পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে দ্রুত ও ঝুঁকিবিহীন পেমেন্ট পেতে যেসব ধারণা থাকা উচিৎ

পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে দ্রুত ও ঝুঁকিবিহীন পেমেন্ট পেতে যেসব ধারণা থাকা উচিৎ



এক্সপোর্ট পেমেন্ট বুঝে পাওয়া রপ্তানিকারক হিসেবে নিঃসন্দেহে সবথেকে তৃপ্তিদায়ক মুহূর্ত। রপ্তানি বাণিজের সবথেকে আনন্দের আর একই সাথে যন্ত্রণার কারণ হচ্ছে এক্সপোর্ট পেমেন্ট। আনন্দের কারণ তো বোঝাই যাচ্ছে। রপ্তানি করে রুটিরুজি কামাচ্ছে যারা, তারা তো খুশি হবেই। কিন্তু ঠিকমত এক্সপোর্ট পেমেন্ট বুঝে পাওয়াটাই আবার একই সাথে বিরাট দুশ্চিন্তার বিষয়।

এক্সপোর্ট পেমেন্ট একটি জটিল প্রক্রিয়া। নিচের দশটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকলে এক্সপোর্ট পেমেন্টের জটিলতা বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সময়মত পেমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগুলি কাজে দেবে।

১. কনসাইনমেন্ট

ইনভয়েসের মাধ্যমে যেসব পণ্যের তালিকা রপ্তানির জন্য পাঠানো হয়, সেগুলিকে বলে কনসাইনমেন্ট। পাকাপাকি চুক্তির আগ পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানিকারক নিজেদের মধ্যে আলাপ করে কনসাইনমেন্টের ব্যাপারে ফয়সালা করে নেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কনসাইনমেন্টকে বলা হয় শিপমেন্ট।

২. ঋণপত্র বা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)

লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্র হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ডকুমেন্ট। ঋণপত্র ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করা যায় না। ঋণপত্র হচ্ছে একপ্রকার নিশ্চয়তা। আমদানিকারকের ব্যাংক এটি রপ্তানিকারককে দেয়। রপ্তানিকারক এর ফলে আমদানিকারক বা আমদানিকারকের পক্ষ থেকে খরচাদি চালায়। আমদানিকারকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেই ব্যাংক ঋণপত্র খুলতে দেয়। অনেক সময় আমদানিকারকের অর্থ নাও থাকতে পারে। ব্যাংক সেক্ষেত্রে তার আর্থিক অবস্থা, অতীতের বাণিজ্যিক কর্মকান্ড প্রভৃতি যাচাই করে ঋণপত্র খুলে সাহায্য করে। যথেষ্ঠ বাণিজ্যিক সুনাম এ জাতীয় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক।



৩. টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি)

টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে একসময় অর্থ পরিশোধ করা হত। ইদানিং এই চল উঠে গিয়েছে বললেই চলে। এখন সমস্ত আর্থিক লেনদেন হয় এসডব্লিউআইএফটি এর মাধ্যমে। ঋণপত্রের মাধ্যমেই রপ্তানির সমস্ত আর্থিক লেনদেন সমাধা হয়।

৪. ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি

মাস্টার এলসি এর ওপর ভিত্তি করে আরো এলসি খোলা হলে, সেগুলিকে বলে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি। ধরা যাক কোন পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমদানিকারক বা বায়ারের চাহিদা অনুযায়ী কিছু কাঁচামাল আমদানি আবশ্যক। সেক্ষেত্রে বায়ার কোন ব্যাংকে এলসি খোলে। এই এলসির মাধ্যমে মধ্যবর্তী কোন ব্যাংকে আরেকটি এলসি খোলা হয়। এই মধ্যবর্তী ব্যাংক আবার তখন রপ্তানিকারকের সাথে যোগাযোগ করে। এই এলসির মাধ্যমে রপ্তানিকারক তখন কাঁচামাল আমদানি করে বায়ারের চাহিদামত পণ্য প্রস্তুত করে।

৫. রপ্তানিকারক ও কমার্শিয়াল ইনভয়েস

কমার্শিয়াল ইনভয়েস শুল্ক বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় একটি দলিল। এতে রপ্তানি পণ্যের মূল্য উল্লেখ করা থাকে। বিদেশে পণ্য বিক্রয় করার ক্ষেত্রে শুল্ক বিভাগের নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট একটা শুল্ক ধার্য্য করা হয়। রপ্তানিকারককে এই তালিকা আবার স্থানীয় ব্যাংকে জমা দিতে হয় যাতে এক্সপোর্ট পেমেন্ট আদায়ের অনুমতি পাওয়া যায়। এই ডকুমেন্টে আমদানি ও রপ্তানিকারকের নাম, রপ্তানি পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, পেমেন্টের শর্তাবলী (এলসি, টিটি), পণ্যের মূল্য, তালিকা প্রভৃতির উল্লেখ থাকে। যতগুলি শিপমেন্টের জন্য পণ্য পাঠানো হয়, আমদানিকারককে তার প্রত্যেকটির জন্য কমার্শিয়াল ইনভয়েস প্রস্তুত করতে হয়। পণ্য দুই শিপমেন্টে পাঠানো হলে কমার্শিয়াল ইনভয়েসের সংখ্যা হবে দুই। শিপমেন্ট তিন ধাপে হলে কমার্শিয়াল ইনভয়েস ও তিনটি প্রস্তুত করতে হবে। 

