Textile Lab | Textile Blog: Fashion Brand
ফ্যাশন আইকন এবং সেনসেশন্যাল ব্র্যান্ড হিসেবে গুচির পণ্যসামগ্রী বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় ও সমাদৃত। বিশ্বের অভিজাত শ্রেণীর অনেকের কাছে প্রধান পছন্দের তালিকায় রয়েছে গুচি ব্র্যান্ডের হাতব্যাগ, তৈরি পোশাক, জুতা, ঘড়ি, মেকআপ পণ্য ও সুগন্ধি। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ফ্যাশন ব্র্যান্ড গুচি।

 ১০০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৯২১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ও ব্যবসায়ী গুচিও গুচি ইতালির ধনী এবং ফ্যাশনেবল উচ্চবিত্তদের জন্য বিলাসবহুল লাগেজ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। এই ১০০ বছরে (২০২০ সাল শেষে) গুচি কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, গুচিও গুচির নামের শেষাংশ থেকে গুচি ব্র্যান্ডের নামকরণ করা হয়।
গুচি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা গুচিও গুচির প্রাথমিক জীবনের পরিস্থিতি এবং কিশোর বয়সে লন্ডনের সেভয় হোটেলে কাজ করা কীভাবে তাকে ব্যবসায় প্রভাবিত করেছিল, সে সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। তবে অনেকে মনে করেন, মার্জিত উচ্চশ্রেণীর হোটেলে অতিথিদের আনাগোনা এবং এইচ জে কেভ অ্যান্ড সন্সের মতো লাগেজ কোম্পানি তাকে ভ্রমণ ব্যাগ এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী তৈরি করার কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি লন্ডন থেকে ফ্লোরেন্সে ফিরে যান এবং সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি ছিল পরিবারের একক মালিকানাধীন চামড়ার দোকান এবং পণ্যের মধ্যে ছিল ঘোড়সওয়ারদের জন্য স্যাডল, চামড়ার ব্যাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। 

গুচিও গুচি তার ছেলে আলডোর জেদের কারণে ১৯৩৮ সালে রোম শহরে দ্বিতীয় দোকান খোলেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৫১ সালে গুচিও গুচি মিলান শহরে তাদের তৃতীয় দোকান খোলেন। তিনি ব্যবসা ছোট রাখতে চেয়েছিলেন এবং যখন তিনি বেঁচেছিলেন, কোম্পানিটি কেবল ইতালিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরিবারের বড় ছেলে আলডো গুচি ব্র্যান্ডটিকে একটি আন্তর্জাতিক পাওয়ার হাউজে পরিণত করেছিলেন। গুচিও গুচির মৃত্যুর (১৯৫৩ সালে) দুই সপ্তাহ আগে তার ছেলে আলডো নিউইয়র্ক শহরে গুচি বুটিক দোকানটি খোলেন। পরে তিনি ব্যবসাকে ইউরোপের প্রধান শহরগুলোয় প্রসারিত করেছিলেন।


গুচিও গুচির মৃত্যুর পর ব্যবসার দায়িত্ব ছেলেরা নিজেদের হাতে তুলে নেন। নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর পরই গুচি ব্র্যান্ডটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রসারিত হয়েছিল এবং পণ্যসামগ্রীতে বৈচিত্র্যের দিকে নজর দেয়া হয়েছিল। অবশেষে একসময় একক ব্যক্তির মালিকানাধীন ব্যবসা পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত হয়।

বিশ্বে গুচি ব্র্যান্ডের সামগ্রীর সুনাম অবিসংবাদিত। অন্তত নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত গুচির বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রী এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুটি ভিন্নধর্মী গল্প দেখা যায়, যা একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িত ছিল। গুচি পরিবারের গ্ল্যামার ও ঐশ্বর্যের পেছনে সদস্যদের মধ্যে ছিল কোন্দল, ক্ষমতার লড়াই, লোভ-লালসা, হত্যা, প্রতারণা, যৌনতা, বিশ্বাসঘাতকতা, কারাগার এবং পশু নির্যাতনের মতো অসংখ্য বিষয় এবং এসব নিয়ে নানা ধরনের চমকপ্রদ ঘটনাও ঘটেছে। তাই গুচি পরিবারের কাহিনী শোনার পর কিংবা পড়ার পরে, প্রায় সবারই মনে হবে গুচি পরিবার যেন আলোকিত প্রদীপের নিচে জমে থাকা গাঢ় অন্ধকার। বর্তমান নিবন্ধে সেসব অন্ধকার জগতের কাহিনী থেকে বাছাই করা কয়েকটি ঘটনা তুলে করা হলো।

তবে মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে গুচির তত্কালীন চিফ ডিজাইনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পাওলো গুচি (গুচিও গুচির নাতি ও আলডো গুচির ছেলে) এবং তার স্ত্রী জেনি গুচি সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। জেনি যখন ফ্লোরেন্সে পড়াশোনা করতেন, তখন তিনি পাওলো গুচির নজরে পড়েন। জেনি ছিলেন যুবতী ও সুন্দরী। তার প্রতিভারও কমতি ছিল না। তার ছিল অপেরা গানের সুললিত কণ্ঠস্বর। অন্যদিকে পাওলো ছিল শৈল্পিক মনের মানুষ ও সৃজনশীল। তারা ১৯৭৭ সালে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের প্রথম দিকের দিনগুলোকে জেনি ‘সম্মোহনী মৃদু অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এক দশকের মতো সংসার করার পরে জেনির কাছে পাওলোর ব্যক্তিত্বের অজানা দিকটি ক্রমেই বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তখন জেনির প্রতি পাওলো আরো নিষ্ঠুর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। জেনি স্বামীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বিচ্ছেদের পথে অগ্রসর হন।

জেনি গুচির লেখা বই ‘গুচি ওয়ারস: হাউ আই সার্ভাইভড মার্ডার অ্যান্ড ইন্ট্রিগ অ্যাট দ্য হার্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস বিগেস্ট ফ্যাশন হাউজ’ প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯ সালে। গুচি পরিবারের সদস্যা হিসেবে তিনি কেবল গুচির বিশাল ব্যবসার দিকটিই তুলে ধরেননি, বরং স্বামী পাওলোর সঙ্গে তার রোমান্স, দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস, বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, বিশ্বভ্রমণ, অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদ এবং গুচি পরিবারের বিভিন্ন অজানা ও অবিশ্বাস্য কাহিনী—যেমন সহিংসতা, খুন, অপরাধ এবং জেলের সময়, দেউলিয়া ও মনস্তাত্ত্বিক নিষ্ঠুরতার মতো বিষয়গুলো বাইরের মানুষের সম্মুখে নিঃসংকোচে তুলে ধরেছেন।

এ কথা সত্যি যে গুচি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা গুচিও গুচির হাত ধরেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। তার ঔরসে পাঁচ ছেলে (একজন শৈশবে মারা যায়) ও এক মেয়ে ছিল। তিনি কোম্পানির বিভিন্ন দায়িত্বে ছেলেদের নিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু মেয়েকে কোনো দায়িত্ব দেননি। তখন থেকে কোম্পানির মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ভাইদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিয়েছিল এবং গত শতকের আশির দশকে সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরো পরিবারের মধ্যে গুরুতর বিষয় হয়ে ওঠে।

তবে গুচি পরিবারের ক্লাইম্যাক্স ছিল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের শেয়ার বিক্রি করে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। যেমন ১৯৯৪ সালে বিশ্বের সংবাদমাধ্যম পাওলো গুচির নিউইয়র্ক এস্টেটের সংবাদ প্রকাশ করে যে এস্টেটের মালিক তার কর্মীদের বেতন দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং তার আরব ঘোড়াগুলোকে ক্ষুধার্ত রেখেছিলেন এবং তার পরিণতিতে ছয়টি ঘোড়া মারা যায়। ঘোড়াগুলোকে ক্ষুধার্ত রেখে পাওলো প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে জেনির সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের নিষ্পত্তি করার মতো অর্থকড়ি তার কাছে নেই।

অন্য ভাইদের মৃত্যু হলে আলডো তার সবচেয়ে ছোট ভাই রোডলফোর সঙ্গে ব্যবসা সমান দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। কিন্তু আলডো ও তার তিন ছেলে রোডলফোর মালিকানা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন। কেননা তারা মনে করেছিলেন যে প্রাক্তন মুক চলচ্চিত্র অভিনেতা রোডলফো কোম্পানির অগ্রগতিতে যথেষ্ট অবদান রাখছেন না। তাই ভারসাম্যহীনতা প্রতিকারের জন্য আলডো একটি সুগন্ধিসহায়ক সংস্থা স্থাপন করেন এবং মুনাফা সঞ্চয় করার প্রচেষ্টায় নিজের এবং তার তিন ছেলের জন্য ৮০ শতাংশ মালিকানা রাখেন। তখন থেকে পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় এবং চূড়ান্ত ক্ষমতা লাভের জন্য বোর্ড রুমের সীমানা ছাড়িয়ে ঘটনা আইনি লড়াইয়ের জন্য আদালতে গিয়ে পৌঁছে। উদাহরণস্বরূপ, আলডোর ছেলে পাওলো তার নিজস্ব গুচি ব্র্যান্ড শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরিবারের বাকি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আলডো তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং পাওলোর সঙ্গে স্বাক্ষরকারী যেকোনো গুচি সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার হুমকি দিয়েছিল। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পাওলো তার পিতা আলডোর কয়েক দশকের কর ফাঁকির জন্য মামলা করেন। তখন আলডোর বয়স ৮০ বছরের বেশি এবং সে বয়সে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। অবশেষে মরিজিও গুচি (রোডলফো গুচির একমাত্র ছেলে) ব্যবসাকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যদিও বিশাল ব্যবসা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক জ্ঞানের অভাব ছিল তার।

গুচি পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক (হত্যাকাণ্ডের) ঘটনা ঘটে ২৭ মার্চ, ১৯৯৫ সালে। সেদিন সকালে তুমুল আলোচিত ও সমালোচিত মরিজিও তার মিলান অফিসের সিঁড়িতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। উল্লেখ্য, পৈতৃক সূত্রে গুচির মালিকানা পায় গুচিও গুচির নাতি মরিজিও গুচি। যদিও নির্মম ব্যবসায়িক কৌশল তার আত্মীয়দের শত্রু করে তুলেছিল এবং পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পেরে বেশ খুশি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী গুচি ব্র্যান্ডের বর্তমান খ্যাতি ও অত্যন্ত লাভজনক বিলাসবহুল পণ্য ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুর্ভাগ্য যে তার ক্রমবর্ধমান ঋণ তাকে তার অংশীদারিত্ব বিক্রি করে অর্থ আয় করতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি বাহরাইনভিত্তিক বিকল্প বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টকর্পের কাছে তার অংশ বিক্রি করেছিলেন।

যাহোক, মরিজিও গুচির হত্যার পরিকল্পনার দায়ে আদালত ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে নিহতের প্রাক্তন স্ত্রী প্যাট্রিজিয়া রেজানিকে— সাংবাদিকরা যার ডাকনাম দিয়েছিল ‘দ্য ব্ল্যাক উইডো’—দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেয়া হয় (যদিও তিনি দাবি করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে দোষী বানিয়ে কারাবাসের শাস্তি দেয়া হয়েছে)। তিনি ২০১৬ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে সেই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। মরিজিওর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে কি তার প্রাক্তন স্ত্রী প্যাট্রিজিয়া তাকে হত্যা করেছিল? প্যাট্রিজিয়া কি হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন, কারণ তার গ্ল্যামারাস প্রাক্তন স্বামী তার উপপত্নী পাওলা ফ্রাঞ্চিকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ?

তবে জানা যায়, প্যাট্রিজিয়া অনুভব করেছিলেন স্বামী মরিজিও গুচি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মনে করতেন, তিনিই মরিজিওকে সফল করেছেন। তার ভাষায়: ‘আমি তাকে প্রচণ্ড উৎসাহ দিয়েছি ও সহযোগিতা করেছি। তাই একসময় সে গুচির প্রেসিডেন্ট হয়েছিল।’ তিনি আরো মনে করতেন, নিজের ও তাদের দুই মেয়ের জন্য সম্পদের একটি বৃহত্তর অংশ তাদের প্রাপ্য। কিন্তু তাদের দুজনের মাঝে ফাঁক ছিল। প্যাট্রিজিয়ার ভাষায়, ‘আমি সামাজিক ছিলাম, সে মেলামেশা করতে পছন্দ করত না। আমি সবসময় বাইরে থাকতাম, সে সবসময় ঘরে থাকত।’ প্যাট্রিজিয়া উল্লেখ করেছেন, একবার তিনি মস্তিষ্কের টিউমার থেকে বেঁচে যান, কিন্তু সে (স্বামী মরিজিও) তাকে দেখতে যাননি। এ ঘটনায় তিনি ভীষণ আহত হয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, মরিজিও তার কাছ থেকে যা অর্জন করেছিল, তা সবই নিয়েছে।’ তাদের মধ্যে ভালোবাসার চেয়ে ঘৃণা এবং অবজ্ঞার পরিমাণ ছিল বেশি। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

মরিজিও গুচির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক এবং নারী লেখক সারা গে ফোরডেন রচনা করেন ‘দ্য হাউজ অব গুচি: আ সেনসেশন্যাল স্টোরি অব মার্ডার, ম্যাডনেস, গ্ল্যামার, অ্যান্ড গ্রিড’ গ্রন্থ এবং গ্রন্থটি ২০০০ সালে প্রকাশ হয়। এ গ্রন্থের কাহিনী অবলম্বনে সম্প্রতি হলিউডে নির্মিত হয়েছে রিডলি স্কট পরিচালিত ‘হাউজ অব গুচি’ সিনেমা, যা সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে। প্যাট্রিজিয়া রেজানির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মার্কিন পপ তারকা লেডি গাগা। অন্যদিকে মরিজিও গুচির ভূমিকায় আছেন অ্যাডাম ড্রাইভার এবং অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জারেড লেটো ও সালমা হায়েক।

যাহোক, জেনি গুচি তার গ্রন্থে গুচি পরিবারের এমন অনেক ঘরোয়া পরিবেশে সংঘটিত ঘটনা প্রকাশ করেছেন যে তা জানার পরে হয়তো গুচি সম্পর্কে অনেকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এখানে মাত্র দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যা জেনিকে নিয়ে ঘটেছিল। একবার জেনি একটি নৈশভোজ পার্টিতে দেরি করে পৌঁছেছিলেন এবং শ্বশুর আলডো কঠোরভাবে বলেছিলেন: ‘তুমি নিজেকে কী মনে করো, যে টেবিলে দেরিতে এসেছ? তুমি কেউ নও, কিছুই না।’ জেনি উত্তর দিয়েছিল: ‘আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। দয়া করে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। আমি দেরি করার জন্য দুঃখিত এবং পুনরায় ক্ষমা চাইছি।’ দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল এ রকম: আলডো ব্যবসার কাজে কয়েকদিনের জন্য বাইরে কোথাও গেলে নোংরা কাপড়চোপড় বাড়িতে নিয়ে আসত এবং পরিষ্কার করার জন্য জেনিকে হুকুম করত। জেনির ভাষায়: ‘তিনি (আলডো) বলতেন, আমি চাই তুমি সব কাজ করো। আমি বলতাম, আমি আপনার ছেলের বৌ। আপনার বেতনভুক্ত কর্মচারীদের একজন নই।’ উল্লেখ্য, বিয়ের পর থেকেই গুচি পরিবারের সঙ্গে জেনির কিছুটা মতবিরোধে ছিল। হয়তো সতর্ক করার জন্য আলডো তার ছেলে পাওলোকে বলেছিলেন, জেনি ‘ভালো মেয়ে, তবে অশান্তির বোঝা।’

বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে যেকোনো গল্পের মতো জেনির গ্রন্থে উল্লেখিত ঘটনাবলি পাঠকের মনে বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে। যেমন কেউ কেউ মনে করেন, গুচি পরিবারের অফিস ও বাসভবনে যা ঘটেছিল, তা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে অনেকে মন্তব্য করেছেন, জেনি গুচির গ্রন্থের উল্লেখিত ঘটনার মধ্যে সত্যতা রয়েছে। যদি তা না হয়, তাহলে কেন গুচি পরিবার ব্র্যান্ডের অধিকার হারাবে এবং বাইরের একটা প্রতিষ্ঠান ব্যবসা কিনে নেবে।

কথায় আছে, চকচক করলেই সোনা হয় না এবং গোলাপেরও কাঁটা আছে। বিশ্বজুড়ে গুচির পণ্যসামগ্রীর চাহিদা, সুনাম এবং ধনকুবের ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের ওয়ারড্রোবে পাওয়া গেলেও একসময় গুচি পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, এমনকি পুরো পরিবার ক্রমাগত ও আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন মামলায় লিপ্ত ছিল ছেলের বিরুদ্ধে বাবা, চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাচাতো ভাই। গ্ল্যামার এবং ঐশ্বর্যের পেছনে বিশ্বাসঘাতকতা, ঈর্ষা ও হত্যার ইতিহাসের এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ গুচি পরিবার। তাই বলা যেতে পারে, গুচি পরিবার যেন ‘আলোকিত প্রদীপের নিচে গাঢ় অন্ধকার’।

 
ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক

ইটালিয়ান ফ্যাশন ব্রেন্ড গুচির ইতিহাস | GUCCI History- Guccio Gucci S.p.A Italy

ফ্যাশন ডিজাইনিং
ফ্যাশন ডিজাইন:

ফ্যাশন ডিজাইন ফ্যাশন ডিজাইন হচ্ছে একটি শৃজনশীল পেশা। একে আবার এক প্রকার আর্টও বলা হয়ে থাকে। একটি পোষাকের সাইজ থেকে শুরু করে তার কালার, নকশা, প্রিন্ট, সেলাইয়ের ধরণ ইত্যাদি করেন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। সৃজনশীলতা একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের প্রথম ও প্রধান শর্ত। একটি সমাজের চলমান ধারার উপর নির্ভর করে যে ট্রেন্ড দাঁড়িয়ে যায় সেটাই ফ্যাশন ডিজাইন। আর ফ্যাশন ডিজাইনাররা মূলত এটাকে কাপড়ে কিংবা বিভিন্ন এক্সেসরিজে ফুটিয়ে তোলেন। ফ্যাশন ডিজাইন বলতে শুধু পোষাকই নয়, এর সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অনুসঙ্গ যেমন: ব্যাগ, জুতা, জুয়েলারী ইত্যাদিও জড়িত থাকে।


একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের যে সকল গুন বা দক্ষতা থাকতে হবো:

একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের প্রথম যে গুনটি থাকতে হবে তা হলো ড্রইং। ড্রইং এর দক্ষতা হবে নিজের আইডিয়া ভিজুয়ালাইজ করার জন্য।

১. তাকে এই কাজটি ম্যানুয়াল এবং ডিজিটালাইজ উভয় মাধ্যমেই।

২. তাকে টেক্সটাইল ফাইবার এবং ফেব্রিক সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

৩. প্যাটার্ন মেকিং, কাটিং এবং স্টিচিং সম্পর্কে দক্ষতা থাকতে হবে।

৪. পোষাকের ইতিহাস, ডিজাইনের বিভিন্ন স্টাইল ও প্রবণতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

৫. গ্রাহকের অভিরুচি বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে।

৬. পোষাকের নকশায় ব্যবহৃত বিভিন্ন এক্সেসরিজ সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকতে হবে।

এই বিষয়গুলি ছাড়াও একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের আরও অনেক দক্ষতা বা গুনের প্রয়োজন হয়, যেমন: ব্যক্তিগত গুনাবলী, তাৎক্ষনিক চিন্তাশক্তির উপস্থিতি, সামাজিকতা, যে কোন পরিস্থিতিতে যে কোন কাজ করার মানসিকতা, ধৈর্যশীলতা ইত্যাাদি। তাকে অবশ্যই রং ভালোবাসতে হবে। একটি বস্তুর উপর আলো পড়লে বা ছায়া পড়লে সেটা কেমন দেখায় সেটা খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। তাকে বেশি বেশি চর্চা করতে হবে। প্রখর ইচ্ছাশক্তি আর কাজের প্রতি ভালোবাসার সাথে সাথে নিত্য নতুন আইডয়া বের করতে হবে এবং এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে। এভাবেই ধীরে ধীরে ফ্যাশন ডিজাইনার তার কাজে দক্ষ হয়ে উঠবেন।


ফ্যাশন ডিজাইনিং কেন পড়বেন:

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা স্কুল বা কলেজ কমপ্লিট করেছেন, বা এসএসসি/এইচএসসি শেষ করে বসে আছেন বা যা গৃহিণী বাসা/বাড়ির কাজের পর কিছু একটা করতে চাচ্ছেন। যারা এমন ভাবছেন তাদের জন্য বলে রাখি ফ্যাশন ডিজাইনিং একটি অন্যতম অপশন। আমাদের দেশের বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রফেশনারল কোর্স করছেন। ফ্যাশন ডিজাইনিং তাদের মধ্যে একটি। এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু নিজের চাকরিই নয়, গড়ে তুলতে পারেন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান এবং সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন অন্যের কর্মসংস্থান। 

এছাড়াও ঘরে বসে অনলাইন বিজনেসের মাধ্যমে আয় করতে পারেন নিজের অর্থ। বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাশন ডিজাইনাদের রয়েছে চাকুরির বিশাল বাজার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোষাক শিল্প রপ্তানিতে প্রথম সারিতে রয়েছে। সেই জন্য বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে বৃহদাকার গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রিজ, বায়িং হাউজ, ফ্যাশন হাউজ, বুটিক শিল্প। কিন্তু যে পরিমাণ কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সেই অনুপাতে তৈরি হয়নি দক্ষ জনবল। যার ফলে বাহির থেকে আনতে হচ্ছে এই দক্ষ জনবল। 

কিন্তু আমাদের দেশ জনসংখায় বহুল। এই বিশাল জনসংখাকে যদি দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করা যায় তাহলে এই কাজের যে শূন্যস্থান তা পূরণ করা যায় এবং দেশের অর্থ দেশেই রয়ে যায়। এর ফলে দেশ সনির্ভরশীল হয়। দেশের বেকার নারী/পুরুষ নিজেদেরকে সাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের বেকার নারী/পুরুষদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।


প্রকারভেদ:

ফ্যাশন ডিজাইনের বিভন্ন প্রকার ফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ফর্ম হচ্ছে অ্যাপারেল যার অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে ক্লথিং ও গার্মেন্টস। আর এই ফর্মেও দুটি প্রধান বিভাগ আছে।

১. হিউট কৌচার 

২. প্রিট-এ-পর্টার বা রেডি টু ওয়ার 


হিউট কৌচার:

এই দুটি বিভাগের মধ্যে প্রথম ও প্রধান বা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হচ্ছে হিউট কৌচার। এই শব্দটি একটি ফ্রেঞ্চ শব্দ যা বিশে^র নামী দামী ফ্যাশন দৃশ্যের সাথে সম্পৃক্ত। এই পোষাকগুলো নির্দিষ্ট ধনী ব্যক্তিদের জন্য তৈরি এক ধরনের দামী পোষাক। এই পোষাকগুলো ডিজাইন করা হয় নির্দিষ্ট কাস্টমারের জন্য এবং পোষাকগুলো শুধুমাত্র তার মাপ অনুযায়ীই তৈরি করা হয়ে থাকে। হিউট কৌচার নিয়ে কাজ করেন এমন ফ্যাশন ডিজাইনদের প্যারিসে ওয়ার্কশপ আছে। প্রতি বছর তাদের ডিজাইন করা এই পোষাকগুলো যখন প্রদর্শিত হয় তাখন তাকে ফ্যাশন উইক বলে। এই ডিজাইনাররা তাদের ডিজাইন কারা ড্রেস তাদের মডেলদের মাধ্যমে দুটি রানওয়েতে শো করে থাকেন।


প্রিট-এ-পর্টার বা রেডি টু ওয়ার:

এটিও একটি ফ্রেঞ্চ শব্দ। পাশ্চাত্যে যাকে রেডি টু ওয়ার বলে থাকে। এ ধরণের পোষাকগুলো তৈরি করা হয় সব ধরণের মানুষের কথা চিন্তা করে। আর তাদের ফ্যাশন হাউজগুলোতে সাধারণত প্রতি সিজনে এই ধরণের পোষাক প্রদর্শিত হয়। সাধারণত দুটি উইকের আয়োজন থাকে প্রতিটি ব্র্র্র্যান্ডেড ফ্যাশন হাউজে। রেডি টু ওয়ার মূলত কোয়ালিটি ক্লথিং কিন্তু এটির ডিজাইন ফ্যাক্টরিতে হয়ে থাকে এবং এটি স্ট্যান্ডার্ড সাইজ থাকে।

এছাড়া অন্যান্য ফ্যাশন ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে- সু, স্কার্প, জুয়েলারি ও বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডব্যাগ ডিজাইন করা।

যে বিষয়গুলো থাকছে ফ্যাশন ডিজাইনিং-এ:

ফ্যাশন ডিজাইনিং এ বিষয়গুলো থেকে থাকে তার মধ্যে ৫টি বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

1. Illustration/ Sketching

2. Pattern Making

3. Fabric Texturing

4. Cutting

5. Stitching


1. Illustration/ Sketching
 
ফ্যাশন ডিজাইনিং এর প্রথম স্টেপ হচ্ছে ইলাস্ট্রেশন, অর্থাৎ যে গার্মেন্টটি তৈরি হবে সেটি ড্রইং করা। এই ড্রইং এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি পোষাকটি কেমন হবে। ইলাস্টেশন যার যত সুন্দর বা নিখুঁত হবে সে তার ক্লাইন্টকে পোষাকের ডিটেইল সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হবে। 

ফ্যাশন ইলাস্ট্রেশন ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্যে ইন্ডাষ্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড অনুয়াযী একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এই দক্ষতা পেশাদার কাজে বাড়তি সুবিধা দেয়া ছাড়াও ডিজাইনারের একটি পার্সোনাল ব্রান্ড তৈরিতেও সহায়তা করে।


2. Pattern Making

ফ্যাশন ডিজাইনিং এর দিত্বীয় ধাপটি হচ্ছে প্যাটার্ন মেকিং। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক গার্মেন্টের বøুপ্রিন্টও বলা হয়ে থাকে। উপযুক্ত সাইজ, মাপ ও কাটিং এর সমন্বয়ে যে ডাইমেনশনাল অবয়ব তৈরি করা হয় তাকে প্যাটার্ন মেকিং বলে। আর এই কাজটি কাগজে এঁকে এবং কেটে করতে হয় বলে একে পেপার প্যাটার্ন বলে। পেপার প্যাটার্ন করার কারণ হলো এতে করে আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেয়ার অনেক অপশন থাকে।

Pattern দুই প্রকারের হয়ে থাকে:

১. Commercial Pattern
2. Custom Made


Commercial Pattern:

এটি মার্কেটে সচারচর কিনতে পাওয়া যায়। এটি আপনি কিনে এনে সরাসরি কাপড়ে বসিয়ে কেটে ফেলতে পারবেন। তবে এটি নির্দিষ্ট সাইজের থাকে, সব বডির জন্য নয়। এই পেপার প্যাটার্নগুলোতে অনেক সিম্বল দিয়ে বোঝানো থাকে কোন লেখা থাকে না। সুতরাং এই সিম্বলগুলো বুঝতে হলে আপনার পেপার প্যাটার্ন সম্পর্কে বেসিক নলেজ থাকতে হবে।

Custom Made:

এটি পৃথক পৃথক বডির জন্য পৃথক পৃথক সাইজের হয়ে থাকে। যেমন গার্মেন্টে বিভিন্ন সাইজ থাকে: ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজ সেই রকম। এর ফলে পোষাকে পারফেক্ট সেপ ও ফিটিং পাওয়া যায়। এটি এক এক ধরনের বডি সেপের জন্য এক এক রকম প্যাটার্ন হয়ে থাকে। তাই নির্দিষ্ট কোন ক্লাইন্টের পোষাক তৈরি করার পূর্বে তার প্যাটার্ন তৈরি করে নিতে হবে।

Pattern Making এর ক্ষেত্রে কিছু Terminology ব্যবহার করা হয়ে থকে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আসে-

Grain: 
যার অর্থ হলো Direction। অর্থাৎ যখন আপনি পেপার প্যাটার্নটি কাপড়ের ওপর ফেলে কাটবেন তখন সঠিক দিক ধরে বসিয়ে কাটতে হবে।

Grain Line: 
অথাৎ সুতার লম্বা টান যে দিকে থকে । কাপড়ে সুতার লম্ব টান ও বুননির দিক দেখে প্যোটার্ন ফেলতে হবে। তাহলে কাপড়ে সোজা ভাব থাকবে কাপড় এবড়ো থেবড়ো হয়ে যাবে না।

Notch: 
যার অর্থ হলো কাপড়ে “ ” মার্ক করা। যখন আমরা একটি কাপড় অন্য আরেকটি কাপড়ের সাথে জোড়া লাগাই তখন কাপড় দুটি যাতে প্রোপার ওয়েতে সমানভাবে জোড়া লাগে সেই জন্য জোড়া লাগানো অংশের মাঝখানে একটি ভি চিহ্ন কাটিং করতে হয় যাকে প্যাটার্ন মেকিং এ Notch বলে। পারফেক্ট ম্যাচ এর জন্য একে Identification Mark ও বলে।

Symbol: 
প্যাটার্ন মের্কি এর ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক গুলো সিম্বল যেমন: ডট বা ছোট গোল সার্কেল (. /০) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হলো কোন পোষাকের নির্দিষ্ট স্থনে পকেট বা লোগো বা পার্টিকুলার এমব্রয়ডারি বসানো হবে বোঝাতে এই সিম্বলগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Basic Pattern Set:  
বেসিক প্যাটার্ন সেট বলতে একটি প্যাটার্ন এর বা বডির যে নির্ধারিত ভাগ থাকে তাকে বেসিক সেট বলে।

1 Front Bodice Block Upper Torso

2 Back Bodice Block 

3 Skirt Pattern Lower Torso

4 Sleeve Pattern 

এই Terminology গুলো খুবই কমন আমাদের বডি শেপের ক্ষেত্রে আবার Pattern Making ক্ষেত্রেও।

Body Part: 

আমরা যে মাপ অনুযায়ী প্যাটার্ন তৈরি করবো, সেই মাপ নিতে হলে বডির কোন অংশের কি নাম তা জানতে হবে।

Shoulder
Across Front/Back
Chest Measurement
Waist Line/Circumference


Measurement:

এবার আমরা Measurement সম্পর্কে জানবো। Measurementহঃ পেপার প্যাটার্ন মেকিং-এর ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বডির এই মাপ নেয়ার পদ্ধতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

1. Vertical measurement

2. Horizenontal  Measurement

3. Garth Circumference



1.  Vertical measurement: 

Vertical  শব্দের অর্থ হলো ভ‚মি থেকে উপরের দিকে। প্যাটার্ন মেকিং এর ক্ষেত্রে পেপারের বা গার্মেন্ট এর লম্বাকে বোঝায়। এটা সব সময় বডির বা প্যাটার্নের লম্বা দিককে নির্দেশ করে।


2. Horizenontal  Measurement: 

এটি সব সময় বডির বা প্যাটার্নের কাঁধ, বুকের অংশ, কোমর ও হিপের মাপকে বোঝায়।

3. Garth Circumference: 

এটি বুকের অংশ, কোমর ও হিপের পুরো মাপকে বোঝায়। যেমন: একটি ফিতা দিয়ে পুরো বডি ঘুরে মাপ দেয়াকে বোঝায়।



Ease: 

আমরা যখন প্যাটার্ন তৈরি করবো তখন সেলাইয়ের জন্য সব সময় বাড়তি অংশ ধরে প্যাটার্ন তৈরি করতে হয় একে প্যাটার্ন মেকিং এর ক্ষেত্রে ঊধংব বলে। এর ফলে জামা পড়তে বা খুলতে সুবিধা হয়। বাড়তি কাপড় না রেখে প্যাটার্ন তৈরি করলে যখন সেটা কাপড়ে ফেলে কাটা হয় তখন সেই অনুপাতেই কাটা হয়। পরে সেলাই করতে গেলে তখন নির্ধারিত মাপ থেকে সেলাইয়ের জন্য কাপড় চলে যায়। ফলে পোষাকটি তখন সঠিক মাপ মতো হয় না, ছোট হয়ে যায়। তাই সঠিক সেপ ও আরামের কথা চিন্তা কওে বাড়তি অংশ ধরে নিতে হয়।

Dart: দুই ধরনে হয়। 

১. Dart, ২. Fish Dart

Dart: 
স্কার্ট বা ট্রাউজারের ক্ষেত্রে কোমরের ফিটিং এর জন্য এই ধরনের ডার্ট দেয়া হয়ে থাকে।

Fish Dart: 
এই ডার্টটি দেখতে অনেকটা মাছের মতো বলে একে বলে। মেয়েদের জামাতে প্রোপার ফিটিং আনতে সামনে বা পেছনে এই ধরনে ডার্ট দিতে হয়।

 
এখানে ছবিতে Fish Dart দেখানো হলো।

Fabric Texturing: 

ফ্যাশন ডিজাইনিং এর তৃতীয় ধাপ হলো Fabric Texturing। Texturing বলতে মূলত ডাইং, প্রিন্টিং এবং এমব্রয়ডারি ইত্যাদিকে বোঝায়। একজন ডিজাইনার স্কেচ করার সময় কল্পনা করেন ড্রেসটি কোন কালারের হবে। কোন কালার দিয়ে পেইন্ট বা বøক করা হবে। 

কোন কালারের সুতা দিয়ে কাজ বা এমব্রয়ডারি করা হবে। কোন ফেব্রিকের উপর কোন রং ভালো লাগবে তা কিভাবে ডাইং করতে হবে এই সব কিছুই থাকে ঋধনৎরপ ঞবীঃঁৎরহম। এখানে ডাইং বলতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাপড় রং করা। প্রিন্টিং হলো বিভিন্ন কেমিক্যালের মাধ্যমে কাপড়ে বিভিন্ন ডিজাইনের ছাপ দেয়া। এটা মেশিনের মাধ্যমেও দেয়া যায় আবার হাতের সাহাযেও দেয়া যায়। আর এমব্রয়ডারি হলো হাতে বা মেশিনের মাধ্যমে কাপড়ের উপর বিভিন্ন রংয়ের সুতা দিয়ে বা বিভিন্ন মেটেরিয়াল দিয়ে ডিজাইন করা। Fabric Texturing  এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Color Theory।

Color Theory:

Color Theory শুধু ফ্যাশন ডিজাইনিং এ ব্যবহার করা হয় না, এটা এক ধরনের আর্টও। কালার থিওরিতে রং চেনা মানে এই নয় যে আপনি রং পেন্সিল বা স্বেচ এর রং সম্পর্কে জানেন। কালার থিওরির মূল বিষয় হলো রং কত ধরণের, কোন রং এর সাথে কোন রং মেশালে কোন রং হয়, কোন রং কোন ড্রেসের সাথে মানায় কোন রং গরম বা ঠান্ডা অনুভব করায় ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো অবশ্যই একজন ডিজাইনাকে জানতে হবে।  কালার থিওরি সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে Color Wheel সম্পর্কে। কালার হুইলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 

১. Primary Color, 
২. Secondary Color 

Primary Color:
প্রাথমিক স্তরের রং হলো, যে রংগুলি অন্য রংয়ের মিশ্রন ছাড়া আমরা পেয়ে থাকি বা সাধারন চোখে প্রতক্ষ্য করি সেগুলোই হলো চৎরসধৎু ঈড়ষড়ৎ। এই স্তরে আছে লাল, নীল ও হলুদ রং। 

Secondary Color: 
প্রাইমারি কালার থেকে যে কোন দুটি কালার মেশালে আমরা পাই সেকেন্ডারি কালার। এখানে আমরা পাই বেগুনী, কমলা ও সবুজ। যেমন: নীল আর হলুদ মেশালে হয় সবুজ। 

Tertiary Color:
এবার একটি প্রাইমারি কালার ও একটি সেকেন্ডারি কালার মেশালে আমরা পাই Tertiary Color, যেমন: লাল আর কমলা মেশালে পাই লালচে কমলা, হলুদ আর সবুজ মেশালে পাই হলদেটে সবুজ ইত্যাদি।

কালার হুইলকে আমরা আবার দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি ওয়ার্ম কালার এবং অন্যটি হচ্ছে কুল কালার।

 

ওয়ার্ম কালার এর মধ্যে আছে কমলা, বসন্তী, হলুদ। এই রংগুলো দেখলে আমাদের গরম অনুভ‚ত হয়। এর মধ্যে কমলাকে সবচেয়ে বেশি গরম রং বলে ধরা হয়। কুল কালার এর মধ্যে আছে সবুজ, নীল, আকাশী। এই রংগুলো দেখলে আমাদের ঠান্ডা অনুভ‚ত হয়। এর মধ্যে নীলকে সবচেয়ে বেশি শীতল রং বলে ধরা হয়।

এবার আমরা জানবো রংয়ের বিভিন্ন সংঙ্গা সম্পর্কে।

১. হিউ: যে কোন রংয়ের নিজস্ব উজ্জলতাকে হিউ বলে।

২. টিন্ট: যে কোন রংয়ের সাথে সাদা মেশালে যে রং পাওয়া যায় তাকে টিন্ট বলে। টিন্ট সব সময় অরজিনালার রং থেকে হালকা হয়ে থাকে।

৩. শেড: যে কোন রংয়ের সাথে কালো মেশালে যে রং পাওয়া যায় তাকে শেড বলে। শেড সব সময় অরজিনালার রং থেকে ডার্ক হয়ে থাকে।

৪. টোন: যে কোন রংয়ের সাথে ধুসর মেশালে যে রং পাওয়া যায় তাকে টোন বলে।



Cutting and Stitching:

প্যাটার্ন মেকিং এর শেষ দুটি ধাপ হলো Cutting and Stitching । পেপার প্যাটার্ন তৈরি করার পর সেটা মাপ অনুযায়ী কেটে নিতে হবে। তাহলে পেপার প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যাবে। এই পেপার প্যাটার্ন অনুযায়ী কাপড় কাটাই হলো কাটিং সেকশনের কাজ। এর পরের ধাপ হলো স্টিচিং। আগের সব স্টেপ কমপ্লিট হবার পর সেলাই সেকশনের কাজ। সঠিক মাপ অনুযায়ী সেলাই হবার পর আমরা ফাইনাল গার্মেন্টটি দেখতে পাই।

ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে কিছু কথা | Fashion Designing Concept

ব্লুমবার্গ প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকার প্রথম স্থান দখল নিয়েছেন ফান্সের বার্নার্ড আর্নল্ট। এতে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ স্থানে থাকা টুইটারের নতুন মালিক টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ককে টপকে গেলেন তিনি। তবে এটা হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য। কারণ, টেসলা মটরসের শেয়ারের দাম বাড়লেই আবার বিশ্বের সেরা ধনীর মর্যাদা ফিরে পাবেন ইলন মাস্ক।


বিশ্বের শীর্ষ ধনী কে এই বার্নার্ড আর্নল্ট?

বার্নার্ড আর্নল্ট ফ্রেঞ্চ বিলাসবহুল শৌখিন পণ্যের প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ-এর চেয়ারম্যান। ১৯৪৯ সালে ফ্রান্সের উত্তরে রুবেইক্সে জন্মগ্রহণ করেন আর্নল্ট। প্যারিসের বিখ্যাত প্রকৌশল স্কুল ইকোল পলিটেকনিক থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয় তার। ব্যবসায়ে ধারাবাহিক পদোন্নতির মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ফেরেট-স্যাভিনেল (নির্মাণ সামগ্রীর কোম্পানি)-এর চেয়ারম্যান হন তিনি।

এর বছর ছয়েক পরে, আর্নল্ট ফরাসি সরকারের কাছ থেকে দেউলিয়া ঘোষিত টেক্সটাইল কোম্পানি বুসাক সেন্ট-ফ্রেস কিনে নেন। দেউলিয়া ঘোষিত এই টেক্সটাইল গ্রুপ ছিল ফ্রান্সের বিখ্যাত ফ্যাশন হাউজ ক্রিশ্চিয়ান ডয়েরের মালিক। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণও চলে আসে আর্নল্টের হাতে।

দেনায় জর্জরিত গ্রুপটি আর্নল্টের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে তীরে উঠতে শুরু করে এবং এক সময় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিলাসবহুল পণ্যের কোম্পানি হিসেবে জায়গা করে নেয়। লুই ভিটন, ক্রিশ্চিয়ান ডয়ের, হাবলট, লে পার্সিয়ানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আর্নল্টের প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের অন্তর্ভুক্ত।


১৯৮৭ সালে লুই ভিটন এবং মোয়েট হেনেসি নিয়ে এলভিএমএইচ গ্রুপ গঠিত হওয়ার বছর দুয়েক পর, ১৯৮৯ সালে আর্নল্ট এই কোম্পানির শেয়ারের উল্লেখযোগ্য অংশ কিনে নেন। তখন থেকেই তিনি এলভিএমএইচ-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে আর্নল্ট এলভিএমএইচ-কে বিলাসবহুল শৌখিন পণ্যের পাওয়ার হাউসে পরিণত করেছেন। শেম্পেইন, ওয়াইন, ফ্যাশনেবল পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ঘড়ি, গয়না, প্রসাধনী ও পারফিউম পণ্যের এক বিরাট সম্ভার এলভিএমএইচ। বর্তমানে সারাবিশ্বে এলভিএমএইচের সাড়ে ৫ হাজার আউটলেট রয়েছে।

শুধু ইউরোপ নয় ১৯৯২ সালে চীনের বেইজিংয়ে লুই ভিটনের শোরুম খুলে এশিয়ার বৃহত্তম বাজারে বাজারেও নিজের আধিপত্য জানান দেন ইউরোপের এই ধনকুবের।

ব্যক্তিজীবনে বার্নার্ড আর্নল্ট দুবার বিয়ে করেছেন; তার ৫ সন্তান রয়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে, আর্নল্টের পরিবারের প্রত্যেকেই তার প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ বা এর অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক কর্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

বার্নার্ড আর্নল্ট’র সম্পদের পরিমাণ কত?

গত ১৩ ডিসেম্বর ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, আর্নল্টের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭১ বিলিয়ন ডলার, যা টেসলার সিইও মাস্কের ১৬৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদকে ছাড়িয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ফোর্বসের ‘রিয়েল টাইম বিলিয়নিয়ার’ তালিকাও শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন প্যারিসের এই ধনকুবের।

তবে অঢেল সম্পদের মালিক হলেও অনেকটা আড়ালেই থাকতে পছন্দ করেন আর্নল্ট। তাই জেফ বেজোস, বিল গেটস, গৌতম আদানি কিংবা ইলন মাস্ককে একনামে সবাই যেভাবে চেনেন, আর্নল্টকে সেভাবে হয়তো চেনেন না অনেকেই। তা সত্ত্বেও এবারের ধনীদের তালিকায় নিজের প্রথম স্থানটি ঠিকই নিশ্চিত করে নিয়েছেন তিনি।


ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, এ বছর মোট ১০৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ খুইয়েছেন মাস্ক। টেসলার শেয়ারের দরপতন এবং টুইটার সংক্রান্ত নানান গোলযোগে এ পর্যন্ত বেশ মোটা অঙ্কের লোকসানই গুনতে হয়েছে তাকে। এর ফলেই ধনীদের তালিকায় প্রথম স্থান থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।


অন্যদিকে, করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে চলতি বছর আর্নল্টের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কমলেও তা তাকে শীর্ষ স্থানে পৌঁছাতে বাধা দেয়নি।

সূত্র : সিএনএন

বার্নার্ড আর্নল্ট ফাউন্ডার লুইস ভিটন | LVMH - Louis Vuitton History

অ্যামেচিও ওর্তেগা

জন্ম ১৯৩৬ সালে, নর্থ স্পেনে। বাবা রেলওয়ে বিভাগে শ্রমিক ছিলেন। মা বিভিন্ন বাসায় কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন। এমনই দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছেন ওর্তেগা। ১৩ বছর বয়সেই লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে শার্টের দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ নেন তিনি। খুব দ্রুত ব্যবসার খুঁটিনাটি নানা দিক নিজের দখলে চলে আসে তার। সেই কাজে থাকার সময়েই নিজের একটা দোকানের কথা ভাবতেন মনে মনে। খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হলো না। নিজের অসাধারণ মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র চার বছরের মধ্যেই তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রথম দিকে তার কাজ ছিল কেবল পাইকারি অর্ডার নেওয়া। ১৯৭৫ সালে লা চরুনা শহরে সর্বপ্রথম 'জারা' নামে একটি শোরুম খোলেন ওর্তেগা। ধীরে ধীরে আরও বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন। ১৯৮৮ সালে পর্তুগালে আরেকটি শাখা খোলেন। পরের বছর শোরুম খোলেন আমেরিকায়। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বিশ্বসেরা ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানটি এখন তার দখলে। নিজের ব্যবসাকে ছড়িয়েছেন ৮০টিরও বেশি দেশে। ৪০ বছর ধরে ফ্যাশন ব্যবসাকে জনপ্রিয় করেছেন বিশ্বব্যাপী। ৮৬ বছরের উদ্যমী-উদ্যোগী এ মানুষটি ইন্ডিটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তাকে আধুনিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির 'কিং' বলা হয়।

 

 

স্যাম ওয়ালটন


মার্কিন ধনকুবের স্যাম ওয়ালটনের গল্পটা বেশ অনুপ্রেরণার। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সুপারস্টোর ওয়ালমার্ট এই প্রতিষ্ঠাতা সদিচ্ছাকে পুঁজি করে এগিয়েছিলেন। ওয়ালটন যখন ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কিন্তু পুঁজি বলতে তেমন কিছুই ছিল না। স্যাম ওয়ালটন তার শ্বশুরের কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার ঋণ নেন। তারপর নানা ধাপ পেরিয়ে ৪২ বছর বয়সে আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে ওয়ালমার্ট প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৬২ সালে চালু হওয়ার পর ১৯৭৬ সালের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য দাঁড়ায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি। তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিল অল্প দাম, বেশি বিক্রি।

মজার বিষয় হচ্ছে আরকানসাসে ওয়ালটনের সেই প্রথম স্টোরই ভেঙে যায়। তবে এতে পিছিয়ে আসেননি হার না মানা ওয়ালটন। আর এখন তো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য সবাই চেনে ওয়ালমার্ট। ওয়ালমার্ট বিশ্বের সর্ববৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আয়ের দিক থেকেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়।

অ্যামেচিও ওর্তেগা | ZARA Inditex Spain | স্যাম ওয়ালটন | WALMART USA

পরিবেশ বিপর্যয় এবং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি :

আমরা এমন একটা বিশ্বে বাস করি, যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি পোশাক উৎপাদন করা হয়। আর একবিংশ শতকে এসে গার্মেন্টসের জঞ্জালে ভরে উঠেছে পৃথিবী। চাপ পড়ছে তুলা উৎপাদন আর সুতার ওপর। বিশ্বে যত কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তার ১০ শতাংশের বেশি আসছে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি থেকে। ফ্যাশন পলিউশন বা পোশাকের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ পরিবেশবাদীদের কপালের ভাঁজকে আরও গভীর করেছে। এমনিতেই বিশ্ব দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। আর সেখানে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। পরিবেশদূষণের যত কারণ, তার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পোশাকশিল্প। ফাস্ট ফ্যাশনের ধারণা এই পরিবেশদূষণের মাত্রাকে গতিশীল করেছে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ২০০০ সালে গড়ে দুটি কালেকশন বের করত।

একটি পোশাকের সর্বোচ্চ জীবনকাল গড়ে তিন বছর। পোশাক পুরোনো মলিন হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায়। চলতি ট্রেন্ডের সঙ্গে যায় না। আপিন যদি একটা পোশাক ৯ মাস বেশি পরেন, তাহলেই ওই পোশাকের মাধ্যমে কার্বন উৎপাদন আর ওই পোশাকের পেছনে ব্যবহৃত পানির অপচয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

২০১১ সালে গড়ে পাঁচটি কালেকশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় ভোক্তাদের। এ ক্ষেত্রে ক্লোদিং ব্র্যান্ড জারা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তারা বছরে ২৪টি কালেকশন বের করে। এইচঅ্যান্ডএম ১২ থেকে ১৬টি কালেকশন বের করে। ফাস্ট ফ্যাশনের ফলে ওয়ার্ডরোব নতুন জামায় ভরে উঠছে। কিন্তু পৃথিবী হয়ে উঠছে বসবাসের অনুপযোগী। এমন অবস্থায় সাধারণ ভোক্তা হিসেবে আমাদের করণীয় থেকেই যায়।
ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতের বিশ্বকে বাঁচাতে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। প্রথমত, ‘গার্মেন্ট লাইফটাইম’ বাড়ানো। মানে এক পোশাক বেশি দিন পরা। পোশাকের আয়ু বাড়ানো। একটি পোশাকের সর্বোচ্চ জীবনকাল গড়ে তিন বছর। পোশাক পুরোনো মলিন হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায়। চলতি ট্রেন্ডের সঙ্গে যায় না। আপিন যদি একটা পোশাক ৯ মাস বেশি পরেন, তাহলেই ওই পোশাকের মাধ্যমে কার্বন উৎপাদন আর ওই পোশাকের পেছনে ব্যবহৃত পানির অপচয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। যতটা সম্ভব কম পোশাক কিনুন। কোথাও ছিঁড়ে গেলে, ফেঁসে গেলে সেলাই বা রিফু করে নিন। আর পরতে ইচ্ছে না করলে বন্ধুদের সঙ্গে বদলে নিন। ১৯৮০-এর দশকে মানুষ যে পরিমাণ পোশাক কিনত, এখন তার পাঁচ গুণ পোশাক কেনে। ২০০০ সালে মানুষ যত পোশাক ভোগ করত, ২০১৪ সালে তার ৬০ শতাংশ বেশি পোশাক ভোগ করে। মনে রাখতে হবে আমরা যতটা পোশাক কিনি, মোটাদাগে ওই পোশাক তার আকৃতির সমান পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও এর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে আরও নানা কিছু জড়িত।


ফাস্ট ফ্যাশনের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে কিছু ব্র্যান্ড আর সেই ব্র্যান্ডের আড়ালের মানুষগুলোর পকেটে এসে ধরা দিয়েছে মিলিয়ন ডলার। পরিমিতিবোধের মাত্রা ছড়িয়ে পড়ছে সীমাহীনতায়। একটি পোশাকের গড় আয়ুকাল কমছে তো কমছেই। বিশ্ব একটু একটু পরিণত হচ্ছে ফ্যাশন বর্জ্যের ভাগাড়ে। ক্রমশ বেড়ে চলেছে কার্বন। এসবের বিপরীতে আবার শুরু হয়েছে স্লো ফ্যাশন, ইকো ফ্রেন্ডলি ফ্যাশন, সীমিত পরিসরে আপসাইক্লিং আর রিসাইক্লিং, থ্রিফট শপ-এ রকম সব মুভমেন্ট। আলো ফেলা যাক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অম্লমধুর পরিপ্রেক্ষিত ও আমাদের কী করণীয়, সেদিকে।

আপনি ভাবছেন, আপনার টাকায় আপনি ফ্যাশন করবেন। আপনি ফাস্ট ফ্যাশনে আগ্রহী। আপনার এক পোশাকের একটা ছবি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার পর আপনার আর সেটি পরতে ইচ্ছে করে না। তারকারা তো এক পোশাক দুবার পরলেই ‘খবর’ হয়ে যান! এভাবে ফাস্ট ফ্যাশনের ফ্যালাসিতে বুঁদ হয়ে পড়েছে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি বেড়েছে হু হু করে। তাতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে। ফাইবার টু ফ্যাশন ডট কম এই বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পোশাক যে কাপড় দিয়ে তৈরি হয়, সেটি উৎপাদনে অনেক প্রাকৃতিক শক্তি, জায়গা আর পানি খরচ হয়। সুতি কাপড় বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কাপড়গুলোর একটি। একটা সুতির টি-শার্ট বানাতে যে পরিমাণ কাপড় লাগে, সেটির জন্য প্রয়োজনীয় তুলা উৎপাদন করতে ২০ হাজার লিটার পানি খরচ হয়। বিশ্বে যত পানি ব্যবহৃত হয়, তার শতকরা ২০ ভাগ খরচ হয়ে যায় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে। এর সঙ্গে রয়েছে এনার্জি-প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম। এসব দিয়ে উৎপাদিত পোশাক দ্রুতই বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। তা ল্যান্ডফিল করে, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ, পানিদূষণ করে নানাভাবে পরিবেশদূষণে অবদান রাখছে। ওয়ার্ল্ডওয়াইড রেসপনসিবল অ্যাক্রিডিটেড প্রোডাকশন (ডব্লিউআরএপি) জানাচ্ছে, প্রতিবছর যুক্তরাজ্যে ১৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার জামাকাপড় ফেলে দেওয়া হয়। আর সেগুলো কেবল ল্যান্ডফিল করে।

আমরা যখন কোনো জামাকাপড় ফেলে দিই, তখন আসলে কী হয়? এর উত্তর জানিয়ে ‘হোয়াই ক্লোদস আর হার্ড টু রিসাইকেল’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ শতাংশ পোশাক হয় পুড়িয়ে ফেলা হয়, নতুবা ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয় বা আবর্জনা হিসেবে ল্যান্ডফিলে জমা হয়। ১২ শতাংশ পোশাক ডাউনসাইকেলড হয়ে ম্যাট্রেস, ক্লিনিং ক্লোদস, পাপোশ, লুসনি বা অন্যান্য কম দামের নানা কিছুতে পরিণত হয়। শতকরা মাত্র ১ ভাগ আপসাইকেলড হয়ে নতুন কাপড়ে পরিণত হয়। প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের কাপড় ফেলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যার দাম দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।
        



২০৫০ সালের মধ্যে ভোক্তার চাহিদা মেটাতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, তার তিন গুণ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজন হবে। এই নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার অন্যতম সমাধানের নাম টেকসই ফ্যাশনশিল্প।

 ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) গবেষণা মতে, প্রতিবছর পোশাকশিল্প কারখানায় পোশাক ও তুলা ধোয়া ও রং করার কাজে ১ হাজার ৫০০ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানাগুলো ব্যবহারের পর এই বিষাক্ত পানি নদী আর খালে ফেলে দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যাশনশিল্পের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বর্জ্য নিঃসরণ বৃদ্ধি পাবে ৬০ শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে ভোক্তার চাহিদা মেটাতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, তার তিন গুণ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজন হবে। এই নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার অন্যতম সমাধানের নাম টেকসই ফ্যাশনশিল্প।

কেবল ১৫ বছরে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ। কাপড়ের দামও কমে চলে এসেছে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। কাপড়ের দাম এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। আবার নিম্নমধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্তের আয়ও বেড়েছে। সব মিলিয়ে একটা বড় শ্রেণি ১৫ বছর আগেও যে পরিমাণ পোশাক ব্যবহার করত, এখন করে তার দ্বিগুণ। ফলে এখন ফ্যাশন থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের পরিমাণও অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। আগে মানুষ একটা পোশাক যে পরিমাণ ব্যবহার করত, এখন তার শতকরা ৪০ ভাগও করে না। একটা পোশাকের গড় আয়ু দুই বছর দুই মাস। আর সেটি গড়ে ৭ থেকে ১০ বার পরা হয়।

প্যাটাগোনিয়া নামে একটি কোম্পানি আছে, যারা ভোক্তাদের ছেঁড়া বা পুরোনো পোশাক সেলাই করে নতুন করে দেয়। আবার কখনো কখনো ভোক্তাকে তার চাহিদা অনুযায়ী পুরোনো পোশাকের বদলে নতুন পোশাক দেয়। নুডি জিনস আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে মিলে ভোক্তাদের জিনস বিনা পয়সায় সেলাই করে পাঠিয়ে দেয়। ডিপপ গড়েই উঠেছে সেকেন্ড হ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে কেন্দ্র করে। ডিপপ পুরোনো জামাকাপড়গুলোকে চ্যারিটি শপগুলোতে পাঠানোর বদলে সেগুলো নতুন করে তোলে। ভ্যালু যোগ করে। সেগুলো আবার নতুনের মতো বিক্রি হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয়, এমনকি চতুর্থবারের মতোও জামাকাপড় নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় ডিপপে এসে। ফ্রেঞ্চ কোম্পানির মাইসনক্লেও আরেকটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান। এর উদ্যোক্তা মা মেয়ে। তাঁরা জামাকাপড় সব হাতে সেলাই করেন। অন্যদিকে টিআরএমট্যাব নামের জুতার কোম্পানিটি পুরোনো জামাকাপড়, চামড়া দিয়ে জুতা বানায়। এতে ল্যান্ডফিলের পরিমাণ কমে।

বাংলাদেশেও এ ধরনের রিসাইক্লিং ও আপসাইক্লিং শুরু হয়েছে।


Ref: News letter, news paper, Google.
Zahidul Haque MSS in HRD(JU), MBA-HRM,PGD-HRM


ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এবং পরিবেশ বিপর্যয় | Fashion Industry

গ্রামীণ ইউনিক্লো | Grameen Uniqlo 
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন নাজমুল হক

গ্রামীণ ইউনিক্লোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক একজন দুর্দান্ত ব্যবসায়ী। চলার পথে বদলে দিয়েছেন অনেক হিসাব-নিকাশ! রীতিমত লাইফস্টাইল ইন্ড্রাস্টিতে আলোচিত নামে পরিণত করেছেন নিজের প্রতিষ্ঠানকে। স্বপ্নের কারিগর মানুষটির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বেনজির আবরার

আপনার শৈশব সম্পর্কে কিছু বলুন ? 

নাজমুল হক: আমার জন্ম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। শৈশব সেখানেই কেটেছে। এরপর বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা হয়। বাবা দেশের বাইরে চলে গেলে আবার গ্রামে ফিরে যাই। ঠিক তখন থেকে এসএসসি পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। ছোটবেলায় দুষ্টু হলেও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলাম। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্লাসে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যায়, সে প্রচেষ্টা সব সময় ছিল। গ্রামে তখন পরিবেশগত বৈরিতা থাকলেও মায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, তত্ত্বাবধান ও শাসনের কারণে অনেক নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশেই বেড়ে উঠি। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফেরা ছিল অলিখিত আইন। সন্ধ্যার পরে যদিও অনেক ঘুম পেত। কিন্তু মা সব সময় গভীর রাত পর্যন্ত পাশেই থাকতেন পড়াশোনা দেখার জন্য। মা এভাবে আগলে রেখেছিলেন বলেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তবে খেলাধুলা অনেক পছন্দ করতাম, যেটা মা জানতেন না। স্কুল শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতাম। একবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ৫টিতেই পুরস্কার পাই। এ ঘটনায় মা খুব অবাক হন। যেহেতু আমার খেলাধুলার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। এরপর থেকেই তিনি আমার খেলাধুলার আগ্রহের ব্যাপারে জানতে পারেন।

এইচএসসিতে আমার ঢাকার কোনো কলেজে পড়ার আগ্রহ থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে ভর্তি হতে পারিনি। বরিশাল বিএম কলেজে ভর্তি হই। সারাদেশে নম্বরের ভিত্তিতে ৪র্থ স্থান অর্জন করি। এরপর ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ১ম বর্ষে মনে হয় দেশের বাইরে কোথাও পড়াশোনা করব। গার্মেন্টস সেক্টর তখন উজ্জীবিত হচ্ছিল। তাই মনে হলো এ সেক্টরে কাজ করা যায়। তখন ভারতে একটি স্কলারশিপ পেলেও যাওয়া হয়নি। ঠিক তখন জাপানের মনোবুশো স্কলারশিপ হয়। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেখানে গিয়ে ১ বছর জাপানিজ ভাষা শিখি। আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে পড়াশোনা শেষ করে কনসালটিং সেক্টরে কাজ শুরু করি। পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ থেকে জাপানে এমবিএ শেষ করি।

ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা শুনতে চাই ? 

নাজমুল হক: পড়াশোনা অবস্থায় বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে খণ্ডকালীন কাজ করতাম। জাপানে জব মার্কেট একটু আলাদা। ৩য় বর্ষে থাকতেই জব খোঁজা শুরু করতে হয়। পড়াশোনা শেষের একবছর আগেই জব কনফার্ম করতে হয়। আমি একটি কার রিলেটেড কোম্পানিতে জব পাই। আমার যেহেতু কনসালটিং রিলেটেড কাজে আগ্রহ, তাই চেষ্টা করি ওই সেক্টরে চাকরি খুঁজতে। জব পেয়ে যাই জাপানের নাম্বার ওয়ান অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ডেনস্যু কর্পোরেশনে। যার ১৩০টির বেশি দেশে ব্যবসা আছে। ডেনস্যুতে কাজ করা অবস্থায় অভিজ্ঞতা হয় বিখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করার। যেমন- হোন্ডা, প্যানাসোনিক, নেসলে, মিৎসুই সুমিতোমো কাইজোকাসাই, ওরাকল, ফাইজার, সানোফি, ফিলিপ মরিস, ফুজিৎসু, ইউনাইটেড এয়ার, এমেক্স, ফেডেক্সসহ অনেক কোম্পানি। এ সময় আমি ইউনিক্লো থেকে অফার পাই গ্লোবাল মার্কেটিংয়ে কাজ করার। এতদিন কনসালটিংয়ে কাজ করলেও সরাসরি ব্যবসায় এ কাজ করতে যোগদান করি ইউনিক্লোতে। কাজ শুরুর পর বিভিন্ন দেশের ইউনিক্লোর মার্কেটিংয়ের বিষয়গুলো দেখতাম। ঠিক তখন আমাকে বাংলাদেশে গ্রামীণ ইউনিক্লোর দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় বিজনেস পুনর্গঠনে। এরপর থেকেই কাজ করে যাচ্ছি গ্রামীণ ইউনিক্লোর সম্প্রসারণে।

আপনার জীবনের ইউটার্ন বলবেন কোন ঘটনাকে?

নাজমুল হক: ইউটার্ন বলা যায় জাপানে স্কলারশিপ নিয়ে যাওয়াকে। কারণ এর পরেই আমি নতুনভাবে শিখতে ও নতুন জগতে প্রবেশ করি। নতুন একটি ভাষা শেখা ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে ওঠা আমার জীবনের অন্যতম ঘটনা। যা আমাকে আজকের এ অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

গ্রামীণ ইউনিক্লোর এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা বলবেন?

নাজমুল হক: গ্রামীণ ইউনিক্লো ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে সোশ্যাল বিজনেস হিসেবে। আমি যুক্ত হই ২০১৫ সালে। যখন ডেনস্যুতে জব করতাম; তখন গ্রামীণ ইউনিক্লোর বিষয়টি প্রথম আসে কিছু কাজের প্রেক্ষিতে।

ইউনিক্লোতে কাজ করার সময় গ্রামীণ ইউনিক্লো রিস্ট্রাকচারিংয়ের কথা এলে আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। যেহেতু আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানি এবং জাপান ও ইউনিক্লো সম্পর্কেও জানি। আমারও বিশ্বাস ছিল গ্রামীণ ইউনিক্লোকে রিস্ট্রাকচার করতে পারব। গ্রামীণ ইউনিক্লো শুরুতে গ্রামীণ নারীদের মাধ্যমে গ্রামের নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে স্যানিটারি প্রোডাক্ট ও পোশাক সেল করত। এরপর আমরা ২০১৩ সালে সামগ্রিক বাংলাদেশের মানুষের জীবনধারা উন্নয়নের জন্য প্রথম ২টি স্টোরের মাধ্যমে তৈরি পোশাক বিক্রির মূলধারার সামাজিক ব্যবসায় যাত্রা শুরু করি। স্টোরের যাত্রা শুরুর পর থেকে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন ইউনিক ও ফাংশনাল পোশাক, ব্যতিক্রমী স্টোর ব্যবস্থাপনা, জাপানিজ মান নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছি। ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি ব্যবসায় সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করছি। আমাদের মূল নীতি কমফোরটেবল। আমরা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি কমফোরটেবল পোশাক, শপ ও লাইফস্টাইল।

দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির মানুষের পছন্দের এ প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান?নাজমুল হক: ইউনিক্লোর একটি ব্র্যান্ড কনসেপ্ট আছে—লাইফওয়্যার। গ্রামীণ ইউনিক্লোকে আমরা লাইফওয়্যার হিসেবে মানুষের মাধ্যে উপস্থাপন করতে চাই। লাইফওয়্যার হচ্ছে কোনো স্পেশ্যাল নয় বরং দৈনন্দিন জীবনে যে পোশাকের প্রয়োজন সেটি। নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রতিদিনের পোশাক। এখন ঢাকা বা ঢাকার আশেপাশে শুধু শোরুম থাকলেও আমরা সারাদেশে লাইফওয়্যারকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী ?

নাজমুল হক: তরুণরা এখন অনেক এগিয়ে। তারা ক্যারিয়ার সম্পর্কে যেমন সচেতন; তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন এবং জানেন। তথ্যপ্রযুক্তিতেও তরুণরা অনেক এগিয়ে। তবে একটি বিষয় হচ্ছে, তরুণরা যখন কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন; তখন অনেকে ঘাবড়ে যান। আমি মনে করি, জীবনে চ্যালেঞ্জ আসবেই। সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। চ্যালেঞ্জকে ভয় না করে স্বাগত জানিয়ে জয় করতে হবে।

Copyfrom : Jagonews24

গ্রামীণ ইউনিক্লো | Grameen Uniqlo

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং
স্বপ্ন কখনো পূরণ হয় না, বড় হতেই থাকে
দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং নিজস্ব স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কাজ করে চলেছে দেশের প্রান্তিক কারুশিল্পীদের নিয়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, জীবনযাপন, তৃণমূলের কারু ও হস্তশিল্পের উন্নয়নেও উল্লেখ করার মতো পরিবর্তন এনেছে আড়ং। ১৯৭৮ সাল থেকে বর্তমান—আড়ংয়ের এগিয়ে চলার গল্প বলেছেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর সহসম্পাদক রয়া মুনতাসীর।

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদছবি: সুমন ইউসুফ
প্রথম আলো: কী লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়ে আড়ংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল?

তামারা হাসান আবেদ: স্বপ্ন কখনো পূরণ হয় না, বড় হতেই থাকে। ফজলে হাসান আবেদ যখন আড়ং শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং সেটার পাশাপাশি ব্র্যাক সেরিকালচারের কাজ এগিয়ে নেওয়া। ১৯৭৬ সালে মানিকগঞ্জে ব্র্যাক সেরিকালচারের (রেশম গুটিপোকা চাষ) কাজ শুরু হয়। সেরিকালচারের মাধ্যমে তুঁতগাছ খেয়ে রেশমের পোকার কোকুন করা, সুতা বানানো—এই পুরো প্রক্রিয়াটি শ্রমনির্ভর কাজ। এই কাজগুলোর মাধ্যমে নারীদের আয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। স্যার ফজলে হাসান আবেদ দেখেছিলেন কীভাবে চীন, থাইল্যান্ড ও জাপান তাদের সিল্কশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বা তার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে। এ কারণে তিনি দেশের বাইরেও সেরিকালচারকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি এটাও চেয়েছিলেন যে আড়ং এমন একটি জায়গা হবে, যেখানে নারীরা তাঁদের তৈরি পণ্য সরবরাহ করার সঙ্গে সঙ্গে টাকা পেয়ে যাবেন। বেশির ভাগ দোকানে পণ্য বিক্রির পর কারুশিল্পীদের টাকা পরিশোধ করা হতো। ফজলে হাসান আবেদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পণ্য বিক্রি করার দায়িত্ব আমাদের। এটাতে যেন কারুশিল্পীরা ভুক্তভোগী না হন। পাওনা টাকার জন্য যেন তাঁদের অপেক্ষা করতে না হয়। এই চিন্তা থেকেই পণ্য বিক্রির জন্য ব্র্যাক নিজস্ব বিক্রির শাখা বানায়। এর মাধ্যমে পণ্য বানানো থেকে শুরু করে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়টি ব্র্যাক নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্য কারও ওপর ভরসা না করে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই আড়ং ৪৩ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্বপ্ন ছিল আড়ং একদিন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হবে। সে স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, এই স্বপ্নও আমরা পূরণ করতে পারব।

✅ একনজরে আড়ং:

প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৮

প্রতিষ্ঠাতা: স্যার ফজলে হাসান আবেদ

কর্মিসংখ্যা: ৩ হাজার

উৎপাদক ও কারুশিল্পী: ৬৫ হাজার

কত ধরনের পণ্য বিক্রি করে: ১২০ ধরনের বেশি

বিক্রয়কেন্দ্র: ২২

ঢাকায় ১২টি

চট্টগ্রামে ২টি

ঢাকার বাইরে শাখা: ৮টি (সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, যশোর ও রংপুর)

নতুন শাখা (আসন্ন): ফেনী

বার্ষিক লেনদেন: ১ হাজার কোটি টাকা (২০১৯ সাল)

প্রথম আলো: আড়ংকে পরিবর্তনের ধারক বলা হয়। আড়ং কোন কোন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে?

তামারা হাসান আবেদ: আমার মনে হয়, আড়ং কিছু নতুন বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। একদম শুরু থেকে যদি বলি, এ ধরনের দোকানই বাংলাদেশে ছিল না তখন। মেয়েরা দোকানে পণ্য বিক্রির কাজ করছে, এটাও নতুন ভাবনা ছিল। নির্দিষ্ট দামের দোকানও ছিল না কোনো। কেনার পর পণ্য বদলানোর সুযোগও আমরা করে দিই। যেকোনো পণ্য কেনার পর পছন্দ না হলে সেটা ৩০ দিনের মধ্যে বদলানো যাবে। পণ্য বিক্রয়ের পাশাপাশি উপহার দেওয়ার জন্য আড়ং গিফট ভাউচার চালু করা হয়। আমি সত্তরের দশকের কথা বলছি। তখন এসব বিষয় নতুন ধারণা ছিল আমাদের দেশে। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে আড়ং যেভাবে ঈদ, নববর্ষের আগে ফটোশুট, ফ্যাশন শো করত, সেগুলোও নতুন ছিল। নকশিকাঁথা, জামদানির মতো বাংলাদেশি কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বিকাশ, প্রচার ও সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি ফ্যাশনশিল্প প্রতিষ্ঠাতে অবদান রেখেছে আড়ং। ২০০৩ সালে আমরা ‘তাগা’ আনলাম আড়ংয়ের সাব-ব্র্যান্ড হিসেবে। এরপর দেখলাম অন্য অনেকেই নিজেদের দোকানে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক আনছেন। ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বাংলাদেশে আড়ংই প্রথম করেছে। পাশ্চাত্যে এগুলো আছে। তবে দেশের ক্রেতাদের এই বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আড়ং।

প্রথম আলো: আড়ংয়ে আপনার যোগ দেওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

তামারা হাসান আবেদ: আমি একা তো কিছু করি না। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। ২০০২ সালে আমি আড়ংয়ে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিই। তখন মনে হলো বাংলাদেশের অনেক নারী ফতুয়া পরার দিকে ঝুঁকছে। রোজ কাজে যেতে হচ্ছে। রিকশায়, বাসে ওঠার সুবিধার জন্য আরেকটু আরামদায়ক পোশাকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। তখন আমরা তাগা আনলাম। প্রথম থেকেই বেশ সাড়া ফেলেছিল তাগা। কারণ, তখন দেশি ও পাশ্চাত্য ধাঁচের মিশেলে তৈরি পোশাকগুলো অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। এ রকম নানা নতুন নতুন প্রোডাক্ট লাইন এবং ক্যাটাগরি আড়ং বছরের পর বছর বাজারে এনেছে। আমরা ডিজাইন থেকে শুরু করে বিক্রয়, ব্যবস্থাপনা, ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া নেওয়া এবং তাদের আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা—সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ২০১৭ সালে নারীদের জন্য এক্সক্লুসিভ ডিজাইনার লাইন ‘হারস্টোরি বাই আড়ং’ চালু করেছি। ২০১৮ সালে আমরা আরেকটি সাব–ব্র্যান্ড ‘তাগা ম্যান’ চালু করেছি। ২০১৪ সালে আমরা আমাদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মও চালু করেছি। ২০২১ সালে আমরা হারবাল স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড ‘আড়ং আর্থ’ চালু করি।

প্রথম আলো: আড়ংয়ের পণ্য তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাব কত মানুষ জড়িত?

তামারা হাসান আবেদ: আড়ংয়ের বিভিন্ন কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক মানুষ জড়িত। কর্মী হিসেবে কাজ করছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। এর বাইরে আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের কারুশিল্পী, স্বাধীন উৎপাদক ও তাঁদের অধীনে কাজ করছেন, এমন কারুশিল্পীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা পণ্য বানিয়ে আনি। নরসিংদী থেকে সুতি কাপড় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিল্কের কাপড় তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইলে শাড়ি, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করা হয়। জামালপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও শেরপুরে কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করানো হয়। চট্টগ্রাম, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামেও আমাদের উৎপাদনকেন্দ্র আছে।

আমরা আমাদের কারুশিল্পীদের কাজের মানোন্নয়নের জন্য ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এ ছাড়া তাঁদের হিসাবরক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমাদের নিজস্ব উৎপাদনকেন্দ্রে কর্মরত কারুশিল্পীদের জন্য আমরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তা স্কিম গঠন করেছি। এতে কারুশিল্পীদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটতম পরিবারের সদস্যরা জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন। কারুশিল্পীরা অবসরকালীন গ্র্যাচুইটির সুবিধাও পান। কর্মস্থলে চিকিৎসাসেবা, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং শিশুদের জন্য ডে–কেয়ার সেবার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া কারুশিল্পীরা ব্র্যাকের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে যেমন ক্ষুদ্রঋণ, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার সচেতনতা, আইনি সহায়তা, এমনকি বাড়িতে ল্যাট্রিন স্থাপনের জন্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। কারুশিল্পীদের সন্তানরা যেন স্কুলে যায়, খেয়াল রাখা হয় সেদিকেও। সব উৎপাদকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদকেরা জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা পান। প্রয়োজনে উৎপাদকদের আমরা ঋণ দিই। আমাদের উৎপাদকদের উৎপাদনকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, সঠিক মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আমরা পর্যায়ক্রমে উৎপাদনকেন্দ্রে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা করি।

প্রথম আলো: করোনা মহামারির সময়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তামারা হাসান আবেদ: করোনার এই সময়টা আমাদের সবার জন্যই কঠিন ছিল। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির চেয়ে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারুশিল্পী ও উৎপাদকদের ব্যাপারে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমাদের কারুশিল্পীদের ৩০ মাসের জন্য ‍ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যা সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। প্রথম ছয় মাস ঋণ প্রদানের কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী দুই বছর কোনো সুদ নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের উৎপাদকদের কাছে যে পণ্যের অর্ডার ছিল, তার জন্য তাঁদের অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই পণ্য পর্যায়ক্রমে নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের অগ্রিম বেতন দেওয়া হয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। করোনাকালে এই কর্মীদের ব্র্যাকের তহবিল থেকে এককালীন দেড় হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। উৎপাদকদের পণ্যের বিক্রয় বাড়ানোর জন্য মহামারির সময়েও আমরা যশোর ও রংপুরে নতুন বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছি। বনানী ও গুলশান শাখা দুটি বৃহৎ পরিসরে নতুন স্থানে স্থানান্তর করেছি। এ ছাড়া কারুশিল্পী ও উৎপাদকদের নতুন কাজ নিশ্চিত করার জন্য গত বছর আমরা একটি বড় মূল্যছাড়ে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করি।

প্রথম আলো: বিদেশি পর্যটকেরা বাংলাদেশি পণ্য কেনাকাটার জন্য আড়ংয়ে যান। কোন ধরনের পণ্য তাঁরা বেশি কেনেন?

তামারা হাসান আবেদ: পর্যটকেরা মূলত নকশিকাঁথার নকশা আছে, এমন পণ্য বেশি কেনেন। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের স্যুভেনির, যেমন পিতলের নৌকা, রিকশা ও অন্যান্য পণ্য, দেশি পুতুল, টি-শার্ট, চাবির রিং ইত্যাদি কিনে থাকেন। চীনা পর্যটকেরা যেমন মুক্তার গয়না বেশি কেনেন।

প্রথম আলো: তিন-চার দশক আগেও বিদেশি পর্যটক আর উচ্চবিত্তেরাই ছিলেন আড়ংয়ের মূল ক্রেতা। এখন তো আড়ংয়ের পণ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণিও কিনছেন। এটাকে কীভাবে দেখেন?

তামারা হাসান আবেদ: বিষয়টি খুব ইতিবাচক। এর মানে আড়ং মূলধারার ব্র্যান্ড হতে পেরেছে। আপনি আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে কী করতে চান, সেটার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের প্রথম থেকেই বড় পরিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কারণ, এতে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ব্র্যান্ড যত বড় হবে, আমরাও তত বেশি মানুষকে কাজ দিতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দেশীয় রুচি তৈরি করার ক্ষেত্রেও আড়ং অবদান রেখেছে। এটা না হলে আড়ং এ পর্যন্ত আসত না। কারুশিল্প নিয়ে পৃথিবীতে এত বড় পরিসরে আর কেউ কাজ করেনি।

প্রথম আলো: ঈদ, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন উপলক্ষে আড়ং থিমভিত্তিক ডিজাইন নিয়ে আসে। এই সব ডিজাইন কি আন্তর্জাতিক ফ্যাশনধারা অনুসরণ করে করা হয়, নাকি দেশজ বিষয় ধরে করা হয়?

তামারা হাসান আবেদ: ইউরোপ অথবা আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন নকশা কমবেশি সব দেশই অনুসরণ করে। এই সব ব্র্যান্ড পাক্ষিক ফ্যাশন শো আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ফ্যাশনধারা প্রবর্তন করে। এ ছাড়া ফ্যাশন ফোরকাস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন রং, নকশা, কাট ইত্যাদি প্রবর্তন করে। বর্তমানে পোশাকের হাতায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, নিয়ে আসা হচ্ছে বৈচিত্র্য। এগুলো পাশ্চাত্যের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। বাইরের দেশের নকশাগুলো থেকে আমরা চিন্তাশীল উপায়ে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মানানসই নকশাগুলো বাছাই করে চলতি ধারার কাটে ও ধাঁচে দেশি কাপড় এবং দেশজ ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট এবং অন্যান্য কাজ সংযোজন করে আমাদের কালেকশনগুলো সাজাই বছরজুড়ে।

প্রথম আলো: আড়ংয়ের কোন পণ্যগুলো বিক্রি হয় বেশি? এখন কয় ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়? পুরো দেশে আড়ংয়ের শাখা কয়টি?

তামারা হাসান আবেদ: আড়ংয়ে ২২টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১২০ ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ক্রেতারা পোশাক কেনেন সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে ২২টি শাখা রয়েছে আড়ংয়ের। কিছুদিনের মধ্যে ২৩ নম্বর শাখা ফেনীতে চালু হবে। এর মধ্যে ঢাকায় আছে ১২টি, চট্টগ্রামে ২টি, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, রংপুরে ১টি করে শাখা রয়েছে আমাদের। দেশের সব শাখাতেই একই রকম পণ্য বিক্রি হয়।

প্রথম আলো: কোভিড–পরবর্তী ‘নতুন স্বাভাবিক (নিও নরমাল)’ সময়ের জন্য আড়ংয়ের পরিকল্পনা কী?

