স্পিনিং রিলেটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ
পর্ব - ১
যেকোন সেক্টরের লোক চাকরী জীবনে কিছুু ছোট-খাট বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে বা অগ্রাহ্য করার করনে নিজের যথাযথ পারফরমেন্স শো করতে ব্যর্থ হয়। সে নিজে যেমন উন্নতি করতে পারে না, তেমনি কোম্পানিরও ক্ষতি সাধিত হয়! তাই আজ এই পর্বে স্পিনিং এ কাজ করেন এমন সকল এপিও পিওদের জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস ---
শীফট শুরু হওয়ার একটু আগেই (নূন্যতম ১৫ মি. আগে) ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করবেন।
হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করবেন।
এরপরেই ইন্সট্রাকশন খাতা চেক করবেন কোন ইন্সট্রাকশন আছে কিনা! এটি পিও, এপিও, এসপিও সবার জন্যই প্রযোজ্য! প্রতিদিনই এই ইন্সট্রাকশন খাতাটি চেক করতেই হবে কোন প্রকার ইন্সট্রাকশন থাকুক বা না'ই থাকুক। দেখা গেছে আপনি একদিন ইন্সট্রাকশন খাতা চেক করলেন না, অথচ সেদিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্সট্রাকশন দেওয়া আছে। তাছাড়া ইন্সট্রাকশনতো থাকেই। আর ইন্সট্রাকশন বা ইনফরমেশন না জানার কারনে আপনি শিফটে যেকোন ধরনের ভুল করেই ফেলতে পারেন। স্পিনিং ফ্লোরে প্রতিনিয়ত প্রসেস চেইঞ্জ হয়, প্রতিনিয়ত ডিসিশন চেইঞ্জ হয়। আপনি আগেরদিন রেখে গেলেন একরকম, পরেরদিন এসে অন্যরকম পেতেই পারেন----। অনেককেই ভুল করার পর বলতে শুনা যায় স্যার কালতো এমনই ছিল, আমি মনে করেছি আজও এমনই আছে। কাল এমন থাকলে আজ এমনই থাকবে এমন কোন কথা নেই। আমি আবারও বলছি যখনতখন চেইঞ্জ আসতেই পারে।তাই প্রতিদিনই শিফটের শুরুতে ইনফরমেশন বা ইন্সট্রাকশন জেনে নেওয়া আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ! ইন্সট্রাকশন/ইনফরমেশন/নোটিশ খাতা পড়ার পর আপনি তাতে স্বাক্ষর করবেন।
শিফট ইনচার্জ ফ্লোরে প্রবেশ করে আগের শিফটের ইনচার্জের সাথে দেখা করবেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে ব্লোরুম থেকে শুরু করে প্যাকিং পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্লোর ভিজিট করবেন। সকল স্টেপের প্রসেস সম্পর্কে ক্লিয়ারলি ধারনা নিবেন। বিগত শিফটের ইনচার্জ যেহেতু ৮ ঘন্টা ফ্লোরে থেকে ফ্লোর সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা রাখেন এবং এরপরে কোন কাজটি কন্টিনিউ করতে হবে বা কোন কোন চেইঞ্জ আনয়ন করতে হবে তা জানেন সেহেতু আগত শিফটের ইনচার্জকে মনে করে তার সবই জানাতে হবে, ধারনা দিতে হবে, পরের শিফটের জন্য কাজ ঘুছিয়ে রাখতে হবে, পরের শিফটের জন্য কাজ এগিয়ে রাখতে হবে। আবার সম্পূর্ণ প্রসেস/ফ্লোর সম্পর্কে লগে স্পষ্ট করে লিখে বুঝিয়ে দিতে হবে। লগ মেন্টেইন করা শিফট ইনচার্জদের একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সব কথা সবসময় মনে থাকে না। তাই যখন যেটা মনে আসে তখন সেটা লগে লিখে রাখতে হবে, পরের শিফটকে ক্লিয়ার ধারনা দিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে ইনফরমেশন যত পাছ করা যায় এবং ইনফরমেশন যত বেশি এবং যতদ্রুত জানা যায় তত কাজ ভালো হবে, ভুল কম হবে, উৎপাদন বাড়বে, কোয়ালিটিসম্পন্ন প্রোডাক্টস তৈরি হবে, নিজের পারফরমেন্স বাড়বে, কাজে উৎসাহ আসবে, সুনাম বাড়বে, চাকরির পরিবেশ বিস্তৃত হবে, মনে সাহস বাড়বে, কোম্পানির স্বার্থ ঠিক থাকবে। একমাত্র ইনফরমেশন আদান প্রদান ঠিক না থাকার কারনে, ইনফরমেশন না জানা বা যাচাই বাচাই না করার কারনে কাজে অনেক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, ভুল ভ্রান্তি বাড়ে। কোম্পানির বদনাম হয়, নিজের বদনাম হয়।
অনুরূপ সেকশন ইনচার্জও তার আগের শিফটের সেকশন ইনচার্জ থেকে লিখিত এবং মৌখিক ভাবে সম্পূর্ণ সেকশনের প্রসেস সম্পর্কে ক্লিয়ারলি ধারনা নিবেন এবং বিগত শিফটের সেকশন ইনচার্জ আগত শিফটের সেকশন ইনচার্জকে ভালোভাবে সব কিছুই বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন। এখানে প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায় - স্যার আমাকে আগের শিফট বলে যায় নি। এটা হতে পারবে না। আগের শিফটের সেকশন ইনচার্জ অবশ্যই বুঝিয়ে বলে যাবেন, আবার আগত শিফটের সেকশন ইনচার্জ তার আগের শিফটের সেকশন ইনচার্জকে প্রশ্ন করে সবকিছু জেনে নিবেন। সেকশনে প্রবেশ করেই বলতে হবে ভাই নতুন কোন ইনফরমেশন আছে কিনা?
