Textile Lab | Textile Blog: টেক্সটাইল বেসিক
মেইড ইন বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে ব্র্যান্ডিং করাই বাংলাদেশি তরুণ কাদেরের লক্ষ্য





নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : 

বাংলাদেশি তরুণ মোহম্মদ কাদের। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বায়ার খোঁজার মাধ্যমে তার ব্যবসা শুরু। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটেছে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী হিসেবে আমেরিকার মেইন স্ট্রিমের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করছেন। 

আমেরিকায় সপরিবারে আছেন এলওয়ান ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে। এই অল্প বয়সে তিনি আমেরিকা, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে গড়ে তুলেছেন তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। লক্ষ্য আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ২২ লাইনের একটি গার্মেন্ট কারখানা করার, যেখানে কাজ করবেন ২২০০ মানুষ। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টের তৈরি পোশাক আমদানি করছেন। তবে এটা নিজেদের জন্য নয়, আমেরিকার বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা কোম্পানির হয়ে তার কোম্পানি কাজ করছে। আমেরিকার বড় বড় কোম্পানির পক্ষে সব দেশে নিজস্ব লোক দিয়ে কোয়ালিটি এনশিওর করা সম্ভব নয় বলে তারা বিভিন্ন দেশে পণ্যের কোয়ালিটি নিশ্চিত করা ও আমদানি করার জন্য বায়াররা মিডিলম্যান নিয়োগ করে, যারা কোয়ালিটি এনশিওর করে। ওয়াইটিএ তেমনই একটি কোম্পানি। এই কোম্পানির নামেই মোহম্মদ কাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিজ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে ২০১৬ সালে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিবছর তিনি বাংলাদেশ থেকে ১০০ কনটেইনার পণ্য আনেন। এক-একটি কনটেইনারে পণ্য থাকে প্রায় ৫০০০ কেজি, যার জন্য ৮০০০ ডলার ডিউটি ও ট্যাক্স দিতে হয়। ব্যক্তিগত কোম্পানি পর্যায়ে যে কজন বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্ট পণ্য আমদানি করছেন, তিনি তাদের একজন। তার পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর এটাকে ১৫০-২০০ কনটেইনারে উন্নীত করা। এখন বিভিন্ন কোম্পানিতে পণ্য সরবরাহ করছেন। ভবিষ্যতে মেসি, গ্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য তারা বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্য সরবরাহ করবেন।


মোহম্মদ কাদেরের বয়স ৪০-এর কাছাকাছি। এই অল্প বয়সেই কাজ করেছেন জাতিসংঘে ইয়ুথ অ্যাসেম্বলিতে ইয়ুথ অবজারভার হিসেবে, গড়ে তুলেছেন গ্লোবাল এডুকেশন নিউইয়র্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জ্যামাইকা থেকে ট্রেনিং করানো হয়, পাইওনিয়র ট্রেডিং চেইন ইউএসএ ইনক গঠন করেছেন, ডাইরেক্টর জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন আইটি জোন ইউএসের, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন পাইওনিয়র ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের, মেম্বার এব অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশÑআটাবের সঙ্গে ২০১৩ সাল থেকে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ গ্রোসির বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ২০১০ সাল থেকে, ২০১৬ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হন, ২০১৪ সালে আমেরিকান- মালয়েশিয়ান চেম্বার অব কমার্সের সদস্য, পাইওনিয়র ট্রেডিং চেইন এসডিএনবিএইচডির বোর্ড অব ডিরেক্টরস, ২০১০ সাল থেকে মেম্বার স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম বিজনেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমেরিকান বাংলাদেশি বিজনেস অ্যালায়েন্সের (আবা) সঙ্গেও সম্পৃক্ত। ইউএসএর ওয়াইটিএ কোম্পানির সিইওর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পাইওনিয়র ট্রেডিং চেইন ইউএসএর প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশে পাইওনিয়র ট্রেডিং করপোরেশন আর মালয়েশিয়ায় পাইওনিয়র ট্রেডিং চেইন এসডিএনবিএইচডি নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব ধরনের গার্মেন্ট পণ্য আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি দেশ থেকে ব্যবসা করছেন।
মোহম্মদ কাদের এখানে আসার পর লেখাপড়া করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সিটি ইউনিভার্সিটির বারুখ কলেজে। সেখান থেকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ই-কমার্স বিষয়ে এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্স করেন। এর আগে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছেন। স্কুল ও কলেজ ছিল ঢাকা সিটি কলেজ ও ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল। নিউইয়র্কে বসবাস করলেও ব্যবসার কাজে প্রায়ই তাকে বাংলাদেশে যেতে হয়।
সম্প্রতি জ্যামাইকায় তার সঙ্গে ঠিকানার কথা হয়। এ দেশে তার আসা এবং এখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কাজ করা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। দেশ থেকে ব্যবসা করা প্রসঙ্গে বলেন, আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। মূলত এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করব। আমি এখানে ব্যবসা করব বলে ঠিক করেছি এবং করছিও, তবে কোনো আলোচনায় থাকতে চাই না। নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছি। মেইন স্ট্রিমের অনেকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। তবে আমাদের কমিউনিটিতেও আমার যাতায়াত কম। এ কারণে অনেকেই আমাকে না-ও চিনতে পারেন। আমি কাজের মাধ্যমে পরিচিত হতে চাই।

তিনি বলেন, পাইওনিয়ার ট্রেডিং থেকে আমরা যেকোনো পণ্য বেচা-কেনার জন্য সাপ্লাইয়ার আর বায়ারদের সাহায্য করছি। ওয়াইটিএ থেকে ম্যানুফ্যাকচারার ও বায়ারদের সঙ্গে কাজ করছি হোলসেলার হিসেবে। ওয়াইটিএ থেকে আমরা প্রথমে একটি পণ্যের ডিজাইন করে সেটা ডেভেলপ করাচ্ছি। এরপর ম্যানুফ্যাকচার করাচ্ছি। পণ্য ইন্সপেকশন করছি। পরে পণ্য আমদানি করছি ইউএসএতে। এরপর ডিস্ট্রিবিউশন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই কাজের জন্য আমার এখানে চারজন আমেরিকান রয়েছেন। তারা এখানকার কাজ করছেন। এর বাইরে বাংলাদেশে আমার অফিসে বেশ কয়েকজন কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে ২০০৬ সালে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। মালয়েশিয়ায় শুরু করি ২০১০ সালে আর ইউএসতে ২০১৬ সালে। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে আরও বেশ কয়েকটি দেশে কোম্পানি করার।


কুমিল্লার ছেলে হলেও তার শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের শুরুটা কেটেছে ঢাকায়। এরপর মালয়েশিয়ায়, এখন আমেরিকায়। তিনি ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট পড়ার সময়ে ইন্টার্নি করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্মেন্টে যেতাম। 


সেখানে যেতে যেতেই একটি গার্মেন্ট আমাকে বলল আপনি এ বিষয়ে কাজ করেন। আমি গার্মেন্টের ডিজাস্টার বিষয়ে কাজ করছিলাম। বিশেষ করে, রানা প্লাজা ধসের পরে। এ কারণে তারা বলল আপনাদের সঙ্গে তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের বায়ারদের যোগাযোগ হয়। আপনি আমাদের বায়ার জোগাড় করে দেন। তাদের অফিস হচ্ছে কারওয়ান বাজার মোড়ে নায়েগ্রা গার্মেন্টস। মূলত তারা বায়ার জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলার পর আমিও দেখলাম কাজটা খারাপ নয়। কারণ, বায়াররা সরাসরি নিজেরা পণ্য ইন্সপেকশন করতে পারে না। আবার অনেক গার্মেন্টস এই সুযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যে সব কাপড়ের কোয়ালিটি একই রকমভাবে ধরে রাখতে পারে না। পণ্যের মানও একই হয় না। এ কারণে তারা মিডিয়াম্যান রাখে। বায়িং হাউসটি লিয়েন ফার্ম হিসেবে কাজ করে। বায়ার খোঁজার জন্য প্রথমে চীনের গোয়াংজুতে একটি ফেয়ারে গেলাম। সেখানে যাওয়ার পর সাকসেস হতে পারলাম না। কারণ, সেখানে আমাদের চেয়ে কম দামে ও কম মজুরিতে তারা পণ্য তৈরি করে। এ কারণে তারা আমাদের কাছ থেকে অর্ডার নিতে আগ্রহ দেখায়নি। পরে ঠিক করলাম মালয়েশিয়ায় যাব। কারণ মালয়েশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, লাওস, কম্পোডিয়া, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর কাছে। মোটামুটি ১-২ ঘণ্টার মধ্যে সবকিছু রিচ করা সম্ভব। এই চিন্তা করে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বায়ার পেলাম। আস্তে আস্তে বাংলাদেশে কোম্পানি করলাম। মালয়েশিয়ার পরে বিস্তার ঘটতে ঘটতে এখন ইউএসএতে। আমরা ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত ইউএসএতে পণ্য পাঠাতাম। এখন এখান থেকে নিজেরাই আনছি।


