ট ব্যাবহার করা হয় । ব্লিচিং এজেন্ট যেমন ব্লিচিং পাউডার (সোডিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড) ব্যাবহার করা যেতে পারে ।
আরও অনেক এজেন্ট রয়েছে তার মধ্যে সোডিয়াম বাইকার্বনেট অন্যতম । সম্প্রতি ডেনিব্লিচ টেকনিক নামের নতুন একটি বায়ো ব্লিচিং টেকনিক আবিষ্কৃত হয়েছে ।
এনজাইম ওয়াশ
জৈব অণুঘটক দিয়ে ওয়াস করার পদ্ধতিকে এনজাইম ওয়াস বলে । এনজাইম ওয়াস করলে ফেব্রিক অনেক বেশি মসৃণতা অর্জন করে । এনজাইম ওয়াশ অনেকটা পানি বিকর্শী বিক্রিয়ার মতই যা ঘটে এনজাইমের সাহায্যে এবং এটি ফেব্রিকের উপরিতলের স্মুথনেস ও সফটনেস বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে ।
আইস বা স্নো ওয়াশ
ফেব্রিক কে পাথরের সাথে ভিজিয়ে রেখে পরে তাকে ব্লিচিং এজন্টের সাহায্যে শুষ্ক করার মধ্য দিয়ে স্নো বা আইচ ওয়াসিং সম্পন্ন হয় । এ ওয়াশ স্নো প্যাটার্নের মতই প্রভাব নিয়ে আসে ডেনিম ফেব্রিকের উপড় ।
স্টোন ওয়াসিং এর মত এখানে পাথর ব্যাবহার করা হলেও, রং চটা স্ট্রাইপ তৈরির জন্য ফেব্রিকের গাঁয়ে রসায়নকে অসমভাবে জমা করাই এখানে পাথর ব্যাবহারের উদ্দেশ্য । রসায়নগুলো ফেব্রিকের উপড় থেকে শুধু রং গুলোকে উঠিয়ে ফেলে এবং তুষার কনা জমে গেলে যেমন লাগে ফেব্রিক ঠিক তেমনই চিত্র ধারণ করে । একে এসিড ওয়াসও বলা হয়ে থাকে।
স্যান্ড ব্লাস্টিং ওয়াশ
এ পদ্ধতিতে এলুমিনিয়াম অক্সাইড গ্রানুলাস কে দ্রুতগতিতে ফেব্রিকের উপড়ে ব্লাস্ট করা হয় । এলুমিনিয়াম অক্সাইড গ্রানুলাস একটি বালি জাতীয় পদার্থ । এতে যে ঘর্ষন বল উৎপন্ন হয় তা ফেব্রিকের ভেতরের ইন্ডিগো দিয়ে ডাই করা ফাইবার গুলোর রংকে মুছে ফেলে ।
আটারি ওয়াশ
জাপানী শব্দ আটারি বলতে বোঝায় প্যান্টের বিভিন্ন কুঁচকানো অংশের ঢালে ঢালে রং ফেড করা। আটারি করা হয় এমন অংশের মধ্যে রয়েছে সিম লাইনের দু পাশ, হাটুর সামনে ও পেছনে, বেল্ট লুপে , পকেটের সিম লাইনে ইত্যাদি।
রিভার ওয়াশ
পিউমিচ স্টোন ও সেলুলোজ এনজাইমের সমন্বয়ে যে ওয়াশিং ডেনিমকে বহুবছরের পুরাতন চেহারা দান করে তাকেই রিভার ওয়াশিং বলে। রিভার ওয়াশিং এর জন্য ওয়াসারকে প্রথমে পাথর ও ফেব্রিকের পুর্ন করা হয় এবং পরে তাতে এনজাইম দেয়া হয় । এরপর শুকানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় যতক্ষণ না তা প্রাকৃতিক পুরাতন লুক লাভ করে ।
লেখাঃ
Md Mizanur Rahman
বিভিন্ন ধরণের গার্মেন্টস ওয়াশিং সম্পর্কে আলোচনা | Garment Wash
ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :
ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।
ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?
সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?
1. Lable Shade :-
যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।
কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।
2. Eye Shade :-
এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?
এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে।
ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা | Shade Problem in Denim Wash
ডেনিম ওয়াশিং এ Enzyme এবং Anti-Back Staining Agent নিয়ে কিছু কথা
Enzyme :
Enzyme Cellulose কে কিছুটা hydrolyze করে। এবং Fabric surface থেকে Color remove করতে শুরু করে। সেই সাথে Weft এর Abrasion effect বাড়িয়ে দেয়। শুরুতেই Fabric এর খুব গভীর থেকে Color কাটা সাধারণত Enzyme এর কাজ নয়। এখন আমাদের মার্কেটে বেশ কিছু Enzyme রয়েছে যেগুলো খুব দ্রুত color কেটে Abrasion Effect বাড়িয়ে দেয়। এগুলো Enzyme এর কারনে Fabric এর Tearing এর সমস্যা হয় এবং Strength কমে যায় । এগুলো মার্কেটে সাধারণত Aggressive Enzyme নামে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে কিছুটা Bleaching property থাকে। আমার বেশ কিছু পরিচিত ফ্যক্টরী আছে যেগুলো ২০-২৫ মিনিটের বেশি Enzyme করতে ভয় পায়। ঐ!!
Tearing Problem. Cellulose Base Enzyme গুলো সাধারণত ২০-২৫ মিনিট পর কাজ করতে শুরু করে। এগুলো ৬০ মিনিট পর্যন্ত Run করলেও Fabric এর কোনো সমস্যা হয়না। অনেকটাই পরীক্ষীত এবং Certified.Cellulose Enzyme colour কম কাটে। Aggressive Enzyme এর সাথে Back Staining সসমানুপাতিক। মানে এখানে Back Staining এর প্রবনতা এবং পরিমান বেশি। Dark surface এর মধ্যে পরিস্কার যে Abrasion Effect দেখা যায় সেটাকে Contrast look বলে। এটা একটা Clean grey type look show করে। ঠিক এটাই Cellulose base Enzyme দিয়ে থাকে যা Basically Enzyme এর কাজ।
Anti-Back Staining Agent :
Enzyme Cellulose কে hydrolyze করার করনে Washing এর সময় Denim থেকে Indigo Dyes মুক্ত হয়ে bath এ চলে আসে। Long time এই bath run করার কারনে কিছু Dyes Cellulose এবং Polyester part এর সাথে অস্থায়ী bond গঠন করে। এই Process কেই back stain বলে। এই Back Staining reduce করার জন্য যেই Chemicals ব্যবহার করা হয় তাকেই Anti-Back Staining Agent বলা হয়। Aggressive Enzyme ব্যবহার করার কারনে এই সমস্যা বেশি হয়। Anti-Back Staining Agent এর একটা সুক্ষ ক্যলকুলেশন আছে।
মনেকরেন আপনি চিনির শরবত তৈরি করতে চাচ্ছেন। চিনি পুরোপুরি পানিতে গুলে যায় সেটা আমরা সকলেই জানি। আপনি ৫০০ মিলি পানিতে কিছুটা চিনি যোগ করলে দেখবেন তা সুন্দর ভাবে গুলে গেছে। কিন্তু যদি আপনি যোগ করতেই থাকেন!! একটা সময় পর দেখবেন চিনি আর গুলছে না। তলানি হয়ে পড়ে আছে। এর কারন হচ্ছে, প্রত্যেক টা দ্রাবক অনুর একটা Saturated level আছে। সেটা অতিক্রম করে গেলে Solution টা Perfect Clear হয়না।
এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, Enzyme এ যতো বেশি color কাটবে Back Stain এর সমস্যা ততো বাড়বে।
Writer : Md. Enamul Haque Sajib
References :
1. Pure Chemicals Technical Team (Agent of SOKO, Italy)
2. Google
ডেনিম ওয়াশিংয়ে Enzyme এবং Anti-Back Staining Agent নিয়ে কিছু কথা
Route cause of lycra breakage.
ল্যাকড়া
ল্যাকড়া কি?? এটি আসলে একটি সিনথেটিক বা ম্যানমেইড ফাইবার যা টেক্সটাইল র'ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আমেরিকার বিখ্যাত টেক্সটাইল কেমিস্ট জোসেফ শিভার্স ১৯৫০ সালে এই ফাইবারটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যার নাম দেওয়া হয় পলিইথার পলিইউরিয়া কপোলিমার (HO[-(CH2)mO-]n-(CH2)m-OH).
যেটাকে আমরা ল্যাকড়া নামে চিনি।জাতিগত এবং ভৌত অবস্থার ভিত্তিতে এর নাম স্পানডেক্সও রাখা হয়।
আধুনিকায়ন এবং যশ খ্যাতি বাড়ানোর জন্য বর্তমানে এটির ব্রান্ড নাম দেওয়া হয় ইলাস্টেন।
ল্যাকড়া নিটিং প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যেমনটি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড (H2O2) ভেজা করন প্রক্রিয়ায় আষ্টেপৃষ্ট ভাবে জড়িয়ে রয়।
অনেক ক্ষেত্রে উইভিং প্রক্রিয়ায়ও এই ল্যাকড়া আনুপাতিক হারে ব্যবহার করা হয়।
এবার শিরোনাম প্রসঙ্গে আসি.
বর্তমান সময়ে বুনন প্রক্রিয়ায় ডেনিম ফ্যাব্রিকে ল্যাকড়া ব্যবহারের প্রচলনটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারন এর ইলাস্টিসিটি আমাদেরকে একটা কম্ফোর্ট ফিলিংস দেয় এবং খুব সহজেই পরিচর্যা করা যায়।
এই ল্যাকড়া যদি কোনভাবে ছিঁড়ে যায় কিংবা কেটে যায় তাহলে ফ্যাব্রিকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং ফ্যাব্রিকে তরঙ্গভাব চলে আসে যা আমাদের কম্ফোর্ট ফিলিংসটা বিনষ্ট করে দেয় এবং ফ্যাব্রিকের বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে।
এখন কথা হচ্ছে এই ল্যাকড়া ঠিক কি কারনে ভেঙ্গে কিংবা ছিঁড়ে যায় ?
ল্যাকড়া ব্রেকেজের অনেকগুলো কারন আছে তারমধ্যে আমি উল্লেখযোগ্য মূখ্য কিছু কারন গুলো তুলে ধরলাম-
১. ভুল ডিজাইন ( ফেব্রিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন যেমন টুইল, ট্যাপেড, উলম্ব, জিগজ্যাগ, শেডিং, ডায়মন্ড ইত্যাদি ) এবং মিস উইভের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।এছাড়াও উইভিং মেশিন বা নিটিং মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।
২. ওয়েট এবং ড্রাই প্রসেস স্টেজে রেসিপি অনুযায়ী কেমিক্যালের সামঞ্জস্যতা না থাকা।
৩. ডিসাইজিং প্রসেসে অতিরিক্ত কস্টিক সোডা(সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড - NaOH) এবং সোডা এ্যাশ ( সোডিয়াম কার্বোনেট - Na2CO3 ) ব্যবহার করা।
৪. ড্রাইং মেশিন,ওয়াশিং মেশিন ও ডাই বাথ এর সময় এবং তাপমাত্রার সামঞ্জস্যতা না রাখা।
৫. ওয়েট প্রসেসিং স্টেজে এন্টি স্লিপিং এজেন্ট বা ল্যাকড়া প্রটেক্টর কেমিক্যাল ব্যবহার না করা।
৬. ফেব্রিক সেলাই করার সময় ভোঁতা নিডেল এবং এবং মোটা নিডেল ব্যবহার করা।
৭. সেলাই করার সময় কাপড়ের উভয় পড়তার সামঞ্জস্যতা না রাখা।
৮. রোটেশন পার মিনিট (RPM) অর্থাৎ সুইং মিশেনের অতিরিক্ত গতির কারনেও ল্যাকড়া বেক হতে পারে।
৯. সুইং মেশিনের সুতার অতিরিক্ত টানভাবের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে।
১০. সুই মেশিনের প্রেশার বিট টাইট থাকার কারনে ল্যাকড়া ব্রেকেজ হতে পারে।
১১. অতিরিক্ত সেলাইয়ের ঘনত্বের কারনে ল্যাকড়া ব্রেক হতে পারে (বিশেষ করে বারট্যাক এরিয়াতে)।
ধন্যবাদ সবাইকে
মোঃ হাসান
জিপিকিউ টেসকো
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড।
ল্যাকড়া ডেমেজের কারন | Route cause of lycra breakage.
ডেনিম ওয়াশ এ সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash :
ডেনিম গার্মেন্টস ওয়াশ করার পরে অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন সেড আসাটা একটি পুরনো সমস্যা। অনেক ভালো ভালো ডেনিম এক্সপার্ট এর উপরে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন এবং তাদের মতামত দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও সেডের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি ।
ধরেন 20000 পিস ডেনিম লং প্যান্ট এর একটি অর্ডার হলো। তাহলে আমাদের ফেব্রিক্স দরকার হবে 20000×1.4= 28000 গজ ফেব্রিক। সাধারণত ডেনিম ফেব্রিক্স 100 থেকে 120 গজের রোল হয়ে থাকে। তাহলে, আমাদের রোল হবে 233 থেকে 250 টি। ধরলাম 250 টি ফেব্রিক রোল হলো। এখন 250 রোলের ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করার পরে দেখা গেলো, দশ-বারোটি সেড আছে। বায়ার কিন্তু ঠিকই জানলো দশ-বারোটি সেড আছে কিন্তু তিনি কখনই এতগুলো সেডের অ্যাপ্রোভাল দিবেন না। বড় জোর তিন বা চারটি সেড এপ্রুভড করবেন । এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি সেডগুলোকে কি করবেন ?
সুইং এর পরে গার্মেন্টস যখন ওয়াশিং প্লান্ট এ যাবে, তখন ওয়াশিং প্লান্ট যে ৩/৪ কি Shade, Approval পেয়েছে, তার ভিতরেই সে সেড ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কিভাবে?
1. Lable Shade :-
যেহেতু ব্ল্যাঙ্কেট এ সব সেড পাওয়া গেছে অতএব ব্লাঙ্কেটের Approved সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে A,B,C,D ইত্যাদি গ্রুপে শ্রেণীবিভক্ত করে A,B,C,D জাতীয় সেড লেভেল লাগিয়ে দিয়ে অতঃপর সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাটাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত। এতে গার্মেন্টস গুলোকে ওয়াশিং প্লান্ট -এ এনে পুনরায় সেডিং করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে ম্যানপাওয়ার, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়।
কিন্তু Accurate ভাবে সেড লেভেল লাগাতে সুইং ফ্যাক্টরি গুলোর প্রচুর অনীহা লক্ষ করা যায়। অথচ এটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে টেকসই সিস্টেম। এতে করে ওয়াশিং প্লান্ট গার্মেন্টস গুলোকে সেড লেভেল অনুযায়ী, অর্থাৎ শুধুমাত্র ABCD দেখে দেখেই খুব তাড়াতাড়ি আলাদা আলাদাভাবে ওয়াশ করতে পারে।
2. Eye Shade :-
এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিং প্লান্ট এ গার্মেন্ট গুলোকে চোখে দেখে দেখে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং ওজন করে ওয়াশ করা হয়ে থাকে। এটা একটি পুরনো ও চলমান প্রক্রিয়া। যদি সুইং ফ্লোর থেকে সেড লেভেল না লাগিয়ে ওয়াশ এ পাঠানো হয় তবে Eye Shade ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন সেড-ই যাতে অ্যাপ্রোভালের বাইরে না যায়। ধরা যাক, বায়ার আমাকে ABC তিনটি সেড Approved দিয়েছে। A সেড একটু ডার্ক, B সেড মিডিয়াম এবং C সেড কিছুটা লাইটার। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি ?
এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে B সেড সামনে নিয়ে এগুতে হবে। যাতে Bulk এর মাল কিছুটা Light-Deep হলেও A এবং C এর মধ্যে থাকে। যদি আমরা A অথবা C সেডকে ধরে মাল ওয়াশ করি তাহলে ওয়াশ শেষে দেখা যাবে, আমাদের মাল ৫০% Dark অথবা ৫০% Light হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বায়ার না মানলে ফিফটি পার্সেন্ট গার্মেন্টস Rewash করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু B সেড কে ধরে ওয়াশ করলে Bulk এর মাল কিছুটা ডিপ লাইট হলেও অন্তত Approvals-এর In Between থাকবে ।
Washing plant এর Shade Control পদ্ধতি :-
ওয়াশিং প্লান্ট কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গার্মেন্টসের সেড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন :-
1. 1st Wash Stage এ
সাধারণত Unwash অবস্থায় ( Dry Process) থাকলে Dry process এর পরে ফেব্রিকের সেড অনুযায়ী গার্মেন্টস গুলোকে পৃথক করা হয়। পৃথক করা গার্মেন্টস কে আলাদা করে আলাদা মেশিনে ওয়াশ করা হয়। 1st wash এর পরেও কিছু সেড variation পাওয়া যায়। এ অবস্থায় গার্মেন্টসকে P P সহ 2nd Dry Process করে 2nd wash করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। 1st Wash পর্যায়ে সেড নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিসাইজিং এর সময় কম বেশি করা হয়, এনজাইমের সময় ও পরিমাণ কমবেশি করা হয় এবং যদি Bleach থেকে থাকে তবে ব্লিচিং এর সময় ও পরিমাণ কমবেশি করে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
2. 2nd Wash Stage এ
2nd washকরার আগে পুনরায় গার্মেন্টস গুলোকে সেড অনুযায়ী পৃথক করা হয় এবং সেই সেড ধরেই দ্বিতীয়বার অর্থাৎ 2nd wash করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ফাইনাল ওয়াস। এ পর্যায়ে বডি গুলোকে নিউট্রাল করে ক্লিন আপ করা হয়, তারপর যদি Tint থাকে তাহলে Tinting করে Softner করে Final wash সম্পন্ন করা হয়।
সেকেন্ড ওয়াশ পর্যায়েও যদি কিছুটা ব্লিচিং করার প্রয়োজন হয় তবে তা সম্পন্ন করা হয়। তারপরে সঠিকভাবে কালার এর মাধ্যমে Tinting করে Softner করার মাধ্যমে সেড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
আবার একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন বায়ারই Mixed কার্টুন পছন্দ করেনা। সব Buyer ই চায় 1carton 1shade. এই জন্য গার্মেন্টস ফিনিশিং টিমকে সেটা বুঝতে হবে এবং একটা সেডের মাল একটা কার্টুনের রাখতে হবে। এজন্য সেড লেভেল অনুযায়ী ওয়াশ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
Shade Approval কে বা কারা দেয় ?
বাংলাদেশে এখনো এক এক ফ্যাক্টরিতে বা Buying House এ একেক ধরনের নিয়ম প্রচলিত আছে। কোন কোন জায়গায় ওয়াস Approval মার্চেন্ডাইজার, আবার কোন কোন জায়গায় ওয়াস টেকনিশিয়ানরা অ্যাপ্রভাল দেয়। আবার কোন কোন ফ্যাক্টরিতে কিউসি ম্যানাজার অথবা জিএম রা দদেয়। যে বা যারাই Wash Approval দেন না কেন, তাকে ওয়াশিং সম্পর্কে কিছুটা বেসিক ধারণা রাখতে হয়। যেমন,
A. ফেব্রিক এর ধরন ।
B.গার্মেন্টস লেডিস নাকি জেন্টস নাকি Kids ।
C.এটা কোন সিজনে ব্যবহার হবে ?
D.এটা কোন দেশে ব্যবহার হবে ? ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।
E. গার্মেন্টস এর Lab test গুলোকে কে প্রাধান্য দেয়া। ইত্যাদি।
একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, "যে জিনিস যে কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে সেই দৃষ্টিতে দেখা উচিত"। তেমনি পোশাককে পোশাকের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। ফ্যাশনেবল, আরামদায়ক, সুন্দর ফিটিং, দেখতে ভাল ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রেখে Wash Approval দিতে হয়। কেউ কেউ গার্মেন্টসের সেড নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাথা ঘামায়। সামান্য 19/20 টলারেন্স দিতে চায়না, তখন মাল Rewash করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর Rewash করে করে খুব ভালো রেজাল্টও কিন্তু পাওয়া যায় না।
একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, একজন ক্রেতা প্রথমে দেখে ডিজাইন অতঃপর দেখে ফিটিং তারপরে ওয়াশের ইমেজ বা Dry process গুলো। তারপর সে decision নেয় সে Blue jeans কিনবে নাকি Grey না-কি Black নাকি অন্য কিছু!!! সেডের ব্যাপারটা আসে তারপরে।
সবকিছু ছাপিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট এর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ল্যাবটেষ্ট গুলো। কারণ টেস্টে ফেল করলে কোন গার্মেন্টস শিপমেন্ট হবেনা । Re-Wash করে যদি গার্মেন্টসের Tearing Problem হয়ে যায় তবে সেডের বড় ধরনের সমস্যা না থাকলে সেডের জন্য Rewash না করাই ভালো। এইজন্য আগে Lab Test গুলো ওকে থাকতে হবে। তাই Lab Test কে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত।
লেখকঃ
রানা তালুকদার শ্রাবণ।
"Quality Assurance BD (QA) Page"
ডেনিম ওয়াশে সেড সমস্যা: Shade Problem in Denim Wash
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)