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, নিজের ব্যাক্তিগত ইমেজ বৃদ্ধি করতে হলে কোন চুতা খোঁজা যাবে না। কাজ করতে গেলে অনেক বাধা আসবে, অনেক সীমাবদ্ধতা থাকবে, চুতা খোঁজা যাবে না, হতাশ হওয়া যাবে না, অন্যের উপর ফেলে রাখা যাবে না, পরে করব বলে ফেলে রাখা যাবে না, ভুল করা যাবে না, ভুল করলে হাইড করা যাবে না, ভুল করলে সাথে সাথে উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। তিনিই তা ঠিক করার ব্যবস্থা করবেন। ভুল হলে হাইড করলে পরের স্টেপগুলোতে অনেক সমস্যা হবে। সম্পূর্ণ লটের ম্যাটেরিয়ালস্ নষ্ট হয়ে যাবে। কোন না কোন স্টেপে ভুলতো ধরা পড়বেই। কিন্তু সমস্যা প্রকট হয়ে গেলে কোম্পানির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, নিজের অনেক বড় বদনাম হবে, চাকরি চলে যাবে, গালি শুনতে হবে, অন্য প্রতিষ্ঠানেও জানাজানি হবে। তাই কোন ভুল হলে তা হাইড করা যাবে না। কেউই যদি ভুল করে আত্মসমর্পণ করেন তাহলে তার প্রতি সবার বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। তবে একই ভুল বার বার করা যাবে না। কোন অংশে যদি ভুল ধরা পড়ে সাথে সাথে ঐ অংশে কাজ ষ্টপ করে দিতে হবে। উর্ধতন কর্মকর্তার সহযোগীতা নিয়ে ভুল কারেকশন করে তারপর কাজ শুরু করতে হবে বা মেশিন রার্নিং দিতে হবে। যে ম্যাটেরিয়ালস্ গুলো খারাপ হলো তা সতর্কতার সহিত সেপারেট করে ট্যাগ লাগিয়ে দিতে হবে। সেটা নিয়ে আবার মিশায়ে ফেললে হবে না। একটা নিরাপদ স্থানে রেখে একজনকে আলাদাভাবে দায়িত্ব দিয়ে তা কারেকশনের ব্যবস্থা করতে হবে। বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না। বেশি সময় দেরি করলে তা আবার মিশে যেতে পারে বা ঐ লটের প্রসেস আউট হয়ে যেতে পারে। আবার ঐ ম্যাটেরিয়ালস্ এ যেসমস্ত ট্যাগ, ব্যান্ড, স্টিকার, ববিন, ক্যাপ বা যেকোন ধরনের মার্কস্ দেয়া আছে তা জমা থাকার কারনে অন্য প্রসেসে পরিবর্তিতে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ রাস্তায় একটি গাড়ী এ্যাকসিডেন্ট হলে রাস্তা থেকে যতদ্রুত গাড়ীটি সরিয়ে ফেলা যায় তত ভালো। নতুবা পিছনে আরও বড়সড়ো যানজট সৃষ্টি হবে, রাতের আঁধারে বেখেয়ালে পিছন থেকে গাড়ি এসে লাগিয়ে দিতে পারে। অথবা এখানে এসে গাড়ির স্পীড কমিয়ে দেখেশুনে চালাতে হবে। অর্থাৎ ঝামেলা রাখলেই ঝামেলা। ঠিক ভুল করা ম্যাটেরিয়ালস্ রেখে দিলে রাতের শিফটে বা যেকোন সময় তা সমস্যা করতে পারে।
আমি আসলে এত কথা লিখতে চাইনি! দীর্ঘ ১৬ বৎসর কাজ করতে গিয়ে অনেক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। তাই সংক্ষেপে পয়েন্ট আকারে লিখা শুরু করেছি ঠিকই, কিন্তু হয়ে যাচ্ছে রচনা। এখনকার শিক্ষানবিশ অফিসাররা কিছু জানতে চান না, সময় দিতে চান না, বসের কাছ থেকে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন না, তারা এবং বস্ রাও অনেক বেশি বিজি থাকেন। অফিসাররা অনেক কিছুই জানেন, বুঝেন! সবই বুঝেন! কিন্তু খামখেয়ালি করেন, অবহেলা করেন। ফলে এখনকার কাজের পরিবেশ অনেক খারাপ হচ্ছে। আবার সবাই সব জানেন, কিন্তু সবাই হতাশ। বস্ গণও বিরক্ত, অফিসারগণও বিরক্ত। সবাই জানলে হবে না। সিনসিয়ারলি ইম্প্লিমেন্ট করতে হবে। যার কাজ সে দায়িত্ব নিয়ে করে ফেলতে হবে। নিজের উপরে উঠার সিঁড়ি নিজে তৈরি করতে হবে। কেউ তৈরি করে দিবে না। কে কি কাজ করছেন তা এখন সবাই বুঝতে পারে, সেটা সবার নজরে পড়ে, সেটা হয় আলোচনা হয়, না হয় সমালোচনা হয়। আমরা নিজেরাই নিজেদের স্থপতি। নিজের ভালো থাকাটা নির্ভর করে নিজের উপর। আল্লাহ ন্যায় বিচারক, আল্লাহ শ্রেষ্ঠ পরিচালক। আপনার ভালো কর্মের ফল আপনি যেমন পাবেন, তেমনি খারাপ কর্মের ফলও আপনি কোন না কোন ওয়েতে পাবেনই! তাই কাজ করতে হবে সততার সহিত, সতর্কতার সহিত, দক্ষতার সহিত নিজের মনে করে।
Written By : Engg Alauddin



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন