Textile Lab | Textile Blog: Factory
Actual Scenarios of Production Planning and Control Department in Textile & RMG Industry | গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের বর্তমান অবস্থা ও কিছু করণীয়। 

Production Planning and Control (PPC) যে কোন Service এবং Production organization এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিপার্টমেন্ট। কারণ সঠিক প্ল্যান ও তার বাস্তবায়ন ছাড়া কোন কাজই ভালভাবে শেষ করা যায় না। 

অনেক গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল ফ্যাক্টরী আছে যেখানে কোন আলাদা Production Planning and Control ডিপার্টমেন্ট নেই। অনেক ছোট ছোট ফ্যাকটরী আছে যেখানে কোম্পানীর GM, ED বা Director মৌখিক প্ল্যানের মাধ্যমে ফ্যাক্টরী চালায়। যখন যে অর্ডার তাদের কাছে ইমারজেন্সি মনে হয় সেটিই আগে প্রোডাকশন করে। এক্ষেত্রে দূরদর্শী প্ল্যান না থাকায় ১০/১৫ দিন বা আরো পরে পরে পরিস্থিতি কি হবে তা অনুমান করা যায় না। ফলে সুইং লাইন মাঝে মাঝে খালি হয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে টানা কয়েক রাত অভার টাইম করতে হয়।

আবার কিছু কিছু ফ্যাক্টরীতে ছোট পরিসরে PPC ডিপার্টমেন্ট থাকলেও তারা সেই প্ল্যান পুরোপুরি Execute করতে পারে না।  কারণ অনেক সময় মার্চেন্ডাইজিং, সাপ্লাই চেইন ও প্রোডাকশন ডিপার্টমেন্ট থেকে প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট ভাল সাপোর্ট পায় না। 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে PPC ডিপার্টমেন্টের লোকেরা প্ল্যান দেওয়ার পর প্ল্যান অনুযায়ী ফ্লোর চলছে কিনা সে ব্যাপারে সচেতন থাকে না। ফলে প্রোডাকশনের লোকেরাও প্ল্যান Execution এর ব্যপারে সিরিয়াস থাকে না। সর্বোপরি, সেই প্ল্যানের কোন কার্যকারিতা থাকে না। 

একটি ভাল PPC ডিপার্টমেন্ট ও কার্যকরি প্ল্যান একটি কোম্পানির প্রায় ২০% সময় বাঁচাতে ও ৯৭-১০০% সঠিক সময়ে শিপমেন্ট দিতে সাহায্য করতে পারে।



Production Planning and Control ডিপার্টমেন্ট এর জন্য কিছু করণীয় দিকসমূহ-

১। কোম্পানি সকল অর্ডার একটি নির্দিষ্ট ডাটাবেসে এন্ট্রি করতে হবে। এক্ষেত্রে MS Excel ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও বর্তমানে অনেক ধরণের প্ল্যানিং সফটওয়্যার পাওয়া যায়। 


২। শিপমেন্ট তারিখের ক্রমানুযায়ী অর্ডারগুলোকে সাজাতে হবে।


৩। প্রত্যেকটি অর্ডারকে মোট লীড টাইমের মধ্যে Event অনুযায়ী ভাগ করতে হবে। 


যেমন, নিটিং বা অয়েবিং করতে হলে সূতার In-house Date থেকে শুরু করে, 

ক. নিটিং/ওয়েবিং লীড টাইম 

খ. ডাইং লীড টাইম 

গ. কাটিং লীড টাইম

ঘ. Trim/Accessories লীড টাইম

ঙ. সুইং লীড টাইম

চ. ফিনিসিং লীড টাইম

ছ. প্যাকিং লীড টাইম ইত্যাদি।


উপরের সময়গুলো শিপমেন্ট ডেট থেকে ৩/৪ দিন সময় হাতে রেখে সেট করতে হবে। যাতে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হলে তা সেই সময়ের মধ্যে কাটিয়ে উঠা যায়। 


৪। প্রত্যেকটি Event এর জন্য সময় নির্ধারণের পর সকল অর্ডার একটি নির্দিষ্ট প্লান শীটে ক্রমানুযায়ী সাজালে সহজেই কোম্পানীর সামগ্রিক লোড সম্পর্কে জানা যাবে ও Critical Order গুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 


৫। তাছাড়া কোম্পানী কোন সময়ে কতটুকু অর্ডার নিতে পারবে তাও সেই প্ল্যান শীট থেকে জানা যাবে। 

৬। প্রত্যেকটি অর্ডারে প্ল্যান Event অনুযায়ী নির্দিষ্ট লীড টাইমে শুরু ও শেষ হচ্ছে কিনা তা Follow-up করতে হবে।

গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের বর্তমান অবস্থা ও কিছু করণীয়

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এক কারখানা
উর্মি গ্রুপের কারখানা ফখরুদ্দিন টেক্সটাইলে প্রায়ই সুতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটত। তাতে উৎপাদনপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতো। সেই সমস্যার সমাধান করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

উর্মি গ্রুপের পরিবেশবান্ধব কারখানা ইউএইচএমে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আদমজি ইপিজেডেউর্মি গ্রুপের পরিবেশবান্ধব কারখানা ইউএইচএমে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আদমজি ইপিজেডে

প্রতিদিন কারখানায় শত শত সুতার কার্টন আসছে। সেগুলো বড় টালি খাতায় লিপিবদ্ধ করে গুদামে রাখা হচ্ছে। এরপর যেদিন কাপড় তৈরির জন্য সেই সুতার দরকার পড়ে, সেদিন কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার সুতা থেকে কাপড় তৈরির পরও একই সমস্যা দেখা যায়। প্রায়ই নির্দিষ্ট কাপড়ের খোঁজ মিলছে না। এমন নয় যে গুদাম থেকে চুরি হচ্ছে। বিশাল গুদামের কোথাও না কোথাও কাপড় পড়ে আছে। অথচ সময়মতো কর্মীরা তা খুঁজে পাচ্ছেন না।

সমস্যাটি ছোট হলেও তাতে কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। প্রায়ই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো সুতা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান কী? খুঁজতে খুঁজতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কর্মীদের দিয়েই একটা সফটওয়্যার তৈরি করল প্রতিষ্ঠানটি। গুদামে বসানো হলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তির সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি। তারপর শুরু হলো এক বছরের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।

কর্মীদের প্রশিক্ষণও চলল সমানতালে। পরের বছর থেকে পাকাপাকিভাবে নতুন পদ্ধতিতে গুদামে সুতা সংরক্ষণ শুরু হলো। পরে একই ব্যবস্থা গ্রে বা সাদা কাপড় সংরক্ষণেও চালু করা হয়। বর্তমানে গুদাম থেকে সুতা বা কাপড় কয়েক মিনিটের মধ্যেই খুঁজে বের করতে পারছেন কর্মীরা। তাতে সময় অপচয় কমেছে। এখন আর সুতা বা কাপড় হারিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে কারখানার উৎপাদনও বেড়ে গেছে।
উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ 

এভাবেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে গুদামে সুতা ও কাপড় সংরক্ষণব্যবস্থা চালু করে সফল হওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস। এটি গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান উর্মি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলসে আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতার জন্য গত বছর ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার পেয়েছে উর্মি গ্রুপ।

রাজধানীর গুলশানে উর্মি গ্রুপের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসিফ আশরাফের সঙ্গে সম্প্রতি প্রথম আলোর দীর্ঘ আলাপ হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছি আমরা। ফলে উৎপাদনব্যবস্থায় অটোমেশন করতেই হবে আমাদের। ধাপে ধাপে আমরা কাজটি করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বস্ত্রকলে সফলভাবে আরএফআইডি চালু করতে পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য তৈরি পোশাকের উৎপাদন পর্যায়েও অটোমেশন করতে।’

ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলে আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার দেখতে গত ডিসেম্বরে আমরা গাজীপুরের শ্রীপুরে গিয়েছিলাম। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আসুন আমরা উর্মি গ্রুপের শুরুর দিকের গল্পটা জেনে নিই। প্রতিষ্ঠানের এমডি আসিফ আশরাফের বাবা প্রয়াত ফখরুদ্দিন আহমেদ ইটভাটার ব্যবসা শুরু করেন ১৯৫৫ সালে। তার বছর তিনেক পর স্টোনভেলি ইঞ্জিনিয়ারিং নামে নির্মাণ কোম্পানি গঠন করেন। বঙ্গভবনের মূল ফটকসহ বিভিন্ন সেতু নির্মাণের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন তথ্য দিয়ে আসিফ আশরাফ বলেন, ‘বাবার নির্মাণপ্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেতু নির্মাণের কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সেসব সেতুর নকশা সরবরাহ করতেন। সে জন্য পাকিস্তান আর্মি ছয়বার বাবাকে ধরতে আমাদের পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালায়। যদিও বাবা এর আগেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।’

১৯৭৪ সালে উর্মি নেভিগেশন ও ১৯৭৯ সালে উর্মি শিপিং কোম্পানি চালু করেন ফখরুদ্দিন আহমেদ। কোম্পানি দুটির অধীনে তখন ১৩-১৪টি জাহাজ ছিল। সেগুলো জ্বালানি তেল, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করত। মাছ ধরার ট্রলারও ছিল তাঁর। ১৯৮৩ সালে ফখরুদ্দিন আহমেদ মারা যান। পরের বছর তাঁর ছোট ভাই ছোট্ট পরিসরে ঢাকার গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে স্টোনভেলি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুদামে উর্মি গার্মেন্টস চালু করেন।

স্নাতক শেষ করে ১৯৯১ সালে পারিবারিক ব্যবসায় আসেন আসিফ আশরাফ। শুরুতে তিনি জাহাজের ব্যবসা দেখতেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে ভর্তি হন। আইবিএর পড়াশোনা শেষে তিনি পাকাপাকিভাবে ব্যবসায় জড়িত হন। ১৯৯৪ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাটায়ার্স ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি নামে নতুন আরেকটি পোশাক কারখানা।

বর্তমানে উর্মি গ্রুপের অধীনে পোশাক ও বস্ত্র খাতে চারটি কারখানা রয়েছে—উর্মি গার্মেন্টস, অ্যাটায়ার্স ম্যানুফ্যাকচারিং, ইউএইচএম এবং ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস। এসব কারখানায় কাজ করেন ১৪ হাজার শ্রমিক। গত বছর উর্মি গ্রুপ ১৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার বাইরে উর্মি গ্রুপের তিনটি তেলের ট্যাংকারও রয়েছে। এগুলো দেশের ভেতরে বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি তেল পরিবহন করে।


ফখরুদ্দিন টেক্সটাইলে একদিন

গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একদিন শীত শীত সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে আড়াই ঘণ্টায় আমরা পৌঁছাই ফখরুদ্দিন টেক্সটাইলে। ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ল ছিমছাম আর পরিপাটি কারখানা চত্বর। কারখানার বিভিন্ন ইউনিটে আরএফআইডি প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা দেখাতে আমাদের সঙ্গী হলেন উর্মি গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি) কাজী এহতেশাম শহীদ।

প্রথমেই গেলাম সুতার গুদামে। সেখানে কাজী এহতেশাম শহীদ জানান, কাভার্ড ভ্যানে সুতা আসার পর সেই চালানের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত যেমন: পরিমাণ, কার্টন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি তথ্য গুদামের প্রবেশ দরজায় একটি কাউন্টারের কম্পিউটারে এন্টারপ্রাইজ প্ল্যানিং সফটওয়্যারে (ইআরপি) ইনপুট দেওয়া হয়। পরে সেসব তথ্য আরএফআইডি সফটওয়্যারে পাঠানো হয়। তখন আরএফআইডি ট্যাগ কাভার্ড ভ্যানে থাকা সুতার প্রতিটি কার্টনে লাগিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সুতার কার্টন গুদামে ঢোকানো হয়। ওই কাউন্টারের ওপর একটি আরএফআইডি অ্যানটেনা ও রিডার রয়েছে। যখন সেই রিডারের নিচ দিয়ে এক এক করে কার্টনগুলো নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি হয়।

এন্ট্রির কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট শেলফে সুতার কার্টন রেখে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যখন নিটিংয়ের সুতা পাঠানোর সময় আসে, তখন কর্মীরা নির্দিষ্ট সুতার কার্টন খুঁজতে সফটওয়্যারের সাহায্য নেন। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে নির্দিষ্ট শেলফে চলে যান। কোনো কারণে সেখানে না পেলে হস্তচালিত আরএফআইডি ট্যাগ রিডার ব্যবহার করেন। এ জন্য রয়েছে মোবাইল অ্যাপ। সেই অ্যাপে কার্টনের গায়ে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগের নম্বর এন্ট্রি দেওয়া হয়। তারপর হাতে রিডার নিয়ে কর্মীরা গুদামে হাঁটতে থাকেন। তখন রিডার দিয়ে একধরনের শব্দ হতে থাকে। খুঁজতে থাকা নির্দিষ্ট কার্টনটির কাছাকাছি থাকলে রিডার উচ্চ শব্দ করে। এভাবেই কাঙ্ক্ষিত সুতার কার্টন খুঁজে বের করেন গুদামের কর্মীরা।

একইভাবে সুতা দিয়ে নিটিং মেশিনের কাপড় তৈরির পরও আরএফআইডি ব্যবস্থার মাধ্যমে গুদামজাত করা হয়। আবার ডায়িং ইউনিটে পাঠানোর সময় ব্যাচ আকারে কাপড় পাঠানো হয়। সেখানেও আরএফআইডি ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এর ফলে কারখানার সুতা থেকে কাপড় উৎপাদনের সব কটি ধাপ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছে।

উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ বলেন, ‘আগে আমরা প্রায় দিনই সুতা হারিয়ে ফেলতাম। সমস্যা সমাধানের প্রথম উদ্যোগ নেন আমাদের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মীর আশরাফুল হোসেইন। তিনি আরএফআইডি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রেও সেমিনারে অংশ নেন। ২০১৮ সালে প্রথম আমরা ব্যবস্থাটি চালু করি।’ তিনি বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় এই ব্যবস্থার কারণে আমাদের মেশিন বসে থাকছে না। তাতে উৎপাদন বেড়েছে।’

সেলাইবিহীন পোশাক

ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের চত্বরে সিমলেস বা সেলাইবিহীন পোশাকের ইউনিট গড়ে তুলেছেন আসিফ আশরাফ। সেখানকার বিশেষ নিটিং মেশিনে টি-শার্ট, ট্রাউজার, সাঁতারসহ বিভিন্ন পোশাক তৈরি হচ্ছে। এসব পোশাকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নিটিং মেশিনেই পোশাকের বড় অংশ হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য হাতে গোনা কয়েকটি অংশ সেলাই করতে হয়। এই সিমলেস পোশাকের ডায়িং ও ফিনিশিংয়ের জন্যও রয়েছে আলাদা ইউনিট।

উর্মির এই সিমলেস ইউনিট ২০১৬ সালে চালু হয়। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড পুমা, এমঅ্যান্ডএস, ওশান এবং নো টিম অ্যান্ড সোল্ডসের জন্য পোশাক তৈরি করছে তারা। সিমলেসে তৈরি একেকটি পোশাকের দাম সাধারণ পোশাকের চেয়ে বেশি। যেমন সিমলেসে তৈরি টি-শার্টের মূল্য ৬-৭ ডলার এবং ল্যাগিংসের মূল্য ১০-১১ ডলার। সব মিলিয়ে উর্মির এই ইউনিটের বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ ৮০ লাখ ডলার।

আসিফ আশরাফ বলেন, ‘আগে স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো শুধু সিমলেস পোশাক বানাত। এখন অন্যান্য ব্র্যান্ডও এ ধরনের পোশাক নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্রে রাখছে। ফলে ভবিষ্যতে সিমলেস পোশাকের চাহিদা বাড়বে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম এ ধরনের পোশাক তৈরি করতে শুরু করি। পরে আরও কয়েকটি কারখানা এমন পোশাক উৎপাদনে এসেছে।’

শেষ কথা

তৈরি পোশাক উৎপাদনে উর্মি গ্রুপ যে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিয়েছে, তা নয়। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে তাদের একটি পরিবেশবান্ধব কারখানাও রয়েছে। নাম ইউএইচএম। কারখানাটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএসজিবিসি থেকে লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে শ্রমিকদের এমএফএসের মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয় উর্মি গ্রুপ। তাদের কর্মীদের জন্য রয়েছে ন্যায্যমূল্যের দোকান। সেখান থেকে কম দামে নিত্যপণ্যসামগ্রী কিনতে পারেন তাঁরা। এ ছাড়া কর্মীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন সুবিধা ও নারীদের জন্য বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিয়ে থাকে উর্মি গ্রুপ।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে নিজের ব্যবসা জীবনের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন জানতে চাইলে আসিফ আশরাফ বললেন, ‘আমি কম চাহিদার মানুষ। আমি যতটুকু করতে পেরেছি, তার জন্য খুশি। দিন শেষে আমি শান্তি চাই। সে জন্য আমি সৎভাবে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করি। পোশাকশিল্পের জন্য নতুন কিছু যোগ করতে পারাটা আমার জন্য বিরাট ব্যাপার।’
প্রথম আলো

উর্মি গ্রুপ | ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল | Urmi Group | Textile Mills Limited (FTML)

ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং | 4A Yarn Dyeing Limited | Team Group

ঢাকার অদূরে সাভারের বাইপাইল-ইপিজেডের কাছেই কারখানাটি। মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে গালিচার মতো সবুজ ঘাস। সারি সারি দেশি-বিদেশি ফুল-ফলের গাছ। যেন ছবির মতো সাজানো একখণ্ড আঙিনা। চারপাশ বেশ পরিপাটি, নিরিবিলি আর খোলামেলা। রয়েছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। এরই মাঝখানে বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে একটি বহুতল ভবন। হঠাৎ তাকিয়ে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো পোশাক কারখানা। বলছিলাম টিম গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠান ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেডের কথা। যে কারখানায় কাউকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখা হয় না। যেখানে মালিক-শ্রমিক সবাই সমান। কর্মপরিবেশও নিরাপদ এবং শ্রমিকবান্ধব।

এরই মধ্যে পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে সুখ্যাতি কুড়িয়েছে ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং। কারখানাটিতে ৮৪ লাইনে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। গ্যাস-বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কারখানায় বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ। যেখানে ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা কারখানায় মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ। ছুটির দিনগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (এলইইডি) সনদ পেয়েছে কারখানাটি।

ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং কারখানার প্রত্যেক শ্রমিক প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বলেই জানেন। কারণ, প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে নানা সুবিধা। রয়েছে বার্ষিক নির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট, শতভাগ উৎসব বোনাস, মাসের শুরুতেই বেতনের ব্যবস্থা। মাসের মাঝামাঝি সময়ে কোনো শ্রমিকের কাছে টাকা না থাকলেও তাকে নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগতে হবে না।

কারখানার শ্রমিকদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে একটি সুপার শপ। যেখানে বাজারের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। নগদ টাকায় বাজার নয়, সবকিছু বাকিতেই নিতে পারবেন শ্রমিকেরা। মাস শেষে এসব বাজারের টাকা সমন্বয় করে বেতন দেওয়া হয়। প্রায় ১৫০ রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে শপটিতে। এ সবকিছুই করা হয়েছে অলাভজনকভাবে।

শ্রমিকদের শিশুসন্তানদের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে চাইন্ড ডে কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র। যেখানে প্রায় ৩০ জন শিশু থাকছে সকাল-সন্ধ্যা। রয়েছে দু’বেলা নাশতা, গোসল, ঘুমানো ও খেলার ব্যবস্থা। শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন শ্রমিকরা। আগামী বছর থেকে সব শ্রমিকের একসঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করতে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন একটি ভবন। এটি ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ওই কারখানার টেকনিক্যাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত সাথী আক্তার রেনু। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমি কারখানাটিতে শুরু থেকেই আছি। এ প্রতিষ্ঠানের বেতন দিয়েই প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ করে জমি কিনেছি। স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ ভালো আছি। এখানে কোনো শ্রমিককে শ্রমিকের চোখে দেখা হয় না। সবাইকে সম্মান দেওয়া হয়। মালিক ও কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সবসময় আপন চোখে দেখেন।

লিপি খাতুন নামে একজন বলেন, আমার বেতনের একটা অংশ গ্রামের বাড়ি পাঠাতে হয়। এ কারণে মাসের শেষ দিকে আমার কাছে কোনো টাকা থাকে না। একসময় মাসের শেষ দিনগুলোতে হাটবাজার করতে বেশ বেগ পেতে হতো । এখন বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনি, সেটাও আবার বাকিতে কেনা যায়। সব মিলিয়ে এখানে সুযোগ-সুবিধা অনেক। বাড়তি টেনশনও নেই। বেশ ভালো আছি পরিবার নিয়ে। আমার মতো অন্য শ্রমিকরাও ভালো আছেন। আমাদের কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষও নেই।

বর্তমান কর্মপরিবেশ ও সার্বিক অবস্থা বিষয়ে ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ হিল রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, আমার শ্রমিক বাঁচলে উৎপাদন আসবে। যেখানে শ্রমিক অসুস্থ বা অপুষ্টিতে থাকবে সেখানে কোনো কাজই টেকসই হবে না। তাই শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা মাথায় রেখে আমরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সুপার শপ করেছি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিম ফার্মা থেকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, সুপার শপ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ে ভালো মানের নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, কারখানার প্রত্যেক শ্রমিকের শিশুসন্তানের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র আছে, সেখানে খাবারের ব্যবস্থা আছে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য দিনে দুবার বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে রয়েছে ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থাও। কারখানায় কর্মরত সবাই সমান। এ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আগামী দিনগুলোতে এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে চাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্বের নামি দামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য জ্যাকেট তৈরি করে ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং। এছাড়া বরফে স্কেটিং করার পোশাকও তৈরি করা হয় সেখানে। পরিবেশবান্ধব এ কারখানার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন বাড়ছে বলে জানা গেছে।

২০০৯ সালে টিম গ্রুপের এমডি আবদুল্লাহ হিল রাকিব কারখানাটি কিনে নেন। শুরুতে সোয়েটার তৈরি করলেও পরে শুরু হয় জ্যাকেট তৈরির কাজ। পুরো কারখানায় ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতি। আছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা। সেই পানি কারখানার বাথরুমগুলোতে ব্যবহার করা হয়।

টিম গ্রুপের মোট ছয়টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এছাড়া আছে বায়িং হাউজ ও ওষুধ কোম্পানিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। শ্রমিক ও আশপাশের পরিবারের শিশুদের পড়ালেখার সুবিধার্থে আগামী দিনে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ফোর-এ ইয়ার্ন ডায়িং | 4A Yarn Dyeing Limited | Team Group

আনোয়ার গ্রুপ: চিরুনি প্রস্তুতকারক থেকে ২০টি কোম্পানির মালিক
আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে ১৮৮ বছরের পুরনো পারিবারিক ব্যবসার ইতিহাস, শক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন; তার প্রত্যাশা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে তার প্রতিষ্ঠান।

দেশের পুরনো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম আনোয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৪ সালে। পুরান ঢাকার লাক্কু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত 'হিডস অ্যান্ড স্কিনস' ব্যবসায়ের মূল প্রসার হয় নাতি আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে।

গত বছর আগস্টে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দাদা-বাবার চামড়ার ব্যবসায় বৈচিত্র্য এনে ২০টিরও বেশি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন 'মালা শাড়ি' খ্যাত আনোয়ার হোসেন। 

বর্তমানে আনোয়ার গ্রুপ বস্ত্র, পাট, সিমেন্ট, ইস্পাত, ব্যাংক, বীমা, গাড়ি, আবাসন, অবকাঠামো, আসবাবসহ ৩৬টি পণ্য ও সেবা খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

আনোয়ার হোসেনের প্রয়াণের পর বড় ছেলে মনোয়ার হোসেন দায়িত্ব নিয়েছেন এই ব্যবসা গ্রুপটির। আনোয়ার গ্রুপের বেড়ে ওঠা বর্তমান ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন মনোয়ার হোসেন।

১ টাকার ইজারায় শুরু

এই অঞ্চলের ব্যবসা যখন ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন থেকেই ব্যবসা করছে আনোয়ার গ্রুপ। ১৮৮ বছর আগে, ১৮৩৪ সালে কুন্ডু রাজার কাছ থেকে চকবাজারে বছরে ১ টাকা খাজনায় একটি ভিটা ইজারা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন আনোয়ার হোসেনের দাদা লাক্কু মিয়া (আসল নাম লাট মিয়া)।

লাট মিয়ার মূল ব্যবসা ছিল শিং দিয়ে চিরুনি ও বোতাম তৈরি করে বিক্রি করা। আনোয়ার হোসেনের বাবা রহিম বখস তার বাবার ব্যবসাকে আরও বড় করেন। শিংয়ের চিরুনির পাশাপাশি কাপড়সহ আরও কিছু পণ্যের ব্যবসা করতেন তিনি।

বাবার মুখে শোনা দাদার ব্যবসার স্মৃতিচারণ করে মনোয়ার হোসেন টিবিএসকে বলেন, এক টাকার ইজারার দোকানের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করলেও তার দাদা তৎকালীন বাংলার সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন ছিলেন।  
 
"দাদা অনেক বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন। সে সময়েই তিনি কমিউনিটি বেজড ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ভারত থেকে ট্রেনে করে মহিষের শিং এনে এখানাকার মানুষদের দিতেন। তারা এই শিং দিয়ে চিরুনি বানাতো। পরে এসব আবার কলকাতা, মাদ্রাজ, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রপ্তানি করা হতো", বলেন মনোয়ার।

"দাদা যখন মারা যান তখন তার বয়স ৮৪ হলেও বাবার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। ওই সময় বড় চাচার বয়স ১৬ এবং মেঝো চাচার বয়স ছিল ১২ বছর। সব ছেলেরা ছোট থাকায় ওই সময় দাদার ব্যবসা ভেঙে পড়তে থাকে। তখন বাবা দোকানে গিয়ে বসা শুরু করেন। ৮ বছর বয়সে বাবা ব্যবসায় নামেন। এর আগে ৬ বছর বয়সে দোকানে বসা শুরু করেন", যোগ করেন মনোয়ার।

আনোয়ার হোসেন: ছোট থেকে শুরু, তারপর বড় হওয়া

আনোয়ার হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৮ সালে। ১৯৫০'র দশকে নিজের ব্যবসা শুরু করার আগে তিনি কয়েক বছর পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

মানোয়ার হোসেন জানান, "আমার দাদা রহিম বখশ ১৯৪৫ সালে মারা যান। আমার বাবার বয়স তখন মাত্র ৬-৭ বছর। এর পরপরই পারিবারিক ব্যবসায় বিপর্যয় নেমে আসে। কিছু বিশ্বস্ত কর্মচারী টাকা আত্মসাৎ করতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে, বাবা মাত্র ৮ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।"

মানোয়ার আরও বলেন, "তিনি চকবাজারের ২২০ নম্বর দোকানে তার প্রথম ব্যবসা, আনোয়ার ক্লথ স্টোর চালু করেছিলেন মাত্র ৩৬০ টাকা নিয়ে। বাবার বয়স যখন ১১ বছর, তখন তার কাছে ছিল ১ লাখ টাকা।"

"বাবা নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল পেতে শুরু করেন এবং তার ব্যবসা বাড়তে থাকে। চকবাজারে নিজের দোকানের পাশে আরও ৬টি দোকান কিনে কাপড় ও শাড়ি বিক্রি শুরু করেন তিনি।" 

পরবর্তীতে ১৯৫৩ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে ঢেউটিন আমদানি শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৬০ সালের শেষের দিকে তার ব্যবসার পরিধি ঢাকা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সমস্ত বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসা বড় হওয়ার পর একটি কারখানা কিনেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে সেই কারখানার নাম রাখেন আনোয়ার সিল্ক মিলস। তার ব্র্যান্ড মালা শাড়ি তাত্ক্ষণিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তার ব্যবসা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

মালা শাড়িকে বাংলাদেশে শাড়ির সর্বপ্রথম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৬০, ১৯৭০ এবং ১৯৮০'র দশকে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল দেশজুড়ে। 

১৯৬৮ সালে আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের প্রথম বৈদ্যুতিক তার তৈরির কারখানাও কিনেছিলেন। এরপর তিনি 'দ্য ফার্স্ট স্টেইনলেস স্টিল কাটলারি ম্যানুফ্যাকচারার' নামে একটি স্টিল মিল চালু করেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ব্যবসা বাধার সম্মুখীন হয়।

মানোয়ার হোসেন বলেন, "দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আমার বাবার অবদান ছিল অন্যতম। ১৯৭৮ সালে তিনি খালেদ আয়রন অ্যান্ড স্টিলস লিমিটেড নামে একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। এর পাশাপাশি তিনি ধীরে ধীরে আরও কিছু নতুন উদ্যোগ যেমন- আনোয়ার টেক্সটাইল, আনোয়ার স্টিল এবং আনোয়ার সিমেন্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।"

তিনি আরও বলেন, "সরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যবসায়ী ও নারীদের ঝামেলা কমাতে আনোয়ার হোসেন বহু প্রচেষ্টার পর ১৯৮৩ সালে সিটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি।"  

"আমার বাবা সাফল্য অর্জন করেছিলেন, কারণ তার মা, অর্থাৎ আমার দাদীর প্রতি তার ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ", যোগ করেন মনোয়ার। 

বর্তমান ব্যবসা পরিস্থিতি

বর্তমানে আনোয়ার গ্রুপের অধীনে ২০টিরও বেশি কোম্পানিতে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে ১৪ হাজার মানুষের।  

মনোয়ার হোসেন জানান, মহামারির মধ্যেও তাদের ব্যবসায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। এর মধ্যে টেক্সটাইল, সিমেন্ট শিট, পলিমার ও কনস্ট্রাকশন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বেশি। 

"আমরা ডিলারদের ভালো সুবিধা দিয়ে তাদের টিকিয়ে রেখেছি। তবে সিমেন্ট ও স্টিলে আমরা তেমন প্রবৃদ্ধি দেখাতে পাইনি। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেমন প্রবৃদ্ধি হয়নি", যোগ করেন মনোয়ার। 

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির পর সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট এবং দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে সব ধরনের ব্যবসা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এর ফলে সিমেন্ট এবং স্টিলের মতো ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মনোয়ার।

পরিস্থিতির উন্নতি হতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন ৪ প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ

ডেনিম ও ইস্পাতসহ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছে আনোয়ার গ্রুপ। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং তাতে নতুন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানান মনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেন, "ইস্পাত খাতে আমাদের ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বিনিয়োগ আসছে। এটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হবে। ডেনিমে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ নিয়ে আসছি। এটি ২০২৫ সালের আগেই উৎপাদনে আসবে।"
 
"এর আগে একটি কার্টন ইন্ডাস্ট্রি এবং একটি পেপার ইন্ডাস্ট্রি করতে চাই। কার্টন ও পেপার বিদেশে রপ্তানি হবে। কার্টন ইন্ডাস্ট্রির কাজ ২০২৩ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক নাগাদ শেষ করতে চাই। এর পরের বছরই পেপার ইন্ডাস্ট্রি বাজারে আসবে", যোগ করেন তিনি। 

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের কোম্পানিতে ২৫ হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করছেন মনোয়ার হোসেন।

অল্প বয়সেই ব্যবসায় প্রবেশ মনোয়ার হোসেনের

বিদেশে পড়াশোনা করলেও বাবার মতোই অল্প বয়সে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন আনোয়ার গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, "আমি পড়াশোনা করেছি দার্জিলিংয়ের সেন্ট পলস স্কুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৩ সালে আমি ব্যবসায় যোগ দেই। তবে আমি ক্লাস ফাইভ থেকেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তখনই বাবা আমাকে তার ব্যবসার ব্রিফকেইসটা দিয়েছিলেন। ক্লাস সেভেনে দোকানে বসেছি। ছুটিতে আসলেই ব্যবসার কাজ করেছি। কারখানায়ও যেতাম।"

"১৯৯৩ সালে আমাকে কোম্পানির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায় নামিয়ে দেন বাবা। তখন আনোয়ার স্টিলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তাতে আর কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসা হারাইনি বা নষ্ট করিনি", যোগ করেন মনোয়ার। 

'গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তভিত আমাদের বাঁচিয়ে দেবে'

করোনা পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতি ও ডলার সংকটের কারণে মন্দার মুখে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। বাংলাদেশও তাই সাশ্রয়ের দিকে এগোচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশে শুরু হয়েছে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং। এর পাশাপাশি সীমিত করা হয়েছে অনেক পণ্যের আমদানি। 

এরপরেও গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত আমাদের বাঁচিয়ে দেবে বলে মনে করেন মনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, "আমি অনেক আগেই বলছিলাম যে, কোভিড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংকট কাটবে না। কোডিভ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলো। সংকটটা ইউরোপ-আমেরিকা থেকেই আসলো। তবে একটি দিক থেকে আমরা ব্যতিক্রম। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি আমাদের বাঁচিয়ে দিচ্ছে।"

"কোভিডের শুরুতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যখন কল কারখানা বন্ধ করে দিল, তখনও দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল ছিল। আমাদের কৃষি আমাদের রক্ষা করেছে। গ্রামীণ পোল্ট্রি, পশু পালন ও মৎসচাষ আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে", যোগ করেন মনোয়ার।

আনোয়ার গ্রুপ | আনোয়ার টেক্সটাইল I Anwar Group of Industries

যানবাহন পার্কিং নীতিমালা | Vehicle Policy



এর কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সব সময় সুন্দর, সাজানো-গুছানো ও সুশৃংখল রাখতে বদ্ধ পরিকর। এ লক্ষ্যে ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরে বায়ার, দশর্নাথী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের যানবাহন রাখার জন্য যানবাহন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন।


নিম্নে এর যানবাহন পার্কিং নীতিমালা তুলে ধরা হলঃ

* বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাখার জন্য ৪টি ধাপে (যেমন-প্রাইভেট কার, কার্গো গাড়ী, হুন্ডা এবং সাইকেল) ইত্যাদি রাখার জন্য নির্দিষ্ট করা আছে;


* প্রতিটি ধাপ লিখিতভাবে চিহ্নিত করা আছে;


* ফ্যাক্টরীর সকল যানবাহন যানবাহন গ্যারেজ (Transport Pool/Car Parking Area)-এ পার্কিং করা থাকবে;


* ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, পরিচালক মহেদায়, সদর দপ্তরের যানবাহন (Transport Pool/Car Parking Area) -তে নির্দিষ্ট স্থানে থাকবে;


* ফ্যাক্টরীতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনকারী যানবাহনের আগমন, বহির্গমন সময় ও যানবাহন ডকুমেন্ট যানবাহন অফিসে নিয়োজিত কর্মকর্তা তা রেকর্ড এবং সংরক্ষণ করবেন;


* কারখানায় কর্মরত কর্মচারীদের বহনকারী যানবাহন কারখানার বাহিরে সংরক্ষিত স্থানে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখতে হবে;


* প্রত্যেক দর্শনার্থী ও কর্মচারীদের যানবাহন কারখানাতে প্রবেশ করার পূর্বে নিরাপত্তা প্রহরীগণ মিরর ডিটেক্টর দ্বারা যানবাহনের নীচের অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে;


* ভিজিটরের যানবাহন রক্ষিত (Visitor Parking) এরিয়ার মধ্যে পার্কিং থাকবে এবং অন্যান্য তথ্য নিরাপত্তা প্রহরী রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ হবে;


* কারখানায় কর্মরত কর্মচারী ও শ্রমিকদের যানবাহন, যেমন-সাইকেল/মটরসাইকেল কিছুতেই কারখানার ভিতরে যানবাহন গ্যারেজ (Transport Pool/Car Parking Area)-এ নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করা থাকবে;


* কারখানার সকল যাবাহন অফিস চলাকালীন সময় এবং অফিস শেষে কারখানার সংরক্ষিত (Vehicle Pool) স্থানে গ্যারেজ থাকবে;


* কারখানার প্রত্যেকটি যানবাহনের সামনের গ্লাসে বা উইংশিটে কারখানার নাম এর নিরাপত্তা স্টিকার লাগানো থাকবে;

* যানবাহন কর্মকর্তা কারখানার সকল চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য যানবাহন সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন;


* সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা রক্ষী দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়;


* কারখানার বাহিরে সংরক্ষিত পার্কিং এরিয়ায় সর্বোত্তম নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উক্ত স্থানে (CCTV) সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ডিং করা হয়;


* উক্ত নীতিমালা প্রয়োজন অনুসারে সংযোজন ও বিয়োজন ও হালনাগাদকরণ করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

যানবাহন পার্কিং নীতিমালা | Factory Vehicle Policy

Green certificate | গ্রিন বিল্ডিং, গ্রিন প্রজেক্ট, গ্রিন সার্টিফিকেট বা লিডস সার্টিফিকেট বলতে আসলে কি বোঝায়?

গ্রিন বিল্ডিং বা গ্রিন ফ্যাক্টরি বলতে সংক্ষেপে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং বা ফ্যাক্টরি বোঝায়।

এবং একটি বিল্ডিং বা ফ্যাক্টরি বা অন্য কোনো স্থাপনা পরিবেশ বান্ধব কি না, তা প্রমান সাপেক্ষে যে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, তাকে গ্রিন সার্টিফিকেট বলা যেতে পারে।

আরো সহজভাবে ব্যাপারটা আলোচনা করা যাক।
একটি স্থাপনা পরিবেশবান্ধব কি না, তা বিভিন্নভাবে নির্ধারন করা যায়। এটি নির্ধারন করার অনেক সংস্থা আছে। এই সংস্থাগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে পরিমাপ করবে একটি স্থাপনা কতটুকু পরিবেশবান্ধব, তারপর তারা স্থাপনাটিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।

পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হওয়ার স্বীকৃতি যেসব সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো U.S. Green Building Council (USGBC) এবং এদের সার্টিফিকেটের নাম Leadership in Energy and Environmental Design (LEED)।

USGBC এর মানদন্ড অনুযায়ি একটি স্থাপনা কতটুকু পরিবেশবান্ধব, তা নির্নয় করার ছয়টি ক্ষেত্র আছে। এগুলো হল –

১. স্থাপনার অবস্থান নির্বাচন ও নির্মানে পরিকল্পনা

২. পানির ব্যবহারে অপচয় রোধ

৩. জ্বালানি শক্তির ব্যবহারে অপচয় রোধ

৪. কাঁচামাল ও নির্মানসামগ্রী ব্যবহারে অপচয় রোধ

৫. আভ্যন্তরিন বাতাসের মান ও পেশাগত স্বাস্থ্য

৬. নির্মানশৈলীতে উদ্ভাবনীশক্তির পরিচয়

প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি স্থাপনা কতটুকু সফলতার পরিচয় দিল, তা নির্নয় করে নম্বর দেয়া হয়। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে স্থাপনাটি কত নম্বর পাচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে বলা যায় স্থাপনাটি কি ধরনের সার্টিফিকেট পাবে।
মোট চার ধরনের LEED সার্টিফিকেট আছে।

১. সাধারন সার্টিফিকেট (৪০ থেকে ৪৯ পয়েন্ট)

২. সিলভার (৫০ থেকে ৫৯ পয়েন্ট)

৩. গোল্ড (৬০ থেকে ৭৯ পয়েন্ট)

৪. প্লাটিনাম (৮০ থেকে উপরে)

বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এই চার ক্যাটেগরিতে মোট ৫১ টি স্থাপনা সার্টিফাইড হয়েছে, যার বেশীর ভাগই বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশী নম্বরপ্রাপ্ত ৩টি আর প্রথম ১০টির মধ্যে ৭টিই বাংলাদেশের।
একটি সবুজ কারখানা তৈরীতে নির্মানখরচ সামান্য বেশী হলেও এর সুফল পাওয়া যায় অনেক। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ইত্যাদির খরচ অনেক কম বলে একটি সবুজ কারখানার অপারেটিং খরচ সাধারন কারখানার তুলনায় অনেক কম। সুস্থ্য ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয় বলে উৎপাদনশীলতা বেশি হয়। সবচেয়ে বড় কথা, একটি টেকসই কারখানা হিসেবে ক্রেতাদের কাছে একটি আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হওয়া যায়, যা ব্যবসার জন্য খুবই ভালো।

Green certificate | গ্রিন বিল্ডিং, গ্রিন প্রজেক্ট, গ্রিন সার্টিফিকেট বা লিডস সার্টিফিকেট বলতে আসলে কি বোঝায়?

ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন | ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড
কিহাক সাং—এশিয়ার পোশাক মোগল। নিজের জীবনদর্শন গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেন বলেই কিহাক সাং আজকের এই অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছেন।
যেমন, তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রম, পরিশ্রম এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে-কেউ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। ৭৫ বছর বয়সি এই কোরিয়ান পোশাক উদ্যোক্তা এখনও ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে ওঠেন। আর ঘুমাতে যান গভীর রাতে। দীর্ঘ কর্মদিবসে তিনি নিজের কারখানায় ঘোরেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন।

তার দ্বিতীয় বিশ্বাস হলো, পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার জন্য সবকিছুই টেকসই হতে হবে। চট্টগ্রামে ২৫ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত তার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) একবার ঢুঁ মারলেই তার এই বিশ্বাসের প্রমাণ পেয়ে যাবেন। এই শিল্পাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে গাছ ও বন জন্মানোর জন্য। ৮৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ১৩৭ প্রজাতির পাখির প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত এ জায়গা।

কিহাক সাংয়ের তৃতীয় দর্শন হলো, বিপদে পড়লে হাঁটুন, হাঁটুন এবং হাঁটুন। এভাবেই কিহাক একদিন বিস্তীর্ণ বালুকাময় জমির সন্ধান পেয়ে যান, যাকে তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কেইপিজেডে পরিণত করেছেন।

সাদামাটা শুরু

কিন্তু যে মানুষটি তার কোম্পানি ইয়াংওয়ান ও কেইপিজেডের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, ১৯৭২ সালে তার যাত্রার শুরুটা ছিল খুব সাদামাটা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথা অনুযায়ী কোরিয়ান সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে কিহাক সাং ভাবছিলেন জীবিকা হিসেবে কী বেছে নেবেন। বাবার কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় যোগ দেবেন না বলে স্থির করেন তিনি। কিহাক মুগ্ধ হতেন হাই স্ট্রিটের দোকানে সাজিয়ে রাখা হরেক রকমের পোশাক দেখে।

তাই ২৫ বছর বয়সে তিনি একটি পোশাক কোম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন।

কোরিয়া ওই সময় রূপান্তরের পর্যায়ে ছিল। দেশটির টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকের মাঝামাঝি। সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে এ খাতে দক্ষিণ কোরিয়া গোটা বিশ্বে বড় নাম হয়ে ওঠে।

ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কিহাক বলেন, 'আমি টেক্সটাইল কোম্পানির জন্য পণ্য বিক্রি করছিলাম। সেলসম্যানের কাজ হলো গ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করা ও যোগাযোগ রাখা, নমুনা পণ্য বা ডিজাইন গ্রহণ করা, নমুনা বানানো বা এর বাণিজ্যিকীকরণ করা, তারপর ক্রেতার অনুমোদন আদায় করা এবং উৎপাদনের শিডিউল ও মানের তত্ত্বাবধান করা। ব্যাপারটা শুধু বিক্রয় নয়—বরং একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, যার একাধিক আঙ্গিক রয়েছে।'
কিহাক সাং—এশিয়ার পোশাক মোগল।

অচিরেই তিনি সুইডিশ ব্যবসা বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আমেরিকানদের গ্রাহকদের সঙ্গেও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

দু-বছর সেলসম্যান হিসেবে কাজ করার পর ১৯৭৪ সালে দুই অংশীদারকে নিয়ে ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন কিহাক সাং। পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য সিউল শহরে ইয়াংওয়ানের প্রথম কারখানা স্থাপন করা হয়।

তার সেলসম্যান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা শুধু কোরিয়াভিত্তিক ইয়াংওয়ান উদ্যোগেই নয়, বাংলাদেশেও কাজে এসেছে।

১৯৭৯ সালে তরুণ উদ্যোক্তা কিহাক সাং সিউল থেকে চট্টগ্রামে উড়ে আসেন, সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপন করতে পারেন কি না দেখার জন্য। ওই সময় জায়গাটিকে তেমন সম্ভাবনাময় মনে হয়নি। বাংলাদেশে তখন শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি ছিল না। তাছাড়া অবকাঠামোগত সহায়তার অবস্থাও ছিল ভীষণ খারাপ।

কিন্তু কিহাক একটা কারণে এদেশে এসেছিলেন—ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশে কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। কোরিয়া ওই সময় উন্নত বিশ্বে কোটামুক্ত সুবিধা পেত না। অনেক কোরিয়ান রপ্তানিকারক তখন শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান ঘুরে দেখছিলেন ওসব দেশে কারখানা স্থাপন করে ওখানকার কোটামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা-সক্ষম থাকা যায় কি না।

ইয়াংওয়ানের যাত্রা শুরু

নানা ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বেছে নেন কিহাক সাং। ঘুরে যাবার কমাস পরই, ১৯৮০ সালের মে-তে বাংলাদেশি অংশীদারদের নিয়ে ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড নামে নিজের কারখানা স্থাপন করেন কিহাক।

সুইডিশ ক্রেতার ক্রয়াদেশ ছিল তার কাছে। এক ব্যাচ সাধারণ পোশাকের অর্ডার দিয়েছিল তার ক্রেতা। ওই কারখানায় শ্রমিক ছিল প্রায় ২৫০ জন। তাদের সবাইকে অভিজ্ঞ কোরিয়ান অপারেটরদের দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়। ১৯৮৪ সাল নাগাদ কিহাকের কোম্পানি ১৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কিহাক সাংয়ের ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনে প্রায় ৮৫ হাজার লোক কর্মরত—তাদের ৭০ হাজার কাজ করেন বাংলাদেশে। সিউল স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত ইয়াংওয়ানের বার্ষিক টার্নওভার ৩ বিলিয়ন ডলার। এই আয়ের এক-তৃতীয়াংশ আসে বাংলাদেশ থেকে।

এখন ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, এল সালভাদর ও ইথিওপিয়াতে কারখানা আছে কিহাকের কোম্পানির। তবে তার সবচেয়ে বড় সম্পদ আনোয়ারার কেইপিজেড—প্রতি বছর নতুন নতুন শিল্প কমপ্লেক্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে যা এখনও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

কোরিয়ান ইপিজেড:

মার্চের শেষের দিকে কেইপিজেডের নিজ বাসভবনে বসে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় কিহান জানান, 'বাংলাদেশে আমরা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি। শিগগিরই এই অঙ্ক ১ বিলিয়ন ডলার ছোঁবে।' 
কেইপিজেডে ইতিমধ্যে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, কৃত্রিম (ম্যানমেইড) ফাইবার, জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস উৎপাদনের ৪০টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এখানে ৩০ হাজার কর্মী কর্মরত—তাদের সিংহভাগই আনোয়ারা ও তৎসংলগ্ন এলাকার নারী। অন্যান্য ইপিজেডেও ইয়াংওয়ানের কিছু কারখানা রয়েছে।

রপ্তানিতে ইয়াংওয়ানের মূল্য সংযোজন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ—কিছু আইটেমের বেলায় তা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ইয়াংওয়ান এখনও দামি আইটেমে ব্যবহৃত হাই-টেক কৃত্রিম ফাইবারে বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য পোশাকশিল্পের জন্য এমএমএফের প্রধান উৎস হয়ে উঠবে এটি।

২৫ কিলোমিটার রাস্তার নেটওয়ার্ক সংবলিত ২ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি জমিজুড়ে বিস্তৃত কেইপিজেডের ভূমির অর্ধেকেরও বেশি জুড়ে আছে বন ও জলাধার। একটি শিল্পাঞ্চল কেমন হওয়া উচিত, তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেইপিজেড।

অপরিচ্ছন্নতা ও দূষণ ভীষণ অপছন্দ কিহাক সাংয়ের। তার এই মনোভাবের ছাপ ফুটে রয়েছে কেইপিজেডের কারখানা ও কম্পাউন্ডের সর্বত্র। চত্বরে বা রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা যেকোনো শিল্পাঞ্চলের অতিপরিচিত দৃশ্য। কিন্তু সেই পরিচিত দৃশ্যই দেখা যাবে না কেইপিজেডের কোথাও। এখানে ওয়াশিং ও ক্লিনিং ইউনিটগুলোর মেঝে শুকনো খটখটে—অথচ দেশের অন্যান্য কারখানায় দেখা যায় একেবারেই উল্টো চিত্র।

সম্প্রতি চীনে বিনিয়োগ থেকে সরে এসেছেন কিহাক সাং। তবে তিনি এখন ভারতের তেলেঙ্গানায় একটি নতুন টেক্সটাইল বিনিয়োগ করছেন, আর ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

বাংলাদেশে সাংয়ের যাত্রা

১৯৮০ সালের মে মাসে ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ কীভাবে প্রথম অর্ডার সামলেছিল, সেই স্মৃতিচারণ করেন কিহাক সাং। 'কাঁচামাল বন্দরে এলে ডেলিভারি নেওয়ার জন্য আমরা হ্যান্ড কার্ট নিয়ে যাই। কারখানায় কাঁচামাল নিয়ে আসার সময় এই কার্টগুলো এক কিলোমিটার লম্বা লাইন তৈরি করে।'

এই উদ্যোগ সফল হয়। ২৫০ শ্রমিক নিয়ে কারখানাটি কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। আর কোরিয়া থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন কিহাক। কিহাক তার কারখানাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝামেলামুক্ত রাখার সংস্কৃতি নিয়ে আসেন।

'কিন্তু তখন বাইরে, আগ্রাবাদে প্রায়ই রাজনৈতিক বিক্ষোভ হতো। কারখানার ভেতরে কিছু লেবার-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। ব্যাপারটা আমি পছন্দ করিনি। কিন্তু আমার অংশীদাররাও ব্যাপারগুলোর সুরাহা করেননি,' বলেন তিনি।
কারখানাকে নোংরা দেখাবে, ব্যাপারটা কিহাকের মোটেই পছন্দ ছিল না। তার অংশীদাররা যখন পরিচ্ছন্ন কর্মীর জন্য অপেক্ষা করতেন, তখন কিহাক পরিষ্কার করার জন্য নিজেই ঝাড়ু হাতে তুলে নিতেন।

১৯৮৪ সাল নাগাদ কিহাক কোরিয়ায় ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের অংশীদারদের শেয়ার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিহাকের অংশীদাররা বয়সে তার চেয়ে বড় ছিলেন। তাছাড়া ব্যবসাও তখন খুব বড় ছিল না। কিন্তু কিহাকের বিশ্বাস ছিল, তিনি নিজে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারলে তার কোম্পানির উন্নতি হবে।

ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেডের বেলায়ও একই পথে হাঁটেন কিহাক। ১৯৮৬ সালে তিনি অংশীদারদের থেকে আলাদা হয়ে যান। ওই বছরই তিনি ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশের আশায় চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেডে) একটি কারখানা স্থাপন করেন।

সিইপিজেড ও একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়

আশির দশকের গোড়ার দিকে সরকার চট্টগ্রাম ইপিজেড নির্মাণ করে। ওই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কিহাক সাং বলেন, 'আমি যখন সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখন শুরুটা খুব ধীর ছিল। ওখানে মাত্র দুটি ছোট কারখানা ছিল তখন। বিনিয়োগকারী ও পোশাক উৎপাদকদের জন্য সরকার সেখানে আরও কিছু কারখানা নির্মাণ করে। এটা খুব ধীরে ধীরে বড় হয়।'


১৯৮৬ সালে সিইপিজেডে এসএস২ চিহ্নিত একটি ফ্যাক্টরি স্পেস ভাড়া নেয় ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন। ওটা সুনির্মিত কারখানা ছিল। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি বড় হয়, সেইসঙ্গে অন্যান্য ভবনগুলোরও দখল নেয়। 

কিহান বলেন, 'আমি বিক্রি করছিলাম আর কিনছিলাম। প্রতি ছয় মাসে এক সপ্তাহের জন্য আমি ভিজিট করি।

'এখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমি খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমরা যখন সিইপিজেডে চলে যাচ্ছিলাম, ওই সময় ১৯৮৬ সালে জ্যামাইকাতেও একটি কারখানাও স্থাপন করেছি। সেখানে আমরা সফলও হয়েছিলাম। এদিকে আমরা ইন্দোনেশিয়ায় চেষ্টা করছিলাম—ওটা অনেক বড় জায়গা।

'১৯৮৮ সালে ইয়াংওয়ান কোরিয়াতে আইপিও ছাড়ে। এটি আমাদের নগদ প্রবাহের অবস্থা ভালো করে। আমরা সিইপিজেডে আরও বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলাম। তাই ১৯৯০ সালে ১ লাখ বর্গফুট এলাকা নিয়ে একটা বড় কারখানা তৈরি করি। তখন আমরা প্রচুর অর্ডার পাচ্ছিলাম।'

১৯৯১ সালের এপ্রিলে এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে চট্টগ্রামে। উপকূলীয় অঞ্চলকে দুমড়েমুচড়ে দেয় সেই ঘূর্ণিঝড়—প্রাণ কেড়ে নেয় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের।

ওই ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কিহাক জানান, 'ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের প্রধান দরজা উড়ে যায়। তারপর পানি ঢুকে পড়ে ভেতরে, পুরো কারখানা ডুবে যায় কাদামাটিতে।

'কারখানা পুনরুদ্ধারের জন্য আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে ছিলাম। পুনরুদ্ধারকালে বুঝতে পারি, এখানকার এই শ্রমিকরা সত্যিই তাদের চাকরিটা করতে চায়, তারা আমাদের এই দেশে রাখতে চায়। পুনরুদ্ধারের পরে আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, ওরা সবাই কেঁদেছিল।

'এরপর আমরা আরও বিনিয়োগ করি। কারণ আমরা বিপর্যয় থেকে সফলভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। আর আমাদের গ্রাহকেরা আমাদের শক্তি দেখেছেন, দেখেছেন কীভাবে আমরা তাদের ব্যবসাকে রক্ষা করেছি। আমাদের ক্রেতারা আমাদের প্রচেষ্টাকে খুব ভালোভাবে স্বীকৃতি দেন। রীতিমতো স্রোতের মতো অর্ডার আসতে থাকে তাদের কাছ থেকে।'

সেই বিপর্যয়ের পর ইয়াংওয়ান বহুতল ভবন তৈরি করতে শুরু করে। আর সবগুলো ওয়্যারহাউস রাখে বন্যার স্তরের উপরে। ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হতে থাকে ইয়াংওয়ানের।

'ওই সময় আমরা অনেক সমস্যায় পড়ি। বিশাল ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি সামলানোর সক্ষমতা ছিল না ইপিজেডের। আমাদের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিল না প্রশাসন। তাই আমি ভাবছিলাম, আমাদের বোধহয় নিজস্ব ইপিজেড থাকা দরকার।'

কেইপিজেডের দীর্ঘ গল্প
 
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সাংয়ের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ সময় তিনি জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) একটি আয়োজনে অংশ নেন। সেখানে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি নতুন আসবাবপত্র রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা ও গবেষণা তুলে ধরে জাইকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই ইপিজেড স্থাপনের পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
তবে কিহাক সাং বলেন, কিছু করতে হলে বেসরকারি উদ্যোগেই করা উচিত। বেসরকারি খাতই জানে কীভাবে কোনো কাজ করতে হয়। তারা দ্রুততম সময়ে কাজ করবে।

৮৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ১৩৭ প্রজাতির পাখির প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত কেইপিজেড। এই শিল্পাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে গাছ ও বন জন্মানোর জন্য।

পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে সাং বলেন, 'সে সময় নিজস্ব ইপিজেড করার পরিকল্পনা ছিল না আমার। কিন্তু জাইকার সেই প্রোগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৎকালীন কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত আমাকে কাজটির জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন আমি এমন একটি ইপিজেড গড়ে তুলতে পারব।'

১৯৯৫ সালে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেন সাং। 

ইপিজেডের জন্য জাইকার নির্ধারিত অঞ্চল পরিদর্শনকালে সাং দেখেন আনোয়ারার ভূ-প্রকৃতি শুষ্ক ও অনুর্বর। 

'মানুষ তখন এখান থেকে বালি সংগ্রহ করত। পুরো অঞ্চল ছিল চোরাকারবারি, জলদস্যু আর গুন্ডাদের দখলে। বালির জন্য স্থানীয় মানুষ তখন জায়গাটিকে টেক্সাস বলে ডাকত,' বলেন তিনি। 

'আমাকে বলা হয়েছিল উত্তর দিকে কিছুটা পানি আছে। কিন্তু আসলে কিছুই ছিল না। বেশিরভাগ সময়ই তা শুষ্ক থাকত। আবার বর্ষাকাল এলে সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে যেত। অথচ কারখানা স্থাপনের জন্য আমাদের পানির প্রয়োজন,' বলেন তিনি। 

এখানে কর্ণফুলী নদীর পানি লবণাক্ত। অন্যদিকে, খুব বেশি জলাশয়ও ছিল না। পাশেই সদ্য চালু হওয়া কাফকো কারখানা ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কাজ করছিল। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানায় কাফকোর কারণে তাদের টিউবওয়েলের পানি শুকিয়ে গেছে।

পানি সংকটের সমাধান

পানির সমস্যার কথা মাথায় রেখে কিহাক সাং কেইপিজেডের ভূমির জন্য সরকারের কাছে যান। সরকার ইপিজেডটির জন্য ২ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি জমি (প্রায় ১ হাজার ৭০০ একর সরকারের) অধিগ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালের মধ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, যার আওতায় বেসরকারি ইপিজেডগুলো কাজ করবে।
কিন্তু এরপর সরকার বদল হলে কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়ে। জমি ক্রয়, রাস্তাঘাট ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণে ইয়ংওয়ান ততদিনে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেললেও সরকার ইপিজেড পরিচালনার লাইসেন্স দিচ্ছিল না। অবশেষে ২০০৬ সালে শর্তসাপেক্ষে ইয়ংওয়ানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেওয়া হয় সংশোধিত আরেকটি লাইসেন্স। পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে ইয়ংওয়ানের আরও কয়েক বছর লেগে যায়। কেইপিজেড এখন পর্যন্ত জমির নামজারির নথি পায়নি।

কিন্তু এতসব সমস্যা সত্ত্বেও কিহাক সাং ২০০৮ সাল থেকে একটি শিল্প কমপ্লেক্স নির্মাণ অব্যাহত রাখেন।

২০১১ সালে কেইপিজেড প্রথম কারখানা চালু করে।

'আমরা মাঝারি গভীরতার নলকূপের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেছি। কাফকোর তুলনায় আমাদের পানির ব্যবহার খুব বেশি নয়। কেইপিজেড এখানকার পানি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করে,' বলেন তিনি।

'পরবর্তীতে আমরা বৃষ্টির পানি সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নিই। একসাথে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ করেছি। এই জিনিস দারুণ কাজ করেছে। বৃহৎ জলাধার নির্মাণ করে আমরা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করছি। এর আগে বৃষ্টিতে নদী বা গ্রাম ভেসে যেত।'

কেইপিজেডের জলাধারে বছরে এখন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন গ্যালন পানি জমা হয়। এর ফলে গ্রামগুলো যেমন বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও মিলছে পানি।

শুরুর বছরগুলোয় এখানকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল অনিশ্চিত। কারখানা চালাতে কেইপিজেডে ডিজেলচালিত ১.৫ মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটা কয়েক বছর আগে আসে বলে উল্লেখ করেন কিহাক সাং।

'বাংলাদেশের মান অনুযায়ী বিদ্যুৎ এখন স্থিতিশীল। উইভিং ইউনিট আমাদের নতুন সোলার প্যানেল সিস্টেম ব্যবহার করছে,' বলেন তিনি। (ইপিজেডের এই ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্টটি বাংলাদেশের বৃহত্তম রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট। এছাড়াও আরেকটি ২০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট স্থাপিত হচ্ছে।)

'আমি চাই কেইপিজেড হবে বাস ও কাজ করার সবচেয়ে চমৎকার জায়গাগুলোর একটি। এর ভেতরে অনেক পাহাড় আর বন রয়েছে। উৎপাদনশীল শিল্পগুলোর পাশাপাশি জীবজন্তু ও প্রকৃতির সাহচর্যে কেইপিজেডকে আমি টিকিয়ে রাখতে চাই। শুরু থেকেই কেইপিজেডের ৫০ শতাংশ জায়গা গাছপালার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

'ইপিজেড বলেই যে সবকিছু কেবল ইট-পাথরের হবে, প্লট বিক্রির জায়গা হবে, ব্যবসা শেষে ইচ্ছেমতো তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যাওয়া যাবে, তা নয়। আমি এখান থেকে যেতে চাই না। কেইপিজেড ছেড়ে যেতে পারব না আমি। তাই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ও কাজের জন্য আমি একে শহুরে ধাঁচে গড়ে তুলেছি,' বলেন এ বর্ষীয়ান উদ্যোক্তা।

বার্ষিক ৩ বিলিয়ন ডলার টার্নওভারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে ইয়াংওয়ান। ভবিষ্যতে এটি পর্তুগাল, তিউনিসিয়া ও মরক্কোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এ দেশগুলোতে (ইউরোপ-আমেরিকার) ক্রেতাদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে এ সুবিধা এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্বজুড়ে কুইক রেসপন্স ইউনিটের মাধ্যমে তারা তাদের উৎপাদন বাড়াতে বাড়াতে চান বলে জানান কিহাক।

ভ্রমণকারী, সংগ্রাহক, সংস্কারক

১৯৭৫ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন কিহাক সাং। তিন মেয়ের বাবা তিনি। দ্বিতীয় মেয়েকে তিনি নিজের উত্তরাধিকার করেছেন।

'ছোটবেলায় এক জ্যোতিষী আমার হাত দেখে বলেছিল আমি এক হাজারবারের বেশি ভ্রমণ করব,' বলেন কিহাক। জ্যোতিষীর সেই ভবিষ্যদ্বাণী তো অক্ষরে অক্ষরে ফলেছেই, বরং তার ভবিষ্যদ্বাণীকেও ছাড়িয়ে গেছে কিহাকের ভ্রমণসংখ্যা। কারণ বছরের অর্ধেক সময়ই তাকে ব্যবসার কাজে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়।

তবে ব্যবসার কাজে এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিতে ভোলেন না কিহাক। ছেলেবেলার বন্ধুবান্ধব, ভাই-বোনদের নিয়ে এখনো সিউলের বাসায় বা গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে আড্ডা জমে তার।

কিহাক বলেন, 'আমার বন্ধুরা ইতোমধ্যে দুবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। এ বছরও ওদের আসার কথা রয়েছে।

'যৌবনে আমি সাঁতার কাটতে পছন্দ করতাম, লম্বা দূরত্বের সাঁতার। এখন আর ওসব হয়ে ওঠে না। একবার সাঁতারের জন্য প্রথম পুরস্কারও পেয়েছিলাম,' স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

'এখন আমার শখ হচ্ছে ক্যামেরা সংগ্রহ করা। পুরোনো দিনের মেকানিক্যাল ক্যামেরা; ছোটগুলো। আমার সংগ্রহে বোধহয় ১০ হাজারের মতো ক্যামেরা আছে। অডিও ইকুইপমেন্টও সংগ্রহ করি আমি। সিউলের স্থানীয় দোকানগুলোতে থেকে কেনা হয় এগুলো,' জানান কিহাক।

সাম্প্রতিককালে ব্রন ডিটার র‍্যামস-এর কাছ থেকে ১০টি রেকর্ড প্লেয়ার কিনেছেন কিহাক। পাঁচটা ভালো ছিল, বাকি পাঁচটাকে অনেকটাই মাজাঘষা করতে হয়েছিল। জার্মান ডিজাইনার ডিটার র‍্যামসকে ডিজাইনারদের ডিজাইনার বলা হয়। তার কাজ থেকেই আইফোনের ডিজাইনের ধারণা নেওয়া হয়েছিল।

পুরনো স্থাপনা নিয়ে নাড়াচাড়া করাও কিহাকের পছন্দের কাজ। কেনার সময় কেইপিজেডে তার বাড়িটি বেশ পুরোনো ছিল, পরে সেটিকে নতুন করে সাজানো হয়।
১৮৩০ সালে কিহাকের দাদার তিন ঊর্ধ্বতন পুরুষ সিউলের গ্রামের বাড়িটি কিনেছিলেন। সেটিকে এখনো পরম যত্নে আগলে রেখেছেন কিহাক আর তার ভাইবোনেরা। সে বাড়ির পুরোনো স্থাপনা এখনও অক্ষত আছে। এটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অন্যতম প্রাচীন কোরিয়ান বাড়ি বলে জানান কিহাক।

নিজের জীবনের সাফল্যের রহস্য বলতে গিয়ে কিহাক বলেন, 'কাজ করুন, কাজ করুন, কাজ করুন এবং সহজে হাল ছাড়বেন না। মাঝে মাঝে আমরা অল্পতেই হাল ছেড়ে দিই। তবে একবার শুরু করলেই আপনি এর শেষটা দেখে নিতে চাইবেন। অন্যদেরকে ভালো কাজের জন্য কৃতিত্ব দেওয়াটাও ভীষণ জরুরি। যত সমস্যাই থাকুক, কাজের মধ্যে থাকতে হবে।'
বাংলাদেশি শিল্পের একজন পৃষ্ঠপোষক কিহাক সাং কেইপিজেডের অনেক ভবনে বিভিন্ন শিল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। 

এছাড়া তিনি সোনারগাঁওয়ের শতবর্ষী বড় সদর বাড়ি পুনঃপ্রতিষ্ঠার খরচও দিয়েছিলেন।

'ওই বাড়িটি আমি চিনতাম। বাড়িটা যখন দেখি, তখন মনে হলো কিছু একটা না করলে এই বাড়ি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। পুরোনো জিনিসের সংস্কার করা বরাবরই আমার শখ। এতে আনন্দ পাই। এরকম সংস্কারের কাজ আমি প্রায়ই করি, সেগুলো তখন দেখার মতো হয়,' বলেন কিহাক সাং।

টিবিএস বাংলা রিপোর্ট 
ইনাম আহমেদ & শাহরিয়ার খান

Youngone Corporation | ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন | ইয়াংওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড