ঘোড়া চক্কর গাছ থেকে আঁশ তৈরির কারিগরদের গল্প
প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ও দুই তরুণ গবেষক মিলে স্নেক প্ল্যান্ট তথা ঘোড়া চক্কর গাছের আঁশ দিয়ে সুতা তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন। এর আগে তারা এ গাছের পাতা থেকে আঁশ তৈরির একটি নতুন ও দ্রুততর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন।
ঘোড়া চক্কর গাছ থেকে আঁশ তৈরির কারিগরদের গল্প
প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ও দুই তরুণ গবেষক মিলে স্নেক প্ল্যান্ট তথা ঘোড়া চক্কর গাছের আঁশ দিয়ে সুতা তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন। এর আগে তারা এ গাছের পাতা থেকে আঁশ তৈরির একটি নতুন ও দ্রুততর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন।
২০১৯ সালে সাব্বির হোসেন প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হন। একদিন গ্রামের বাড়ি গাজিপুরে একটি শল্কাবৃত গাছ খুঁজে পান। এর আগে এমন গাছ তার কখনো চোখে পড়েনি।
কাপাসিয়ার ফকির-বাড়ি বাগানে এ গাছটির একটি ছোট ঝাড়ের দেখা মেলে। গাছের আকার লম্বা তরবারির মতো, পাতাগুলো বেশ মোটা। একদম পূর্ণবয়স্ক পাতাগুলোর গায়ের রং গভীর সবুজ, তার ওপর হালকা সবুজের ছোপ। হঠাৎ দেখে সাপের গায়ের ছোপের মতো মনে হয়।
ওই ঝাড়ের মধ্যে কিছু পাতা ছেঁড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিল। সাব্বির খেয়াল করলেন পাতাগুলোর ভেতরে আঁশ বা তন্তুর মতো উপাদান রয়েছে।
সাব্বির নিজে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের ছাত্র। পাতার চরিত্র তাকে অবাক করল। সেই ঝাড় থেকে একটি পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে এলেন আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানোর জন্য।
সাব্বিরের দেখা ওই গাছটি হচ্ছে স্নেক প্ল্যান্ট। বাংলায় এটি ঘোড়া চক্কর গাছ নামে পরিচিত। এছাড়া সুতাহারা, গোরাচাঁপা, গোড়াচক্র ইত্যাদি নামেও ডাকা হয় এটিকে। ঘোড়া চক্করের বৈজ্ঞানিক নাম স্যানসেভিরিয়া ট্রাইফাসিয়াটা (Sansevieria trifasciata)।
ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করার জন্য এ গাছটি ঘরের ভেতর ও বাগানে রাখা হয়। এ বর্গের প্রায় ৭০টির মতো প্রজাতি আছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ও আফ্রিকায় স্থানীয়ভাবে জন্ম হয় এ গাছের।
'স্যানসেভিরিয়া প্রজাতির এ গাছগুলো বাতাস থেকে ফর্মালডিহাইড, জাইলিন, টলুইন ইত্যাদি বিষাক্ত কণা দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে বলে মনে করা হয়। এজন্য ঘোড়া চক্কর গাছ ইনডোর ও গার্ডেন প্ল্যান্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। রাতের বেলা এ গাছ কার্বন ডাই অক্সাইডকে অক্সিজেনে পরিণত করে,' সাব্বির জানান।
কিন্তু সাব্বির বেশি আগ্রহী হয়েছিলেন ঘোড়া চক্করের তন্তময় উপাদান নিয়ে।
নিজের বন্ধু এমএকে অয়নকে গাছটি সম্পর্কে জানান তিনি। এরপর তারা এমন একজনের সন্ধানে নামলেন যিনি তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারবেন।
'এরপর আমাদের এক সিনিয়র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ'র সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিলেন,' সাব্বির ও অয়ন বলেন।
৩০ বছর পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে কাজ করেছেন বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ। তিনি প্রথমবারের মতো পাট থেকে আঁশ ও সুতা তৈরি করেন যেগুলো জামদানি শাড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
'আমাকে স্বীকার করতেই হবে, বিজ্ঞানী ও পরে শিক্ষক হিসেবে আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে গবেষণায় উৎসাহী এমন মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। সাব্বির ও অয়ন যখন তাদের গাছের খবর নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, তখন তাদের চোখে আমি তুমুল কৌতূহল দেখেছিলাম। এমন দুই ছাত্র পেয়ে আমারও যারপরনাই আনন্দ হয়েছিল,' আবদুল্লাহ বলেন।
সেদিনই তিনি সাব্বির ও অয়নকে স্নেক প্ল্যান্ট বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর দুই তরুণ গবেষক নিশ্চিত হলেন ঘোড়া চক্করের দেহে তন্তুময় উপাদান আছে। ২০১৩ সালে 'এক্সট্রাকশন অভ ফাইবার ফ্রম স্যানসেভিরিয়া ট্রাইফাসিয়াটা প্ল্যান্ট অ্যান্ড ইটস প্রোপার্টিজ' শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রে ভারতীয় দুজন গবেষক ঘোড়া চক্কর গাছের আঁশকে কীভাবে বয়নের সুতায় পরিণত করা যায় তা নিয়ে আলোকপাত করেছিলেন।
'টেক্সটা্ইল শিল্পে প্রচুর বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এটি তার আরেকটি সমাধান হতে পারে,' পরিবেশবান্ধব, বায়োডিগ্রেডেবল, রিসাইকেল ও পুনর্ব্যবহার করার মতো টেক্সটাইল পণ্যের সারাবিশ্বে চাহিদা রয়েছে জানিয়ে বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।
তার কাছ থেকে জানা গেল বর্তমানে তুলা, পাট, কেনাফ, রেইমি ইত্যাদিন মতো সেলুলসিক ও লিগনোসেলুলসিক আঁশ বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো এখন এ ধরনের প্রাকৃতিক আঁশের সুতা দিয়ে পোশাক তৈরি করতে চায়। কলা, বাঁশ, কচুরিপানা ইত্যাদি থেকেও এ ধরনের বায়ো-পলিমার উৎপাদন করা যায়।
'ঘোড়া চক্কর গাছ থেকে আঁশ তৈরি করা নতুন কিছু নয়। আমার বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আগের অনেকগুলো গবেষণার সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল এ গাছটি থেকে আঁশ তৈরি করা সহজ বা সাশ্রয়ী মূল্যের হবে কিনা এবং এ আঁশ থেকে সুতা তৈরি করে তা দিয়ে পোশাক তৈরি করা যাবে কিনা তা জানা,' আবদুল্লাহ বলেন।
গবেষণাটির জন্য তারা ফকির-বাড়ি বাগান থেকে ঘোড়া চক্কর গাছের পূর্ণবয়স্ক পাতা সংগ্রহ করেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আঁশ তৈরির প্রক্রিয়া ও আঁশের উপাদান, রাসায়নিক গঠন, শক্তি, ব্যাস, রং, দৈর্ঘ্য, আর্দ্রতার পরিমাণ ইত্যাদি পরখ করে দেখা।
২০২০ সালে গবেষক দলটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে তাদের প্রাথমিক গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন। বর্তমানে তারা এ আঁশ নিয়ে আরও পরীক্ষানীরিক্ষা চালাচ্ছেন। তাদের তৈরি করা আঁশ হাতে নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ ও দুই গবেষকের সঙ্গে ছবি তুলে ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল।
'বিবি জানিয়েছেন যেভাবে আমার তৈরি করা পাটের আঁশের সুতা দিয়ে তিনি জামদানি তৈরি করেছেন, তেমনিভাবে ঘোড়া চক্করের আঁশ নিয়েও কাজ করতে চান,' দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।
বিবি রাসেলও একই কথা জানান। 'এটা অবশ্যই দারুণ একটা কাজ। এটা অনেক বড় একটা খবর। আমি এর আগে অধ্যাপক আবদুল্লাহর সঙ্গে কাজ করেছি। এ আঁশ তৈরির গবেষণাটির বিষয়ে প্রথম থেকেই জানতাম আমি। এটা থেকে তৈরি সুতা প্রস্তুত হলে ও তারা আমাকে দিলে আমি বুননের কাজটা শুরু করতে পারব,' বলেন তিনি।
বিবি রাসেল বলেন, 'বাংলাদেশে সুতা তৈরির বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। কিন্তু আমরা যদি এ কাঁচামাল স্নেক প্ল্যান্ট গাছ থেকে তৈরি করতে পারি অথবা আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে মিশ্র সুতা তৈরি করতে পারি, তাহলে এটি পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে।'
রেটিং-এর নতুন পদ্ধতি
গাছ থেকে আঁশ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ নাকি কঠিন তা নির্ভর করে পাতা থেকে এটি ছাড়াতে কতদিন সময় লাগে তার ওপর।
'অ্যাকাডেমিক ভাষায় এটিকে রেটিং বলা হয়,' জানান অধ্যাপক আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, 'এটা আদতে গাছের পেকটিকজাতীয় উপাদানগুলো ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া। এ উপাদানগুলো আঁশকে পাতা বা কোষের সঙ্গে আটকে রাখে।'
এটা করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে- হাত দিয়ে করা যায়, পানিতে জাগ দেওয়ার মাধ্যমে করা যায়, ডিউ রেটিং, রাসায়নিক উপায়ে রেটিং ইত্যাদিও অবলম্বন করা যায়। 'পানিতে জাগ দিলে আঁশ ছড়াতে তিন সপ্তাহের মতো লাগে। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা চেয়েছিলাম আরও দ্রুত কীভাবে এটি করা যায় তা খুঁজে বের করতে,' অয়ন বলেন।
এ লক্ষ্যে গবেষকদলটি কেমি-বায়োকেমি-মেকানিক্যাল নামক একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এ পদ্ধতিতে ন্যূনতম সময়ে ন্যূনতম পানি ব্যবহার করে গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানো যায়।
বনানীতে অবস্থিত প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এ তরুণেরা নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে ৪৮-৭২ ঘণ্টার মাধ্যমে পরিষ্কার, ধূসর-সাদা, উজ্জ্বল আঁশ উৎপাদন করতে সক্ষম হলেন।
আঁশ ছাড়ানোর পর রং ও অন্যান্য চটচটে উপাদান দূর করার জন্য কলের পানি দিয়ে আঁশগুলোকে ভালোভাবে ধোয়া হয়। এরপর সর্বশেষ এগুলোকে ডিস্টিলড পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। তারপর এ আঁশগুলোকে খোলা জায়গায় কক্ষ তাপমাত্রায় শুকানো হয়।
'এ আঁশকে পরিমার্জন, ব্লিচ দিয়ে ধোয়া, এমনকি বাণিজ্যিক ডাইয়ে ছোপানো যায়। এর অন্যান্য সম্ভাবনা জানার জন্য আমাদেরকে আরও গবেষণা করতে হবে,' বলেন আবদুল্লাহ।
পাট ও কলার আঁশ থেকে উত্তম
ঘোড়া চক্করের ৫০০ গ্রাম পেষা পাতা থেকে গবেষকেরা ১৬-১৭ গ্রাম আঁশ পেয়েছেন। এটি প্রায় তিন শতাংশ উৎপাদন যেখানে পাট ও কলা থেকে পাওয়া যায় যথাক্রমে দুই ও দুই দশমিক ছয় শতাংশ আঁশ।
'প্রতি একক পাতা থেকে পাওয়া আঁশের পরিমাণ, শক্তি, ব্যাস, আর্দ্র উপাদান- সবক্ষেত্রেই আমরা ইতিবাচক ফলাফল দেখেছি। কিন্তু এ আঁশের কুঞ্চনের মাত্রা কম থাকায় এটি থেকে কাপড় বোনার ক্ষমতা তুলা ও পাটের আঁশের চেয়ে কম। তারপরও বুটিকশিল্পে, জামদানি ও কাতান তৈরিতে ঘোড়া চক্কর আঁশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে,' বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।
তিনি আরও জানান, ঘোড়া চক্কর গাছ তীব্র সূর্যালোক, ছায়া, এমনকি অন্ধকারেও বেড়ে উঠতে পারে। এর জন্য বিশেষ কোনো যত্নের প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশের আবহাওয়া এ গাছ জন্মানোর জন্য উপযুক্ত।
ঘোড়া চক্করের আরও গুণ
২০১৫ সালে ভারতে করা আরেকটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ঘোড়া চক্কর গাছের মূল থেকে অনেক ন্যানোপণ্য তৈরি করার সম্ভাব্যতা আছে। এছাড়া এ মূলের মেডিকেলমূল্যও রয়েছে। এটির মূলে ফ্ল্যাভোনয়েডের উপস্থিতি আছে যা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এসবের পাশাপাশি, বায়ু দূষণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ গাছ। এটি বাতাস থেকে বিষাক্ত কণাগুলো শুষে নেওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ অক্সিজেন তৈরি করে। রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে বলে বেশিরভাগ গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ করলেও ঘোড়া চক্কর রাতে অক্সিজেন তৈরি করে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সুজন সেন গুপ্ত
স্নেক প্লান্ট গাছ থেকে আঁশ তৈরি I Natural Fiber I Snake Plant fiber
ভিসকোস ও সেলুলোজ
১. ভিসকোস কি ?
ভিসকোস এক প্রকার রেয়ন ফাইবার। মূলত এটি কৃত্রিম সিল্ক বা আর্টিফিশিয়াল সিল্ক হিসাবে পরিচিত । 19 শতকের শেষদিকে, "রেয়ন" শব্দটি 1924 সালে কার্যকর হয়েছিল । এই ফাইবারটি তৈরির প্রসেস থেকে "ভিসকোস" নামটি আসে। রেয়ন এবং সেলোফেন উভয় তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় এই ভিসকোস লিকুইড।
এর ইংরেজি অর্থ কী ?
এটা একটা জেনারালাইজ টার্মস যা ভিসকোস প্রসেস দ্বারা পাওয়া সেলুলোজ থেকে তৈরি একটি রিজেনারেটেড ফাইবার।
এটা ম্যানুফেকচার্ড সেলুলোজ ফাইবার , এটি সরাসরি ন্যাচারাল ফাইবার না (কটন , উল বা সিল্কের মতো) আবার এটা সিনথেটিকও না (নাইলন বা পলিয়েস্টার এর মতো) - এটি কোথাও কোথাও এর বৈশিষ্ট্য সিনথেটিক এর মতো কিছুটা ।
ভিসকোস একটি লো কস্ট ফ্যাব্রিক, এর অনেক গুণাবলীর এটি অনেক জনপ্রিয়। এটি কটনের মতো ব্যবহারের পাশাপাশি এটি ব্যাবহারে ভেলভেটের এবং টাফেটার মতো লাক্সারি ফিল পাওয়া যায়। ভিসকোজ মেয়েদের হাইজিন প্রোডাক্ট এবং পাশাপাশি এটা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পারপাসে টায়ার কর্ডগুলিতেও এই ফাইবার পাওয়া যায়।
রাসায়নিক গঠনগত ভাবে ভিসকোজ কটনের সাথে সাদৃশ্যপুর্ন , তবে এটি কীভাবে উৎপাদিত হয় তার উপর নির্ভর করে এটি বিভিন্ন ধরণের গুণাবলীও গ্রহণ করতে পারে।
তাহলে এই ফাইবারটি কী?
ভিসকোস আসলে কী তা বুঝতে আমাদের এটি বুঝতে হবে যে এটি কীভাবে তৈরি এবং এটি কী থেকে তৈরি। এজন্য সেলুলোজ সম্পর্কে একটু জানা দরকার।
২. সেলুলোজ কী?
সেলুলোজ ফাইবার কে এখানে ভিসকোস ফ্যাব্রিকে পরিণত হয় । কোন ফাইবার যদি ন্যাচারাল ফাইবার যদি হয় তবে এটি হয় সেলুলোজ বা না হয় প্রোটিন থেকে তৈরি হয়। সেলুলোজ একটি কার্বোহাইড্রেট যা মুলত গাছপালার খোসা বা কাঠের প্রধান উপাদান। সিন্থেটিক এবং ম্যানুফেকচার্ড ফাইবার গুলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা তাদের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে একটি পার্থক্য তৈরি করে । ভিসকোস তৈরি করা হয় উড পাল্প (মানে কাঠের মজ্জা) থেকে, এটি কটনের বা লিনেনের মতো সেলুলোজিক ফাইবার। এই ফাইবারকে বিবেচনা করা হয় আংশিকভাবে ম্যান মেইড ফাইবার হিসাবে।
ন্যাচারাল ফাইবারগুলি সেলুলোজ বা প্রোটিন থেকে উদ্ভূত হয়, তবে সিন্থেটিক ফাইবারগুলি হয় না - এগুলি সম্পূর্ণ ম্যান মেইড। সুতরাং, যদি সেগুলি ন্যাচারাল সোর্স থেকে আসে তবে তারা কেন "ন্যাচারাল ফাইবার" এর অধীনে আসে না ?
কারণ ফিনিশিং রেজাল্ট পেতে তাদের এক্সটেনসিভ প্রসেস করার প্রয়োজন হয় । এই ফাইবার গুলি "রিজেনারেটেড সেলুলোজ" হিসাবে পরিচিত ।
Thanks & Regards
Ishfaqul Wadud Khan
Final QA Auditor of LEVI'S (Denim Tops & Bottoms)
Ananta group.
ভিসকোস ও সেলুলোজ কি | Viscose Cellulose
Lycra কি ?
এটি Garments এ বেশ পরিচিত শব্দ । অনেকেই অনেকভাবে উচ্চারণ করেন যেমন : লায়াক্রা , লিক্রা , লেক্রা ইত্যাদি । তো, এটি একটি অতি সূক্ষ্ম রাবার আইটেম । যা খালি চোখে দেখতে পাওয়া কঠিন ।
আর এটি একটি ফাইবার হিসেবেই গণ্য করা হয় । এবং এটি একটি Synthetic fiber বা Man made fiber.
Garments এ Lycra Fiber এর কাজ কি ?
এটি ডেনিম ফেব্রিক্স এ প্রয়োগ করা হয় । আমরা যে ডেনিম ফেব্রিক্স এ Elasticity দেখি বা পরিধান করার সময় অনুভব করি তা ঐ Lycra fiber প্রয়োগেরই ফলাফল ।
এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Weft thread এ প্রয়োগ করা হয় । ফলে বেশিরভাগ Denim ফেব্রিক্স Width এ Shrinkage করে । অর্থাৎ Width এ সংকোচন প্রসারণ ঘটে ।
Lycra Fiber টা Fabric বুননে কিভাবে প্রয়োগ করা হয় ?
এটি Core spun টেকনোলজি Apply করে texture করা হয় ।
Core Spun system কি ?
এটি হলো সুতা বানানোর একটি পদ্ধতি যা core spun শব্দটি বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে সহজ হবে । আমরা অনেকেই Core Spun thread নাম শুনেছি এবং এটি ব্যবহার করি ।
Core মানে মূল Spun মানে এটি Spin ( ঘূর্ণন ) শব্দের past participle অর্থাৎ কোন একটি জিনিস কে মূল অক্ষে রেখে তার সাথে অন্য একটি আইটেম wrap করার সিস্টেম টাই হলো Core spun system .
তো এখানে Core এ থাকে Lycra fiber আর Spun এ থাকে Cotton thread ( Denim fabric এর ক্ষেত্রে )
Construction টা আরও বুঝার জন্য নিচের ছবিগুলো দেখুন ।
Lycra নাম টা কেন ?
আসলে ঐ রাবার বা Elastane item টা একটা আমেরিকান INVISTA কোম্পানি এর Elastomeric fiber Lycra এটি ঐ কোম্পানির দেয়া নাম ।
ঐ আইটেমের Generic name হলো Elastane . ১৯৫৮ সালে এটি আবিষ্কৃত হয় । সুতরাং Lycra হলো Brand name আর
Elastane হলো Generic name।
বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হওয়ার জন্য একটি উদাহরণ : শ্যাম্পু হলো হলো Generic Name আর Sunsilk হলো Brand Name।
একইভাবে Spandex ও একটি Brand name. এরকম আরও অনেক নাম আছে যা Elastance আইটেমেরই অন্তর্ভুক্ত ।
যেরকম Dove, Sunsilk Clear এরা সবাই Brand name। কিন্তু এদের Generic name হলো Shampoo।
এই ফাইবার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত ।
1. Lycra ( USA )
2. Roica ( Japanese )
3. Texlon ( Korean )
Writer: Ishfaqul Wadud Khan
Senior Executive QA of LEVI'S at Ananta Group.
Lycra কি ? স্প্যানডেক্স (Spandex)
কেনাফ ফাইবার | Kenaf Fibre
কেনাফ পাটের ন্যায় পরিবেশবান্ধব আঁশ জাতীয় ফসল। উষ্ণমন্ডলীয় ও অবউষ্ণ দেশগুলোতে আঁশ উৎপাদনের জন্য ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গাজীপুর, চাঁদপুর ও গোপালগঞ্জ কেনাফ উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান জেলা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর দেশে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে কেনাফ ও মেস্তা চাষ হয়েছে এবং ৩ লাখ ৩৭ হাজার বেল আঁশ উৎপাদিত হয়েছে। যদিও আমাদের দেশের অনেক এলাকাতেই কেনাফ আঞ্চলিক ভাষায় মেস্তা হিসেবে পরিচিত।
চলতি ২০১৮-১৯ পাট উৎপাদন মৌসুমে ৮ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট ও কেনাফ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যায়িত মানের ১০৫৩ টন কেনাফ বীজ আমদানি করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত কেনাফ বীজ সঠিক সময়ে আবাদ করা সম্ভব হলে এ বছর কর্তিত জমির পরিমাণ ৮০ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।
মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে পাটের মতো কেনাফের গুরুত্বও অপরিসীম। কেনাফ ফসলের মূল মাটির ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি গভীরে প্রবেশ করে মাটির উপরিস্তরে সৃষ্ট শক্ত ‘পস্নাউপ্যান’ ভেঙে দিয়ে এর নিচে তলিয়ে যাওয়া অজৈব খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে মাটির উপরের স্তরে মিশিয়ে দেয়। ফলে অন্যান্য অগভীরমূলী ফসলের পুষ্টি উপাদান গ্রহণ সহজ হয় এবং মাটির ভৌত অবস্থার উন্নয়ন ঘটে। মাটিতে পানি চলাচল সহজ ও স্বাভাবিক থাকে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০০ দিন সময়ের মধ্যে প্রতি হেক্টর কেনাফ ফসল বাতাস থেকে প্রায় ১৪.৬৬ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং ১০.৬৬ টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে বায়ুমন্ডলকে বিশুদ্ধ ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখে। কেনাফ আঁশ থেকে কাগজের পাল্প বা মন্ড তৈরি করে নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার, কেনাফ খড়ি হার্ডবোর্ড বা পার্টেক্স মিলের কাঁচামাল ও চারকোল তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। তা ছাড়া কেনাফ খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার এবং বীজ থেকে ঔষধি গুণ সম্পন্ন তেল পাওয়া যায়। পৃথিবীর বহুদেশে কাগজের মন্ড ও উন্নতমানের কাগজ ছাড়াও বহু মূলবান দ্রব্যসামগ্রী কেনাফ থেকে উৎপাদিত হয়।
কেনাফ আঁশ পৃথিবীর বহু দেশে শিল্পজাত দ্রব্য হিসেবে কাগজের মন্ড, বোর্ড, জিও টেক্সটাইল চট, কম্বল, পেস্নন পার্টস, মোটর কার পার্টস, কম্পিউটার পার্টস, কুটির শিল্পজাত দ্রব্য- শিকা, মাদুর, জায়নামাজ, টুপি, স্যান্ডেল এবং কাপড় চোপড় জাতীয় সোফার কভার, পর্দার কাপড়, বেডশিট, কুশন কভার, সাটিং সুটিং, পাঞ্জাবি, সোয়েটার ছাড়াও বিভিন্ন কাজে ইনটেরিয়র ইনসু্যলেটর হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাস্তব প্রয়োজনে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উর্বর জমি ব্যবহৃত হচ্ছে খাদ্যশস্য উৎপাদনে এবং পাট স্থানান্তরিত হচ্ছে প্রান্তিক ও অপ্রচলিত (লবণাক্ত, পাহাড়ি ও চরাঞ্চল) জমিতে। তা ছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়ান ও বাড়তি জনসংখ্যার বসতবাড়ি নির্মাণে প্রতি বছর প্রায় ০.৭% হারে হ্রাস পাচ্ছে আবাদি জমি। কিন্তু দেশের দক্ষিণের খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল লবণাক্ততা ও খরা প্রবণ এলাকায় হাজার হাজার একর জমিতে পাট উৎপাদন মৌসুমে (মার্চ-জুলাই) কোনো ফসল থাকে না বললেই চলে। খুলনার কিছু কিছু এলাকায় তিল চাষ হলেও বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা খরার ঝুঁকি রয়েছে।
উপকূলীয় লবণাক্ততা, খরা ও এক ফসলি আমন পরবর্তী পতিত জমিতে অথবা চর এলাকায় কেনাফ চাষের সম্ভাবনা ও উৎপাদিত বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গবেষণা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপিস্নন বিভাগের গবেষক দল। বিজেআরআই উদ্ভাবিত এইচসি-২ ও এইচসি-৯৫ কেনাফ জাত নিয়ে গবেষণা শেষে রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেখানে লবণাক্ততার জন্য পাট চাষ সম্ভব নয়, সেখানে অনায়াসেই কেনাফ চাষ সম্ভব এবং বীজের অঙ্কুরোদগম ও গাছ বৃদ্ধির সময় কেনাফ ৮ থেকে ১৪ ডিএস/মি. পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।
গবেষণাগারে সফলভাবে কেনাফ খড়ি এবং আঁশ থেকে কাগজের মন্ড ও কাগজ এবং কেনাফ বীজ থেকে ৭ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত তেল পাওয়া যায় বলে দাবি করেছেন গবেষক দল। অনুরূপভাবে বিজেআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কেনাফ চাষের সফলতা পেয়েছেন। লবণাক্ততা, খরা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত এই তিনটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কেনাফ বেড়ে উঠতে পারে।
✅ কেনাফ এর চাষ প্রনলী:
জমিঃ পললভূমির উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি, চালা ও পাহাড়ি ঢালু জমি কেনাফ চাষের উপযোগী। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় কেনাফের আবাদ করা যেতে পারে। তবে, মাঝারি থেকে গভীরভাবে প্লাবিত জমি এবং অধিক কর্দম কনা সমৃদ্ধ এটেল মাটি কেনাফ চাষের জন্য উপযোগী নয়। যে সকল অনুর্বর ভূমিতে পাট কিংবা আউশ ফসলের আবাদ করা যায় না, সেখানে স্বল্প যতে কেনাফ আবাদ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
জাতঃ
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এইচসি-২, এইচসি-৯৫ ও বিজেআরআই কেনাফ-৩ নামক তিনটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। তন্মধ্যে এইচসি-২ জাতের কেনাফের চাষ প্রণালী নিম্নে তুলে ধরা হল-
এইচসি-২ জাতটি ‘জলি কেনাফ’ নামেও পরিচিত। গাছের উচ্চতা কম-বেশি ৬ মিটার। ফুল হলদে রংয়ের। ফল ডিম্বাকৃতি, যা পাকার পরে ফেটে যায়। বীজ ত্রিকোণাকৃতির, কালচে খয়েরী বর্ণের। ১৪০-১৫০ দিনে আঁশ ফসল ফসল কাটা যায়। বীজ থেকে শতকরা ২০ ভাগ ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। এ জাতটি আলোক সংবেদনশীল অর্থাৎ ফুল আসা ও পরিপক্কতা বপন সময়ের উপর নির্ভরশীল।
বপনকালঃ
আঁশ উৎপাদনের জন্য চৈত্র মাসের শুরু থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি নাগাদ বীজ বপন করা যায়। বীজ উৎপাদনের জন্য শ্রাবন-ভাদ্র মাসে বীজ বপন করা হয়। তবে বীজের জন্য ভাদ্র মাসে বপন করা হলে আশ্বিন বা কার্তিকের বৃষ্টি থেকে বীজ ফসল রা পায় এবং উৎকৃষ্ট মানের বীজ পাওয়া যায়।
জমি প্রস্তুতঃ
কেনাফ বীজের আকার বড় হওয়ায় চাষ দিয়ে মাটি তত মিহি না করলেও চলে। এর শিকড় মাটির বেশ গভীরে প্রবেশ করে। তাই গভীর চাষ দিলে ভালো। মাটির প্রকৃতিভেদে ২-৩ বার চাষ ও মই দিতে হয়। পাহাড়ী ঢালু জমি কর্ষণের আবশ্যকতা নেই। উত্তমরূপে আগাছা বাছাই করতে হবে। বীজ সারিতে কিংবা ছিটিয়ে বপন করা হয়। ৩০ সেমি পর পর সারি করে বীজ বুনতে হয়। সারিতে বপন করলে ১১-১২ কেজি এবং ছিটিয়ে বপন করলে ১২-১৪ কেজি বীজ প্রয়োজন। রোগ জীবাণুমুক্ত ভালো মানের বীজ ব্যবহার করা আবশ্যক। প্রয়োজনে বীজ শোধন করে নেওয়া যেতে পারে।
সার প্রয়োগঃ
মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে কিংবা উপজেলা নির্দেশিকা থেকে মাটির উর্বরতামান জেনে পরিমানমত সার প্রয়োগ করতে হবে। একান্ত সম্ভব না হলে হেক্টরপ্রতি ১৩২ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি ও ৪০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। জৈব সার প্রয়োগ করা উত্তম। হেক্টর প্রতি ৩-৫ টন গোবর করা যেতে পারে। প্রতি টন গোবরের জন্য ১১ কেজি ইউরিয়া, ৮ কেজি টিএসপি ও ৬ কেজি এমওপি কম প্রয়োগ করতে হবে। গোবর কিংবা অন্যান্য জৈব সার, অর্ধেক ইউরিয়া, সমুদয় টিএসপি ও এমওপি জমি প্রস্তুতির সময় প্রয়োগ করে অবশিষ্ট ইউরিয়া বীজ বপনের ৪৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরপর মাটি আলোড়িত করে দেয়া আবশ্যক ।
পরিচর্যাঃ
পাটের চেয়ে কেনাফ চাষে অনেক কম পরিচর্যা দরকার হয়। চারা গজানোর পর সময়মত নিড়ানী ও গাছ পাতলা করে দিতে হয়। চারা গাছের বৃদ্ধির প্রথম দিকে জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
আঁশ সংগ্রহঃ
চার মাস পর থেকে সুবিধাজনক সময়ে ফসল কাটা যায়। তবে, কেনাফ গাছে ফুল আসলেও গাছের বৃদ্ধি থেমে যায় না। তাই আঁশ উৎপাদনের জন্য সম্ভব হলে পাঁচ মাস বয়সে ফসল কাটা হলে অধিক ফলন পাওয়া যায়। আঁশ ফসলের জন্য পাটের ন্যায় সরু ও মোটা গাছ পৃথক করে আঁটি বেঁধে পাতা ঝরিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। জাঁক কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া ভালো। পরিষ্কার পানিতে আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়ায় শুকাতে হবে। এইচসি-২ জাতটি হেক্টরপ্রতি ৬.৮ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। আঁশের জন্য এই জাতের কেনাফ ১৪০-১৫০ দিনে কর্তন করা যায়।
কাগজ শিল্পের পাল্প তৈরিঃ
পাল্প তৈরির জন্য কিংবা কেনাফ কান্ড খুটি হিসাবে ব্যবহার করতে হলে ফুল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। কাগজের পাল্প তৈরির ক্ষেত্রে কর্তিত কেনাফ হালকা আঁটি বেঁধে দাঁড় করিয়ে রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়।
বীজ সংগ্রহঃ
কেনাফ ফল কিছুটা কাঁটাযুক্ত। বীজের জন্য ফসল কেটে ২-৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিলে ফলগুলো ফেটে যায়। অতঃপর লাঠি দিয়ে মারিয়ে সহজেই বীজ সংগ্রহ করা যায়।
বীজ শুকানোঃ
কেনাফ বীজ সরাসরি পাকা মেঝে কিংবা ভিজা মাটিতে রেখে শুকানো অনুচিৎ। তাতে বীজের সজীবতা নষ্ট হয়। পাকা মেঝের উপর পলিথিন বা পাটের বস্তা বিছিয়ে বীজ শুকাতে হবে। পাকা মেঝে না থাকলে গোবর দিয়ে লেপে মাটিতে বীজ শুকানো যেতে পারে। শুকানো কয়েকটি বীজ দাঁতের ফাঁকে নিয়ে চাপ দিলে কট করে শব্দ করে ভেঙে গেলে বুঝা যাবে বীজ কাংখিত পর্যায়ে শুকিয়েছে।
বীজ সংরক্ষণঃ
কেনাফের বীজ পাটের তুলনায় আদ্রতাকাতর। তাই শুকানো বীজ ঠান্ডা করে পলিথিন মুড়িয়ে প্লাস্টিক বা টিনের পাত্রে মুখ ভলোভাবে বন্ধ করে সংরক্ষণ করা হলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
✅ বাংলাদেশে কেনাফ চাষের ক্ষেত্র ও সম্ভাবনাঃ
কেনাফ একটি পরিবেশ বান্ধব অর্থকরী ফসল। বায়ুমন্ডল থেকে অধিক পরিমাণে ঈঙ২ শোষণ ক্ষমতা এবং এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কেনাফের পরিচিতি ও সমাদর বিশ্বজুড়ে। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে পাটের আবাদ হয়ে আসছে। এদেশে কেনাফ কে পাটের বিকল্প হিসাবে নয় বরং পরিবেশ বান্ধব এই অর্থকরী ফসলটিকে পাটের পরিপূরক হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কেনাফ মোটামুটি বিরূপ পরিবেশে স্বল্প যতেœ জন্মানো ফসল। যে সকল প্রান্তিক ভূমি পাট কিংবা আউশ ফসল আবাদের উপযোগী নয় তার এক উল্লেখযোগ্য অংশ কেনাফ চাষের আওতায় আনা সম্ভব। এর ফলে দেশের ভূমি ব্যবহার বা ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে। ফলে অধিক আঁশ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। পাহাড়ী অঞ্চলের কম উর্বর পতিত জমিতে অর্থকরী ফসল কেনাফের চাষ প্রবর্তন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেখানকার জনগোষ্ঠীকে আংশিকভাবে হলেও ংঁনংরং:বহপব কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষির ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের যে সব জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্ভব হয় না, সেখানে কেনাফ আবাদের সম্ভাব্যতা যাচাই করা আবশ্যক। পাটের চেয়ে কম খরচে কেনাফ উৎপাদন করা যায়। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সফলতা আসছে না। এমন বাস্তবতায় কেনাফজাত আঁশ থেকে স্বল্প মূল্যের ব্যাগ তৈরি করে তা ব্যবহারে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা গেলে পরিবেশের বিপর্যয় রোধে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। কেনাফ থেকে উৎপাদিত নানা ধরণের পণ্য ও কাঁচামাল উন্নত দেশে রপ্তানী করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
✅ কেনাফ চাষ সম্প্রসারণে করণীয়ঃ
কেনাফের বহুমুখী ব্যবহারের বিষয়ে বহির্বিশ্বের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেনাফ থেকে লাভজনকভাবে নানা রকমের পণ্য উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পন্য মেলা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ইত্যাদির আয়োজন করে কেনাফ শিল্পের লাভজনক দিক তুলে ধরে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রয়াস নিতে হবে।
অনাবাদী যে সকল জমি কেনাফ চাষের উপযোগী তা কেনাফ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহন এবং নিকটবর্তী এলাকায় কেনাফ প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
বিচ্ছিন্নভাবে কেনাফ আবাদের পরিবর্তে চিনিকল কিংবা পাটকল এলাকার ন্যায় জোন বা অঞ্চল ভিত্তিক আবাদ করে ঐ এলাকায় মিলিং সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে এ শিল্পের ফরোয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলা। নিকটবর্তী স্থান থেকে কাঁচামাল সরবরাহের ফলে পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে। ফলে একদিকে কৃষক লাভবান হবে অপরদিকে কেনাফজাত শিল্প পণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে।
দেশে বিদ্যমান যে সব কাগজের মিল কাঁচামালের অভাবে বন্ধ রয়েছে কিংবা যে সকল মিলে পর্যাপ্ত কাঁচামালের সরবরাহ নেই সেক্ষেত্রে বিকল্প কাঁচামাল হিসাবে কেনাফ ব্যবহার করা।
কেনাফ চাষী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা।
কেনাফ চাষীদের আধুনিক চাষ ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান ও স্বল্প মূল্যে মানসম্মত বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বিদেশে কেনাফজাত পণ্যের বাজার অনুসন্ধানসহ অনুকূল রপ্তানী বাণিজ্যের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব রকমের সরকারি সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত রাখা।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উঁচু, মধ্যম, নিচু, হাওর এলাকা, পাহাড়ি এলাকার ঢালু জমি এবং উপকূলীয় ও চরাঞ্চল ফসলে উৎপাদনের উপযোগী নয় বা আউশ ফসলের জন্য লাভজনক নয় এমন অনুর্বর জমিতেও অল্প পরিচর্যায় কেনাফ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। দেশে যে সব এলাকায় সেচের ব্যবস্থা নেই সেখানে ধানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি খরা ও জলাবদ্ধতা সহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন কেনাফ চাষ কৃষকের প্রথম পছন্দ। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ হেক্টর জমি আছে যেখানে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু পাট ও কেনাফ ছাড়া অন্য কোন ফসল চাষ সম্ভব নয়। পাটের চেয়ে কেনাফের নিড়ানি ও পরিচর্যা কম লাগে এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।
দেশের কৃষি পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১ ফেব্রম্নয়ারি ২০১৭ দ্রম্নত বর্ধনশীল, জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদ উপযোগী বিজেআরআই কেনাফ-৪ (লাল কেনাফ) জাতটি সারাদেশে চাষাবাদের নিমিত্তে ছাড়করণের অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। জাতটি পাটের মতোই আঁশ উৎপাদনকারী এবং মালভেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি উন্নত জাত। জাতটির কান্ড লাল রঙের এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, যা এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত জাতসমূহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
অধিক ফলনশীল ও বায়োমাস সম্পন্ন এ জাতটি কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত হলে অনাবাদি ও অনুর্বর জমিও চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং পাট চাষিরা অধিক লাভবান হবেন। ভারতীয় জাতের কেনাফ ফসলে পাতার মোজাইক রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রমিত হওয়া এবং গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কম হওয়ায় বর্তমানে বিজেআরআই উদ্ভাবিত এইচসি-২, এইচসি-৯৫ ও বিজেআরআই কেনাফ-৩ (বট কেনাফ) সারাদেশে উন্নত জাত হিসেবে কৃষকের কাছে অধিক সমাদৃত।
কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও রংপুরের অঞ্চলের অগ্রগামী কৃষকরা কেনাফ ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বপন শুরু করেন- যাতে পরবর্তী সময়ে এ ফসল কেটে অনায়াসেই আমন ধান রোপন করা যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু গাছে আগাম ফুল চলে এলেও কেনাফ ফসলের ক্ষেত্রে ফুল ঝরে পড়ে এবং ফলন ও আঁশের মান অপরিবর্তিত থাকে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলসহ কিছু কিছু এলাকার কৃষকরা বোরো ধান কেটে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কেনাফ চাষ করে থাকেন। কাজেই কেনাফ ফসলের বপনকালীন সময় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে কেনাফকে শস্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। শতকরা আশি ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাসম্পন্ন কেনাফ বীজ ১১ থেকে ১২ কেজি হেক্টরপ্রতি বপন করে ৪ মাসে ৩ থেকে ৩.৫ টন কেনাফ আঁশ পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে পাট ও কেনাফ আঁশের দাম একই হওয়ায় কৃষকদের নিকট কম পরিচর্যায় অধিক ফলন প্রাপ্তিতে কেনাফের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে উন্নতমানের দেশীয় জাতের কেনাফ বীজ। চলতি উৎপাদন মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার গচিহাটা অ্যাকোয়াকালচার ফার্মস লিমিটেড তাদের কৃষি খামারে উৎপাদিত এইচসি-৯৫ জাতের ৬০০০ কেজি কেনাফ বীজ স্থানীয় কৃষকদের কাছে প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা হিসাবে বিক্রি করায় ৩৯ লাখ টাকা আয় করেছে। যদিও স্থানীয় বাজারে ভারতীয় কেনাফ বীজ ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়, তার পরও ভালো ফলনের জন্য অধিক মূল্য দিয়ে দেশীয় জাতের বীজ সংগ্রহ করছে কৃষকরা। দেশীয় জাতের কেনাফের ফলন ও মান দুটোই ভালো এবং বীজের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে লাভজনক বীজ ফসল হিসেবে কেনাফকে শস্য বিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বীজের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।
উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকাসহ দেশে ফসল চাষের অনুপযোগী প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি প্রতি বছর অনেকটাই পতিত পড়ে থাকছে। অথচ এসব জমিতে অল্প পরিচর্যা ও কম খরচে অধিক ফলনশীল কেনাফ চাষ করে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বিদেশে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ইনটেরিয়র কাজের ইনসু্যলেটর হিসেবে কেনাফ আঁশের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
এ ছাড়াও জুটেক্স ও জিওটেক্সটাইল তৈরি এবং কেনাফ কাঠির ছাই থেকে চারকোল তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কেনাফ চাষ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে বিপুল সম্ভাবনাময় এ আঁশ ফসল পতিত জমিতে আবাদ করতে পারলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, শ্রমশক্তি ব্যবহার এবং বনজসম্পদের ওপর চাপ কমবে। পতিত ও প্রান্তিক জমিতে কেনাফ চাষাবাদের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
✅ পরিবেশ সংরক্ষণে কেনাফঃ
কেনাফ একটি বৃক্ষের তুলনায় ৩-৮ গুন বেশি ঈঙ২ শোষণ করে। সাধারণভাবে ১ একর জমিতে জন্মানো কেনাফ স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মৌসুমে বায়ুমন্ডল থেকে ১০ টন ঈঙ২ শোষণ করে যা উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ২০ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কেনাফের ১ টন শুষ্ক পদার্থ উৎপাদনের জন্য প্রায় ১.৫ টন ঈঙ২ প্রয়োজন হয়।
সারা বছরে ২০ টি জীবাশ্ম জ্বালানী চালিত গাড়ি থেকে কম-বেশি ৩০-৪০ টন ঈঙ২ নির্গত হয়, যা ১ হেক্টর জমিতে এক মৌসুমে জন্মানো কেনাফ শোষণ করে থাকে।
কেনাফ জন্মাতে তেমন কোন রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। তাই কেনাফ পরিবেশ বান্ধব ফসল, যা ইকো-সিস্টেমের জন্য উপকারী।
হাইড্রোকার্বন জনিত মাটি দূষণ প্রতিকারের জন্য কেনাফ কোর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কেনাফ মাটি থেকে হেভী মেটাল শোষণ করে বলে ধারণা করা হয়।
কেনাফে লিগনিন কম থাকায় বহুল ব্যবহৃত উড পাল্পের তুলনায় কেনাফ পাল্প তৈরিতে ২০% কম শক্তি খরচ হয়। অপরদিকে কাগজ শিল্পে উড পাল্পের বিকল্প হিসেবে কেনাফ পাল্প ব্যবহারের ফলে বনজ সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়।
কেনাফ ফাইবার থেকে উৎপাদিত সিনথেটিক পণ্য রিসাইকেল করা যায়।
কেনাফ থেকে প্রি বোর্ড তৈরি হয় যা গাড়ির ইন্টেরিয়র তৈরির বেইজ ম্যাটেরিয়াল বা কাঁচামাল। কেনাফ থেকে তৈরি প্রি বোর্ড পরিবেশ বান্ধব।
শেষ কথাঃ
সীমিত ভূমি সম্পদ থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের যোগান দিতে হয় বলে পরিকল্পিতভাবে ফসল বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এদেশে বিদ্যমান ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন আনা মোটেই সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। যদিও মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষির স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে এর তেমন কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিসরে কেনাফ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে শস্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্ভাবনার সরু পথটি আগামীতে যথেষ্ট প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে প্রান্তিক পতিত জমিসহ অন্যান্য অনাবাদী ভূমি চাষের আওতায় আসবে। ফলে, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে, কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে, বায়ুমন্ডলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমান হ্রাসসহ কেনাফের আঁশজাত স্বল্প মূল্যের পরিবেশ বান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন সাধন হবে। কেনাফ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিজাতকরণ শিল্প স্থাপন করে বহুবিধ পণ্য তৈরির ব্যবস্থা করা গেলে এ শিল্পের অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ (ভড়ৎধিৎফ ধহফ নধপশধিৎফ ষরহশধমব) প্রতিষ্ঠিত হবে, সম্প্রসারিত হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। কৃষি ক্ষেত্রে রপ্তানী আয় বৃদ্ধি পাবে, বাড়বে প্রবৃদ্ধি। সর্বোপরি বলা যায়, কাঁচামাল, পণ্য কিংবা অর্থ-কড়ির যোগান ছাড়াও কেনাফ আবাদের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হবে ধরিত্রী, আর উপকৃত হবে এ গৃহে বসবাসকারী প্রায় ৭০০ কোটি মানুষসহ অন্যান্য সকল প্রাণি।
লেখকঃ কৃষিবিদ মো. আল-মামুন
ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রজনন বিভাগ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।
সূত্র: চাষ পদ্ধতি বিজেআরআই-এর ফোল্ডার অবলম্বনে।
কেনাফ ফাইবার কি এবং এর ব্যাবহার | Kenaf Fibre
সুপিমা কটন কী | এর প্রোপার্টি কি , কোথায় উৎপাদিত হয় | Supima Cotton
✅ সুপিমা কটন ফেব্রিক কি?
সুপিমা কটন একটি হাই কোয়ালিটির কটন যা গসিপিয়াম বারবাডেন্স (Gossypium barbadense) নামক উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত হয় । এই কটনকে কনসিডার করা হয় বিশ্বের তুলার সবচেয়ে সফটেস্ট এবং স্ট্রংগেস্ট কটন ফর্ম হিসাবে । সুপিমা কটন জন্য যে উৎপাদন ও সার্টিফিকেশন প্রসেস ব্যবহার করা হয় তা পিমা কটনের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন ধরনের ।
গসিপিয়াম বারবাডেন্স উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত কটন ফাইবার গুলি এক্সট্রা লং স্টেপল (ELS)কটন হিসাবে বিবেচনা করা হয় । যার অর্থ এর দৈর্ঘ্য কমপক্ষে 34 মিলিমিটার এর কাছাকাছি । কম্পেয়ার করার জন্য, বেশিরভাগ ধরণের কটন ফাইবার এর লেন্থ 20 মিলিমিটার বা তার কম বেশি হয় । এই এক্সট্রা লং গসাইপিয়াম বারবাডেন্স কটন ফাইবারগুলির টেনসাইল স্ট্রেন্থ অনেক বেশি এবং এটা দিয়ে হাই কোয়ালিটির ইয়ার্ন তৈরি করা যায় সহজে ।
গসাইপিয়াম বারবাডেন্স প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ট্রপিক্যাল এবং সাব -ট্রপিক্যাল অঞ্চলে জন্মে এবং এই কটন ফাইবার থেকে তৈরি কাপড় হাজার বছর ধরে দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে উৎপাদিত হচ্ছে। গসিপিয়াম বারবাডেন্স উদ্ভিদটি তার উজ্জ্বল হলুদ ফুলের দ্বারা সহজে একে সনাক্ত করা যায় । এটি একটি খাটো জাতের গাছ ।
যদিও সুপিমা এবং পিমা কটন ফেব্রিক উভয় ধরণের কটন গসাইপিয়াম বারবাডেন্স গাছের ফাইবার থেকে পাওয়া যায় । এই ধরণের কটন থেকে তৈরি কাপড় সাধারণত হাই এন্ডের কাস্টোমার দের লাক্সারি ক্লোদিংয়ে ব্যবহৃত হয় । অন্যান্য লাক্সারি ক্লোথ কেবল ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলা যায়, তবে সুপীমা এবং পিমা কটন গরম পানিতে ধুয়ে ফেলা যায় এবং এমনকি ট্রাম্বেল ড্রাই করা যায়।
✅ সুপীমা কটন:
সুপিমার তুলার একটি গুণ যা কাস্টমাররা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন তা হল এই কাপড়ের পিলিং রেজিস্টেন্স প্রোপার্টি । পিল হলো কটন ফাইবারের জটলা যা প্রায় দশটি ধোয়ার পরে এগুলি বেশিরভাগ এগুলি কটন প্রোডাক্টে দেখা দেয় । মুলত সর্ট ফাইবার পিলিংয়ের মুল কারন যেখানে সুপিমা এক্সট্রা লং স্টেপল ফাইবার।
আপনি বছরের পর বছর ধরে সুপিমার কটন পোশাক বা হোম টেক্সটাইল পণ্যের কখনও কোনও পিলিং লক্ষ্য করবেন না । সাধারণভাবে, বিভিন্ন ধরণের কটন ফাইবারের ভেতর সুপিমার লংজিভিটি সবচেয়ে বেশি সুপিমার তৈরি পোশাক দশক পুরনো হলে এটা পরিধানের কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করবেন না ।
সব জেনুইন সুপিমা কটন আমেরিকান সুপিমা অ্যাসোসিয়েশন (ASA) দ্বারা সার্টিফাই করা হয় । এই এসোসিয়েশন কৃষকদের এবং টেক্সটাইল ম্যানুফেকচারারদের গ্রুপ নিয়ে গঠিত যারা পিমা কটনের কোয়ালিটি মেইনটেইন করার জন্য মূলত পরিচিত ছিল। আমেরিকান সুপিমা অ্যাসোসিয়েশন (ASA) এর কার্যক্রম শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান থাকায় , যার মানে হল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেনুইন সুপিমার কাপড় কেনা সম্ভব ।
✅ সুপীমা কটন ফেব্রিক কিভাবে তৈরি হয় ?
যদিও বেশিরভাগ কটন উৎপাদনকারীরা তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যতটা সম্ভব অটোমেশন ব্যবহার করতে পছন্দ করে, তবুও সুপিমা কটন উৎপাদনের অনেক দিক এখনও ম্যানুয়ালি করা হয়। অটোমেশন ব্যবহার হলেও , বেশিরভাগ গসিপিয়াম বারবাডেন্স কটন উৎপাদক কটনের বীজ হাতে তোলা বীজ দিয়ে চাষ করে।
এই বীজগুলি পরে তাদের ফাইবার স্ট্রিপকরে নেওয়া হয় এবং ফাইবার গুলিকে প্রেস করে বেল বানানো হয় । এরপরে, বেলগুলি ফেক্টরিতে পাঠানো হয়, সেগুলি সেখানে খোলা হয় । ফাইবার গুলি একটি মিক্সার মেশিনে স্থানান্তরিত হয়।
গসিপিয়াম বার্বাডেন্স ফাইবার মিক্সিং হওয়ার পরে, তাকে কার্ডিং করা হয়, যে প্রক্রিয়া দ্বারা এই ফাইবারগুলি ওয়েবের মতো তৈরি হয়।
কম্বিং তুলার ডাস্ট ইমপিউরিটিস দূর করে, এবং স্ট্র্যান্ডগুলি তারপর ববিনস নামক স্পুলে লোড করা হয়। এর পরে, স্ট্র্যান্ডগুলি থেকে ইয়ার্ন প্রস্তুত করা হয় সেগুলি পরে কাপড়ে বোনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় ।
অধিকাংশ সুপীমা কটন উৎপাদনকারীরা তাদের ফসল উৎপাদনের জন্য নন টক্সিক , সাস্টেইনেবল এবং অর্গানিক ব্যবহার করে ব্যবহার । যখন আপনি সুরক্ষার জন্য একটি নাম দিয়ে একটি বিলাসবহুল পণ্য তৈরি করছেন, তখন জিনিসগুলি সঠিকভাবে করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানো বোধগম্য, যা অন্য কারণ হল যে ভোক্তারা পিপা কটন বা এই বস্ত্রের অন্যান্য উচ্চমানের ফর্মগুলিতে সুপীমা কটন পছন্দ করে।
✅ সুপিমা কটন কাপড় কিভাবে ব্যবহার করা হয় ?
এই ধরণের কটন সাধারণত উচ্চমানের কঞ্জিউমারদের পোশাক এবং হোম টেক্সটাইল যেমনঃ চাদর তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যদিও এর টেনসাইল স্ট্রেন্থ অনেক বেশি তার পরো কস্টলি ফাইবার হবার দরুন ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কজের জন্য সুপিমার ব্যবহার নিষিদ্ধ ।
জনপ্রিয় সুপিমার পোশাকের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে টি-শার্ট, ড্রেস শার্ট, আন্ডারওয়্যার, নাইটগাউন এবং পায়জামা । সুপিমা কটন এত নরম যে এটি প্রায়শই সিল্কের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কার্যত যে কোন ধরনের পোশাক বা একসোসরিস যা সাধারণত সিল্ক থেকে তৈরি হয় তাও সুপীমা তুলা থেকে তৈরি করা যায়। এমনকি যদি তারা সিল্কের জন্য সুপিমাকে পুরোপুরি রিপ্লেস না করে, তবুও অনেক ম্যানুফেকচারার লাক্সারি ক্লোদিং এর জন্য ব্লেন্ড করে নিতে পছন্দ করে ।
✅ সুপিমা কটন ফেব্রিক কোথায় উৎপাদিত হয় ?
সুপিমা কটন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল বা সাউদার্ন অঞ্চল জুড়ে কটন খামারগুলির একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা এই ভেরাইটির কটন উৎপাদন করে । এই কটন ফার্ম গুলি প্রত্যেকে ASA সদস্য। এই খামারগুলির বেশিরভাগই ক্যালিফোর্নিয়ায়, তবে অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো এবং টেক্সাসে কয়েকটি সুপিমার ফার্ম আছে ।
1900 এর দশকের গোড়ার দিকে USDA এবং পিমা ভারতীয় উপজাতিদের মাঝে কোলাবোরেশান এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুপীমা তুলার চাষ শুরু হয় । পিমা ইন্ডিয়ানস থেকে মুলত পিমা কটন জন্মেছে এবং USDA মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গসাইপিয়াম বারবাডেন্সের উৎপাদন পুনরায় উৎপাদন করেছে ।
18 ও 19 শতকে দিকে জর্জিয়া এবং নর্থ ক্যারোলিনা উপকূলে বাধা দ্বীপগুলিতে গসাইপিয়াম বারবাডেন্স জাতের তুলার উৎপাদন তুলনামূলকভাবে প্রচলিত ছিল । বারমুডা এবং অন্যান্য ট্রপিক্যাল দ্বীপ থেকে কটনের এই স্ট্রেনটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছিল এবং কিছু আমেরিকান গসাইপিয়াম বারবাডেন্স সাউথ আমেরিকা থেকে নর্থ আমেরিকার দিকে এসেছিল।
গসাইপিয়াম বারবাডেন্স কটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং আমেরিকার বাইরে অবিশ্বাস্যভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । কিন্তু কটনের জিনের ব্যাপক ব্যবহার এই কুলুঙ্গি ফসলের অব্যাহত উৎপাদনকে বিঘ্নিত করে। ইউএসডিএ -র পাইলট গসাইপিয়াম বারবাডেন্স প্রোগ্রাম অবশ্য একটি উজ্জ্বল সাফল্য ছিল এবং পিমা তুলার উৎপাদন দ্রুত অ্যারিজোনায় বাষ্প গ্রহণ করেছিল।
পীমা কটন এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, কিছু অসাধু কোম্পানি তাদের পণ্যগুলিকে পিমা কটন হিসাবে চিহ্নিত করতে শুরু করেছিল যদিও তাদের মধ্যে লং-স্ট্যাপল (এলএস) বা শর্ট-স্ট্যাপল (এসএস) তুলা ছিল । অ্যারিজোনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যত্র পিমার কটন চাষীরা আশঙ্কা করতে শুরু করেছিল যে তাদের পণ্য নকল করা হলে তারা বাজারে মূল্য হারানো শুরু করবে । তারা আমেরিকায় এবং বিদেশে জেনুইন পিমা কটন মার্কেটিং করার জন্য তারা একটি সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় ।
সুপিমা কটন হল পিমা কটনের মতোই ফাইবার, কিন্তু কনজিউমাররা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে যখন তাদের কটন প্রোডাক্টে "সুপিমার" লেবেল দেওয়া হয় তখন তারা জেনুইন প্রোডাক্টটি পায় । এই শব্দটি, যা "superior" এবং "Pima" এর একটি পোর্টমান্টু, কেবলমাত্র কটনের জন্য দেওয়া হয় যা ASA এর গাইডলাইন অনুসারে জন্মে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে কোথাও কোন সুপিমা কটন জন্মে না বা উৎপাদিত হয় না। আমেরিকার বাইরে ASA এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের কোন উদ্দেশ্য নেই ।
✅ সুপিমা কটন ফেব্রিকের দাম কত ?
সুপিমা কটন বিশ্বের সবচেয়ে দামি কটনের একটি । এই হাই প্রাইসের কারন হচ্ছে জেনুইন পিমা কটনের গুণগত মান প্রায় অন্য সব ধরণের কটনের চেয়ে বেশি । যার কারনে কটন মার্কেটে এর প্রাইস অনেক বেশি ।
তবে সুপিমা কটন পিমা কটনের চেয়েও বেশি দামি। মনে রাখবেন যে যখন আপনি "পিমা কটন" লেবেলযুক্ত কটনের কাপড় কিনবেন, তখন আপনি আসল জিনিসটি পাচ্ছেন কিনা তা বলা কঠিন । যদি আপনি গার্মেন্টস প্রডাকশন প্রসেসে যুক্ত না থাকেন যেমন কাটিং সুইং তবে আপনার ফাইবারের লেন্থ যাচাই সম্ভব না তাই আপনি যে পিমা প্রোডাক্ট কি জেনুইন পিমা কটন কিনছেন কিনা তা যাচাই করা কঠিন ।
30/1 Ne Supima price-$5.80/kg
যতো সুপিমা কটন আছে সব ASA দ্বারা যাচাই এবং সার্টিফাই করা হয় এই এশিউরেন্সের জন্য কঞ্জিউমাররা প্রিমিয়াম দিতে ইচ্ছুক হয় ।
সাধারণত , সুপিমা কটনের দাম সাধারণ অন্য কটনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। সুপিমা কটনের প্রাইস অর্গানিক কটনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ । এটি নরমাল পিমা কটনের চেয়ে প্রায় 75% বেশি কস্টলি।
✅ সুপিমার কটন কাপড়ের বিভিন্ন প্রকার কি আছে ?
কেবলমাত্র এক ধরণের কটন রয়েছে যাকে ট্রুলি "সুপীমা" বলা যায় । সব সুপীমা কটন এএসএ এর পৃষ্ঠপোষকতায় উৎপাদিত হয় , যার অর্থ এই অর্গানাইজেশন দ্বারা সার্টিফাইড পণ্যগুলির সাথে খুব মিল থাকলেও অন্য কোন ধরণের কটন সুপিমাকে বিবেচনা করা হয়না ।
সুপিমার অনুরূপ কয়েক ধরণের কটন রয়েছে এবং আপনি এই ধরণের তুলার জাতগুলি সম্পর্কে আপনি তাদের কম্পেয়ার করে আপনার জন্য বেস্ট ফাইবার সিলেক্ট করতে পারবেন । এই ধরনের কটনের কিছু উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
গসিপিয়াম বারবাডেন্সের অন্যান্য ফর্ম:
গসিপিয়াম বারবাডেন্স কটনের আরও কয়েকটি ভেরাইটি রয়েছে যা আপনার প্রয়োজনের জন্য সঠিক ভেরাইটির কটন বাছাই করার সময় আপনার সচেতন হওয়া উচিৎ। আমরা ইতিমধ্যেই সুপীমা এবং পিমা কটনের মধ্যে পার্থক্য যেনেছি , কিন্তু আপনার অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কটন কাপড় নির্বাচন করার সময় এই পার্থক্যগুলি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ।
যদিও এটি অসম্ভাব যে আপনি কখনও এই ধরণের কটনের মুখোমুখি হবেন, সি আইল্যান্ড কটন গসাইপিয়াম বারবাডেন্সের আরেকটি রূপ । এই নামটি দেওয়া হয়েছিল গসাইপিয়াম বারবাডেন্স কটনের ধরণ যা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আমেরিকান ব্যারিয়ার আইল্যান্ড ওয়েস্টার্নদের দ্বারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এটি এখন উৎপাদন করা হয়না । সি আইল্যান্ড কটন এবং সুপিমা কটন টেকনিক্যালি আলাদা।
মিশরীয় বা ইজিপশিয়ান কটন:
কিছু কনজিউমার বিশ্বাস করেন যে ইজিপশিয়ান কটন এবং পিমা কটন একই জিনিস, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা । বেশিরভাগ মিশরীয় কটন, আসলে, LS কটন দিয়ে তৈরি, যা ELS কটনের তুলনায় কম লাক্সারিয়াস । যদিও ইজিপশিয়ান কটনের কিছু ফর্ম , যেমন Giza 45 প্রকৃতপক্ষে ফাইবারের দৈর্ঘ্য এবং গুণমানের দিক থেকে সুপিমার কটনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে । বেশিরভাগ ইজিপশিয়ান কটন পিমা থেকে কোয়ালিটি খারাপ মানের ।
পিমা তুলার মতো, অনেক ম্যানুফেকচারার তাদের কাপড়কে ইজিপশিয়ান কটন হিসাবে লেবেল করে যখন এটি আসলে LS কটন ফাইবার থেকে তৈরি হয় । টেকনিক্যালি, "ইজিপশিয়ান কটন" শব্দটি কেবল মিসরে উৎপাদিত কটনকে বোঝায় ।
✅ সুপীমা কটন কাপড় পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করে ?
সুপিমা কটন হল সব প্রকারের কটনের সবচেয়ে কম এনভায়রনমেন্টাল ইম্পেক্ট ফেলা কটন ভেরাইটি । এই ধরনের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম অন্য কটনের তুলনায় । পিমা কটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট কটন উৎপাদনের মাত্র পাঁচ শতাংশ । মনে রাখতে হবে আমেরিকায় উৎপাদিত সব পিমা কটন কিন্ত সুপিমা কটন নয়।
অতএব, শুধুমাত্র স্কেলের যোগ্যতা দ্বারা, সুপিমা কটনের জন্য অন্যান্য ধরনের বস্ত্রের মতো পরিবেশগতভাবে ধ্বংসাত্মক হওয়া অসম্ভব। যাইহোক, এএসএ -তে সুপীমা উৎপাদনের জন্য স্ট্রিক্ট গাইডলাইন রয়েছে যা কটন উৎপাদনকারীদের প্রডাকশন প্রসেসে সময় কোনও হেজার্ডাস ক্যামিকেল বা টক্সিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করতে দেয়না ।
সব সুপীমা কটন ইউএসএতে জন্মে তা আরেকটি কারণ যে এই ধরণের কটনের উৎপাদন পরিবেশের উপর বিরাট মাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না । যদিও এই নিয়মগুলি নিখুঁত নয়, USDA, EPA এবং অন্যান্য মার্কিন গভমেন্ট অর্গানাইজেশন গুলি এমন একটি নিয়ম প্রণয়ন করেছে যা আমেরিকান অর্গানাইজেশ গুলিকে পরিবেশগতভাবে হেজার্ডাস প্রডাকশন প্রসেস ব্যবহার করতে বাধা দেয় । উদাহরণস্বরূপ, যদি সুপিমা কটন চীন, ভারত বা ইন্দোনেশিয়ায় উত্পাদিত হয়, তবে এই ধরণের তুলার উৎপাদন এনভায়রনমেন্টাল হেজার্ডকে প্রেজেন্ট করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
✅ সুপিমা কটন সার্টিফিকেশন ?
সব সুপীমা ফ্যাব্রিক কে ASA দ্বারা জেনুইন হিসাবে সার্টিফাই করা হয় । যদি একটি সুপিমার কটন প্রোডাক্ট এএসএ -এর এক্রেডিয়েশন সিল না থাকে , তবে এটি জেনুইন সুপীমা নয় । এটি পিমা কটনের বা মিশরীয় কটনের মতো একটি EL ভেরাইটির কটন ।
কিছু সুপীমা কটন অর্গানিক সার্টিফিকেট USDA দ্বারা দেয়া হয় । ASA কর্তৃক সার্টিফাই সুপিমার পণ্যের জন্য অর্গানিক সার্টিফিকেশন থাকা এতটা আবশ্যক নয় ।
কিন্তু এই এগ্রিকালচার এসোসিয়েশন গুলির স্ট্রিক্ট গাইডলাইন অর্গানিক কাল্টিভেশন প্রসেস ফলো করে লাক্সারি কটন চাষ করা হয় ।
সুপিমা কটন কী | এর প্রোপার্টি কি , কোথায় উৎপাদিত হয় | Supima Cotton
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