বাংলাদেশ থেকে কী কী পণ্য আমদানি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, টি-শার্ট, ট্রাকস্যুট, হুডিস, লিনজেরিসহ নারীদের বিভিন্ন আইটেম আমদানি করা হয়। তিনি বলেন, আমেরিকায় আমরা ১০টি কোম্পানিতে পণ্য সরবরাহ করছি। এর মধ্যে নর্থ রিপাবলিক, বিগবস, জেনুইন, ব্লু ওয়াটার, ডলার, আল্টিমেট অ্যাপরেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে আমাদের পণ্য সম্পর্কে জানানোর জন্য অনলাইন মার্কেটিং করি। প্রথম যখন এখানে সরাসরি কাজ করা শুরু করি, তখন সেটা সহজ ছিল না। কষ্ট করতে হয়েছে। লাসভেগাসে একটি ম্যাজিক শো হয়েছিল। সেখানে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানে বেশ কয়েকটি কোম্পানি আমাদের অপারেশনাল সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারে এবং আমাদের সম্পর্কে জানে। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি আমাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহ করার জন্য অর্ডার দেয়। তাদের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর বাংলাদেশে আমরা বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট কোম্পানির সঙ্গে কথা বলি। তারা বিভিন্ন পণ্য আমাদের দিচ্ছে। এখানে পণ্য আনছি। এর মধ্যে আইমান গার্মেন্টস, বিশ্বাস গার্মেন্ট, হালিমা গার্মেন্টসহ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। নিউজার্সিতে ওয়্যারহাউস রয়েছে আমাদের, সেখানে সব পণ্য এনে রাখি, পরে বিভিন্ন কোম্পানিতে সাপ্লাই দেওয়া হয়। তিনি ম্যানহাটানের ৮ অ্যাভিনিউতে তার মূল অফিসে বসেন। পাশাপাশি জ্যামাইকা ১৬৭-এর অফিসেও বসেন।


মোহম্মদ কাদের বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে বিশ্বে এক নম্বর হওয়ার। সেটি হতে পারছি না। কারণ, বাংলাদেশের পণ্য তৈরি করার সময়ের যে কমিটমেন্ট, এটা অনেক সময় গার্মেন্ট মালিকরা নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারেন না। কমিটমেন্ট ঠিক না থাকার কারণে অনেক সময় সমস্যা হয়। অনেক সময় ক্রেডিটে পণ্য বিক্রি করতে হয়। একটি পণ্য তৈরি করার পর যদি যথাসময়ে না পৌঁছানো যায়, তাহলে বায়ার তা না নিলে মালিককে অনেক বিপদে পড়তে হয়। এ জন্য দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মালিকদের কাজ করতে সুবিধা হয়। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদাকে আরও বাড়ানো দরকার। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসাল জেনারেলের বিজনেস কনসুলার এ ব্যাপারে কাজ করতে পারে। তারা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের পণ্য প্রমোট করতে পারে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসতে পারেন। এতে ব্যবসা কিছুটা হলেও বাড়বে।


জিএসপির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জিএসপি-সুবিধা পাচ্ছে না। জিএসপি-সুবিধা পেলে অনেক সুবিধা হতো। এখন ইউএসএতে আমরা শতকরা সাড়ে ১৬ শতাংশ ডিউটি দিচ্ছি। এটা অনেক বেশি। বিষয়টি নিয়ে ইউএসএর ট্রেড ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে আমাদের সরকারকে। তারা যাতে এটি রিলাক্স ডিউটির ব্যবস্থা করার সুযোগ দেয়। এ জন্য অনেক কাজ করার আছে। ডিউটি রিলাক্স হলে বাংলাদেশের আরো সুবিধা হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগটি নিশ্চিত করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।


নিজের পরিকল্পনার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মসলিন কাপড়ের একসময় অনেক চাহিদা ছিল। চেষ্টা করব এই মসলিন তৈরি করতে এবং একে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচিত করে তুলতে। এ দেশে অনেক দেশের নামে ব্যবসা চলে। মেইড ইন ইউএসের পণ্যের জন্য আলাদা শপিং সেন্টারই রয়েছে। সেখানে অন্য কোনো দেশের পণ্য পাওয়া যায় না। তেমনি একটি পরিকল্পনা আছে, যদি আমরা এখানে মেইড ইন বাংলাদেশ নামে একটি শপিং সেন্টার করতে পারি ও এটাকে এখানে ব্র্যান্ডিং করতে পারি। সেখানে সব বাংলাদেশি কোয়ালিটিসম্পন্ন পণ্য বিক্রি হবে। এটা করা গেলে আরও ভালো ভালো ডিজাইন করতে হবে, নতুন নতুন পোশাক তৈরি করতে হবে। যারা কাজ করছেন, তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের পণ্যের মান আরও বাড়বে। মেইড ইন বাংলাদেশ নামে এখানেও মেসি, বিগবসসহ বিভিন্ন কোম্পানির মতো ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমি এই স্বপ্ন নিয়ে মেইড ইন বাংলাদেশ নামে একটি সাইট শুরু করেছিলাম। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটাকে বেশি দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী দিনে প্ল্যানিং আছে, এখানে যারা তৈরি পোশাক বাংলাদেশ থেকে আনছেন, বাজারজাত করছেন, বায়ারের সঙ্গে ট্রেডিং হাউস হিসেবে কাজ করছেন এবং কোনো না কোনোভাবে তৈরি পোশাক উৎপাদন, রপ্তানি ও আমদানির সঙ্গে যুক্ত, তাদের সম্পৃক্ত করা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এম কাদের এখানে তার স্ত্রী শিপা আমিনকে নিয়ে থাকেন। তার স্ত্রী সেভ লাইফ নামের একটি এনজিও করেছেন। পিছিয়ে পড়া মানুষ, নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। ইয়ুথ ডেলিগেশন হিসেবেও তিনি কাজ করেন।

মোহম্মদ কাদের আরো বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি চেষ্টা করছি তরুণদের জন্য কিছু করার। সেই হিসেবে আমি ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইয়ুথ অবজারভার হিসেবে কাজ করছি জাতিসংঘে। এর কাজ হলো প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাদের বয়স ১৬-১৮, তাদের জাতিসংঘে আসার সুযোগ দেওয়া। তাদের এখানে আনার পর তিন দিনের একটি ট্রেনিং দেওয়া হয়। ওই ট্রেনিং নিয়ে তারা যাতে তাদের নিজ নিজ দেশে কাজে লাগাতে পারে, সেই চেষ্টা করা হয়। তাদের আসা-যাওয়ার কোনো খরচ দেওয়া হয় না। তারা নিজ খরচে এখানে আসেন। ফেব্রুয়ারি ও আগস্ট মাসে এই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তাদের সঙ্গে জাতিসংঘ ছাড়াও ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৭টি দেশ থেকে ১০০০ প্রতিনিধি যোগ দেন অনুষ্ঠানে। করিম বেবী নামের একজন অ্যারাবিয়ান আছেন, তিনি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। পরিবারের সদস্যদের হারানোর পর গড়ে তোলেন ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন।
তিনি বলেন, আমি এখানে গ্লোবাল এডুকেশন নিউইয়র্ক নামেও একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখানে যারা নতুন আসে, ফ্রেশম্যান হিসেবে আসে, তাদের আমরা ছয় মাসের ট্রেনিং দিই। নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কম্পিউটার ও ইএসএল বিষয়ে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করতে পারে। এটি মূলত একটি প্রাইভেট ক্যারিয়ার স্কুল। এ জন্য আমরা ২০০ জনকে ট্রেনিং দিয়েছি। তারা এ দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন। আইটি জোন ইউএসএ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, সেটা থেকেও আমরা ট্রেনিং দিই। প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে শিখতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর আমরা চাকরির জন্য সাহায্য করি।
সম্প্রতি মোহম্মদ কাদের আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি গার্মেন্ট পণ্য আমদানি করার জন্য অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এটা পেয়েছি। এতে খুব ভালো লাগছে। এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে আরো বেশি করে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

সবশেষে মোহম্মদ কাদের বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাচ্ছি। আগামী দিনে আরও বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাব। একজন ইন্টারপ্রেনিওর হিসেবে দেশের পণ্যের প্রসারে কাজ করব। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করাও জরুরি। কারণ দেশের পণ্যের প্রতি মমত্ববোধ এই ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এখানে কাজ করতে করতে নিজেই দেশে একটি গার্মেন্ট করার পরিকল্পনা করেছি। ইতিমধ্যে প্রজেক্ট প্রোফাইলও তৈরি করা হয়েছে। ২২ লাইনের একটি গার্মেন্ট করব। সেখানে ২২০০ মানুষ কাজ করতে পারবে।

মেইড ইন বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে ব্র্যান্ডিং করাই বাংলাদেশি তরুণ কাদেরের লক্ষ্য

যারা স্টুডেন্ট লাইফে টেক্সটাইল জবকে সহজ মনে করছেন টেক্সটাইল জব এতোটা সহজ নয় এখানে প্রডাকশনে বসার জন্য চেয়ার পাবেন না পেলেও সে সুযোগ হবেনা বসার । গরম ডাস্ট পলিউশন তো ফ্রি । টার্গেট এচিভ করতে শ্রমিকদের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে কখন লান্স এর সময় হবে কখন বিকাল ৫ টা বাজবে বুঝতে পারবেন না । তার উপর দিনে ২-৩ বার মিটিং প্রডাকশন রিপোর্ট তো কমন । ১০ মেশিনের আপডেট থাকতে তো হবে, ৯ নাম্বার মেশিনের অপারেটর কাপড়ে দাগ লাগাইসে সেটাও আপনার দোষ । পান থেকে চুন খসছে খাও শো কজ, হাজিরা নাই ৩ দিন ।


নাইট ডিউটি বাসায় গিয়ে দিলেন ঘুম আরামে আর সে সময় ফোন অমুক আপনি কোথায় আসেন এই মুহুর্তে গিয়ে দেখলেন কাপড়ে এক ছিদ্র থাকার কথা সেখানে ২ টা ।

এক সময় আপনি অফিসার নাকি অপারেটর নাকি হেল্পার নাকি লোডার নিজেই ভুলে যাবেন আপনি কি । হাতে যদি স্মার্ট ঘড়ি থাকে দিন শেষে স্টেপ ক্যালকুলেট করে দেখবেন একই ফ্লোরে আপনার ৫-৬ কিলো হাটা শেষ ।

কাম কম গিবত বেশী , সারাদিন থাকবেন অন্যের বদনাম নিয়ে ব্যাস্ত । ডিপার্টমেন্ট Vs ডিপার্টমেন্ট আক্রমন পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকবে ।

ডাইংয়ে কাজ করে পাশের মেশিন এ যাবারি সময় হবেনা। ভাবছেন এক ফ্লোরে থেকে সব শিখে ফেলবেন।

চেয়ারে এসে বসবেন কাজ তখনি চেপে বসবে জ্বিনের মতো । এখানে যান ওখানে যান এটা নিয়ে আসেন ওটা নিয়ে আসেন 😥। তার উপরে পিঠ পেছনে বদনাম। এতো কস্ট করে তীর্থের কাকের মতো ইনক্রিমেন্ট এর অপেক্ষায় থাকবেন সেখানেও দেখবেন গ্রেড বি আপনার পাশের জন্য হয়ে গেছে প্রোমোশন ।

স্টুডেন্ট লাইফে সিট বই এর এর সাথে নতুন জগতের মিল নাই তখন মাথার চুল ছিড়তে মন চাইবে নরমাল হেল্পার ও ফাফড় নিতে চাইবে ।

কথা গুলি নবিন ইঞ্জিনিয়ারদের বলা যারা টেক্সটাইল জব এসি রুমে মনে করে । এতো সমস্যার পরো মানুষ কি করে জব করে ? করে করতে করতে সবাই অভ্যস্ত হয়ে যায় ।

এসাইনমেন্ট অন্য জন লিখে দেয় কতো রিপোর্ট কতো মেইল নিজে করা লাগবে ইয়াত্তা নেই । ক্লাসের ফাকে ধোঁয়া ওড়ানো ছেলেটা বাইরে যেয়ে এক কাপ চা খাবে এর হবেনা সুযোগ । ১০ মিনিটের জন্য বাইরে গেলে মনে হবে সব ডিজাস্টার হয়ে গেলো বুঝি । এই ১০ মিনিটেই খুজবে সবাই আপনাকে মনে করবে কাম বাদ দিয়া বুঝি সারাক্ষণ বাইরে ঘুরে বেড়ান ।

দিন শেষে বাসায় গিয়ে ঘুম ছাড়া আর কিছু করতে মনে চাইবেনা । ৫-৬ মাসের পর ক্লাস মেট ফ্রেন্ড দের নাম ভুলতে শুরু করবেন । আড্ডা চাইলেও সম্ভব না। ছুটি নিবেন একটু রিলাক্স এর জন্য নিতেও ভয় করবে ছুটির ভেতর ১০০ ফোন এটা কই ওটা কই তার উপর সব আপনার মাথায় জমে থাকবে আপনার ই করা লাগবে সব , এই ভয়ে ছুটি নেয়া ভুলে যাবেন ।

জিএম আপনাকে ডাকে !!! এই কথা শুনলে মনে হবে এই যা চাকুরী বুঝি আজ গেলো !!! আমি কি ভুল আবার করলাম এই ভেবে ফ্লাশ ব্যাক করতে থাকবেন ।


মার্চেন্ডাইজিং সুখের ভাবছেন ? আপনি তাহলে বোকা
এমন কোন কাজ নেই যা না করা লাগবে নিজেকে মার্চেন্ডাইজার মনে না হয়ে পিয়ন মনে হবে। স্যাম্পল সাবমিট মেইল চেক থেকে শুরু করে এহেন কোন কাজ নেই যা আপনার করা না লাগবে । শান্তি এতোটাই যে আপনি মার্চেন্ডাইজার আপনাকে সবাই সম্মান করবে এতোটাই । মিটিং এ বেম্বো রেডি থাকবে সব সময় ।

R&D তে জব ভাবছেন রিসার্চ করবেন ইউনিভার্সিটির ল্যাবের মতো তা হলে আপনি বোকা, টেক্সটাইল R&D জবে রিসার্চের র ও নেই । সারাদিন ব্যাস্ত থাকবেন ডাটা এন্ট্রি নিয়ে ।

ল্যাব এর জব এসি রুম খুব মজা - সাজা হবে তখন যখন এক স্রিংকেজ টেস্ট করতে করতে বেলা যাবে, স্যাম্পল ডাইং করতে করতে বেলা যাবে খাবারের সময়টুকু যা আরাম ।


ড্রিম জব গার্মেন্টস ওয়াসে ঢুকলেন । আপনাকে কি করতে হবে প্রথমে জানেন, এক কথায় মেশিনে হেল্পারি । নিজে মেশিন চালাতে হবে নিজে কালার ক্যামিকেল দিতে হবে । এটা করলে আপনি ওয়াসিংয়ে জব করতে পারবেন না ।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ঢুকলেন কোয়ালিটিতে যতোই হন অফিসার ইঞ্জিনিয়ার স্টাফ ডাইংয়ের,নীটিং উইভিং এর লোকজন আপনাকে মানুষ মনে করবেনা !!!

ঢুকলেন প্লানিং এ ভাবছেন উনেক মজাদার কাজ প্লানিং করা, থামেন কম্পিউটারে এক এক্সেল সিটের সামনে বসে সারা বছর কেটে যাবে । তার পরো কাজ শেষ করে যেতে পারবেন।

আপনি তেল মারতে রাজি না , এটা কে লয়ালিটি বলে আপনার কলিগ চালিয়ে যাবে এবং আপনার চেয়ে এক কিলো আগে থাকবে ক্যারিয়ারে ।

ডাইং প্রডাকশন এর লোক মিটিং এ যাবেন মার্চেন্ডাইজার মার্কেটিং এর সামনে প্যান্ট টেনে খুললেও আপনি কিছু বলতে পারবেন না ।


মার্কেটিং করবেন আপনার উপর সব বেচার দায় চাপিয়ে দিবে সিনিয়র গন , তাও না হয় যোগাড় করলেন দেখবেন সেটাও নিয়ে যাচ্ছে আপনার সিনিয়র গন।

মাসের একদিন এমডি স্যার মিটিং ডাকবে তার রুমে ইজ্জত লুটে রেখে রেখে দেয়া হবে । গালির ব্রাশ ফায়ার করা হবে আপনাদের উপর । 


আপনি বেগুনবাড়ি নাবিস্কো তিব্বত বনানী এরিয়ায় নোয়াখালী পাবনা বরিশাল টাংগাইলে ইন্সটিটিউট এগুলির এলাকার কিং ত্রাস হন না কেন ।  আপনি টেক্সটাইল মিল গার্মেন্টসে এর রাজনীতির গুটিবাজির কাছে আপনি নাদান শিশু ।  নতুন পাইলে ফ্লোরে এডাল্ট টিজিংয়ের স্বিকার হবেন মানে প্রশ্ন করে টিজ করবেন । আপনার  ক্যাপাসিটি দিয়ে মোকাবিলা করতে পারলে কিং না পারলে বোকা হবেন  তাদের কাছে । 

মাসের বেতন এর ঠিক ঠিকানা নাই কবে হবে বেতন এক উপরের বিধাতা জানবে আর মালিক বা এমডি জানবে ।  কতো প্রডাকশন দিলেন কতো রেভিনিউ হলো তা মোটেই জিজ্ঞেস করতে পারবেন  না ।  


হায়ার স্টাডি করবেন প্রডাকশন জবে ৩-৫ বছরেও ভুলেও ঠিক মতো করতে পারবেন না । 

জব ছেড়ে দিলেন বসের উপর রাগ করে লাভ নাই ৮০% ফেক্টরি ম্যানেজমেন্ট বস প্রসেস এমনি। 

বইয়ের পাতায় টেক্সটাইল এর রিয়েল সিনারিও বুঝবেন না এর জন্য মিল ভিজিট এবং ইন্টার্নিতে ডে লং ডিউটি করতে হবে ।  তখন টেক্সটাইল নিয়ে আমাদের ভ্রম ভেংগে যায় ।  

টেক্সটাইল জবে সারভাইভাল টেকনিক গুলি আপনাদের শিখাতে পারে আপনাদের সিনিয়র গন।যারা নিয়মিত ফেইস করেন এসব তাদের সাথে প্রোগ্রাম করে তাদের কাজ কথা অভিজ্ঞতা গুলি শুনতে জানতে পারেন ।

ভালো যদি আপনি ফরেইন বাইং হাউসে জব পান বা ফেকাল্টি হন তবে যদি আপনার আরাম এর সুযোগ হয় ।  

বাংলাদেশ স্টুডেন্টদের ফেক্টরির ব্যাপারে খুব কম আইডিয়া থাকে এটা তাদের জন্য যাতে করে তারা পরিস্থিতি ফিল করতে পারে। 



- ছবি কালেকটেড

টেক্সটাইল জবের রিয়েল সিনারিও যা আপনার জানা উচিৎ | Textile Job

জেনে রাখুন টেক্সটাইল শিল্পের পানির ব্যাবহার নিয়ে কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস



১.  85% পানি টেক্সটাইলের ব্যবহৃত হয় যা কাপড় ডাইং করার জন্য  যা পরবর্তীতে ইফ্লুয়েন্ট হয়ে পরবর্তীতে পানির সোর্স গুলি দুষিত করে ।  (Cotton, Inc.)

২.  একটি টি-শার্টের জন্য প্রয়োজনীয় তুলো  চাষ করতে প্রায় 3250 লিটার পানি লাগে - এটি একজন মানুষের  প্রায় তিন বছরে ব্যাবহৃত পানীর সমান ।  (WWF) ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরাম  এর তথ্য অনুযায়ী ।


৩.   কেবল একটি জোড়া জিনস প্যান্ট  উৎপাদন  করতে যে পরিমাণ তুলা লাগে তা চাষ করতে  প্রায় 8183 গ্যালন পানি পর্যাপ্ত পানি লাগে । (Tree Hugger)

৪.   গ্লোবালি এক বছরের টেক্সটাইল প্রডাকশন করতে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন লিটার পানির প্রয়োজন হয় (এটা তুলা চাষ সহ ) ।  (Elle MacArthur Foundation)


 ৫. এক মাত্র ফ্যাব্রিক ডাইংয়ের জন্যই প্রতি বছর 5.9 ট্রিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহৃত হয় ।  (সোর্সঃ ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট)।

 ৬. ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল শিল্প তার উৎপাদিত  কাপড় প্রক্রিয়াজাত করতে প্রতিদিন ৪২৫,০০,০০০ গ্যালন পানি ব্যবহার করে।  অন্যভাবে বলা যায়, এক গজ গৃহসজ্জার ফ্যাব্রিক উৎপাদন  করতে প্রায় 20 গ্যালন পানি লাগে ।  যদি আমরা ধরে নিই যে কোনও সোফায় প্রায় 25 গজ ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়, তবে সেই সোফার ফেব্রিক প্রসেস কাভার করতে প্রায়   500 গ্যালন পানির প্রয়োজন হয় ।  তাহলে ভালো ভাবেই অনুমান করতে পারছেন সংখ্যা  । 


৭. বিশ্বব্যাপী যা পানি ব্যবহার হয় তার প্রায় 2.6% টেক্সটাইল মিলে ব্যাবহার করা হয় ।

 ৮. অনুমান করা হয় যে টেক্সটাইল ইন্ড্রাস্ট্রি গুলির ডাইং করার সময় প্রতি বছর ২.৪ ট্রিলিয়ন গ্যালন পানি লাগে।


৯.  পোশাক শিল্প এবং ফ্যাশন ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট অনুযায়ী  এটি অনুমান করা হয় যে বিশ্বে ব্যাপী ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পলিউশনের 20% পলিউশন  আসে টেক্সটাইলের ট্রইটমেন্ট এবং ডাইং ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে ।  আনুমানিক  8,000 প্রকারের  সিন্থেটিক ক্যামিকেল  কাঁচামালকে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালে পরিণত করতে ব্যবহৃত হয়।


 ১০. প্রতি বছর, টেক্সটাইল মিলগুলি লক্ষ লক্ষ গ্যালন ক্যামিকেল কন্টামিনিটেড ইফ্লুয়েন্ট আমাদের নদীতে  ডিসচার্জ করে ।  এটি অনুমান করা হয় যে একটি টেক্সটাইল  মিল প্রতি টন  ফ্যাব্রিকের ডাইংয়ের  জন্য 200 টন  সফট ওয়াটার ব্যবহার করে ।  সুতরাং এটি কেবল পানি শোষন করে না, ক্যামিকেল গুলি পানিকে দূষিত করে যা উন্নয়নশীল দেশের সর্বত্র পরিবেশগত ক্ষতি এবং রোগ উভয়ই সৃষ্টি করে।


 ১১. আপনি জানেন কি একটি তুলার শার্ট উৎপাদন  করতে প্রায় তিন হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয় ।


১২. টেক্সটাইল উৎপাদন (তুলো চাষ সহ) বার্ষিক প্রায় 93 বিলিয়ন ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে, এর পরিমাণ বিশ্বব্যাপী মিঠা পানির ব্যাবহারের প্রায় 4%।


 ১৩  একটি 2017 এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, কেবলমাত্র 2015 সালে, ফ্যাশন শিল্প 79 বিলিয়ন ঘনমিটার পানি কঞ্জিউম  করেছিল - যা কিনা 32 মিলিয়ন অলিম্পিক-আকারের সুইমিং পুলগুলি পানি দ্বারা পরিপূর্ণ  করার পক্ষে যথেষ্ট ছিলো । ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


১৪.  ভারতে, উদাহরণস্বরূপ, এক কেজি তুলো উৎপাদন  করতে গড়ে 22,500 লিটার  (প্রায় 6,000 গ্যালন) পানির প্রয়োজন হয়, তবে ফাইবার  তৈরির জন্য এই বৃহৎ  পানির প্রয়োজনীয়তা হয় প্রায়শই টেক্সটাইল প্রসেসিংয়ের ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট ক্যাল্কুলেশন করার সময় হিসেব করা হয়না । 


 
১৫. টেক্সটাইল এর জন্য পানির অনেক ইন্ডাইরেক্ট ইউজ আছে ।  উদাহরণস্বরূপ, একটি কটনের  টি-শার্টের ওয়াটার ফুট প্রিন্ট অনুযায়ী  এর জন্য কটন কাল্টিভেশন, ইয়ার্ন, উইভিং নীটিং ডাইং গার্মেন্টস এবং পরিবহন করে  আউটলেট পর্যন্ত আনতে প্রায় ২,৬০০ লিটার পানির  ব্যাবহার লাগে ।


১৬.  ফ্যাশন শিল্প টেক্সটাইল এবং পোশাক  উৎপাদন  প্রক্রিয়া সম্পুর্ন পানির উপর নির্ভর করে।  মাত্র এক কেজি কাঁচা তুলো চাষ করতে গড়ে 10,000 লিটার পানির লাগে, বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত  টেক্সটাইলের এক তৃতীয়াংশ বানাতে ব্যবহৃত করা হয়  কটন  (এবং এটি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ফাইবার গুলির 90% রিপ্রেজেন্ট করে)।

১৭.  কনভেনশনাল টেক্সটাইল ডাইং  এবং  ফাইবার ফিনিশিং উভয় ওয়াটার কনজিউমিং এবং পলিউটিং শিল্প । অনুমান করা হয় যে (স্পিনিং, ডাইং, ফিনিশিং সহ) এক কেজি ফাইবার  প্রসেস করতে ( তুলা , পলিয়েস্টার এবং অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালস ) কেজি প্রতি 100 থেকে 150 লিটার জল প্রয়োজন।


১৭. ফ্যাশন শিল্প বর্তমানে সারা বছর ধরে যে পরিমাণ পানি ব্যাবহার করে তা  ১১০ মিলিয়ন মানুষ তা ৫ বছরের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য  যথেষ্ট  ।
 
১৮. আপনারা জেনে অবাক হবেন যে  মধ্য এশিয়ার আরাল সাগর তার পূর্বের আয়তনের মাত্র 10 শতাংশ সঙ্কুচিত বা কমে গিয়েছে , যার কারন মূলত তুলা চাষের জন্য সেচ ।

 ১৯. অর্গানিক কটনের পানি  দূষণের প্রভাব ইনর্গানিক কটনের উৎপাদন  তুলনায় 98 শতাংশ কম ।

 

জেনে রাখুন টেক্সটাইল শিল্পের পানির ব্যাবহার নিয়ে কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং নিয়ে কিছু তথ্য | Textile Recycling Facts




১. আপনি জানেন কি ? প্রায় 95% টেক্সটাইল পণ্য এবং জুতা পুনর্ব্যবহারযোগ্য । সাম্প্রতিক EPA ওয়েস্ট রিজারেশন ও রিকোভারের তথ্য অনুসারে, আমেরিকা প্রতি বছর 16.89 মিলিয়ন টন (33.78 বিলিয়ন পাউন্ড) পোশাক এবং টেক্সটাইল বর্জ্য উৎপাদন করে। একই সময়ে, সেই পরিমাণের মাত্র 2.57 মিলিয়ন টন (5.14 বিলিয়ন পাউন্ড) ওয়েস্ট রইসাইকেল করে যা ওয়েস্ট উৎপাদনের প্রায় 15%।

২. 15% টেক্সটাইল গুলি যে গুলি রিসাইকেল করা হয় তার প্রতিবেশের প্রতি যে নেগেটিভ ইমপেক্ট হয় তা প্রতিবছর রাস্তা থেকে 590,000 পুতারন গাড়ি অপসারণের বা ডাম্পিং পরিবেশগত ইম্পাক্টের সমান।

৩. যদি আমরা সমস্ত রিসাইকেলেবল টেক্সটাইল এবং সু রিসাইকেল করি । তবে তা প্রতিবছর 3,877,470 গাড়ি রাস্তা থেকে অপসারণের সমপরিমাণে নেগেটিভ এনভায়রনমেন্ট ইম্পেক্ট সেইভ করবে ।

৪. বর্তমান EPA অনুমান অনুযায়ী পোশাক এবং টেক্সটাইলগুলি আমাদের বাৎসরিক বর্জের প্রায় 8.25% (প্রায় 28.64 বিলিয়ন পাউন্ড) যার বেশিরভাগ রিসাইকেলেবল ।

৫. বর্তমান রিসাইক্লিং হারের উপর ভিত্তি করে EPA এস্টিমেট অনুযায়ী , রিসাইকেলেবল পোশাক রিসাইকেলেবল গ্লাসের দ্বিগুণ পরিমান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করে। EPA এস্টিমেট করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে প্রতিটি ব্যক্তি প্রতি বছরে যে পরিমান বর্জ্য উৎপাদন করে তার 87.5 পাউন্ড টেক্সটাইল বর্জ্য।

৬. 2019 সালে 1 টন সলিড ওয়েস্টেজ ডিস্পোজ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় ব্যয় ছিল $ 55.36 ডলার ।  এর রিসাইক্লিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বার্ষিক বর্জ্য প্রবাহ থেকে 15% টেক্সটাইল আইটেম এবং জুতা রিকোভার করা  হচ্ছে।  এই কারণে, রাইসাইকে প্রোগ্রামের জন্য মার্কিন প্রতি টেক্সপেয়ার  বছরে গড়ে 2142,275,200 ডলার সাশ্রয়  সাশ্রয় করে।

 ৭. ল্যান্ডফিল টিপিং ফিগুলির জন্য 85% টেক্সটাইল এবং জুতা ডিস্পোজাল এর জন্য  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের বছরে গড়ে 4794,775,840 ডলার ব্যায় করে।

৮. টেক্সটাইল বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে প্রতি টন $ 75 ডলারেরও বেশি লাগে , নিউ ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ।  আমরা যতো প্রডাক্ট কম ইউজ কতবো ততো ওয়েস্টেজ উৎপাদন হ্রাস পাবে ।
 

 
Textile Manufacturing Facts| টেক্সটাইল উৎপাদন তথ্যঃ 


১. একটি টি-শার্ট বানাতে  যে পরিমাণ তুলো লাগে বা উৎপাদন করার জন্য 2700 লিটার পানির প্রয়োজন হয় ।  

২. পলিয়েস্টার ফাইবার ম্যানুফেকচারিং ইন্ড্রাস্ট্রি গুলি  প্রতি বছর আনুমানিক  1.5 ট্রিলিয়ন পাউন্ড গ্রিনহাউস গ্যাস ডিসচার্জ করে যা 185 টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বার্ষিক নিঃসরণের সমান ।  

৩.  টেক্সটাইল  শিল্প বিশ্বব্যাপী বর্জ্য পানি মোট পরিমাণের 20% উৎপাদন করে এবং বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের 10% এর জন্য টেক্সটাইল শিল্প দায়ী ।  এই পরিমান  সমস্ত পৃথিবীর সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং সমুদ্র পরিবহণের জাহাজের মিলিত বায়ু দুষনের পরিমাণের চেয়েও বেশি।  

৪. পৃথিবীর  আবাদযোগ্য জমির 3% জমিতে কেবলমাত্র তুলা  চাষ হয়, অথচ এটা গ্লোবালি কৃষি কাজের মোট ব্যাবহৃত  24% ইন্সেক্টিসাইট  এবং 11% পেস্টিসাইড  এতে ব্যাবহার হয়  ।  

৫.  পোশাক তৈরির উদ্দেশ্যে কাটিং করা ফেব্রিকের 15% ঘরের মেঝেতে বর্জ্য হিসাবে ব্যাবহার হয় ।  

৬.  সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর 19.7 বিলিয়ন পাউন্ড এর টেক্সটাইল পন্য এবং পোশাক আমদানি করে, যখন তারা রফতানি করে কেবলমাত্র 3.5 মিলিয়ন পাউন্ডের ।   এই সংখ্যার উপর ভিত্তি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমদানির মাধ্যমে প্রতি বছর 16.2 বিলিয়ন অতিরিক্ত পাউন্ড টেক্সটাইল এবং পোশাক, বা দেশের প্রতিটি একক ব্যক্তির জন্য 49.5 পাউন্ড টেক্সটাইল পন্য আমদানি করে ।

জেনে নিন টেক্সটাইল রিসাইক্লিং নিয়ে কিছু ফেক্ট

জন মার্সার (John Mercer বিজ্ঞানী)


গবেষক জন মার্সার (21 ফেব্রুয়ারী 1791 - 30 নভেম্বর 1866) ছিলেন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের গ্রেট হারউডে জন্মগ্রহণ কারেন। একটি ইংরেজী ডাইং মাস্টার এবং ফ্যাব্রিক কেমস্টি এবং ফ্যাব্রিক প্রিন্টার। 1844 সালে তিনি কটনের মার্সারাইজেশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন , যা কাপড় ব্যবহার করার জন্য এটা কাপড়ের কোয়ালিটি বাড়ায় ।


জন মার্সারের জীবনীঃ

জন মার্সার জীবনে কখনই স্কুলে যান নি, সে তার প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রাথমিক পড়া এবং লেখা শিখেছিলেন । ডাইং করার খুব শখ ছিল তাঁর । একটি কেমেস্ট্রি পাঠ্য বইয়ের সাহায্যে তিনি নিজেকে ডাইং প্রক্রিয়াটির প্রাথমিক বিষয় গুলি শিখিয়েছিলেন। তিনি অ্যান্টিমনি অরেঞ্জ আবিষ্কার না করা অবধি পরীক্ষা চালিয়ে যান। পরে তিনি Mercerisation প্রক্রিয়াটি ডেভলপ করেন এবং রয়েল সোসাইটি, ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি এবং কেমিক্যাল সোসাইটিতে ভর্তি হন।

বিজ্ঞানী জন মার্সার এন্টিমাইক্রোবিয়াল প্রিভেনশন গবেষণায় একজন পাইয়োনিয়ার গবেষক ছিলেন । তিনি কলেরা বিস্তার রোধে ১৮৪৭ সালে স্কাইসাইডে লাইম ক্লোরাইড বা ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইড আবিস্কার করেন । যা এখন পাব্লিক সুইমিং পুলের ডিসইনফেকটেন্ট ক্যামিকেল হিসেবে ব্যাবহার করা হয় ।

1814 সালে তিনি মেরি ওলস্টেনহোলেমে বিয়ে করেছিলেন । তাদের ছয়টি সন্তান ছিল। ১৮৯৯ সালে তাঁর স্ত্রী মারা যান এবং তারপরে তিনি ১৮৬২ সালে দ্বিতীয় গ্রেট প্রদর্শনীতে জুয়ার হয়ে ওঠেন এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শান্তির ন্যায়বিচার হিসাবে, ক্লেটন-লে-মুরসে বক্তৃতা প্রদান অব্যাহত রাখেন এবং স্থানীয় অ্যাংলিকান এবং মেথোডিস্ট গীর্জা সমর্থন করেন।

1861 সালের আদমশুমারিতে তাকে 70 বছর বয়সী জন মার্সারকে "কেমিস্ট" হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে । 29 জন বার্লিংটন হোটেলে তাঁর ছেলে জন এবং আরও 12 জনের সাথে বসবাস করেছেন ( ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পাশের দরজাটি ছিল, 30 নম্বরে) । মার্সার 1866 সালে বাড়িতে মারা যান এবং সেন্ট বার্থোলিমেউয়ের গির্জায় তাকে সমাহিত করা হয়। তাঁর স্মরণে তহবিলগুলি তাঁর মেয়ে মারিয়া সরবরাহ করেছিলেন এবং ১৯০৩ সালে গ্রেট হারউডে পাশাপাশি মার্সার হলে একটি ক্লক টাওয়ার উন্মোচন করা হয়েছিল। ওকেনশায় মার্সারের কুটিরটি যাদুঘর এবং পার্ক হিসাবে দান করা হয়েছিল।

মার্সারাইজেশন পদ্ধতি আবিষ্কারের জনক জন মার্সার - John Mercer

টেক্সটাইল শিল্প ও ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন যন্ত্রপাতি


শিল্প বিপ্লবটি ছিল প্রায় 1760 থেকে 1820 এবং 1840 সময়কালে নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়াতে রেভুলুশন কালকে বলা হয়ে থাকে ।

এই রেভুলুশন কালে, হস্ত চালিত প্রডাকশন পদ্ধতি মেশিনে পরিবর্তিত হয় এবং নতুন ক্যামিকেল উৎপাদন এবং লোহার উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু হয় । এই সময়ে ওয়াটার এনার্জি এবং স্টিম এনার্জির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বৃদ্ধি পায় । এই সময় কালে মেশিন সরঞ্জামগুলির অভুতপুর্ন ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছিল এবং কারখানার ব্যবস্থা বৃদ্ধি পেয়েছিল ।  টেক্সটাইল মিল গুলি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশনের  মূল শিল্প ।  কর্মসংস্থান, আউটপুট এবং মূলধনের বিনিয়োগ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ছিলো টেক্সটাইল ।  টেক্সটাইল শিল্প প্রথম আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে ছিল । প্রথম গ্রেট ব্রিটেনে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন   শুরু হয়েছিল এবং কারন বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছিলো ব্রিটিশদের  । 

 ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন  ইতিহাসের একটি প্রধান টার্নিং পয়েন্ট ছিল যা এই শতকে  দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি দিকই কোনও না কোনওভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল । এই শতকে গড় আয় এবং জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে ।  কিছু অর্থনীতিবিদ বলছেন যে শিল্প বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রভাবটি ছিল ইতিহাসের প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল।  তবে অন্যরা বলেছে যে 19 ও 20 শতকের এর শেষের দিকে এটি সত্যিকারের উন্নতি শুরু হয়নি ।   ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন  সংঘটিত হওয়ার প্রায় একই সময়ে, ব্রিটেন একটি কৃষি বিপ্লব চলছে, যা জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা করেছিল এবং শিল্পের জন্য উদ্বৃত্ত শ্রম ব্যাবহার করেছিল ।


টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি আবিস্কারের ইতিহাসঃ 

ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন  সময় তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যে টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত কয়েকটি আবিষ্কার ঘটেছিল ।  এখানে তাদের কয়েকটিকে হাইলাইট করার জন্য একটি টাইমলাইন দেওয়া হল:

 1733 সালে John Kay  ফ্লাইং শাটল  আবিষ্কার করা যার দ্বারা তাঁতগুলির উন্নত তাঁতিরা দ্রুত বুনতে সক্ষম হন ।

 1742 সালে ইংল্যান্ডে  প্রথম কটন মিলগুলি  খোলা হয়েছিল।

 1764 স্পিনিং জেনিটি আবিষ্কার করেছেন জেমস হারগ্রিভেস: স্পিনিং হুইলটির উপরে উন্নত করার জন্য প্রথম মেশিন।

 1764 সালে Richard Arkwright দ্বারা নির্মিত ওয়াটার ফ্রেম ছিলো  প্রথম চালিত টেক্সটাইল মেশিন।

 1769 Arkwright ওয়াটার ফ্রেমটিকে পেটেন্ট করেছিলেন।

 1770 সালে হারগ্রিভস স্পিনিং জেনিকে পেটেন্ট করেছিলেন।

 1773 সাথে প্রথম টেক্সটাইল কারখানায় কটন পন্য  উৎপাদিত  হয়েছিল।


 1779 ক্রম্পটন স্পিনিং খচ্চর আবিষ্কার করেছিলেন যা বয়ন প্রক্রিয়াতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয়।

 1785 সালে কার্টরাইট প্রথম লুমের পেটেন্ট করেন ।  এটি উইলিয়াম হরোকস দ্বারা এটা ইম্প্রুভ  হয়েছিল, 1813 সালে তার ভেরিয়েবল স্পিড ব্যাটন আবিষ্কারের জন্য পরিচিত।

 1787 সাল থেকে তুলা পণ্য উৎপাদন  10 গুণ বেড়েছে ।

 1789 সালে স্যামুয়েল স্লেটার ( Samuel Slater ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম  টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি নকশা নিয়ে আসে ।

 1790 সালে Arkwright ইংল্যান্ডের নটিংহামে প্রথম বাষ্প চালিত টেক্সটাইল কারখানা তৈরি করেছিলেন।

 1792 সালে এলি হুইটনি তুলার জিন মেশিন উদ্ভাবন করেছিলেন । এমন একটি যন্ত্র যা অল্প সময়ে কটন  ফাইবার থেকে তুলাবীজ সেপারেশন  পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করে তোলে।

 1804 জোসেফ মেরি জ্যাকার্ড ,  জ্যাকার্ড লুম আবিষ্কার করেছিলেন যা জটিল ডিজাইন গুলি বুননের জন্য ।  জ্যাকার্ড কার্ডের স্ট্রিংয়ের গর্তের নিদর্শনগুলি রেকর্ড করে রেশম তাঁতে ওয়ার্প এবং ওয়েফট এর থ্রেডগুলিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় আবিষ্কার করেছিলেন ।

 1813 উইলিয়াম হরোকস ভেরিয়েবল স্পিড ব্যাটন আবিষ্কার করেছিলেন ( উন্নত পাওয়ার লুমের জন্য )।

 1856 সালে উইলিয়াম হেনরি পারকিন প্রথম সিন্থেটিক ডাইজ আবিষ্কার করেছিলেন।

টেক্সটাইল শিল্প ও ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলুশন - যন্ত্রপাতির ভুমিকা

How an Englishman Revolutionized the Textile Industry - একজন ইংরেজ কীভাবে টেক্সটাইল শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছিল | স্যামুয়েল স্লেটার


স্যামুয়েল স্লেটার একজন আমেরিকান উদ্ভাবক যিনি 1768 সালের ৯ জুন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি নিউ ইংল্যান্ডে রোড আইল্যান্ডের স্ল্যাটারসভিলে শহরে বেশ কয়েকটি সফল স্পিনিং মিল তৈরি করেছিলেন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । তাঁর কৃতিত্ব এর কারনে অনেকে তাকে "আমেরিকান শিল্পের জনক" এবং "আমেরিকান শিল্প বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা" হিসাবে বিবেচনা করে।


জন্ম সাল - জুন 9, 1768 বেলপার, ডার্বিশায়ার, ইংল্যান্ড

মৃত্যু সাল - 21 এপ্রিল, 1835 (বয়স 66)

জাতীয়তা - ইংরেজি

পেশা - শিল্পপতি, লেখক

পরিচিতি আছে - গ্রেট ব্রিটেন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লব নিয়ে আসা

নেট মূল্য - তাঁর মৃত্যুর সময় মার্কিন ডলার $ 1.3 মিলিয়ন (মার্কিন জিএনপি-র প্রায় 1/1312 তম) [1]

স্ত্রী - হান্না উইলকিনসন স্লেটার (1791 - তার মৃত্যু, 1812); এস্থার পার্কিনসন (1817 - তাঁর মৃত্যু)



তার আমেরিকায় প্রত্যাবর্তনঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বছরগুলিতে, বেনিয়ামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং পেনসিলভেনিয়া সোসাইটি ফর একারেজমেন্ট ওফ ম্যানুফেকচারার উপকারী যে কোন আবিষ্কারের জন্য নগদ পুরষ্কার প্রদান করতো যা আমেরিকার টেক্সটাইল শিল্পকে উন্নত করে তোলে । সেই সময় স্লেটার ছিলেন ইংল্যান্ডের মিলফোর্ডের এক যুবক, তিনি শুনেছিলেন যে উদ্ভাবক প্রতিভা আমেরিকাতে পুরস্কৃত হয় তাই তিনি সে সময় দেশত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন । মাত্র ১৪ বছর বয়সে, তিনি ছিলেন রিচার্ড আর্করাইটের অংশীদার জেদীদাহ স্ট্রটের শিক্ষানবিশ বা ইন্টার্ন ছিলেন এবং কাউন্টিং হাউস এবং টেক্সটাইল মিলে কর্মরত ছিলেন । সেখানে তিনি টেক্সটাইল ব্যবসায় সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছিলেন ।



স্লেটার আমেরিকাতে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য টেক্সটাইল শ্রমিকদের দেশত্যাগের বিরুদ্ধে যে ব্রিটিশ আইন ছিলো তা তিনি অমান্য করেছিলেন । তিনি 1789 সালে নিউইয়র্ক পৌঁছেছিলেন এবং টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ হিসাবে তার সুবিধা দেওয়ার জন্য Pawtucket এর মোশি ব্রাউনকে লিখেছিলেন । ব্রাউন প্রোভাইডের একজনের কাছ থেকে যে স্পিন্ডেলগুলি কিনেছিলেন তা চালাতে পারবেন কিনা তা দেখার জন্য স্লটারকে পাভটকেটে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন । ব্রাউন তাকে উত্তরে লিখেছিলেন , "আপনি যা বলছেন তা করতে পারলে," আমি আপনাকে রোড আইল্যান্ডে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি । "


1790 সালে Pawtucket পৌঁছে স্লেটার মেশিনগুলিকে অকেজো ঘোষণা করে । অ্যালমি এবং ব্রাউনকে বোঝায় যে তিনি টেক্সটাইলের ব্যবসায়ের জ্ঞান আছে তাই তাদের অংশীদার হিসেবে চান ।  ইংরেজী টেক্সটাইল যন্ত্রপাতিগুলির অঙ্কন বা মডেল ছাড়াই তিনি নিজেই মেশিন তৈরি করতে উদ্যোগ নেন  ।  20 ডিসেম্বর, 1790 সালে, স্লেটার নিজে কার্ডিং মেশিন , ড্রফ্রেম  , রোভিং ফ্রেম মেশিন এবং দুটি ৭২ স্পিন্ডল বিশিষ্ট স্পিনিং ফ্রেম তৈরি করেছিলেন।  একটি পুরানো কল থেকে নেওয়া হয়েছিলো ওয়াটার ফ্রেম যা ব্যাবহার করা হয়েছিলো পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য  ।  দেখা গেলো স্লেটারের নতুন যন্ত্রপাতি কাজ করেছে এবং খুব ভালো কাজ করেছে। 

 স্পিনিং মিল এবং টেক্সটাইল বিপ্লবঃ 

 এটিই ছিল প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রির জন্ম ।  "ওল্ড ফ্যাক্টরি" নামে নতুন টেক্সটাইল মিলটি 1793 সালে Pawtucket এ নির্মিত হয়েছিল। এর পাঁচ বছর পরে, স্লেটার এবং ব্যাবসায়ীক পার্টনারেরা দ্বিতীয় মিল তৈরি করেছিলেন ।  এবং 1806 সালে, স্লেটার তার ভাইয়ের সাথে যোগদানের পরে, তিনি আরেকটি মিল নির্মাণ করেছিলেন ।

 অনেক কর্মীরা স্লেটারের কাছে কাজ করতে এসেছিল এবং তারা তার যন্ত্রগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জানার অপেক্ষায় ছিলো  এবং কাজ শেখার পর তারা নিজেদের  টেক্সটাইল মিলগুলি স্থাপন করতে তাকে ছেড়ে চলে  যায় ।  মিলগুলি কেবল নিউ ইংল্যান্ডে নয় অন্যান্য রাজ্যেও নির্মিত হয়েছিল। 1809 সালের মধ্যে দেশে 62 টি স্পিনিং মিল চালু বা অপারেশনাল ছিল, একত্রিশ হাজার স্পিন্ডল এবং আরও পঁচিশটি মিলগুলি  ইরেকশন এবং প্লানিং পাইপলাইনে ছিলো ।  শীঘ্রই শিল্পটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ।

 প্রথমে  গৃহস্থালীর ব্যবহারের গৃহীনীদের কাছে বিক্রি করা হতো সেখান থেকে পেশাদার তাঁতিদের কাছে বিক্রি শুরু হয় যারা মার্কেটে ফেব্রিক বিক্রি করার জন্য কাপড় তৈরি করেছিল ।  তারপর এই শিল্প বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।  কেবল নিউ ইংল্যান্ডেই নয়, দেশের অন্যান্য অংশেও যেখানে স্পিনিং যন্ত্রপাতি চালু হয়েছিল ।


 1791 সালে, স্লেটার হান্না উইলকিনসনকে বিবাহ করেন, যিনি দ্বি-প্লাইয়ের সুতো আবিষ্কার করার প্রথম আমেরিকান মহিলা হিসেবে আবিস্কারের পেটেন্ট গ্রহণ করেছিলেন । স্লেটার এবং হানাহার একসাথে 10 সন্তান ছিল, যদিও চারটি শৈশবকালে মারা গিয়েছিলেন ।  ১৮১২ সালে হান্না স্লেটার প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যান এবং ছয় ছেলেমেয়েকে নিয়ে তার স্বামীকে রেখেছিলেন ।  স্লেটার দ্বিতীয়বারের জন্য 1817 সালে এস্টার পার্কিনসন নামে এক বিধবাকে বিয়ে করেছিলেন ।



আমেরিকার টেক্সটাইল শিল্পের জনক | স্যামুয়েল স্লেটার

ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনে টেক্সটাইল বিজ্ঞানী রিচার্ড আর্ক রাইটের ভুমিকা
রিচার্ড আর্কউইট শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন যখন তিনি স্পিনিং ফ্রেম আবিষ্কার করেছিলেন, যাকে পরে ওয়াটার ফ্রেম বলা হয় । এই ফ্রেম থেকে  যান্ত্রিকভাবে সুতা তৈরীর পদ্ধতি আবিষ্কার হয় ।

তার প্রাথমিক জীবনঃ 

রিচার্ড আর্করাইট 1732 সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারে । তিনি তার পিতা মাতার ১৩ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ।  তিনি একজন নাপিত এবং  মাথার চুলের উইগমেকারের  প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ।  শিক্ষানবিশ উইগমেকার হিসাবে প্রথম ক্যারিয়ারের শুরু করেন । এই সময়ে তিনি উইগ তৈরির জন্য চুল সংগ্রহ করেছিলেন এবং বিভিন্ন রঙের উইগ তৈরির জন্য চুল ডাইং করার জন্য একটি কৌশল তৈরি করেছিলেন ।

 স্পিনিং ফ্রেম আবিষ্কারঃ 

 1769 সালে আর্ক রাইট একটা আবিষ্কার কে পেটেন্ট  করেছিলেন যা তাকে ধনী করে তুলেছিল ।  তার দেশকে একটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে দিয়েছিলো তার এই স্পিনিং ফ্রেম ।  স্পিনিং ফ্রেমটি এমন একটি ডিভাইস ছিল যা থ্রেটের  জন্য ফেব্রিকের জন্য  আরও শক্তিশালী ইয়ার্ন তৈরি করতে পারতো । এর প্রথম মডেলগুলি ওয়াটার হুইল দিয়ে চালিত হয়েছিল তাই ডিভাইসটি প্রথমে ওয়াটার ফ্রেম হিসাবে পরিচিতি পেতে থাকে ।


 এটি ছিলো প্রথম পাওয়ার্ড অটোমেটিক  এবং কন্টিনিউয়াস  টেক্সটাইল মেশিন ।  এটা শিল্প বিপ্লবকে একটা নতুন গতি যুগিয়েছিলো ।  এটি কারখানায় টেক্সটাইল  উৎপাদন করার তৈরী করে  ।  ইংল্যান্ড এ ছোট পরিসরে হোম প্রডাকশন থেকে দূরে সরিয়ে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল স্কেলে প্রডাকশন করতে ভুমিকা রাখে ।  আর্ক রাইট 1774 সালে ইংল্যান্ডের ক্রমফোর্ডে প্রথম টেক্সটাইল মিল নির্মাণ করেছিলেন । রিচার্ড আর্কউইট আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছিলেন, যদিও পরে তিনি স্পিনিং ফ্রেমের জন্য নিজের পেটেন্ট অধিকার হারিয়ে টেক্সটাইল মিলগুলির প্রসারের দরজা খোলেন ।  আর্ক রাইট 1792 সালে একটি ধনী ব্যক্তি হিসেবে মারা যান।

স্যামুয়েল স্লেটার Samuel Slater (1768-1835)


স্যামুয়েল স্লেটার (1768-1835) শিল্প বিপ্লবের আরেকজন মূল ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন  যখন তিনি আমেরিকাতে আর্ক রাইটের টেক্সটাইল উদ্ভাবন রফতানি করেছিলেন।


 20 ডিসেম্বর, 1790, রোড আইল্যান্ডের Pawtucket এ কটন স্পিনিং এবং কার্ডিং মেশিনের জন্য পানি চালিত যন্ত্রপাতি চালু হয়েছিল।  ইংরেজ উদ্ভাবক রিচার্ড আর্করাইটের স্পিনিং ফ্রেমের নকশার ভিত্তিতে ব্ল্যাকস্টোন নদীর তীরে স্যামুয়েল স্লেটার ও একটি স্পিনিং মিল তৈরি করেছিলেন ।  স্লেটারের  মিলটি ছিলো তৎকালীন প্রথম আমেরিকান কারখানা ।  যা পানি-চালিত মেশিনগুলির সাথে সফলভাবে  কটন ইয়ার্ন উৎপাদন করে ।  স্লেটার ছিলেন এক সদ্য ইংলিশ ইমিগ্রান্ট, যিনি আর্ক রাইটের ব্যাবসার অংশীদার Jebediah Strutt অধীনে কাজ করা শুরু করেন ।


 স্যামুয়েল স্লেটার ভাগ্যের সন্ধানে আমেরিকাতে চলে যান তিনি ততকালীন  ইমিগ্রান্টদের টেক্সটাইল শ্রমিকদের  কাজের নিষেধ বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আইন ছিলো তা ভেংগেছিলেন ।  আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সটাইল শিল্পের জনক হিসাবে বিবেচিত হন , তিনি শেষ পর্যন্ত নিউ ইংল্যান্ডে রোড আইল্যান্ডের স্লেটারসভিলে শহরে বেশ কয়েকটি সফল স্পিনিং  মিল  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তৈরি করেছিলেন ।

ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনে টেক্সটাইল বিজ্ঞানী রিচার্ড আর্ক রাইটের ভুমিকা