৫. ডিমান্ড ড্রাফট

ব্যাংক চেকের বিকল্প হিসেবে ব্যাংক থেকে ডিমান্ড ড্রাফট ইস্যু করা হয়। ডিমান্ড ড্রাফট একপ্রকার পেমেন্ট ডকুমেন্ট যা আলোচনা সাপেক্ষে প্রস্তুত করা হয়। এতে ব্যাংক পক্ষকে ডিমান্ড ড্রাফট প্রদান করে যা দেখিয়ে ঐ ব্যাংকের অন্য কোন শাখা বা পৃথক ব্যাংক থেকে অর্থ তোলা যায়।

৬. ডকুমেন্টের বিপরীতে পেমেন্ট (ডি/পি)

ডকুমেন্টের বিপরীতে পেমেন্ট হচ্ছে একপ্রকার অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া। বৈদেশিক বাণিজ্যে এটি ব্যাপক ব্যবহৃত। এক্ষেত্রে ডকুমেন্ট পাওয়ার সাথে সাথে বায়ারকে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এলসি অ্যাট সাইটের সাথে এই ব্যবস্থার মিল আছে। তবে পার্থক্য হচ্ছে, ব্যাংক এক্ষেত্রে কোন গ্যারান্টি দেয় না।

বায়ারের ব্যাংক কোন গ্যারান্টি না দেওয়ার ফলে এই পদ্ধতিতে খরচ সবথেকে কম হয়। কিন্তু ব্যাংক যেহেতু মূল্যশোধের কোন গ্যারান্টি দেয় না, এই পদ্ধতিতে কিছুটা ঝুঁকি থেকে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে বায়ারের ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তবে ক্রেতা আর বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্ক আর আস্থা খুব ভাল থাকলে এভাবে লেনদেনকে নিরাপদ বলে ধরা যায়।

৭. লেটার অব ক্রেডিট অথোরাইজেশন ফর্ম (এলসিএএফ)

ঋণপত্র খোলার প্রাথমিক আবেদন পত্র হচ্ছে লেটার অব ক্রেডিট অথোরাইজেশন ফর্ম (এলসিএএফ)। ব্যাংকের আভ্যন্তরিণ কাজের জন্য এটার দরকার হয়। আমদানি নীতি অনুসারে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করতে হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংককে এটা খোলার মাধ্যমে অথোরাইজড ডিলারকে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এই আবেদনপত্র পাঠাবার মাধ্যমে ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়। পণ্য আমদানি করবার ক্ষেত্রে করদাতাকে এই লেটার অব ক্রেডিট অথোরাইজেশন ফর্ম প্রদর্শন করা লাগে।

৮. স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসএলওসি)

স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট এক বিশেষ ধরণের এলসি। এগুলি ইস্যুকারী ব্যাংক একপ্রকার আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। যদি ব্যাংকের গ্রাহক কোন কারণে অর্থ না দিতে পারেন, তবে স্ট্যান্ডবাই এলসি এর মাধ্যমে ব্যাংক সেই অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়। আভ্যন্তরিণ বা বৈদেশিক বাণিজ্যে সাধারণ এলসি এর মতোই এটা ব্যবহার করে চলে।

৯. সুইফট

এটা নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম। মূলত ব্যাংকগুলি এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে থাকে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক বিশ্বের আর্থিক লেনদেন আরো নিরাপদ, পেশাদার এবং সহজ হয়েছে।

এক্সপোর্ট পেমেন্ট সময়মত না পেলে আপনার বাণিজ্যের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। পণ্য উৎপাদন, পণ্য পরিবহন সংক্রান্ত নানাবিধ কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পালন করবার সাথে সাথে এক্সপোর্ট পেমেন্ট আদায়ে সাবধানী হতে হবে।

ALI HOSSEN BIDYUT
Mazadul Hasan Shishir

Mazedul Hasan ( Shishir ) lives in New York , United Stares of America and have been working in Textile sector since 2010. I have a experience both Knit and woven dyeing . Beside my job i have been writing also in several online Textile pages about Facebook Textile pages, Slides at Slideshare and Textile Factory Attachment . I have a great passion on it. I have so much eagerness on writing from my student life. without job time, i have spent my rest of the time on Blogging.If you have any question about me then you can pass it up to me at#Email: Mazadulhasan@yahoo.com.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন