Textile Lab | Textile Blog: বিজনেস
কাপড়ের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র টেরিবাজার ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকার ইসলামপুরের পরে এটিই দেশের পাইকারি কাপড়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র।

বন্দরনগরী, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা, ইসলামপুর, আন্দরকিল্লা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে বন্দরনগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত টেরিবাজার। 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কাপড়ের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র টেরিবাজার। ইতোমধ্যে এ বাজারটি ক্রেতাদের নির্ভরতার আস্থা অর্জন করেছে।

এটি আন্দরকিল্লা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে বন্দরনগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বাণিজ্যকেন্দ্র টেরিবাজারে  প্রায় ২ হাজার ৫০০ দোকান এবং ৮২টি শপিংমল আছে। শুধু খুচরা গ্রাহকই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে পাইকারি কাপড় কেনাকাটা করেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকার ইসলামপুরের পরে এটিই দেশের পাইকারি কাপড়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র।

ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্যকেন্দ্রে প্রায় ৮০ বছর ধরে কাপড় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেরিবাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি টেরিবাজার সংলগ্ন ঘাট ফরহাদবেগ অঞ্চলে বড় হয়েছি এবং শৈশবকাল থেকেই দেখছি যে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে কেনাকাটা করেন। বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরাও এখানে পাইকারি দামে কাপড় কিনতে আসতেন এবং এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে।'

সূত্র জানায়, ২০০০ সাল থেকে এখানে একের পর ওয়ান-স্টপ মল গড়ে উঠেছে, যেখানে সব বয়সের মানুষের জন্য তৈরি পোশাক একই ছাদের নীচে পাওয়া যায়।

মলগুলোর একটি মেগামার্ট। এটি টেরিবাজারে ইব্রাহিম ম্যানশনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় অবস্থিত। গত সপ্তাহে সরেজমিনে টেরিবাজারে গিয়ে দেখা যায় শপিংমলে ক্রেতাদের যথেষ্ট ভিড়।

কেনাকাটার করতে সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন তামান্না বিনতে রাশেদ। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ওয়ান স্টপ মলে কেনাকাটা করার সুবিধা হলো এখানে পরিবারের সবার জন্য একই ছাদের নীচে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। পোশাক কেনার জন্য আমাকে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যেতে হবে না এবং দামও যুক্তিসঙ্গত।'

কাপড়ের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র টেরিবাজার বাণিজ্যকেন্দ্র টেরিবাজারে প্রায় ২ হাজার ৫০০ দোকান এবং ৮২টি শপিংমল আছে।  ওয়ান স্টপ শপিংমল ছাড়াও টেরিবাজারে প্রায় ২ হাজার দোকানে কাপড় বিক্রি করা হয়।  এ বাজারের ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় কাপড়ের চাহিদার পাশাপাশি আমদানি করা কাপড়ের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে এখন তারা কাতান, লিনেন, জামদানি, সুতি, নেট, জর্জেট, শিফন এবং প্রিন্ট কাপড়সহ সব ধরনের কাপড় আমদানি করছেন।

আদ্রিকা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী গৌতম চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমদানি করা কাপড়ের চাহিদা স্থানীয় কাপড়ের চাহিদাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। আমার দোকানের ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় ও চীনা কাপড়।'

যোগাযোগ করা হলে টেরিবাজার বণিক সমিতির সভাপতি আমিনুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই বাণিজ্যকেন্দ্রে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এতে গ্রাহকদের জন্য আরও পছন্দের জায়গা হয়ে উঠবে।'

সুত্র: ডেইলি স্টার

বাংলাদেশের ফেব্রিক মার্কেট টেরিবাজার I Bangladeshi Fabric Market Terrybazar

কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে থ্রি পিস আমদানি করবেন? How to import Three piece from India ?
যদিও বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চেয়ে পোশাক উৎপাদনে অনেক এগিয়ে, কিন্তু সেসব পোশাক আন্তর্জাতিক বাজার দখল করে আছে। তবে লোকাল বাজারের পোশাক গুলি এখনও ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অথবা চায়না কাপড়ে সয়লাব হয়ে আছে।

এসব কাপড়ের মধ্যে ইন্ডিয়ান থ্রি পিস গুলি বাংলাদেশে এখন প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মেয়েদের পছন্দের প্রথম সারিতে আছে ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি থ্রি পিস। তবে আমি ব্যক্তি গত ভাবে বলবো আমদের দেশিয় থ্রি পিস গুলিও কিন্তু ভালো। বিদেশি পণ্য পরিহার করার চেষ্টা করবেন। আজকের পোষ্ট টা আমি তৈরি করেছি ইন্ডিয়ান পণ্য আমদানি কারক ব্যবসায়ীদের জন্য। ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীরাই এভাবে ইন্ডিয়া থেকে থ্রি পিস সহজে আমদানি করতে পারেবেন।

ইন্ডিয়ান থ্রি পিস আমদানি করতে আপনাকে কয়েকটি ধাপ পার করতে হবে।আমি বিস্তারিত লিখবো ।

তবে আপনি যদি দেশি কিছু কিনে ব্যবসা করতে চান তবে ভিজিট করতে পারেন, পাইয়াকারি থ্রী পিছ , ব্লক বাটিক থ্রী-পিছ , আট গজ কাপড়ের থ্রি-পিস , Vip Gold থ্রী পিছ , চায়না বাটিক থ্রী-পিছ ।

আমদানি লাইসেন্সঃ

বৈধ ভাবে বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি করতে আপনাকে আমদানি লাইসেন্স করতে হবে। আমদানি লাইসেন্স কিভাবে করতে হয় সেটি নিয়ে আমদের ওয়েবসাইটে অনেক বড় পোষ্ট আছে পড়ে নিবেন।

সংক্ষিপ্ত করে বলি, আমদানি লাইসেন্স করতে আপনাকে একটা ট্রেড লাইসেন্স , ভ্যাট, টিন করতে হবে প্রথমে। এগুলি নিয়ে আমদানি নিবন্ধকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। তবে এসব ঝামেলা আপনি কোন এজেন্ট দিয়ে করিয়ে নিলেই ভালো হবে। তারা দ্রুত করতে পারবেন।

একটি কমপ্লিট আমাদানি লাইসেন্স করতে আপনাকে কম বেশী ২৫০০০-৩০০০০ টাকা খরচ করতে হবে।

স্যাম্পল দেখাঃ

আপনি যদি অনলাইনে ইন্ডিয়ান সেলারের সাথে কথা বলেন তবে ফাইনাল অর্ডার করার আগে স্যাম্পল এনে দেখে নিবেন। আর যদি আপনি সরা সরি ইন্ডিয়াতে গিয়ে পণ্য দেখে আসেন তবে স্যাম্পাল আমদানি করার দরকার নাই। সাধারণত বিদেশ থেকে স্যাম্পল আমদানি করতে গেলে আপনাকে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। ১০ হাজার টাকা খরচ করলে আপনি ইন্ডিয়া গিয়েই পণ্যের স্যাম্পল নিয়ে আসতে পারবেন।

তবে আপনি যদি নিজেই ইন্ডিয়া যান, তাহলে কম পক্ষে ৫-১০ পিস নিয়ে আসবেন । এতে করে আপনি স্যাম্পল বিক্রি করে কাস্টমারের ফিডব্যাক জানতে পারেন।

Exporter Code (IEC)ঃ

এবারের কাজ হলো ইন্ডিয়ান যে থ্রি পিস সেলার আছে তার Importer Exporter Code (IEC) আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ Importer Exporter Code (IEC) ছাড়া ইন্ডিয়া থেকে পণ্য রপ্তানি করা যায়না। বিক্রেতা দোকানদারের এসব না থাকলে আপনি কোন এজেন্ট ধরে তাদের দিয়ে রপ্তানির কাজ করিয়ে নিতে পারবেন। অনেক কোম্পানি আছে যারা এসব করে দিবে। এজন্য তাদের কিছু ফি দেয়া লাগবে।আপনি বিভিন্ন দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করে তাদের দিয়ে আসলে তারা বাংলাদেশে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবে।
পি আই আনাঃ

এবারের কাজ হল সেলারের কাছ থেকে পি আই বা Proforma Invoice আনা। PI Proforma Invoice কি আমদানিতে PI এর গুরুত্ব কেন বেশি, এসব নিয়ে বিশাল পোষ্ট আছে। দেখে নিবেন। পি আই তে আপনার কোম্পানির একটি সিল মেরে সাইন দিয়ে আপনি যে ব্যাংক থেকে এলসি করতে চান সে ব্যাংকে চলে যাবেন। পি আইতে আপনার পণ্যের দাম, ওজন, পরিমাণ, আমদানিকারকের নাম, রপাতানি কারকের নাম,

রপ্তানি কারকের ব্যাংক আকাউন্ট নাম্বার ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

ইন্ডিয়ান থ্রি পিস আনতে কত ট্যাক্স দিতে হবে??

এই বিষয়টা খুব জটিল । অনেকেই হিসেব করতে পারেননা কত ট্যাক্স আসতে পারে। আমি আগেও বলেছিলাম , যেসব পণ্য আমাদের দেশে উৎপাদন হয় সেসব পণ্য আমদানি করলে ট্যাক্স অনেক বেশী দিতে হয়। আমার কাছে নিচের HS Code টি ইন্ডিয়ান থ্রি পিস এর জন্য অধিক যুক্তি যুক্ত মনে হচ্ছে।

62041200

Women'S Or Girls' Suits Of Cotton

25.00
45.00
15.00
5.00
3.00
4.00
0.00
------------------
127.84

টোটাল ট্যাক্স আসে ১২৭.৮৪ টাকা । তার মানে আপনি ১০০০ টাকার ইন্ডিয়ান থ্রি পিস আমদানি করলে আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে ১২৭৮ টাকা ( কম বেশী)

তবে কাস্টমস প্রতি ইন্ডিয়ান থ্রি পিস কম বেশী ১০ ডলার ধরে আসেসমেন্ট করবে। অর্থাৎ আপনি যদি ৫ ডলার ঘোষণা দেন, তাহলেও ১০ ডলার ধরেই আসেসমেন্ট হবে।

এলসি করাঃ

এবার পি আই নিয়ে কোন একটা ব্যাংকে চলে যাবেন। যত ডলার এল সি করতে চান তাদের বলবেন। তবে এলসিতে আপনি যে পণ্য আমদানি করবেন মূল ক্রয় দাম উল্লেখ করতে হয়।

খুব সাবধানে এলসি ফর্ম পুরন করতে হবে। এখানে আপনি যে পণ্য আনবেন তার নাম এবং HS কোড এবং ফুল ভালু উল্লেখ করতে হবে। কোন ভাবেই জেন HS কোড ভুল না হয়।

এবার ব্যাংক সকল কাগজ পত্র সেলারকে পাঠাবে। সেলার সব যাচাই বাছাই করে, ট্রাক চালান, এল সি ফর্ম, পি আই, কমার্শিয়াল ইনভএস, প্যাকিং লিস্ট পুনরায় বাঙ্কে পাঠাবে।

ব্যাংক সকল কাগজ পত্র সাইন করে আপনাকে দিয়ে দিবে।

তবে আপনি যদি দেশি কিছু কিনে ব্যবসা করতে চান তবে ভিজিট করতে পারেন, পাইয়াকারি থ্রী পিছ , ব্লক বাটিক থ্রী-পিছ , আট গজ কাপড়ের থ্রি-পিস , Vip Gold থ্রী পিছ , চায়না বাটিক থ্রী-পিছ ।

পণ্য ছাড় করানোঃ

এবার এসব আপনি বেনাপোল বা যে সীমান্ত দিয়ে আমাদনি করবেন সেখানে কোন সি এন্ড এফের মাধ্যমে কাস্টমে জমা দিবেন।

সি এন্ড এফে আপনাকে ৩-৪ দিনে পণ্য খালাস করে দিবে। সি এন্ড এফ কি তা নিয়ে বিশাল পোষ্ট আছে। দেখে নিবেন ।

কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে থ্রি পিস আমদানি করবেন | import Three piece from India

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় কোন ফেলনা জিনিস নয়। এই ঝুট কাপড় নিয়ে ব্যবসা করে দেশের অসংখ্য মানুষ তাদের বেকারত্ব দূর করেছে। এই ঝুট ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জড়িত। এদের মধ্যে কেউ ঝুট ব্যবসায়ী, কেউ ঝুট শ্রমিক, কেউ আবার ঝুট সাপ্লাইয়ের কাজ করে।

দেশের ভেতর ঝুট কাপড়ের যেমন বড় বাজার রয়েছে তেমনি রয়েছে বিদেশেও। ইউরোপ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস বর্জ্য হিসেবে পরিচিত ঝুট কাপড় বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। অনেক সময় সরাসরি গার্মেন্টস ঝুট কাপড় রপ্তানি হচ্ছে আবার মাঝে মাঝে রিসাইকেল পণ্য হিসেবে ঝুট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিস রপ্তানি হচ্ছে। তাই বলা যায় ঝুট ব্যবসায়ের দেশ এবং দেশের বাইরে রয়েছে বিরাট সম্ভাবনাময় বাজার তাই আপনিও গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় দিয়ে যেসব পণ্য তৈরি হয়ঃ

তুলা

সুতা

বিভিন্ন ধরণের পোশাক

ফাইবার

লেপ/তোশক

ম্যাট্রেস

ঝুট কাপড় কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দেশের বিভিন্ন যায়গায় আপনি ঝুট কাপড় পাবেন। মূলত এসব এলাকা হচ্ছে গার্মেন্টস কারখানা অধ্যুষিত এলাকা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে –

ঢাকা

সাভার

গাজীপুর

নারায়নগঞ্জ

চট্টগ্রাম

নরসিংদী

এছাড়া মিরপুরে রয়েছে বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ঝুট পল্লী। আপনি চাইলে মিরপুর ঝুট পল্লী থেকে ঝুট কাপড় কিনে দেশের যে কোন যায়গায় নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

ঝুট কাপড়ের দামঃ
 
বিভিন্ন ধরণের ঝুট কাপড় রয়েছে। এগুলোর দামের পার্থক্যও অনেক। 

যেমন –
সাধারণ মানের ঝুট কাপড় আপনি ১০-১৫ টাকা কেজি দরে পেয়ে যাবেন।

গ্যাবার্ডিন প্যান্টের ঝুট কাপড়ের কেজি ৭০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা

ব্লেজারের ঝুট ৬০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা

জিপার ৭০ টাকা থেকে ১১০ টাকা

জ্যাকেটের ঝুট ৯০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা

তবে এখানে যে দাম দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে অনেক কমেও আপনি কিনতে পারবেন যদি কারখানার সাথে আপনি সেভাবে চুক্তি করতে পারেন বা কারখানার সাথে সম্পৃক্ত আছে এমন কারও মাধ্যমে ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে যে কোন একটি গার্মেন্টসে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার যদি সুযোগ থাকে তাহলে একাধিক গার্মেন্টসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

গার্মেন্টসের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে ঝুট কাপড় কেনার চুক্তি করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী আপনি ঝুট কাপড় পেয়ে যাবেন। সাধারণত পোশাক কারখানাগুলো প্রতি সপ্তাহে একবার তাদের কারখানা থেকে ঝুট কাপড়ের বর্জ্য সরিয়ে থাকে। তাই আপনি প্রতি সপ্তাহে কারখানা গেইট থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করতে পারবেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝুট কাপড়গুলো ট্রাকে করে কারখানা থেকে বের করে থাকে তাই ট্রাকে যে পরিমাণ কাপড় থাকে সেই পরিমাণ ঝুট কাপড় আপনি কিনতে পারবেন।

তারপর আপনি সেই কাপড় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা করতে পারেন। আপনি সরাসরি অন্য কোন পার্টির কাছে বিক্রি করে নগদে মুনাফা করতে পারেন।

দেশের বাজারে যেসব সস্তা কাপড় মার্কেটে পাওয়া যায় তার একতা বড় অংশই তৈরি হয় এসব ঝুট কাপড় থেকে। আপনি চাইলে কয়েকজন দর্জি নিয়ে একটি ছোট পোশাক তৈরির কারখানা দিতে পারেন। যেহেতু এসব পোশাক দামে সস্তা তাই ভাল ব্যবসা করতে পারবেন।

আপনি এসব গার্মেন্টস ঝুট কাপড় দিয়ে সুতা তৈরি করতে পারবেন। এসব সুতা বিভিন্ন দর্জির দোকানে এবং ছোট পোশাক কারখানায় সাপ্লাই দিতে পারবেন।

ঝুট কাপড় দিয়ে যেহেতু তুলা তৈরি করা যায় তাই আপনি তুলার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তুলা ব্যবসা বেশ লাভজনক। ঝুট কাপড় থেকে ১ কেজি তুলা তৈরি করতে করতে আপনার সর্বোচ্চ ২০ টাকা খরচ হবে। এই তুলা আপনি ২৫-৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। ঝুট থেকে তুলা তৈরি করার জন্য আপনাকে একটি মেশিন ক্রয় করতে হবে। মেশিনটির দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো হবে। তবে সাপ্লায়ার ভেদে কিছু কম বা বেশি হতে পারে। এই মেশিনের সাহায্যে আপনি দৈনিক কমপক্ষে ১ টন তুলা তৈরি করতে পারবেন। তাহলে আপনি যদি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা লাভ করলেও দৈনিক ৫ হাজার টাকা লাভ। আরও বেশি দরে বিক্রি করতে পারলে আরও বেশি লাভ করতে পারবেন।

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় দিয়ে আপনি ফাইবার তৈরি করতে পারেন। ইউরোপে ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি ফাইবারের অনেক চাহিদা। তাই ইউরোপে ফাইবার রপ্তানি করেও ভাল পরিমাণে আয় করতে পারবেন।

✅ গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা শুরু করতে কেমন পুঁজি লাগেঃ

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার কেমন পুঁজি লাগবে তা আপনার ব্যবসার উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি কারখানা থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করে সরাসরি অন্য পার্টির নিকট বিক্রি করতে চান তাহলে আপনার ১ থেকে ২ লাখ টাকা পুঁজি হলেই যথেষ্ট। শুধু ঝুটের দাম এবং পরিবহণ ভাড়া হলেই যথেষ্ট।

আপনি যদি ঝুট কাপড় থেকে তুলা তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ঝুট কাপড় দিয়ে নতুন পোশাক তৈরির কারখানা দিতে চাইলে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাগবে।
এছাড়া আপনি যদি অন্য কোন ধরণের ব্যবসা করতে চান তাহলে সেই ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে।


পরিশেষেঃ 

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা এজন্য অনেক উদ্যোক্তা এই ব্যবসাটি করার ব্যাপারে আগ্রহী। কিন্তু এই ব্যবসা কিভাবে শুরু করবে সেটা না জানার কারণে অনেকেই সম্ভাবনাময় ঝুট ব্যবসায় আসতে পারছেন না। আশা করি এই লেখা পড়ার পর এই ব্যবসার বাপারে আপনার মনে আর কোন সংশয় থাকবে না।

গার্মেন্টস ঝুট কাপড় ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন | Garments Jhut fabrics business | Textile Waste

১০০% রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের(গার্মেন্টস + অন্যান্য)  রপ্তানি সংশ্লিষ্ট আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড জেনে রাখুন কাজে লাগবে। 

(১) EXP Form কী? এটি কে জারী করেন? 

উত্তরঃ পণ্য রপ্তানির সময় পণ্যের রপ্তানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সম্বলিত ফর্ম হলো EXP Form,  EXP (Export Permission ) Form লিয়েন ব্যাংক জারী করে থাকেন, এটি লিয়েন ব্যাংক জারী করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাস বোর্ড / ই- সার্ভিস পোস্ট দিয়ে রাখে। EXP Form যে সকল তথ্য থাকে;

(ক) লিয়েন ব্যাংক নাম, ঠিকানা ;

(খ) ক্রেতার নাম, ঠিকানা ;

(গ) রপ্তানিকারকের নাম, ঠিকানা ;

(ঘ) রপ্তানি পণ্যের বর্ননা;

(ঙ) পরিমাণ ;

(চ) পণ্য মূল্য ;

(ছ) পণ্যের এইচ,এস,কোড;

(জ) পণ্যের ডেস্টিনেশন; 

উল্লেখ্য একটি মাস্টার এলসি-এর বিপরীতে একাধিক EXP হতে পারে। অর্থাৎ মুল মাস্টার এলসি-এর বিপরীতে ঐ এলসি-এর যত পণ্য যেই পরিমাণ পণ্য, যে মুল্যের পণ্য, যে চালানে যতটুকু রপ্তানি হবে সেই পরিমাণ পণ্যের জন্য একটি ই,এক্স,পি হবে। 

EXP শুধুমাত্র সরাসরি রপ্তানিকারক ও ইপিজেড এর ক্ষেত্রে জারী করে থাকেন। তবে Deemed Exporter এর ক্ষেত্রে EXP Form  হয় না। Deemed Exporter এর ক্ষেত্রে ইউ,পি এবং ব্যাক টু ব্যাক এলসি এর মাধ্যমে রপ্তানি হয়ে থাকে ম

(২) PRC (Proceed Realization Certificate)যাচাই কিভাবে করতে হয়?

উত্তরঃ EXP Form - এ যে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-সার্ভিসের  ড্যাস বোর্ড থাকে সেটিই পরবর্তীতে যখন ফরেন কারেন্সি রিয়েলাইজ হয়ে যায় তখন PRC  তে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় বা রপ্তান্তরিত হয়ে যায় । সরাসরি রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাস বোর্ড গিয়ে PRC  যাচাই করা যায় তবে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে লিয়েন ব্যাংকে গিয়ে PRC  তথ্য যাচাই করতে হয়। সে ক্ষেত্রে বিল গুলো ভালো করে যাচাই করতে হয়। খালি রেজিস্ট্রারে তথ্য থাকলে হবে না,  বিল গুলোর পেমেন্ট কোন মুদ্রায় এসেছে সেই চেক/ড্রাফট /আনুষঙ্গিক দলিলাদি দেখে বা যাচাই-বাছাই করে  নিশ্চিত হতে হয়।

(৩) পণ্য রপ্তানির পর রপ্তানিমূল্যের কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে?

উত্তরঃ মোট মাস্টার এলসি-এর ৫% কমবেশি বৈদেশিক মুদ্রা এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। উদাহরণস্বরুপ রহমান গার্মেন্টস যে ১,০০,০০০ মাঃডঃ এর মাস্টার এলসি পেয়েছিল সে মাস্টার এলসি বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন হবে তবে তার বিভিন্ন কমিশন, ফি ইত্যাদি কর্তন করে বাকি অর্থ বাংলাদেশ টাকায় রুপান্তর করে আমদানিকারকের ( রহমান গার্মেন্টস) লিয়েন ব্যাংকে পরিশোধ করবেন। সাধারণত এই কমবেশি অবশ্যই ৫% বা তার কম হতে হবে। 

(৪) ৫% এর কম বৈদেশিক মুদ্রা রিয়েলাইজ হলে কী তা গ্রহণযোগ্য  হবে?

উত্তরঃ ৫% কমবেশি  বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ গ্রহনযোগ্য হবে। তবে কোন বিশেষ কারণে এর চেয়ে কম  হলে তার ব্যাখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে উল্লেখ থাকতে হবে। তবে ৫% এর কম হলে ডিমান্ড নোট জারী করতে হবে মানে প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করতে হবে। উদাহরণস্বরুপ রহমান গার্মেন্টস যদি ৯৩,০০০ হাজার মাঃডঃ রিয়েলাইজ করল, তখন প্রশ্ন এসে যায় উক্ত প্রতিষ্ঠান রপ্তানির লক্ষ্যে ১,০০,০০০ মাঃডঃ এর পণ্য উৎপাদনে যে পরিমাণ কাচামাল প্রয়োজন তাই সে সংগ্রহ করেছে কিন্তু সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন করে পণ্য রপ্তানি করে সম্পূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন করতে পারেননি অর্থাৎ ধরে নেওয়া হবে এক্ষেত্রে তিনি কিছু কাচামাল রপ্তানি করতে ব্যর্থ হয়েছেন ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা উপকরণের উপর প্রযোজ্য শুল্ককর তাকে হারাহারি ভাবে ফেরত দিতে হবে। অপর দিকে আমদানি নীতি আদেশে ন্যুনতম ভ্যালু এডিশন বিষয় বলা হয়েছে তাও কমপ্লাই করে না, ফলে এ জাতীয় ক্ষেত্রে ৫% এর কম বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন হলে প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করতে হবে, ডিমান্ড নোট জারী করে শুল্ককর আদায় করে নিতে হবে।

(লেখা ভালো লাগলে শেয়ার দিন, আরো লেখা চান কিনা মন্তব্য করবেন)

১০০% রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের(গার্মেন্টস) রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখুন

FOB=Free on Board (রপ্তানীকারক দেশে পন্য জাহাজে উঠানোর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত ভ্যালু)

C&F=Cost & Freight( পন্যের উৎপাদন খরচ + বাহন ভাড়া)

C&F= Clearing, and Forwarding

CFR= Cost and Freight (পন্যের উৎপাদন ব্যয় + জাহাজ ভাড়া)

CIF=Cost Insurance Freight (পন্য উৎপাদন ব্যয়+ইন্সুইরেন্স + জাহাজ ভাড়া)

L/C=Letter of Credit (ঋণপত্র, ব্যাংকে পন্য আমদানি /রপ্তানির জন্য বৈদেশিক ব্যাংকে অর্থ পাওয়ার বা প্রেরনের নিশ্চয়তা পত্র)

LCA=Letter of Credit Authorization(ঋণপত্র খোলার ফর্ম)

B/L=Bill of Lading( পন্য জাহাজীকরনের চালান, পন্যের লোডিং পয়েন্ট থেকে শিপিং এজেন্ট এটা ইস্যু করেন )

AWB=Air Way bills (পন্য বিমানীকরনের চালান, পন্য যে দেশ থেকে বিমানে উঠানো হয় সেখানের ঐ বিমান সংস্থার এজেন্ট ইস্যু করেন )

P.I=Proforma Invoice (রপ্তানিকারক কর্তৃক পন্য বিক্রির মুল্য নির্দেশক প্রথমে ইস্যুকৃত চালান)
PSI=Pre Shipment Inspection (পন্য জাহাজীকরন সংস্থা)

CRF=Clean Reports of Finding(PSI সংস্থা কর্তৃক পন্যের গুনগত মান, মুল্য, HS CODE, বাণিজ্যিক বর্ণনা সম্বলিত সনদ)

NNRF=Non Negotiable Reports of Finding(CRF complaint না করলে এ সনদ জারী করা হয়)

CPC=Customs Procedure Code( পন্যের ডিউটি লাইন নির্দেশক কোড)

ASYCUDA=Automated Systems for Customs Data (কম্পিউটার এ এসেসমেন্ট ও কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ সফটওয়্যার)

LCL(containers)=Least Cargo Load (কয়েকজন আমদানীকারকের একি কন্টেইনারে পন্য লোড করে আমদানি )

FCL(containers)=Full Cargo Load(একজন আমদানীকারকের পন্য এক কন্টেইনারে লোড করে আমদানি )

SOC=Shippers Owners Containers( পন্য সমেত কন্টেইনারের মালিক আমদানিককারক, এক্ষেত্রে পন্য এসেসমেন্ট সময় কন্টেইনারের শুল্ককর আদায় করে পন্য সমেত কন্টেইনার খালাস দিতে হয়)

SRO=Statutory Regularity Orders (প্রঞ্জাপন)

PRL=Post Retairedment leave(অবসর জনিত ছুটি)

ITC= Import Trade Control

SAFTA= South Asian Free Trade Agreement

HSCODE=Hermonaized Commudity description and coding system(আন্তর্জাতিক ভাবে সকল  পন্য সনাক্তের কোডিং ব্যবস্থা)

TUES= Twenty equivalent units= 20 feet
Containers(একটি কন্টেইনারকে ২০ ফুট লম্বা ধরে মোট কন্টেইনার গণনা, যেমন : ৪০ ফুট লম্বা কন্টেইনার হলো ২ TUES)

ITC=Import Trade control(আমদানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক)

IP=Import Permit (আমদানি অনুমতি পত্র, সাধারণত পন্য এলসি খুলে আমদানি করা না হলে সে ক্ষেত্রে বানিজ্য মন্ত্রণালয় এর অধীন CCI&E থেকে এটা ইস্যু করিয়ে আনতে হয়)

CCI&E= Chief Controler Imports and Exports (আমদানি রপ্তানির প্রধান নিয়ন্ত্রণ)

BIN=Business Identityfication Number (ব্যবসায়িক ইউনিক নং বা মুসক রেজিস্ট্রি নংবর্তমান নিয়মে ১১ ডিজিট ও অনলাইন নিয়মে ৯ ডিজিট সংখ্যার ইউনিক নম্বার )

AIN=Agent Identityfication Numbers(সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউনিক পরিচয় নং,কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এর সেকশন ২০৭ অনুযায়ী সিএন্ডএফ লাইসেন্স প্রদান করার সময় সংখ্যানুক্রমিক নম্বর )

CP= Clearance Permit( কোন পন্য চালান আমদানি নীতি আদেশ ভঙ্গ করে আমদানি হলে উক্ত চালান খালাসে CCI&E উক্ত পন্য খালাসে ইচ্ছা করলে CP Issue করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে Contravention পদ্ধতিতে জরিমানা আরোপ করে পন্য খালাস দেয়া যাবে)

IPO= Import Policy Orders(আমদানি নীতি আদেশ)

RCC= Registration Cancellation Certificate(গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ক্যান্সেল করা হয়েছ এমন সনদ পুরাতন গাড়ি, মোটর সাইকেল আমদানিতে এ দলিল দাখিল অত্যাবশ্যকীয়  )

LLDPE= Liner low Density Polyethyline(পলিথিন চিপস বা দানা ৩৯ চ্যাপ্টারের পন্য )

LDPE= Low Density Polyethyline(পলিথিন চিপস বা দানা ৩৯ চ্যাপ্টারের পন্য)

GSM= Grams Per Square Meters (paper) (কাগজ ওভেন ড্রাই করে আদ্রতা ছাড়িয়ে ওজন নিরনয়)

CFS= Container Freight Station(বন্দরে কন্টেইনার থেকে পন্য বাহির করে আমদানি ও রপ্তানির লক্ষ্যে সুরক্ষিত করে  রাখা হয় এমন ওয়ারহাউজ)

ICD= Inland Container Depot (আভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ICD License দেয়া হয়)

UD= Utilization Declaration ( Master LC এর বিপরীতে আমদানি কাম রপ্তানি পোষাক এর উপকরণ এর বর্ণনা সম্বলিত দলিল, এটি বিজিএমইএ ইস্যু করে থাকেন)

UP = Utilization Permission (রপ্তানিকৃত পন্য উৎপাদেন উপকরণ ব্যবহার এর বন্ড কমিশনার কতৃক জারীকৃত দলিল)

VDS= VAT Deduction at Sources ( বর্তমানে ৩৮ পন্য সরবরাহ কালে উৎসে কর্তিত মূসক)

TIN = Tax Identification number ( আয়কর বিভাগ থেকে কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির আয়কর প্রদানের ইউনিক নম্বর)

BEPZA= Bangladesh Export Processing Zone Authority

BEZA= Bangladesh Economic Zone Authority

CRAD= Customs Revenue Audit Department.

BCT= Bangladesh Customs Tariffs (1st schedule)

IGM = Import General Manifest ( এটি পরিবহনে বাহিত পন্যের দলিল যা কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ সেকশন ৪৩ জাহাজের ক্ষেত্রে অন্য বাহনের ক্ষেত্রে সেকশন ৪৪ অনুযায়ী আগমনের পূর্বে অন লাইনে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা আছে)

EGM= Export General Manifest

UTIN: Unique Tax Payer Identification No

ETIN: Electronic Tax Identification No

PRC= Proceed Realization Certificate (বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবসন সনদ)

AV= Assessable Value( CIF+ Landings charge একত্র করে পন্য চালানের শুল্ককর বাহির করার মুল্য)

ETA = Estimated Time of Arrival (জাহাজ, বিমান, যানের বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়)

ETD=  Estimated Time of Departure (জাহাজ, বিমান, যানের বন্দর ত্যাগের সম্ভাব্য সময়)

P.C= Port Clearance (জাহাজ বন্দর ত্যাগের ছাড়পত্র সেকশন ৫২)

LDT= Light Displacement Weight( খালি জাহাজের ওজন)

DWT = Dead Weight Tonnage (পন্যসহ জাহাজের ওজন)

LOA= Length Over All (জাহাজের দৈর্ঘ্য)

(Collected)

গুরুত্বপূর্ণ কিছু গার্মেন্টস শিপিং টার্মস | Garments Shipment

১০০% রপ্তানিমূখী শিল্প প্রতিষ্ঠান (গার্মেন্টস) তার আমদানি রপ্তানি কিভাবে করে?
(১) মাস্টার এলসি / এক্সপোর্ট এলসি কী?

উত্তরঃ 
একজন  বিদেশি বায়ার/ক্রেতা এদেশ থেকে রেডিমেড গার্মেন্টস  পণ্য ক্রয়ে প্রফর্মা ইনভয়েস-এর  বিপরীতে যে মুল এলসি, এ দেশের পণ্য সরবরাহকারীকে, সরবরাহকারীর লিয়েন ব্যাংকে যে এলসি প্রেরণ করেন সেটি হলো মাস্টার এলসি।

(২) মাস্টার এলসি/এক্সপোর্ট এলসি কে প্রদান করে?
উত্তরঃ 
বিদেশি বায়ার/ক্রেতা প্রদান করে থাকেন। 

(৩) বিদেশি বায়ার/ক্রেতা মাস্টার এলসি কয় ভাবে দিতে পারে?

উত্তরঃ দুই ভাবে দিতে পারে;

(ক) এদেশে অবস্থিত বায়িং হাউজের মাধ্যমে;

(খ) পণ্য উৎপাদনকারী গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানকে সরাসরিও  দিতে পারে।

এতদ্ব্যতিত সেলস কন্ট্রাক্ট/নিশ্চিত ক্র‍য় আদেশের মাধ্যমে ও বায়ার এদেশে থেকে পণ্য সরবরাহ নিয়ে থাকেন।

(৪) মাস্টার এলসি পাওয়ার পর বায়িং হাউজ/গার্মেন্টস কীভাবে পন্য উৎপাদন করে? 

উত্তরঃ  
মাস্টার্স/এক্সপোর্ট এলসি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, মাস্টার্স এলসি এর বিপরীতে পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজন এমন সকল উপকরণ ও এক্সোসরিজ ব্যাক টু ব্যাক এলসি এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে দেশি অথবা বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে। 

এই উপকরণ ও এক্সোসরিজ সর্বমোট মুল মাস্টার /এক্সপোর্ট এলসি এর ৮০% পর্যন্ত সংগ্রহ  করতে পারবেন। কোন ভাবেই তার অধিক নয়, কারণ তার অধিক হলে তা আমদানি নীতি আদেশ অনুঃ ২৪ (৯) (রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পণ্যাদি আমদানি) অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নুন্যতম মূল্য সংযোজন হার হওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা কাভার করবে না। আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী  পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে নুন্যতম ভ্যালু এডিশন হবে নিম্নরুপঃ 

(ক) নীট পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০%;

(খ) ওভেন পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০%;

(গ) সকল স্যুয়েটার রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০%;

(ঘ) সকল প্রকার শিশুর পোশাক রপ্তানিতে ১৫%;

(ঙ) মূল্য ৫ মাঃডঃ/পিস এর ক্ষেত্রে ১৫% ;


উদাহরণস্বরুপঃ 

মেসার্স রহমান  গার্মন্টস ১,০০,০০০ মাঃডঃ এর একটি মাস্টার এলসি বা এক্সপোর্ট এলসি বা মাস্টার এলসি/এক্সপোর্ট এলসি ছাড়া ক্রেতা কর্তৃক নিশ্চিত চুক্তির বিপরীতে সর্বমোট ৮০% মানে ৮০,০০০ মাঃডঃ উপকরণ ও এক্সোসরিজ + উৎপাদন খরচ (CM cost and manufacturing)  করতে পারবেন কোন অবস্থায় এর বেশি নয়, কারণ এর বেশি হয়ে গেলে তখন আর আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী ন্যুনতম ভ্যালু এডিশন হারের মধ্যে তা থাকে না।  

উদাহরণ অনুযায়ী রহমান গার্মেন্টস মাস্টার এলসি পাওয়ার পর এবার উপকরণ সংগ্রহ করবেন অতপর এস,আর,নং ১৫৩-আইন/৯৩/১৫২০/শুল্ক, তাং- ৩রা আগষ্ট ১৯৯৩ খ্রিঃ "সম্পূর্ন রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান (সাময়িক আমদানি) বিধিমালা ১৯৯৩ এর " তফসিল -১" অনুযায়ী  ইউডি (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ) অনুমোদন করিয়ে নেবেন। উক্ত ইউ,ডি- এর কপি বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি দিবেন, অতপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উৎপাদন করবেন,  রপ্তানি করবেন। ১০০% রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যাক টু ব্যাক, অথবা মাস্টার এলসি বা ব্যাক টু ব্যাক, মাস্টার এলসি ছাড়া ক্রেতা কর্তৃক নিশ্চিত চুক্তির বিপরীতে ৪ মাসের কাচামাল ও মোড়ক সামগ্রী রিভলভিং পদ্ধতিতে আমদানি করতে পারবেন।

 এখানে উল্লেখ্য কোন কোন ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক কর্তৃক নিশ্চিত চুক্তির বিপরীতে রপ্তানি আদেশ সম্পাদনের লক্ষ্যে বিনামূল্যে বা FOC Free of Cost বা  (অন নো কস্ট বেসিস) শর্তে পণ্য (উপকরণ ও এক্সোসরিজ)  আমদানি করতে পারবেন সেক্ষেত্রে শর্ত গুলো নিম্নরুপঃ

(ক) প্রথমে বিদেশী ক্রেতা ও এদেশে আমদানীকারক তথা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ে পণ্য উঠপাদনে নিশ্চিত চুক্তিনামা করবেন;

(খ) বায়ার বা ক্রেতা কাচামাল প্রেরণ করবেন, এ কাচামালের জন্য বাংলাদেশ হতে কোন বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করা যাইবে না;

(গ) আমদানীকারক চুক্তিনামা অনুযায়ী আমদানী পণ্য খালাসের জন্য ব্যাংক থেকে আমদানী ডকুমেন্ট তিনি সংগ্রহ করবেন;

(ঘ) ব্যাংক থেকে অনাপত্তি পত্র সংগ্রহ করবেন। অতঃপর;

(ঙ) প্রতি কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে  বিজিএমইএ/বিকেএমইএ হতে এস,আর,ও নং-১৫৩/আইন/৯৩/১৫২০/শুল্ক, তাং-৩/৮/৯৩ ইং অনুযায়ী ইউ,ডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন)  সংগ্রহ করবেন;

(চ) বিজিএমইএ/বিকেএমইএ হতে এ প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহ করবেন;

(ছ) তবে এমন আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তার সংশ্লিষ্ট বছরের অব্যবহিত পূর্ববতী বছরের রপ্তানিকৃত পণ্যের এক-তৃতীয়াংশ পণ্য উৎপাদনে যে পরিমাণ কাচামাল প্রয়োজন হয়েছিল সে পরিমাণ কাচামাল আমদানি করিতে পারবেন।

অতপর পণ্য উৎপাদন হলো, ব্যাংক থেকে EXP Export Permit সংগ্রহ করা হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি হয়ে গেল, রপ্তানির স্বপক্ষে PRC এসে গেছে উক্ত রহমান গার্মেন্টস সকল দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে যাবে।

সৌজন্যে: ইব্রাহীম হোসেন
রাজস্ব কর্মকর্তা।

১০০% রপ্তানিমূখী শিল্প প্রতিষ্ঠান (গার্মেন্টস) তার আমদানি রপ্তানি কিভাবে করে?

চায়না কেনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল সোর্সিং হাব ? 
সোর্সিংঃ 
 
বর্তমানে ব্যবসাগুলি ন্যাশনাল বর্ডার অতিক্রম করছে এবং গ্লোবাল মার্কেটের অংশ হয়ে উঠছে।  Amazon এবং Walmart এর মতো বিজনেস  জায়ান্টরা তাদের  আউটসোর্স করার জন্য বিখ্যাত, তারা প্রডাক্ট  তাদের নিজস্বভাবে উৎপাদনের চেয়ে;  যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং এশিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা এবং ছোট ব্যবসাগুলি সোর্সিংয়ের মাধ্যমে যেসব সুবিধা পায় তার কারণে তারা আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী । বর্তমানের প্রোডাক্ট সোর্সিংয়ের ট্রেন্ড চীন মুখী কারণ এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলিকে গুলিকে অর্থ সাশ্রয় করতে এবং দুর্দান্ত সার্ভিস দিচ্ছে ।
সোর্সিং এর সংজ্ঞাঃ 

সোর্সিংয়ের কনসেপ্ট প্রায়ই প্রকিউরমেন্ট  সাথে ওভারল্যাপ করা হয়, যেখানে  সোর্সিংয়ের পরেই প্রকিউরমেন্টের কাজ শুরু হয় অর্থাৎ সোর্সিং আগে প্রকিউরমেন্ট পরে ।  সোর্সিং মূলত প্রডাক্ট ম্যানুফেকচারার  বা সার্ভিস প্রোভাইড করার জন্য সাপ্লায়ারদের আইডেনটিটিফাই করার একটি প্রসেস।   গ্লোবাল সোর্সিং মানে দেশের বাইরে সাপ্লায়ারদের সাথে কন্সাল্ট করা।
 সোর্সিং সাপ্লায়ারদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করে যা সাশ্রয়ী এবং ক্রেতাদের চাহিদার এগেইনেস্টে রিলায়েবল সার্ভিস  প্রদান করে।  সাপ্লায়ারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সোর্সিং শুরু হয় না, বরং এটি প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে সঠিক সোর্সিং প্ল্যানে স্থানান্তরিত হয়।  এই সোর্সিং প্ল্যানটি তখন লোকাল বা গ্লোবাল মার্কেটের গবেষণার দিকে নিয়ে যায় যেখানে সাপ্লায়ার পাওয়া যাবে।  তারপরে নির্বাচিত সাপ্লায়ারদের বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় এবং পরিশেষে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সাপ্লায়ারদের চূড়ান্ত করা হয় কারণ সাপ্লায়ার ব্যবসার প্রয়োজনের সাথে সবচেয়ে ভাল মেলে যেমন সার্ভিস কোয়ালিটি , প্রডাকশন  লাইন, সাপ্লাই চেইন, কস্টিং  বা রিলায়েবিলিটি ইত্যাদি।

 সংক্ষেপে, সোর্সিং সরাসরি প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে ডিল করতে সহায়তা করে।  কোম্পানিগুলোর জন্য কৌশলগত পর্যায়ে এবং কৌশলগত পর্যায়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কোম্পানির ক্রয়ের চাহিদা পূরণ করে যেমন কখন কিনতে হবে, কেন কিনতে হবে, কিভাবে কিনতে হবে এবং কোথা থেকে কিনতে হবে।  এটি চূড়ান্তভাবে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টকে স্ট্র্যাটেজিক সোর্সিং এর মাধ্যমে উন্নতি করতে সাহায্য করে।

চায়না গ্লোবাল সোর্সিংঃ

 এর আগে নিউইয়র্ক ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাতা হোরেস গ্রিলি বলেছিলেন যে, যদি কেউ ধনী হতে চায় তাহলে তাকে "গো ওয়েস্ট, যুবক!"  যাইহোক, হোরেস গ্রিলির বক্তব্যটি এখন "গো ইস্ট, তরুণ উদ্যোক্তা!" হিসাবে সংশোধন করা হয়েছে, এবং এটি উদ্যোক্তা এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ীদের তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সফল করার জন্য সঠিক দিক অনুসরণ করার জন্য সর্বোত্তম পরামর্শ হয়ে উঠেছে।
 গত দুই দশকে, চীন সব দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ পণ্য উৎপাদন এবং স্বল্প খরচে এখনো নির্ভরযোগ্য উপায়ে সেবা প্রদানের চমৎকার দক্ষতার কারণে।  আজ "মেড-ইন-চায়না" ট্যাগটি বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের জন্য মর্যাদার চিহ্ন।

 ✅ চায়না থেকে টেক্সটাইল গার্মেন্টস পন্য সোর্সিংয়ের কিছু  সুবিধাঃ 

ওয়ালমার্টের মতো বড় ব্যবসাগুলিও চায়না সোর্সিং পছন্দ করে, তার কয়েকটি কারণ নীচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছেঃ 

 ১. চীনের সাপ্লায়ার  বেইসঃ 

 চীনের একটি বিশাল সাপ্লায়ার বেইজ  রয়েছে যারা প্রোডাক্টের  অংশিক বা র ম্যাটেরিয়াল আমদানি করে এবং তাদের নিজস্ব কারখানায় ফাইনাল প্রডাকশন  করে।  এ কারণেই চীন থেকে পোশাক, টেক্সটাইল  পণ্যগুলির সোর্সিং করায় অনেক বেশি অর্থ সাশ্রয় করে ।  যা অন্যথায় ব্যবসাগুলিকে তাদের দেশে তাদের নিজস্ব কারখানায় পণ্য উৎপাদনের সময় বহন করতে হয়  ।  চীনা সাপ্লায়ার  এবং কারখানাগুলির ওয়াইড রেঞ্জের প্রোডাক্ট সাপ্লাই করে যা থেকে যারা ইম্পোর্টার গন নিজের পছন্দ মতো যে কোন প্রোডাক্ট নিতে পারে ।
২.চীনের লো কস্ট লেবার ও ট্রান্সপোর্টঃ  

চীনে শুধু ওয়েল স্টাবলিশ ফেক্টরি এবং সাপ্লায়ার নয়, তাদের বিশ্বমানের রাস্তা, সেতু এবং বন্দর সহ সব ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে যা পরিবহন ব্যাবস্থাকে শক্তিশালী করে।  এটি পরিবহন এবং চালানোর টাইম এবং কস্ট করে যা স্পষ্টতই প্রডাকশন  এবং অর্ডার ডিস্ট্রিবিউশনের  একটি অংশ।  যেহেতু চীন মেগা-স্কেল প্রডাকশনে ভাল, তাই এখানে প্রচুর শ্রমশক্তি রয়েছে যা বিভিন্ন শিফটে কম শ্রম খরচে দক্ষতার সাথে কাজ করতে ফেক্টরি গুলি সদা প্রস্তুত ।  চীন উন্নত গ্লোবাল সাপ্লায়ার যার জন্য ম্যান পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ট্রেইং করানোর জন্য তারা এগিয়ে ।  স্বাভাবিকভাবেই  প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তির সাথে লেবার কস্ট কম হয় ।  বর্তমানে প্রডাক্ট কস্ট  একটি অন্যতম প্রধান কারণ যার জন্য  চীন বিজনেস করে এগিয়ে যাচ্ছে ।  চীনের স্বল্পমূল্যের শ্রমশক্তি বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যবসার অন্যতম কারন  ।

 ৩.চীনের লার্জ স্কেলের প্রোডাকটিভিটিঃ

যেহেতু চীনের ওয়াইড স্কেলের  সাপ্লায়ার রয়েছে যারা অন্যান্য দেশ থেকে উপাদান আমদানি করে বা আশেপাশের কারখানাগুলিকে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে বলে, তাই কারখানাগুলি একে অপরকে দ্রুত বিকল্প এবং প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে একে অপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করে যাতে তারা তা করে  তাদের চাহিদা পূরণের জন্য দেশের বাইরে দেখতে হবে না ।  এটি প্রতিটি কারখানার উপর চাপ বাড়ায় যার ফলে প্রতিটি কারখানায় উৎপাদন খরচ কমে যায় ।  অন্যদিকে, চীনা সাপ্লায়ারদের অন্যান্য দেশ থেকে র' ম্যাটেরিয়াল ইম্পোর্ট  করতে হয় তখন সাপ্লায়াররা  এটি প্রচুর পরিমাণে  বড় ভলিউমে তারা ইম্পোর্ট  করে । এই পলিসি তাদের প্রডাকশন কস্ট সেইভ করতে সাহায্য করে , যেখানে স্থানীয় সরবরাহকারীকে সীমিত স্টক আমদানি করতে হয় কেবল একটি অর্ডারকৃত সরবরাহ তৈরি করতে হয়।  সুতরাং চীন থেকে সোর্সিং ব্যবসাগুলি সংরক্ষণ করে ভারী উত্পাদন খরচ এবং উপাদান আমদানি এবং তাদের নিজস্ব পণ্য উৎপাদনের যন্ত্রণা।  ইউনিট খরচ কমিয়ে, সাশ্রয়ী হলেও টেকসই প্যাকেজিংয়ের সাথে প্যাকেজিং প্রতিস্থাপন, উৎপাদন এবং পরিচালনা করা সহজ এবং নকশা প্রবর্তন এবং আগে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদন চলাকালীন খরচ হ্রাস করা হয়।

 ৪. নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)

 সোর্সিংয়ের ইন্টারন্যাশনাল হাব হওয়ায়, দেশের চাহিদা পূরণের জন্য মানসম্মত অর্ডার দেওয়ার দায়িত্ব দেশের কাঁধে রয়েছে, অন্যথায় এর সরবরাহকারীরা বাজারে ব্যবসা ভেঙে ফেলার কারণ হয়ে উঠতে পারে।  তাই স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী অর্ডারকৃত পণ্য উৎপাদনের সম্পূর্ণ রেস্পন্সিবিলিটি  নেয় এবং প্রয়োজনে অর্ডার রিপ্লেইসমেন্ট  গ্রহণ করে।  চীন তার দেশের কারখানায় থার্ড পার্টি ইন্সপেকশনের সুযোগ দেয়   যাতে বায়ার  ও সেলারের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়, এতে গ্লোবাল মার্কেটে তাদের রেপুটেশন বজায় থাকে ।  বর্তমানে , চীনকে আর নিম্নমানের প্রোডাক্ট  সাপ্লায়ার  হিসাবে অন্য করা হয়না বর্তমানে তারা হাই কোয়ালিটি প্রোডাক্ট উৎপাদন করে থাকে  ।

 ৫. গ্লোবাল মার্কেটে প্রবেশঃ

বর্তমানে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড গুলির প্রডাকশন এবং এসেম্বলিং  ইউনিটগুলি তাদের হোম কান্ট্রি  ফলে চীনে শিফট করেছে ।  প্রডাকশন প্লান্ট  এবং এসেম্বলিং ইউনিটগুলি চীনে স্থানান্তরের মুল কারন কমার্শিয়াল ইস্যু ।  কারণ ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করে যে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সরবরাহকারী কারখানার মধ্যে ইউনিট স্থাপন করা খরচ বাঁচানো, অর্থনীতি বিকাশ এবং অন্যদের তুলনায় দ্রুত সুযোগ পাওয়ার জন্য একটি ভাল পদক্ষেপ।

চায়না থেকে টেক্সটাইল প্রোডাক্ট সোর্সিংয়ের  বেস্ট কিছু মেথড যা ফলো তাদের প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে পারেনঃ 


 নিম্নলিখিত  কিছু বিষয় গুলি অনুসরণ করে আপনার জন্য বেস্ট চাইনিজ টেক্সটাইল প্রোডাক্ট সাপ্লায়ার খুজে বের করতে পারেনঃ 

১.  ডিরেক্ট পার্চেসঃ 

 প্রায় ৮০% ব্যাবসায়ী এটা বিশ্বাস করে যে ভালো সাপ্লায়ার  বেছে নেওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হল সরাসরি সাপ্লায়ারের সাথে যোগাযোগ করা ।  সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা একটি ভাল সিদ্ধান্ত কারণ এতে দ্বিতীয়  মধ্যসত্বভোগী থাকেনা ।  এটি বিজনেস প্রাইভেসি , এজেন্ট কমিশন ফি এবং টিপিআই ইন্সপেকশন  ফি সেইভ করে । তবে এই প্রসেস কেবল তখনই বিবেচনা করা উচিৎ  যখন বায়ার সেই প্রোডাক্ট  এর ক্ষেত্রে এক্সপার্ট  হয় এবং মিনিমাম  অর্ডার কোয়ানটিটি নিজেই চালাতে পারে  তখন তার জন্য কোন এজেন্ট বা এজেন্সি প্রয়োজন হবেনা ।

 ২. সোর্সিং এজেন্টঃ

 ট্রেডিং কোম্পানির মতো, চীনেও কিছু লোক  পাবেন  যারা ট্রেডিং কোম্পানির মতো বায়ারদের একই ধরনের সার্ভিস দেন  এবং তাদের সার্ভিসের জন্য বায়ারের কাছে কন্সালটেন্সি ফিশ বা কমিশন নেন ।  এই সোর্সিং এজেন্টদের সুবিধা হল তারা বায়ারদের সাথে দেখা করতে পারে কারণ তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছায় যখন যেখানে মন চায় যেতে পারে ।  কিন্তু কিছু ক্ষত্রে সোর্সিং এজেন্টদের উপর বিশ্বাস করা কঠিন কারণ তাদের কারও কারও সাথে সাপ্লায়ার কোম্পানির সাথে লিয়াজু থাকে  যার জন্য বায়ার রা ঠকতে পারেন ।  অতএব, লিগ্যাল  এবং সুপরিচিত সোর্সিং এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করে আপনাদের প্রডাক্ট কিনতে হবে ।

 ৩. ট্রেডিং কোম্পানিঃ

 ট্রেডিং কোম্পানিগুলি কন্ট্রাক্ট করার জন্য সাপ্লায়ার  এবং বায়ারের  মিডেল ম্যান  হিসেবে কাজ করে ।  এই কোম্পানি গুলি একাধিক অর্গানাইজেশনের  সাথে কাজ করে এবং এই ম্যানুফেকচারিং  কারখানাগুলি সম্পর্কে তাদের সম্পূর্ণ তথ্য থাকে । এইভাবে তারা তাদের সার্ভিসের এগেইনেন্টে  কিছু সার্ভিস  চার্জ করে এবং বায়াদের জন্য  ভালো সাপ্লায়ার  খুঁজে দিতে  সাহায্য  করে ।  ট্রেডিং কোম্পানি পন্য ভেদে আলাদা হয় আপনি টেক্সটাইল রিলেটেড হলে আপনার  টেক্সটাইল রিলেটেড ট্রেডিং কোম্পানি গুলি খুজে বের করতে হবে। 

 ৪. সোর্সিং কোম্পানিঃ Sourcing Companies

 ট্রেডিং কোম্পানি ছাড়াও, সোর্সিং কোম্পানি আছে যাদের ইম্পোর্ট ডিটেইলস  এবং কোয়ালিটি ইন্সপেকশনের উপর ভালো  কমান্ড আছে ।  এই কোম্পানিগুলি চীনে ইন্টারন্যাশনাল বায়ারদের রিপ্রেজেন্ট করে  প্রোডাক্ট  স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী  ডিজাইন করে এবং সাপ্লায়ারকে তাদের বায়ার কী চায় তা নির্দেশ করার জন্য স্যাম্পল  তৈরি করে, তারপর এই কোম্পানিগুলি বায়ারের পক্ষে সাপ্লায়ারের সাথে সম্পূর্ণ আলোচনা এবং আইনি চুক্তি প্রক্রিয়াকে অতিক্রম করে।  এটি বায়ারকে প্রাইস নেগোসিয়েশন  এবং সাপ্লায়াররের কাছ থেকে মিস-প্রতিশ্রুতি থেকে বাঁচায়।  সোর্সিং কোম্পানিগুলো ট্রেডিং কোম্পানীর মত কমিশন নেয় না, বরং তাদের নিজস্ব অফিস থাকে এবং এককভাবে কাজ করে, এইভাবে তারা বেশি নির্ভরযোগ্য কারণ তারা সাপ্লায়ারদের কাছে কিছু করে না এবং প্রয়োজনের সময় অন্যান্য সাপ্লায়ারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।  তারা বায়ারদের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সার্ভিস  প্রদান করে যেমন ছোট, মাঝারি এবং বড় আকারের বিজনেসের  জন্য ছোট, মাঝারি এবং বড় আকারের  বিভিন্ন সোর্সিং কোম্পানি রয়েছে।

 ৫. অনলাইন অ্যাক্সেসঃ 

 চীনে সাপ্লায়ারদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য কস্ট  ইফেক্টিভ এবং সহজ উপায় হল অনলাইনে সংশ্লিষ্ট সাপ্লায়ারদের ব্যাপারে সার্চ  করা।  

সাধারণত, সাপ্লায়ারদের তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকে অথবা চীনের কিছু জনপ্রিয়  সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম  আছে নেটে যেমন- Made-in-China. com, আলিবাবা এবং গ্লোবাল সোর্সের মতো ওয়েবসাইটে বায়াররা  তাদের প্রয়োজনীয় সাপ্লায়ার ডিটেইলস  খুঁজে পেতে পারেন।  এই ধরনের সাইটগুলিতে লিস্টেড সাপ্লায়ারদের  বায়ারদের কাছে  অথেনটিক  এবং ট্রেসেবল করে তুলেছে ।  বায়াররা এই সোর্সিং সাইট গুলিতে সাপ্লায়ারদের  অন্যান্য ক্লায়েন্টদের রিভিউ গুলি দেখতে পারে । অন্যান্য বায়ারদের দেয়া ভাল ও খারাপের রেটিং এর মাধ্যমে সাপ্লায়ার সিলেকশন  করা অনেক  সহজ হয়ে যায় ।
 ৬. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমঃ Social Media

 সোশ্যাল মিডিয়া যেনুইন সাপ্লায়ারদের একটি রিয়েল পরিচয় দেওয়ার জন্য একটি পোর্টালও সরবরাহ করেছে যেখানে বায়াররা সাপ্লায়ারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে ।  কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মটি সোর্সিং কোম্পানি এবং ট্রেডিং কোম্পানির মতো এতটা বিস্তৃত নয় ।  সাপ্লায়াররা তাদের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে প্রশ্ন, পর্যালোচনা এবং মতামত পেতে ফেসবুক, গুগল প্লাস, টুইটার এবং লিঙ্কডইনের মতো সোশ্যাল মিডিয়া পোর্টালগুলিতে তাদের প্রেফেশনাল  অ্যাকাউন্ট, পেইজ এবং কাস্টমার কেয়ার উপস্থিতি তৈরি করেছে ।  যেমন কিছু ভেরিফাইড পেইজের নাম না বললেই নয়, সেগুলি হচ্ছে চায়না ট্রেড গ্রুপ, চায়না সোর্সিং ফোরাম, চায়না সোর্সিং গ্রুপ, চায়না সোর্সিং এবং চায়না সোর্সিং, নেটওয়ার্কিং, ইম্পোর্ট, এক্সপোর্ট, ট্রেডিং, ম্যানুফ্যাকচারিং এর জন্য চীন থেকে কিছু অনুমোদিত লিঙ্কডইন গ্রুপ আছে যারা অনলাইনে তাদের সার্ভিস দিচ্ছে । 

 ৭. চাইনিজ ট্রেড শোঃ 

চীনের টেক্সটাইল পন্য সহ অন্য পন্যের লিগ্যাল  সাপ্লায়ার  খুঁজে পেতে তাদের আয়োজিত ট্রেড শো  অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ।  ট্রেড শো গুলিতে  বায়াররা সরাসরি সাপ্লায়ারদের সাথে কথা বলার এবং তাদের কোম্পানি, ম্যানেজমেন্ট , বিজনেস  মডেল এবং পোর্টফোলিও সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান ।  এটি বায়ারকে সাপ্লায়ারদের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে এবং তাদের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে । বর্তমানে  চীনে  দুটি ট্রেড শো অনেক গুরুত্বপূর্ণ , 
একটি হল ক্যান্টন ফেয়ার যা চায়নার  বৃহত্তম ট্রেড শো হিসেবে বিবেচিত হয়।  হংকং চীনের গুয়াংজুতে বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয় । 

অন্যটি হল ইস্ট চায়না ফেয়ার যা বছরে একবার চীনের রাজধানী সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় ।


চায়না কেনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক্সটাইল সোর্সিং হাব | Largest Textile Sourcing Hub China

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের কিছু স্টেটিকটিক্সঃ


১. তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বায়ারদের আদেশ থেকে শুরু করে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘লিড টাইম’। বাংলাদেশে রপ্তানির লিড টাইমের গড় সময় ৩০ দিন।

২.  ২০২০ সালে ভিয়েতনাম ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পোশাক।

৩.  ২০১৯ বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তখন ভিয়েতনামের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার ।

৪. ২০১৯ সালে বিশ্বে যত পোশাক রপ্তানি হয়, তার মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। ২০২০ অর্থ বছরে সেটি কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।

৫. ২০২০ সালে চীন সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

৬. ডব্লিউটিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশসহ শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশ ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

৭. গত বছর সবচেয়ে বেশি ১৮ হাজার কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। দ্বিতীয় শীর্ষ যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করেছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পোশাক। তা ছাড়া জাপান ৩ হাজার ও যুক্তরাজ্য ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

৮. সারা বছরের মধ্যে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়। এই সময় শীতের পোশাক বেশি যায়। এসব পোশাকের দাম বেশি এবং কনটেইনারে জায়গাও বেশি নিয়ে থাকে।অর্থবছরের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে এ বছর সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার পাচ্ছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস লিমিটেড। পুরস্কারটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি’। এই পদক দেয়া হচ্ছে ২০২১ সালে।  

১০. ১৭-১৮ অর্থবছরের তৈরি পোশাক (ওভেন) খাতে স্বর্ণপদক পাচ্ছে রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড। এ ছাড়া রৌপ্যপদক পাচ্ছে এ কে এম নিটওয়্যার লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জপদক পাচ্ছে তারাশিমা অ্যাপারেলস।

১১.  ১৭-১৮ অর্থবছরের তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার) খাতে স্বর্ণপদক স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড। রৌপ্য পাচ্ছে ফোর এইচ ফ্যাশনস এবং ব্রোঞ্জপদক পাচ্ছে জি এম এস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ।

১২. ১৭-১৮ অর্থবছরের সব ধরনের সুতা খাতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পাচ্ছে যথাক্রমে বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড কামাল ইয়ার্ন লিমিটেড এবং নাইস কটন লিমিটেড।

১৩. ১৭-১৮ অর্থবছরের টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাতে স্বর্ণপদক পাচ্ছে এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড। এ ছাড়া রৌপ্যপদক পাচ্ছে নোমান উইভিং মিলস এবং ফোর এইচ ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং।

১৪. ১৭-১৮ অর্থবছরের হোম ও বিশেষায়িত টেক্সটাইল পণ্য খাতে স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক পাচ্ছে যথাক্রমে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস লিমিটেড ও এসিএস টেক্সটাইল (বাংলাদেশ) লিমিটেড। টেরিটাওয়েল খাতে একমাত্র স্বর্ণপদক পাচ্ছে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস লিমিটেড।

১৫.  প্রতি কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ পৌনে তিন ডলার হলেও তখন বিক্রি করতে হয়েছে ২ ডলার ২০ সেন্টে । সেই সুতা বর্তমানে ৩ ডলার ১৫ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে । তুলার দাম যে হারে বেড়েছে, সেই হারে সুতার দাম বাড়েনি । তিনি বলেন, বস্ত্রকলের মালিকদের কাছে সুতার মজুত নেই। আর্থিক সংকটে অনেকে তুলা কিনতে পারছেন না। অন্যদিকে চাহিদা বেশি। 

১৬. বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে দেশে ৮২ লাখ বেল (৪৮০ পাউন্ডে এক বেল) তুলা আমদানি হয়। তা ২০১৯ সালে কমে ৭১ লাখ বেলে দাঁড়ায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ বা ২৬ লাখ ২৭ হাজার বেল তুলা আফ্রিকা থেকে এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ বা ১৮ লাখ ৪৬ হাজার বেল তুলা ভারত থেকে আমদানি করেছেন বস্ত্রকলের মালিকেরা। কমনওয়েলথভুক্ত দেশ অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে বাকি ৩৭%  তুলা এসেছে।

১৭. খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাসখানেক আগে যেখানে প্রতি পাউন্ড তুলা গড়ে ৭৫ সেন্টে বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ সেন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে অর্গানিক তুলার দাম ১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তাতে দেশে সাধারণ সুতার দাম কেজিতে ২৫-৩০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আর অর্গানিক সুতার দাম বেড়েছে ৬০-৮০ সেন্ট পর্যন্ত।

১৮. এক দশকের বেশি সময় ধরে আমদানি ব্যয়ে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে কাঁচা তুলা। তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কাপড় তৈরি করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং দেশীয় শিল্পের চাহিদার জোগান দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় বস্ত্র খাত এবং রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের প্রসার হওয়ায় তুলা আমদানি বাড়ছে। এই কাঁচামালের আমদানি বর্তমানে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

১৯. বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে তুলা আমদানি হয়েছে ৭৫ লাখ বেল। এর মধ্যে পরিমাণ বিবেচনায় সবচেয়ে বড় উৎস আফ্রিকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মোট তুলা আমদানির ১০ শতাংশ আসে আফ্রিকার বেনিন থেকে। বুরকিনা ফাসো ও মালি থেকে আসে যথাক্রমে ৭% ও ৮% শতাংশ। এছাড়া আইভরিকোস্ট ও ক্যামেরুন উভয় দেশেরই অবদান ৪ শতাংশ করে। সব মিলিয়ে দেশে আমদানীকৃত তুলার ৩৩ শতাংশ আসছে আফ্রিকা থেকে।

২০. ২০২১ সালের গত ছয় মাসে ১৬ কাউন্টের সুতার দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ আর ১০ কাউন্টের ৫৪ শতাংশ। তার অভিযোগ যে হারে তুলার দাম বেড়েছে, স্থানীয় বস্ত্রকল মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাড়তি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যে ধরণের টাওয়েলসহ হোম টেক্সটাইল সামগ্রী রপ্তানি করে তা তৈরি হয় মূলত ১০ কাউন্ট ও ১৬ কাউন্টের সুতা দিয়ে। 

২১. বিশ্বব্যাপী হোম টেক্সটাইলের বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলার, গত অর্থবছর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১.১৩ বিলিয়ন ডলারখাত সংশ্লিষ্টদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, দেশে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে বড়  এবং 'মানসম্পন্ন' ডিজাইন ও ইনোভেশন সেন্টার কমবেশি ২৫টি। 

২২. নিজস্ব  ডিজাইন ও ইনোভেশন সেন্টার রয়েছে, এমন অন্তত ১০ জন অ্যাপারেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পাশাপাশি, বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে এবং ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এপিলিয়ন গ্রুপ, ভিয়েলাটেক্স গ্রুপ, স্নোটেক্স গ্রুপ, অনন্ত গ্রুপ, স্প্যারো গ্রুপ, এসএম নিটওয়্যার, শারমিন গ্রুপ, টিম গ্রুপ, ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক জিন্স, কেডিএস গ্রুপ, স্কয়ার ফ্যাশন, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, এসকিউ গ্রুপ, টিএডি গ্রুপ, ফকির ফ্যাশন, সোনিয়া গার্মেন্টস, উর্মি গ্রুপ, মেঘনা নিট, ইন্টারস্টফ এ্যাপারেলস লিমিটেড-এর অপেক্ষাকৃত বড় বিনিয়োগের ডিজাইন সেন্টার রয়েছে। 

২৩. বিশ্বব্যাপী বর্তমানে হোম টেক্সটাইল মার্কেটের আকার ১০৪ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। আর ২০২৫ সাল নাগাদ তা ১৩৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। তৈরি পোশাকের মত চীন হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতেও ১ নম্বরে রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে এই পণ্যে এখনো বাংলাদেশের হিস্যা এক শতাংশের মতো। 

২৪. দেশের অন্যতম বড় ওভেন পোশাক রপ্তানিকারক স্প্যারো গ্রুপ বিপুল বিনিয়োগে ২০১৪ সালে নিজস্ব ডিজাইন স্টুডিও তৈরি করেছে। দিনে দিনে এর ব্যপ্তি বেড়েছে। দেশ ছাড়িয়ে ইউরোপেও নিয়োগ দিয়েছে ডিজাইনার। বছরে প্রায় দেড়শ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা এই গ্রুপের আরেকটি পোশাক কারখানা রয়েছে জর্ডানে। তিনজন বিদেশিসহ প্রতিষ্ঠানটির এই ডিজাইন স্টুডিওতে কাজ করেন চার শতাধিক লোক। তারা মূলত পরবর্তী এক দুই বছরে ক্রেতার পোশাকের ফ্যাশন চাহিদায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তার ভিত্তিতে বায়ারের জন্য ডিজাইন ডেভেলপ করে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার তুলা আমদানি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বস্ত্রকল ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দর দিয়ে এসব তুলা আমদানি করেন।
২৫. বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন পেতে যাওয়া ছয় প্রতিষ্ঠান হলো নাসা গ্রুপের এজে সুপার গার্মেন্টস, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রাণ ফুডস লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, এমবিএম গার্মেন্টস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও রেনাটা লিমিটেড।  এদের ভেতর পোশাক কারখানা আছে ২টি । 

২৬. বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জিন্স আমদানি বেড়েছে ৩৫.৬১% ।  ওটেক্সার তথ্যানুসারে, মে মাস পর্যন্ত ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ব্লু ডেনিম পোশাক শিল্প বিশেষত জিন্সের প্রধান রপ্তানিকারক বাংলাদেশ।
২৭.  যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের পোশাক আমদানির তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওটেক্সার তথ্যানুসারে, মে মাস পর্যন্ত ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই হার ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

২৮.  যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অধিদপ্তরের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কার্যালয়ের (ওটেক্সা) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ১৯০ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম রফতানি করেছে। আর ১৮৪ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম পন্য রফতানি করে মেক্সিকো আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। চতুর্থ অবস্থানে আছে চীন। এসময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১২০ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে দেশটি। এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে ভিয়েতনাম। এবছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম পণ্য রফতানি করেছে দেশটি।  

২৯. গত ১০ বছর ধরে নিট এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি ছিল প্রায় সমান। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নিটের অংশ ছিল মোট রপ্তানির ৪১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ওভেনের অংশ ছিল ৪২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

৩০. "প্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

৩১. যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং কোরিয়া।

৩২.  যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর ওপর '২০২১ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বেঞ্চমার্কিং স্টাডি' নামে একটি জরিপ পরিচালনা করে ইউনাইটেড স্টেটস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসএফআইএ), যা গত জুলাইয়ে প্রকাশ করা হয়।এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের বিশ্বব্যাপী প্রতি ইউনিট পোশাক ক্রয়ে দর পড়ে গড়ে ২.৬ ডলার, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম পড়ে গড়ে ২.৫ ডলার।

৩৩. বিটিএমএ'র সাবেক পরিচালক খোরশেদ বলেন, "কোভিডের আগে বন্দর আব্বাস থেকে ৪০ ফিটের একটি কন্টেইনার আনার ব্যয় ছিলো ১১০০ ডলার, যা এখন ৪ হাজার ডলার হয়ে গেছে, তবুও পাই না।

৩২. "ভারত থেকে সুতা আমদানি করতে হলে সিএন্ডএফ ব্যয়, এলসি ওপেনিং, ইন্স্যুরেন্স ব্যয়ের পাশাপাশি চার শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ মিলবে না। ফলে তা আমদানিকারকদের জন্য সুবিধাজনক হবে না বলে মনে করেন তিনি।
৩৩. স্থানীয় সুতায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সরকার ৪ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ দিয়ে আসছে। আমদানি করা সুতায়  পোশাক রপ্তানি করলে এই সুযোগ হারাবে। 

৩৪. গত ১৭ জুলাইয়েও টাওয়েলে ব্যবহার হওয়া ২০ রিং স্পান সুতার দাম ছিলো গত ৩.৯০ ডলার। এই সুতার দাম আগস্টে চাইছে ৪.৩০ ডলার। অথচ একই সুতা ভারতের বাজারে ৩.৪০ ডলার। আগে আমদানিকৃত সুতার চেয়ে স্থানীয় সুতার দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ সেন্টস বেশি থাকতো। এখন তা ১ ডলার পর্যন্ত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।"


সুত্রঃ বনিকবার্তা, টিবিএস বাংলা, টেক্সটাইল টুডে, ডেইলি স্টার , গুগল। 

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের কিছু স্টেটিকটিক্স | Textile Statices