তামারা হাসান আবেদ: করোনার সময় আমাদের জীবনে একটি বড় পরিবর্তন হচ্ছে অনলাইনে বসে কেনাকাটা করা। মানুষও এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ধীরে ধীরে অনলাইনে কেনাকাটার সঙ্গে সবাই অভ্যস্ত হয়েছে। আগামী কয়েক বছর বিষয়টি নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ ছাড়া আমাদের ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে মনোযোগ থাকবে। পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের সবারই নৈতিক দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি, যা আমাদের ক্রেতারা শিগগিরই উপলব্ধি করবেন।

প্রথম আলো: ১০ বছর পর আড়ংকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

তামারা হাসান আবেদ: ১০ বছর পর আড়ংকে একটি সফল গ্লোবাল ক্রাফট ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

তামারা হাসান আবেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং | Aarong

40 এবং 50 এর দশকের H&M

 1946 সালে 30 বছর বয়সী সুইডিশ ব্যাবসায়ী  এরলিং পারসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  নিউইয়র্কে একটি সড়ক ভ্রমণে যান । তার সেখানে উইমেন ফ্যাশনকে একটি নতুন উপায়ে বিক্রি করার ধারণার জন্ম হয় ।

1947 সালে পরের বছর , এরলিং পার্সন সুইডেনের Västerås- শহরে  নতুন একটি উইমেন্স ওয়্যারের স্টোর খোলেন ।   এটিকে তিনি নাম দেন "হেনেস", সুইডিশ ভাষায় যার অর্থ হয় "Hers" ।

শীঘ্রই-বিখ্যাত হেনেস লোগোটি প্রতিষ্ঠাতা এরলিং পার্সন নিজেই ডিজাইন করেছেন ।  পরে 1952 সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে একটি প্রথম স্টোর খোলেন ৷ 1954 সালে দ্বিতীয় স্টকহোম স্টোর খোলা হয় , Hennes তখন জনপ্রিয়তার তুংগে ৷

1954 সালে একই বছর, হেনেস সুইডেনের সবচেয়ে বড় জাতীয়  দৈনিক পত্রিকায় পূর্ণ-পৃষ্ঠার রঙীন  বিজ্ঞাপন বের করেন Hennes;  মার্কেটিং এর শক্তিতে তারা বিশ্বাস করেছিলো ।

সুইডেনের সেন্ট্রাল স্টকহোমের Hötorget এলাকায় নির্মিত পাঁচটি স্কাই স্ক্রেপার ভবনের মধ্যে প্রথমটিতে একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর খোলার মাধ্যমে Hennes এর 1950-এর দশক শেষ হয় ।

60 এবং 70 দশকের H&M

 1968 সালে, হেনেস সুইডিশ স্টকহোম-ভিত্তিক হান্টিং এপারেল এবং ফিশিং ইকুইপমেন্ট  রিটেইলার  মরিটজ উইডফর্স (Mauritz Widforss) কে একোয়ার করে এবং কেনার পর এর নাম পরিবর্তন করে কোম্পানির নতুন নাম হেনেস অ্যান্ড মরিটজ (Hennes & Mauritz) রাখা হয় ।  এটি ম্যান এবং কিডস এপারেল অফার করার শুরু, যার ফলে H&M পুরো পরিবারের জন্য ক্লোদিং আইটেম অফার করা শুরু করে ।

র‍্যাপিড এক্সপানশন : 1969 সাল নাগাদ, হেনেস এবং মরিটজের 42টি স্টোর খোলে ।  এই দশকে H&M ইন্টারন্যাশনাল এক্সপানশন  শুরু হয়।  নরওয়ে প্রথম স্টোর খোলে , তার পরে ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য এবং সুইজারল্যান্ডে তাদের স্টোর খুলেছিলো H&M ।

1973 সালে, Hennes & Mauritz আন্ডার ওয়্যার বিক্রি শুরু করে।  প্রতি বছর পাঁচ বা ছয়টি নতুন স্টোর খোলার সাথে ব্যাবসার গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

 1974 সালে, Hennes & Mauritz সুইডেনের স্টকহোম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।  একই বছর, স্টোরগুলিকে Hennes & Mauritz  থেকে সংক্ষেপে "H&M" আকারে  পুনরায় ব্র্যান্ড করা হয়।

 70 এর দশকের শেষদিকে, মার্কিন ডেনিম স্টোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইম্পুলস ধারণা চালু হওয়ায় মর্ডান টিনেজরা H&M-এর নিজস্ব সংস্করণ পায়।

 ✅ 80 এবং 90 এর দশকের H&M

 
 1980 এর দশকে, আসন্ন গ্লোবাল এক্সপানশনের ভিত্তি স্থাপিত হয় ।   জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসের প্রথম নতুন H&M স্টোর খোলা হয় ।

 ই-কমার্স শব্দের জন্মের অনেক আগেই, 1980 সালে সুইডিশ মেইল ​​অর্ডার কোম্পানি Rowells-এর অধিগ্রহণের মাধ্যমে H&M ফ্যাশনের বিক্রি গ্রাহকের বাড়িতে চলে যায়।

 1982 সালে - সুইডেনের Västerås-এ শুরু হওয়ার 35 বছর পর, কোম্পানিটি তার দ্বিতীয়-সিইও পায়, কারণ এরলিং পারসন তার ছেলে স্টেফান পারসনকে জায়গা দেওয়ার জন্য তিনি পজিশন ছেড়ে দেন ।

1990-এর দশকে  সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনগুলি মূলত বড় শহরের বিলবোর্ডের  দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় ।  মডেলের চয়েস ইঙ্গিত দেয় যে H&M একটি সত্যিকারের ইন্টারন্যাশনাল  ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।  সুপার মডেল, ফেমাস এক্ট্রেস একটররা H&M পোশাক  ব্যবহার করে ।  ফ্যাশন নিজের জন্য কথা বলে।
 1990 সালে  বিখ্যাত এনুয়াল  ক্রিসমাস আন্ডারওয়্যার কেম্পেইন শুরু হয় , যে কেম্পেইনে  সুপার মডেল এলি ম্যাকফারসন ছিলেন  ৷  এই কেম্পেইন মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলো। 

 1990-এর দশক জুড়ে, "দ্য বিগ সিক্স"-এর মডেল - এলি ম্যাকফারসন, সিন্ডি ক্রফোর্ড, নাওমি ক্যাম্পবেল, ক্লডিয়া শিফার, ক্রিস্টি টার্লিংটন এবং লিন্ডা ইভাঞ্জেলিস্তা - H&M-এর কেম্পেইনে  অংশ গ্রহণ করেছিলো ৷

 1998 সালে, H&M অনলাইন কেনাকাটার অফার দেয়া শুরু করে। H&M এর প্রথম অনলাইন মার্কেট ছিলো  সুইডেন।

1998 সালে ইউরোপে H&M এর এক্সপানশন  অব্যাহত ছিলো । এই দশকের শেষের দিকে ফ্রান্স সহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে H&M স্টোর খোলা হয়। H&M প্যারিসে 1998 সালে প্রথম  স্টোর খোলে ।

✅  2000 এর দশকের H&M

 2000 সালে, নিউ ইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউতে একটি প্রধান H&M ফ্ল্যাগশিপ স্টোর খোলে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম স্টোর খোলার মধ্য দিয়ে ইউরোপের বাইরে বিজনেস এক্সপানশনের সূচনা হয়।

 H&M এবং Karl Lagerfeld 2004 সালে ফ্যাশনের জগতকে অবাক করে দিয়েছিল, ডিজাইনটি মূল্যের প্রশ্ন নয় তা দেখানোর জন্য দলবদ্ধ হয়ে।

 Versace, Roberto Cavalli, Alexander Wang and Stella McCartney এর মতো এই প্রথম ডিজাইনার  ফ্যাশন জায়ান্টদের কোলাবোরেশান  করা  হয় এবং তাদের ডিজাইন গ্লোবালি ফ্যাশন অনুরাগীদের কাছে ইজি একসেসেবল করার জন্য।

প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলিতে অনলাইন সেলস এক্সপানশন করতে থাকে ।

 H&M 2007 সালে সাংহাই এবং হংকং-এ প্রথম স্টোর খোলে ফার ইস্ট এ চলে আসে ।

 2007 সালে , প্রথম হেনেস স্টোর খোলার 60 বছর পর এর সাবসিডিয়ারি  ব্রেন্ড COS এর জন্ম হয়।  প্রথম স্টোর হোস্ট করার সম্মান লন্ডন, যুক্তরাজ্যে যায়।

  FaBric Scandinavien AB কেনার মাধ্যমে Weekday, Monki,  Cheap Monday কে H&M গ্রুপে যুক্ত  হয়।

 2009 সালে H&M Home চালু হওয়ার কারণে  হোম স্টাইলিং করা আরও মজাদার হয়ে উঠেছে।

2000 সালে রল্ফ এরিকসেন H&M সিইও নিযুক্ত হন।  পরবর্তীতে কার্ল-জোহান পারসন 2009 সালে সিইও হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


2010 এবং তার পরের অবস্থাঃ 

 2010 সাল:

 H&M সম্পূর্ণরূপে সাস্টেইনেবল ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি তার প্রথম কালেকশন  চালু করেছে, আরও অনেক সাসটেইনেবল  ইনিশিয়েটিভ  নেয়া শুরু করে ।

 2011 সাল:

 H&M গ্রুপ সকল কর্মচারীদের জন্য তার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম চালু করে।

 2013 সাল:

H&M বিশ্বব্যাপী স্টোরগুলিতে  গার্মেন্টস কালেকশন  শুরু করে ।  তারপর থেকে, হাজার হাজার টন পুরানো টেক্সটাইল পন্য রিসাইকল রিইউজ করার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্টকহোম, প্যারিস এবং লস এঞ্জেলেসে ডিজাইন স্টুডিও সহ H&M গ্রুপ আরেকটি ব্র্যান্ড চালু করেছে যার না " & Other Stories"।

 H&M-এর র‍্যাপিড এক্সপানশন  অব্যাহত রয়েছে এবং এখন ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতে স্টোর খোলে ।

 2015 সাল:

 H&M ফাউন্ডেশন দ্য গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড চালু করে।  GCA হল একটি চ্যালেঞ্জ যা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যা একটি লিনিয়ার  থেকে একটি সার্কুলার  ফ্যাশন শিল্পে স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 2017 সাল:

 নতুন ব্র্যান্ড ARKET চালু করে । লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে প্রথম ফিজিক্যাল স্টোর খোলে এবং 18টি ইউরোপীয় বাজারে অনলাইনে তার প্রোডাক্ট সেলস করে ৷
 2018 সাল:

 নতুন ব্র্যান্ড Afound  চালু করে।  আফাউন্ড হল একটি নতুন মার্কেটপ্লেস যেখানে এইচএন্ডএম গ্রুপের ব্র্যান্ডের সাথে অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল পণ্যগুলিও বিক্রি করে ।

 2019 সাল:

H&M বিশ্বের প্রথম বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড  যেটি তার প্রোডাক্ট  এবং সাপ্লাই চেইন সম্পর্কে  বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে ।

 H&M গ্রুপ Sellpy তে তার মালিকানা বাড়িয়েছিলো  Sellpy হলো সেকেন্ড-হ্যান্ড আইটেম বিক্রির  ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম।   এখন যার মূল মালিক H&M গ্রুপ ।

 H&M গ্রুপের বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় সাপ্লাই চেইন সার্ভিস  ট্রেডলার চালু করে।

H&M এর ইতিহাস | Hennes & Mauritz | History of H&M